সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 74)
হরকত ছাড়া:
ولولا أن ثبتناك لقد كدت تركن إليهم شيئا قليلا ﴿٧٤﴾
হরকত সহ:
وَ لَوْ لَاۤ اَنْ ثَبَّتْنٰکَ لَقَدْ کِدْتَّ تَرْکَنُ اِلَیْهِمْ شَیْئًا قَلِیْلًا ﴿٭ۙ۷۴﴾
উচ্চারণ: ওয়া লাওলাআন ছাব্বাতনা-কা লাকাদ কিততা তারকানুইলাইহিম শাইআন কালীলা-।
আল বায়ান: আর আমি যদি তোমাকে অবিচল না রাখতাম, তবে অবশ্যই তুমি তাদের দিকে কিছুটা ঝুঁকে পড়তে,
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৪. আর আমরা আপনাকে অবিচলিত না রাখলে আপনি অবশ্যই তাদের দিকে প্রায় কিছুটা ঝুঁকে পড়তেন;(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি তোমাকে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত না রাখলে তুমি তাদের দিকে কিছু না কিছু ঝুঁকেই পড়তে।
আহসানুল বায়ান: (৭৪) আমি তোমাকে অবিচলিত না রাখলে তুমি তাদের দিকে কিছুটা প্রায় ঝুঁকে পড়তে। [1]
মুজিবুর রহমান: আমি তোমাকে অবিচলিত না রাখলে তুমি তাদের দিকে প্রায় কিছুটা ঝুঁকেই পড়তে।
ফযলুর রহমান: আমি যদি তোমাকে অবিচল না রাখতাম তাহলে তুমি তাদের দিকে কিছুটা প্রায় ঝুঁকেই পড়তে।
মুহিউদ্দিন খান: আমি আপনাকে দৃঢ়পদ না রাখলে আপনি তাদের প্রতি কিছুটা ঝুঁকেই পড়তেন।
জহুরুল হক: আর আমরা যদি তোমাকে সুপ্রতিষ্ঠিত না করতাম তা’হলে তুমি আলবৎ তাদের প্রতি সামান্য কিছু ঝুঁকেই পড়তে, --
Sahih International: And if We had not strengthened you, you would have almost inclined to them a little.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৭৪. আর আমরা আপনাকে অবিচলিত না রাখলে আপনি অবশ্যই তাদের দিকে প্রায় কিছুটা ঝুঁকে পড়তেন;(১)
তাফসীর:
১. অর্থাৎ যদি অসম্ভবকে ধরে নেয়ার পর্যায়ে আপনি তাদের ভ্রান্ত কার্যক্রমের দিকে ঝুকে পড়ার কাছাকাছি হয়ে যেতেন, তবে আপনার শাস্তি দুনিয়াতেও দ্বিগুণ হত এবং মৃত্যুর পর কবর অথবা আখেরাতেও দ্বিগুণ হত। কেননা, নৈকট্যশীলদের মামুলী ভ্ৰান্তিকেও বিরাট মনে করা হয়। এ বিষয়বস্তুর প্রায় অনুরূপ, যা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম- এর পত্নীদের সম্পর্কে কুরআনে বর্ণিত হয়েছে “হে নবী পত্নীরা, যদি তোমাদের মধ্যে কেউ প্রকাশ্যে নির্লজ্জ কাজ করে, তবে তাকে দ্বিগুণ শাস্তি দেয়া হবে।” [সূরা আল-আহযাবঃ ৩০]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৭৪) আমি তোমাকে অবিচলিত না রাখলে তুমি তাদের দিকে কিছুটা প্রায় ঝুঁকে পড়তে। [1]
তাফসীর:
[1] এখানে সেই সুরক্ষার কথা বর্ণিত হয়েছে, যা আল্লাহর পক্ষ হতে নবীগণ লাভ করে থাকেন। এ থেকে জানা গেল যে, মুশরিকরা যদিও নবী (সাঃ)-কে তাদের প্রতি আকৃষ্ট করতে চেয়েছিল, কিন্তু মহান আল্লাহ তাঁকে তাদের আকর্ষণ থেকে বাঁচিয়ে নেন। ফলে তিনি সামান্য পরিমাণও তাদের প্রতি ঝুঁকে যাননি।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৭৩-৭৫ নং আয়াতের তাফসীর:
(خَلِيْلًا....... وَإِنْ كَادُوْا)
শানে নুযূল:
ইবনু আব্বাস (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেন, উমাইয়া বিন খালফ, আবু জাহাল বিন হিশাম এবং কুরাইশদের কিছু লোক রাসূল (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট এসে বলল: হে মুহাম্মাদ! তুমি আমাদের উপাস্যগুলোকে একটু হাত বুলিয়ে দাও, আমরা তোমার ধর্মে প্রবেশ করব। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট তাঁর সম্প্রদায়ের বিচ্ছিন্ন হওয়াটা কষ্টকর মনে হল, আর তিনি তাদের ইসলাম গ্রহণ করাটাকে সমর্থন করছিলেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা এই আয়াতটি অবতীর্ণ করেন। (লুবাবুন নুকূল ফী আসবাবিন নুযূল)
উক্ত আয়াতগুলোতে মূলত আল্লাহ তা‘আলা তাঁর অনুগ্রহে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে কাফিরদের সকল চক্রান্ত থেকে হেফাযত রেখেছেন সে কথাই বর্ণনা করা হয়েছে। তারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নিকট বিভিন্ন সময় দাবী করত আর বলত, এটা এনে দিতে পারলে আমরা ইসলাম গ্রহণ করব। কখনো বলত, আমাদের মা‘বূদের এক বছর ইবাদত কর পরের বছর আমরা তোমার মা‘বূদের ইবাদত করব।
অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন: “যারা আমার সাক্ষাতের আশা পোষণ করে না তারা বলে, ‘অন্য এক কুরআন আন এটা ছাড়া, অথবা এটাকে বদলাও।’ বল: ‘নিজ হতে এটা বদলান আমার কাজ নয়। আমার প্রতি যা ওয়াহী হয়, আমি কেবল তারই অনুসরণ করি। আমি আমার প্রতিপালকের অবাধ্যতা করলে অবশ্যই আমি মহাদিবসের শাস্তির আশংকা করি।” (সূরা ইউনুস ১০:১৫)
অর্থাৎ যদি আল্লাহ নিজ অনুগ্রহে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দীনের উপর অটল না রাখতেন, তাহলে তিনি তো তাদের হিদায়াতের আশায় তাদের দিকে ঝুঁকেই পড়তেন। আর যদি তা হয়ে যেত তাহলে নাবীকে দুনিয়া ও আখিরাতে দ্বিগুণ শাস্তি পেতে হতো। সুতরাং অধিকাংশ মানুষের হিদায়াতের আশায় বা সমঝোতার লক্ষ্যে সত্যের সাথে মিথ্যাকে সংমিশ্রণ করা বা মিলমিশ করে চলার চিন্তাধারা সঠিক নয়। বরং সত্যের সাথে একজন থাকলেও তাকে নিয়েই চলতে হবে। এতেই সফলতা নিহিত।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. অসত্যের আহ্বানে সাড়া দেয়া যাবে না।
২. যার যত মর্যাদা বেশি, তার অপরাধের কারণে শাস্তিও তত বেশি হবে।
৩. সত্য-মিথ্যা সংমিশ্রণ করে সকলে মিলমিশ হয়ে চলার চিন্তাধারা ঠিক নয়, বরং সত্যের সাথে চলতে গিয়ে অন্যরা শত্র“ হলেও তাতেই কল্যাণ নিহিত রয়েছে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৭৩-৭৫ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআ’লা চক্রান্তকারী ও পাপীদের চালাকি ও চক্রান্ত হতে স্বীয় রাসূলকে (সঃ) সর্বদা রক্ষা করেছেন। তাঁকে তিনি রেখেছেন নিস্পাপ ও স্থির। তিনি নিজেই তার সাহায্যকারী ও অভিভাবক রয়েছেন। সর্বদা তিনি তাঁকে নিজের হিফাযতে ও তত্ত্বাবধানে রেখেছেন। তাঁর দ্বীনকে তিনি দুনিয়ার সমস্ত দ্বীনের উপর জয়যুক্ত রেখেছেন। তার শত্রুদের উঁচু বক্র বাসনাকে নীচু করে দিয়েছেন। পূর্ব হতে পশ্চিম পর্যন্ত তাঁর কালেমাকে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এই দু'টি আয়াতে এরই বর্ণনা রয়েছে। কিয়ামত পর্যন্ত আল্লাহ তাআলা স্বীয় রাসূলের (সঃ) উপর অসংখ্য দরূদও সালাম বর্ষন করতে থাকুন। আমীন!
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।