সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 66)
হরকত ছাড়া:
ربكم الذي يزجي لكم الفلك في البحر لتبتغوا من فضله إنه كان بكم رحيما ﴿٦٦﴾
হরকত সহ:
رَبُّکُمُ الَّذِیْ یُزْجِیْ لَکُمُ الْفُلْکَ فِی الْبَحْرِ لِتَبْتَغُوْا مِنْ فَضْلِهٖ ؕ اِنَّهٗ کَانَ بِکُمْ رَحِیْمًا ﴿۶۶﴾
উচ্চারণ: রাব্বুকুমুল্লাযী ইউযজী লাকুমুল ফুলকা ফিল বাহরি লিতাবতাগূমিন ফাদলিহী ইন্নাহূকানা বিকুম রাহীমা-।
আল বায়ান: তোমাদের রব তিনি, যিনি তোমাদের জন্য সমুদ্রে চালিত করেন নৌযান, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার। নিশ্চয় তিনি তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬৬. তোমাদের রব তিনিই, যিনি তোমাদের জন্য সাগরে নৌযান পরিচালিত করেন, যাতে তোমরা তার অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার। নিশ্চয় তিনি তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমাদের (প্রকৃত) প্রতিপালক তো তিনিই, যিনি সমুদ্রে তোমাদের জন্য সুস্থিরভাবে নৌযান পরিচালনা করেন, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার, তিনি তোমাদের প্রতি বড়ই দয়ালু।
আহসানুল বায়ান: (৬৬) তোমাদের প্রতিপালক তিনিই, যিনি তোমাদের জন্য সমুদ্রে জলযান পরিচালিত করেন, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার; তিনি তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। [1]
মুজিবুর রহমান: তোমাদের রাব্ব তিনিই যিনি তোমাদের জন্য সমুদ্রে নৌযান পরিচালিত করেন যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার; তিনি তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।
ফযলুর রহমান: তোমাদের প্রভু হলেন তিনি যিনি তোমাদের জন্য সমুদ্রে নৌযান চালিত করেন, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ (জীবিকা) সন্ধান করতে পার। নিশ্চয়ই তিনি তোমাদের প্রতি দয়াবান।
মুহিউদ্দিন খান: তোমাদের পালনকর্তা তিনিই, যিনি তোমাদের জন্যে সমুদ্রে জলযান চালনা করেন, যাতে তোমরা তার অনুগ্রহ অন্বেষন করতে পারো। নিঃ সন্দেহে তিনি তোমাদের প্রতি পরম দয়ালূ।
জহুরুল হক: তোমাদের প্রভু তিনিই যিনি তোমাদের জন্য সাগরে জাহাজ পরিচালিত করেন যেন তোমরা তাঁর করুণাভান্ডার থেকে অনুসন্ধান করতে পার। নিঃসন্দেহ তিনি তোমাদের জন্য সদা অফুরন্ত ফলদাতা।
Sahih International: It is your Lord who drives the ship for you through the sea that you may seek of His bounty. Indeed, He is ever, to you, Merciful.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৬৬. তোমাদের রব তিনিই, যিনি তোমাদের জন্য সাগরে নৌযান পরিচালিত করেন, যাতে তোমরা তার অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার। নিশ্চয় তিনি তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৬৬) তোমাদের প্রতিপালক তিনিই, যিনি তোমাদের জন্য সমুদ্রে জলযান পরিচালিত করেন, যাতে তোমরা তাঁর অনুগ্রহ সন্ধান করতে পার; তিনি তোমাদের প্রতি পরম দয়ালু। [1]
তাফসীর:
[1] এটা তাঁর দয়া ও রহমত যে, তিনি সমুদ্রকে মানুষের আয়ত্তাধীন করে দিয়েছেন। তারা তার পৃষ্ঠে নৌকা ও জাহাজ চালিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে যাতায়াত করে ব্যবসা-বাণিজ্য করে। অনুরূপ তিনি এমন সব জিনিসের প্রতি (মানুষের) দিকনির্দেশনাও করেছেন, যাতে বান্দাদের জন্য আছে অজস্র লাভ ও উপকারিতা।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৬৬-৭০ নং আয়াতের তাফসীর:
প্রথম আয়াতে বান্দার প্রতি আল্লাহ তা‘আলা দয়া ও অনুগ্রহের বর্ণনা দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলার দয়া ও অনুগ্রহে সমুদ্রে নৌকা ও জাহাজ চলাচল করে। মানুষ এসব যানের মাধ্যমে একস্থান থেকে অন্যস্থানে যাতায়াত করে থাকে। مِنْ فَضْلِه তাঁর অনুগ্রহ বলতে দুনিয়াতে আল্লাহ তা‘আলা যে সব রিযিকের ব্যবস্থা রেখেছেন সেসব রিযিক অন্বেষণ করা। পূর্বের যুগের মানুষের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অধিকাংশ যাতায়াত নৌ পথে করত। এখনো বড় বড় মালামালগুলো নৌ পথে আমদানি করা হয়ে থাকে। সুতরাং এটা আল্লাহ তা‘আলার একটি অনুগ্রহ। তিনি ইচ্ছা করলে জাহাজসহ মানুষকে ডুবিয়ে দিতে পারতেন। সমুদ্রের এই উত্তাল তরঙ্গ আল্লাহ তা‘আলা নিয়ন্ত্রণ না করলে বান্দার পক্ষে এই সমুদ্র পথে ভ্রমণ করা মোটেও সম্ভব হতনা। এটা বান্দার প্রতি আল্লাহ তা‘আলার একটা বড় অনুগ্রহ ।
দ্বিতীয় আয়াতে মানুষের জন্য আল্লাহ তা‘আলার আরো একটি নেয়ামতের বর্ণনা দেয়া হয়েছে। তা হল সমুদ্রে ভ্রমণকালে যখন উত্তাল তরঙ্গ তাদেরকে ঘিরে ফেলে তাদের অবস্থা এমন হয়ে যায় যে, মনে হয় সেখান থেকে তারা আর রেহাই পাবে না, তখন তাদের মাথা থেকে ضَلَّ তথা এক আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া সকল মা‘বূদের কথা চলে যায়, তখন আল্লাহ ছাড়া অন্য কোন মা‘বূদকে আহ্বান করে না। কারণ তারা জানে, এ বিপদ থেকে একক আল্লাহ ছাড়া তাদেরকে কেউ মুক্তি দিতে পারবে না। তাদের কাকুতি-মিনতির ডাক শুনে আল্লাহ সে বিপদ থেকে নাজাত দিলে স্থলে এসে আবার শিরকে লিপ্ত হয় এবং এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়। এ সম্পর্কে সূরা আনআমের ৬৩-৬৪ নং, সূরা ইউনুসের ২২-২৩ নং, সূরা লুকমানের ৩২ নং আয়াতসহ অনেক স্থানে উল্লেখ রয়েছে।
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর ক্ষমতার বর্ণনা দিচ্ছেন যে, তোমরা সমুদ্রে নিমজ্জিত হওয়া থেকে আল্লাহ তা‘আলার রহমতে বেঁচে যাও, তারপরে স্থলে এসে আল্লাহ তা‘আলাকে ভুলে যাও, তাঁর সাথে র্শিক কর, তোমরা কি জান না, তিনি তোমাদেরকে স্থলেও শাস্তি দিতে সক্ষম? তিনি তোমদেরকে জমিনে ধ্বসিয়ে দিতে পারেন অথবা পাথরের বৃষ্টি বর্ষণ করে সমূলে ধ্বংস করে দিবেন। তাহলে তোমরা কোন্ নিরাপত্তার কথা ভেবে আল্লাহ তা‘আলার সাথে স্থলে শিরক কর? তিনি তো আবার তোমাদেরকে কোন প্রয়োজনে সমুদ্রে নিয়ে যেতে পারেন, অতপর প্রবল ঝটিকা বায়ু প্রবাহিত করে জাহাজ ডুবিয়ে তোমাদেরকে মারতে পারেন। তখন তোমরা কোন সাহায্যকারী পাবে না। অতএব আল্লাহ তা‘আলা সকল বিষয়ের উপরই ক্ষমতাবান। তাই তাঁর শাস্তি থেকে নিজেকে নিরাপদ মনে করা মোটেও ঠিক নয়। সুতরাং তোমাদের সতর্ক হওয়া উচিত।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(إِنْ نَّشَأْ نَخْسِفْ بِهِمُ الْأَرْضَ أَوْ نُسْقِطْ عَلَيْهِمْ كِسَفًا مِّنَ السَّمَا۬ءِ)
“আমি যদি ইচ্ছা করি তবে তাদেরসহ পৃথিবীকে ধ্বসিয়ে দিতে পারি অথবা তাদের ওপর আকাশের খণ্ডসমূহ পতিত করতে পারি।” (সূরা সাবা ৩৪:৯)
আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
(قُلْ هُوَ الْقَادِرُ عَلٰٓي أَنْ يَّبْعَثَ عَلَيْكُمْ عَذَابًا مِّنْ فَوْقِكُمْ أَوْ مِنْ تَحْتِ أَرْجُلِكُمْ)
“বল: ‘তিনি তোমাদের ঊর্ধ্বদেশ অথবা পাদদেশ হতে শাস্তি প্রেরণ করতে সক্ষম।” (সূরা আনয়াম ৬:৬৫)
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা আদম সন্তানের মর্যাদা উল্লেখ করেছেন, তবে এ মর্যাদায় মু’মিন, কাফির সকলে শামিল। কারণ এ মর্যাদা অন্যান্য সৃষ্টিকুল, জীবজন্তু, জড়পদার্থ, উদ্ভিদ ইত্যাদির তুলনায়। তাহল মানুষকে আল্লাহ তা‘আলা উত্তম আকৃতি ও অবয়বে সৃষ্টি করেছেন, তাদেরকে জ্ঞান-বুদ্ধি দিয়েছেন। কিন্তু অন্যান্য প্রাণীর ভাল-মন্দ বিচার করার মতো জ্ঞান-বুদ্ধি নেই। দেখা যায় মানুষ দেহ, শক্তি ও অন্যান্য তুলনায় অনেক প্রাণী থেকে নগণ্য ও দুর্বল, তাহলে তাদের থেকে মর্যাদাবান হল কিভাবে? উত্তর, মানুষ জ্ঞান ও বুদ্ধি খাটিয়ে ঐ বিশাল দেহ ও শক্তিশালী প্রাণীকে নিজের করায়ত্ত করে নিচ্ছে। যে পাখি ডানা মেলে ঘন্টার পর ঘন্টা উড়ে হাজার হাজার মাইল চলে যাচ্ছে, মানুষ জ্ঞানের সাহায্যে উড়ো জাহাড় আবিষ্কার করে কম সময়ে আরো বেশি রাস্তা চলে যাচ্ছে। এমনিভাবে বিজ্ঞানের অসংখ্য আবিষ্কার আল্লাহ তা‘আলা কর্তৃক মানুষকে দেয়া জ্ঞানেরই প্রমাণ বহন করে, সেই সাথে প্রমাণ বহন করে তাঁর শ্রেষ্ঠত্বেরও। সুতরাং অন্যান্য প্রাণীর চেয়ে আদম সন্তানের শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা অনেক বেশি। তবে সাধারণ মানুষের মধ্য হতে যারা মু’মিন তাদের মর্যাদা আরো বেশি। আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে তাঁর দেয়া জ্ঞানের সদ্ব্যবহার করার ও মু’মিন হওয়ার তাওফীক দান করুন। আমীন!
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে অসংখ্য নেয়ামত দান করেছেন, কিন্তু মানুষ সেসব নেয়ামতের সাথে কুফরী করে।
২. মানুষ সৃষ্টির সেরা জাতি, তবে যদি ঈমান ও সৎআমলের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকে।
৩. আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে যেমন সমুদ্রে ডুবিয়ে মারতে সক্ষম তেমনি তাদেরকে জমিনে ধ্বসিয়ে দিতেও সক্ষম। সুতরাং তাঁর আযাব থেকে নিরাপদ হওয়ার সুযোগ নেই, তাই তাঁকে সর্বদা ভয় করে চলতে হবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: আল্লাহ তাআলা নিজের ইহসান ও অনুগ্রহের কথা বলছেন যে, তিনি তাঁর বান্দাদের সুবিধার্থে এবং তাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের পথ সহজ করণার্থে সমুদ্রে জলযান পরিচালিত করেছেন। তাঁর ফযল ও করম এবং স্নেহ ও দয়ার এটাও একটা নিদর্শন যে, তাঁর বান্দারা বহু দূর দেশে যাতায়াত করতে পারছে এবং আল্লাহর অনুগ্রই অর্থাৎ নিজেদের জীবিকার ব্যবস্থা করতে পারছে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।