আল কুরআন


সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 65)

সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 65)



হরকত ছাড়া:

إن عبادي ليس لك عليهم سلطان وكفى بربك وكيلا ﴿٦٥﴾




হরকত সহ:

اِنَّ عِبَادِیْ لَیْسَ لَکَ عَلَیْهِمْ سُلْطٰنٌ ؕ وَ کَفٰی بِرَبِّکَ وَکِیْلًا ﴿۶۵﴾




উচ্চারণ: ইন্না ‘ইবা-দী লাইছা লাকা ‘আলাইহিম ছুলতা-নুওঁ ওয়া কাফা-বিরাব্বিকা ওয়াকীলা-।




আল বায়ান: নিশ্চয় আমার বান্দাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই। কর্মবিধায়ক হিসেবে তোমার রবই যথেষ্ট।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৬৫. নিশ্চয় আমার বান্দাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই। আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আপনার রব'ই যথেষ্ট।




তাইসীরুল ক্বুরআন: ‘আমার বান্দাহদের ব্যাপার হল, তাদের উপর তোমার কোন আধিপত্য চলবে না।’ কর্ম সম্পাদনে তোমার প্রতিপালকই যথেষ্ট।




আহসানুল বায়ান: (৬৫) আমার দাসদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই।[1] আর কর্মবিধায়ক হিসাবে তোমার প্রতিপালকই যথেষ্ট।’ [2]



মুজিবুর রহমান: নিশ্চয়ই আমার দাসদের উপর তোর কোন ক্ষমতা নেই; কর্ম বিধায়ক হিসাবে তোর রাব্বই যথেষ্ট।



ফযলুর রহমান: “আসলে আমার (খাঁটি) বান্দাদের ওপর তোমার কোন কর্তৃত্ব নেই এবং কর্মবিধায়ক হিসেবে তোমার প্রভুই যথেষ্ট।”



মুহিউদ্দিন খান: আমার বান্দাদের উপর তোর কোন ক্ষমতা নেই আপনার পালনকর্তা যথেষ্ট কার্যনির্বাহী।



জহুরুল হক: "নিঃসন্দেহ আমার বান্দাদের সন্বন্ধে, -- তাদের উপরে তোমার কোনো প্রভাব নেই।" আর কর্ণধাররূপে তোমার প্রভুই যথেষ্ট।



Sahih International: Indeed, over My [believing] servants there is for you no authority. And sufficient is your Lord as Disposer of affairs.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৬৫. নিশ্চয় আমার বান্দাদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই। আর কর্মবিধায়ক হিসেবে আপনার রব’ই যথেষ্ট।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৬৫) আমার দাসদের উপর তোমার কোন ক্ষমতা নেই।[1] আর কর্মবিধায়ক হিসাবে তোমার প্রতিপালকই যথেষ্ট।’ [2]


তাফসীর:

[1] বান্দাদেরকে নিজের সাথে সম্পৃক্ত করেছেন তাদের মর্যাদা ও সম্মান প্রকাশের উদ্দেশ্যে। এ থেকে প্রতীয়মান হয় যে, আল্লাহর বিশেষ বান্দাদেরকে শয়তান ধোকায় ফেলতে সফল হয় না।

[2] অর্থাৎ, যে প্রকৃতার্থে আল্লাহর বান্দা হয়ে যায়, তাঁরই উপর ভরসা ও আস্থা রাখে, আল্লাহও তার বন্ধু ও সাহায্যকারী হয়ে যান।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৬১-৬৫ নং আয়াতের তাফসীর:



উক্ত আয়াতগুলোতে ইবলীস শয়তানের কঠিন শত্র“তা ও মানুষকে পথভ্রষ্ট করণে তার উদ্দীপনা সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদেকে অবগত করছেন। আল্লাহ তা‘আলা আদম (عليه السلام)-কে স্বহস্তে সৃষ্টি করার পর সকল ফেরেশতাকে সিজদা করার নির্দেশ দিলে সকলেই সিজদা করল কিন্তু ইবলীস আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশের অবাধ্য হল এবং অহংকার করল। যেমন সূরা বাকারার ৩৪ নং আয়াতে উল্লেখ রয়েছে। ইবলীস বলল: যাকে মাটি দ্বারা সৃষ্টি করেছেন তাকে আমি সিজদা করব? এ অস্বীকারের কারণ হল ইবলীস আগুনের তৈরি। এ সম্পর্কে সূরা আ‘রাফের ১১-১২ নং আয়াতে আলোচনা রয়েছে।



ইবলীস বলল: أَرَأَيْتَكَ অর্থাৎ আমাকে বলুন, কিভাবে আমার ওপর তাকে সম্মান দিয়েছেন? অথচ আমি তার চেয়ে শ্রেষ্ঠ, আবার তাকে সিজদাও দিতে বলছেন। لَأَحْتَنِكَنَّ এর অর্থ: ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন: ইবলীস বলল: আমি তাদের ওপর কৃর্তত্ব প্রতিষ্ঠিত করব। মুজাহিদ (রহঃ) বলেন: আমি তাদেরকে আমার দলে শামিল করে নেব। ইবনু যায়েদ বলেন: আমি তাদেরকে পথভ্রষ্ট করব। ইমাম কুরতুবী (রহঃ) বলেন: সবগুলোর অর্থ কাছাকাছি। অর্থাৎ পথভ্রষ্ট ও ধোঁকা দিয়ে তাদেরকে সমূলে ধবংসের দিকে নিয়ে যাব। তবে অল্প সংখ্যক ব্যতীত, তারাই হল আল্লাহ তা‘আলার একনিষ্ঠ বান্দা। যেমন সূরা হিজর ৪০ নং আয়াতে বলা হয়েছে।



আল্লাহ তা‘আলা তাকে ভর্ৎসনার সাথে বের করে দিলেন এবং বললেন: মানুষ ও জিনদের মাঝে যারা তোমার অনুসরণ করবে তাদের পরিণাম হল জাহান্নাম।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(لَأَمْلَأَنَّ جَهَنَّمَ مِنْكَ وَمِمَّنْ تَبِعَكَ مِنْهُمْ أَجْمَعِيْنَ‏)‏



“অবশ্যই আমি জাহান্নাম পূর্ণ করব তোমাকে দিয়ে এবং তাদের মধ্যে যারা তোমার অনুসরণ করবে তাদের সবাইকে দিয়ে।” (সূরা স্ব-দ ৩৮:৮৫)



اسْتَفْزِز, أَجْلِبْ, شَارِكْهُمْ,



এ সব ক্রিয়া আল্লাহ তা‘আলা ধমক দেয়ার জন্য ব্যবহার করেছেন। অর্থাৎ যাকে পারিস তোর আওয়াজ দ্বারা সত্যচ্যুত কর। আওয়াজ বলতে প্রত্যেক প্রতারণামূলক আহ্বান অথবা গান-বাজনা ও রঙ-তামাশা ও পাপ কাজের দিকে সকল আহ্বান।



অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী বলতে যারা আরোহন করে ও হেঁটে পাপ কাজের দিকে ধাবিত হয় তারা সবাই শয়তানের অশ্বারোহী ও পদাতিক বাহিনী। ধন-মালে শয়তানের অংশ গ্রহণের অর্থ হল- অবৈধ পন্থায় মাল উপার্জন করা এবং হারাম পথে ব্যয় করা। অনুরূপ মূর্তির নামে পশু উৎসর্গ করা।



আর সন্তান-সন্ততিতে শরীক হওয়ার অর্থ হল ব্যভিচার করা, ইসলামী নাম ব্যতীত অনৈসলামিক নাম রাখা, অনৈসলামী আদব-কায়দায় তাদেরকে লালন পালন করা, যাতে তারা দুশ্চরিত্রবান হয়। অভাবের ভয়ে তাদেরকে হত্যা করা, অথবা জীবিত প্রোথিত করা, সন্তানদেরকে অগ্নিপূজক, ইয়াহূদী, খ্রিস্টান ইত্যাদি বানানো। এমনকি শয়তান মানুষের খাবার, পানীয় ও সহবাসের ক্ষেত্রেও শরীক হয় যখন বিসমিল্লাহ না বলে শুরু করে।



সবশেষে আল্লাহ তা‘আলা মানব জাতিকে স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, শয়তানের ধোঁকায় পড়ো না, কারণ সে যে প্রতিশ্রুতি দেয় তা সব ধোঁকা। শয়তানের ধোঁকা থেকে রক্ষা পায় কেবল তারাই যারা আল্লাহ তা‘আলার একনিষ্ঠ বান্দা। তাই আল্লাহ তা‘আলার একনিষ্ঠ বান্দা হওয়ার মাধ্যমে শয়তানের ধোঁকা থেকে নিজেকে রক্ষা করে জাহান্নাম থেকে মুক্ত হতে হবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. সন্তান-সন্ততিকে অনৈসলামিক পন্থায় লালন-পালন করা, শয়তানের পথে পরিচালিত করার শামিল।

২. শয়তান মানুষের চিরশত্র“, তাই তার অনুসরণ করা যাবে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৬৩-৬৫ নং আয়াতের তাফসীর

ইবলীস আল্লাহ তাআলার কাছে অবকাশ চায়, তিনি তা মঞ্জুর করে নেন। ইরশাদ হয়ঃ নির্দিষ্ট সময় পর্যন্ত তোকে অবকাশ দেয়া হলো। তোর ও তোর অনুসারীদের দুষ্কর্যের প্রতিফল হচ্ছে জাহান্নাম, যা পূর্ণ শাস্তি। তোর আহবান দ্বারা তুই যাকে পারিস বিভ্রান্ত কর অর্থাৎ গান, তামাশা দ্বারা তাদেরকে বিপথগামী করতে থাক। যে কোন শব্দ আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতার দিকে আহ্বান করে সেটাই শয়তানী শব্দ। অনুরূপভাবে তুই তোর পদাতিক ও অশ্বারোহী বাহিনী দ্বারা যার উপর পারিস আক্রমণ চালা। শব্দটি শব্দের বহুবচন। যেমন শব্দের বহুবচন এবং শব্দের বহু বচন এসে থাকে। ভাবার্থ হচ্ছেঃ হে শয়তান! তোর সাধ্যমত তুই তাদের উপর তোর আধিপত্য ও ক্ষমতা প্রয়োগ কর। এটা হলো আমরে কী, নিদের্শ সূচক আমর নয়। শয়তানদের অভ্যাস এটাই যে, তারা আল্লাহর বান্দাদেরকে উত্তেজিত ও বিভ্রান্ত করতে থাকে। তাদেরকে পাপকার্যে উৎসাহিত করে। আল্লাহ তাআলার অবাধ্যতার কাজে যে ব্যক্তি সওয়ারীর উপর চলে বা পদব্রজে চলে সে শয়তানের সেনাবাহিনীর অন্তর্ভুক্ত। এইরূপ মানবও রয়েছে এবং দানবও রয়েছে; যারা শয়তানের অনুগত। যখন কারো উপর শব্দ উঠানো হয় বা কাউকে আহবান করা হয় তখন আরববাসী বলেঃ (আরবি) অর্থাৎ অমুক ব্যক্তি অমুক ব্যক্তিকে সশব্দে আহবান করেছে। আল্লাহ তাআলার এই নিদের্শ এখানে এই অর্থেই ব্যবহৃত হয়েছে। এটা ঘোড়া দৌড়ের ‘জালব’ নয়। ওটাও এর থেকেই নির্গত হয়েছে (আরবি) শব্দটিও এর থেকেই বের হয়েছে। অর্থাৎ শব্দ উচ্চ হওয়া।

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে ইবলীস! তুই তাদের ধন-মালে ও সন্তানসন্ততিতেও শরীক থাক। অর্থাৎ তুই তাদেরকে তাদের মাল আল্লাহর অবাধ্যতার কাজে খরচ করাতে থাক। যেমন তারা সূদ খাবে, হারাম উপায়ে মাল জমা করবে এবং হারাম কাজে তা ব্যয় করবে। হালাল জন্তুগুলিকে তারা হারাম করে নেবে ইত্যাদি। আর সন্তান সন্ততিতে তার শরীক হওয়ার অর্থ হলোঃ যেমন ব্যভিচারের মাধ্যমে সন্তানের জন্ম হওয়া, বাল্যকালে অজ্ঞতা বশতঃ পিতা-মাতারা তাদের সন্তানকে জীবন্ত প্রোথিত করা, তাদের ইয়াহূদী, খৃস্টান, মাজুসী ইত্যাদি বানিয়ে দেয় সন্তানদের নাম আবদুল হারিস, আবদুশশামস, আবদে ফুলান (অমুকের দাস) ইত্যাদি রাখা। মোট কথা, যে কোন ভাবে শয়তানকে তাতে সঙ্গী করে নিলো। এটাই হচ্ছে সন্তান-সন্ততিতে শয়তানের শরীক হওয়া।

সহীহ মুসিলমে বর্ণিত আছে যে, মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ “আমি আমার বন্দাদেরকে একনিষ্ঠ একত্ববাদী করে সৃষ্টি করেছি। অতঃপর শয়তান এসে তাদেরকে বিভ্রান্ত করে দেয় এবং হালাল জিনিসগুলিকে তারা হারাম বানিয়ে নেয়।

সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের কেউ যখন তার স্ত্রীর কাছে যাওয়ার ইচ্ছা করবে তখন যেন সে পাঠ করেঃ (আরবি) অর্থাৎ “হে আল্লাহ! আমাদেরকে আপনি শয়তান হতে রক্ষা করুন এবং তাকেও শয়তান হতে রক্ষা করুন যা আপনি আমাদেরকে দান করবেন।” এর ফলে যদি কোন সন্তান আল্লাহ তাআলার পক্ষ হতে টিকে যায়, তবে শয়তান কখনো তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না।”

এরপর আল্লাহ তাআলা বলেনঃ হে শয়তান! যা, তুই তাদেরকে মিথ্যা ওয়াদা-অঙ্গীকার দিতে থাক। কিয়ামতের দিন এই শয়তান তার অনুসারীদেরকে বলবেঃ “আল্লাহ তাআলার ওয়াদা ছিল সব সত্য, আর আমার ওয়াদা ছিল সব মিথ্যা।” তারপর মহান আল্লাহ বলেনঃ “আমীর মু'মিন বান্দারা আমার রক্ষণাবেক্ষণে রয়েছে। আমি তাদেরকে বিতাড়িত শয়তান হতে রক্ষা করতে। থাকবো। আল্লাহর কর্মবিধান, তাঁর হিফাযত, তাঁর সাহায্য এবং তার পৃষ্ঠপোষকতা তাঁর মুমিন বান্দাদের জন্যে যথেষ্ট।

মুসনাদে আহমাদে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ ‘মু'মিন শয়তানকে এমনভাবে আয়ত্তাধীন করে ফেলে যেমন কেউ কোন জন্তুকে লাগাম লাগিয়ে দিয়ে আয়ত্তাধীন করে থাকে।”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।