সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 53)
হরকত ছাড়া:
وقل لعبادي يقولوا التي هي أحسن إن الشيطان ينزغ بينهم إن الشيطان كان للإنسان عدوا مبينا ﴿٥٣﴾
হরকত সহ:
وَ قُلْ لِّعِبَادِیْ یَقُوْلُوا الَّتِیْ هِیَ اَحْسَنُ ؕ اِنَّ الشَّیْطٰنَ یَنْزَغُ بَیْنَهُمْ ؕ اِنَّ الشَّیْطٰنَ کَانَ لِلْاِنْسَانِ عَدُوًّا مُّبِیْنًا ﴿۵۳﴾
উচ্চারণ: ওয়া কুল লি‘ইবা-দী ইয়াকূলুল্লাতী হিয়া আহছানু ইন্নাশশাইতা-না ইয়ানযাগু বাইনাহুম ইন্নাশশাইতা-না কা-না লিলইনছা-নি ‘আদুওওয়াম মুবীনা-।
আল বায়ান: আর আমার বান্দাদেরকে বল, তারা যেন এমন কথা বলে, যা অতি সুন্দর। নিশ্চয় শয়তান তাদের মধ্যে বৈরিতা সৃষ্টি করে; নিশ্চয় শয়তান মানুষের স্পষ্ট শত্রু।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫৩. আর আমার বান্দাদেরকে বলুন, তারা যেন এমন কথা বলে যা উত্তম। নিশ্চয় শয়তান তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উস্কানি দেয়; নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্ৰকাশ্য শত্ৰু।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আমার বান্দাদেরকে বলতে বল এমন কথা যা খুবই উত্তম। শয়তান মানুষের মাঝে ঝগড়া-বিভেদ-বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে, শয়তান হল মানুষের প্রকাশ্য দুশমন।
আহসানুল বায়ান: (৫৩) আমার দাসদেরকে বল, তারা যেন সেই কথা বলে যা উত্তম।[1] নিশ্চয় শয়তান তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উস্কানি দেয়; [2] নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শক্র ।
মুজিবুর রহমান: আমার বান্দাদেরকে যা উত্তম তা বলতে বল; শাইতান তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উস্কানি দেয়; শাইতান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।
ফযলুর রহমান: আর আমার বান্দাদেরকে বলবে, তারা যেন তাই বলে যা সবচেয়ে ভাল। নিশ্চয়ই শয়তান তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির প্ররোচনা দেয়। শয়তান তো মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।
মুহিউদ্দিন খান: আমার বান্দাদেরকে বলে দিন, তারা যেন যা উত্তম এমন কথাই বলে। শয়তান তাদের মধ্যে সংঘর্ষ বাধায়। নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু।
জহুরুল হক: আর আমার বান্দাদের বল যে তারা যেন কথা বলে যা সর্বোৎকৃষ্ট। নিঃসন্দেহ শয়তান তাদের মধ্যে বিরোধের উসকানি দেয়। শয়তান মানুষের জন্য নিশ্চয় প্রকাশ্য শত্রু।
Sahih International: And tell My servants to say that which is best. Indeed, Satan induces [dissension] among them. Indeed Satan is ever, to mankind, a clear enemy.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫৩. আর আমার বান্দাদেরকে বলুন, তারা যেন এমন কথা বলে যা উত্তম। নিশ্চয় শয়তান তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উস্কানি দেয়; নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্ৰকাশ্য শত্ৰু।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫৩) আমার দাসদেরকে বল, তারা যেন সেই কথা বলে যা উত্তম।[1] নিশ্চয় শয়তান তাদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টির উস্কানি দেয়; [2] নিশ্চয় শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শক্র ।
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, আপোসে কথোপকথনের সময় জিহ্বাকে যেন সাবধানে ব্যবহার করে। যেন ভালো কথা বলে। অনুরূপ কাফের, মুশরিক এবং কিতাবধারীদেরকে সম্বোধন করার প্রয়োজন দেখা দিলে, তাদের সাথে করুণাসিক্ত কণ্ঠে ও নরমভাবে কথা বলবে।
[2] তোমাদের প্রকাশ্য ও চিরশত্রু শয়তান তোমাদের জিভের সামান্যতম বিচ্যুতি দ্বারা তোমাদের পরস্পরের মধ্যে ফাসাদ সৃষ্টি করতে পারে অথবা কাফের ও মুশরিকদের অন্তরে তোমাদের প্রতি আরো বেশী বিদ্বেষ ও শত্রুতা ভরে দিতে পারে। হাদীসে বর্ণিত, নবী (সাঃ) বলেছেন, ‘‘তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তি যেন তার কোন ভাই (মুসলমান)এর প্রতি অস্ত্র দ্বারা ইঙ্গিত না করে। কেননা, সে জানে না, হতে পারে শয়তান তার হাত দ্বারা সেই অস্ত্র চালিয়ে দেবে। (এবং তা সেই মুসলিম ভাইকে গিয়ে লাগবে এবং এতে তার মৃত্যু হয়ে যাবে।) আর এর কারণে সে জাহান্নামের গহ্বরে গিয়ে পড়বে।’’ (বুখারীঃ কিতাবুল ফিতান, মুসলিমঃ কিতাবুল বির্র্)
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৫৩-৫৫ নং আয়াতের তাফসীর:
অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদেরকে উত্তম চরিত্র, আমল ও কথা বলার নির্দেশনা দিয়ে বলেন: যখন তোমরা কথা বলবে তখন যা ভাল সে কথা বলবে। মন্দ কথা বলা থেকে বিরত থাকবে, তা দীনের ব্যাপারে হোক আর দুনিয়ার ব্যাপারে হোক।
রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন:
وَمَنْ كَانَ يُؤْمِنُ بِاللَّهِ وَاليَوْمِ الآخِرِ فَلْيَقُلْ خَيْرًا أَوْ لِيَصْمُتْ
যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলা ও আখিরাতে বিশ্বাসী সে যেন ভাল কথা বলে অথবা চুপ থাকে। (সহীহ বুখারী হা: ৬০১৮)
সুতরাং কথা বলার সময় খেয়াল করা উচিত, আমি যা বলছি তা কি দীন ও দুনিয়ার জন্য কল্যাণকর, মানুষের উপকারে আসবে, না কারো ক্ষতি বয়ে নিয়ে আসবে। এসব খেয়াল করে চললে সমাজে বিশৃংখলা সৃষ্টি হবে না, হানাহানি মারামারি হবে না, বরং সকলে ভাই ভাই হিসেবে বসবাস করা যাবে। তার পরেই আল্লাহ তা‘আলা বলেছেন, শয়তান চায় তোমাদের মুখ দিয়ে এমন কিছু কথা বের করতে যার দ্বারা সমাজে বিভেদ সৃষ্টি করবে, কারণ তার কাজই হল তোমাদের অকল্যাণ করা, সে তোমাদের কল্যাণ দেখতে পারে না। কেননা সে তোমাদের প্রকাশ্য শত্র“। তার ব্যাপারে সাবধান থাকবে।
এজন্যই হাদীসে বলা হয়েছে, আবূ হুরাইরা (রাঃ) থেকে বর্ণিত তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: তোমাদের কেউ যেন তার ভাইয়ের দিকে অস্ত্র দ্বারা ইশারা না করে। কেননা তার অজান্তে হয়তবা শয়তান ওটা তার ভাইয়ের গায়ে লাগিয়ে দেবে। আর এর ফলে সে জাহান্নামী হয়ে যাবে। (সহীহ বুখারী হা: ৭০৭২, সহীহ মুসলিম হা: ১২৬)
অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তিনি সমস্ত বিষয় সম্পর্কে অবগত আছেন, আকাশে ও জমিনে যারা অবস্থান করে তাদের সম্পর্কে তিনি জ্ঞাত। তিনি চাইলে সকল মানুষের প্রতি দয়া করতে পারেন আবার ইচ্ছা করলে শাস্তিও দিতে পারেন। এতে বুঝা যায় যে, সকল ক্ষমতা আল্লাহ তা‘আলারই হাতে। অন্য কারো হাতে নয়।
(وَلَقَدْ فَضَّلْنَا بَعْضَ.... )
এখানে নাবীদের মর্যাদার তারতম্যের কথা বলা হয়েছে। কিছু কিছু নাবীর মর্যাদা কিছু কিছু নাবীদের থেকে বেশি। এ মর্যাদা স্বয়ং আল্লাহ তা‘আলা দিয়েছেন। যেমন আদম (عليه السلام)-কে নিজ হাতে সৃষ্টি করে মর্যাদা দিয়েছেন যা অন্য কোন নাবীর নেই, নূহ (عليه السلام)-কে প্রথম রাসূল হিসেবে মর্যাদা দিয়েছেন যা অন্য নাবীদের নেই, ইবরাহীম (عليه السلام)-কে খলীল বা অন্তরঙ্গ বন্ধু হিসেবে গ্রহণ করে মর্যাদা দিয়েছেন যা অন্য কোন নাবীকে দেননি, মূসা (عليه السلام)-এর সাথে সরাসরি কথা বলে কালিমুল্লাহর মর্যাদা দিয়েছেন যা অন্য কাউকে দেননি, আমাদের নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে শেষ নাবী হিসেবে মর্যাদা দিয়েছেন যা অন্যদের থেকে পৃথক।
এ সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:
(تِلْكَ الرُّسُلُ فَضَّلْنَا بَعْضَهُمْ عَلٰي بَعْضٍۭ مِنْهُمْ مَّنْ كَلَّمَ اللّٰهُ وَرَفَعَ بَعْضَهُمْ دَرَجٰتٍ)
“এ সকল রাসূল যাদের কারো উপর আমি কাউকে শ্রেষ্ঠত্ব দান করেছি, তাদের মধ্যে কারও সাথে আল্লাহ কথা বলেছেন এবং কারও মর্যাদাকে সমুন্নত করেছেন।” (সূরা বাক্বারাহ ২:২৫৩)
অতএব মর্যাদার দিক দিয়ে নাবীদের মধ্যে কম-বেশি রয়েছে, তবে নির্দিষ্টভাবে বলা যাবে না, কারণ নির্দিষ্টভাবে বলা নিষেধ রয়েছে। (সহীহ বুখারী হা: ৩৩৯৫)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কোন মন্দ কথা বলব না, কারণ মুখ শয়তানের অন্যতম একটি হাতিয়ার।
২. আল্লাহ তা‘আলার রহমত ও ক্রোধ নামে দুটি সিফাত রয়েছে।
৩. মর্যাদাগত দিক থেকে নাবীদের মাঝে পার্থক্য রয়েছে তবে তা ব্যাপকভাবে, নির্দিষ্টভাবে নয়।
৪. দাঊদ (عليه السلام)-এর মর্যাদার কথা জানা গেল।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবীকে (সঃ) সম্বোধন করে বলছেনঃ হে নবী (সঃ)! তুমি আমার মুমিন বান্দাদেরকে বলে দাও যে, তারা যেন উত্তম ভাষায়, সুবাক্যে এবং ভদ্রতার সাথে কথা বলে। অন্যথায় শয়তান তাদের মধ্যে প্রভেদ সৃষ্টি ও ফাটল ধরাবার চেষ্টা করবে। ফলে তাদের পরস্পরের মধ্যে ঝগড়া বিবাদ শুরু হয়ে যাবে। এজন্যেই হাদীসে রয়েছে যে, মুসলমান ভাই এর দিকে। কোন অস্ত্রের দ্বারা ইশারা করাও হারাম। কেননা, হয়তো, শয়তান ওটা তার গায়ে লাগিয়ে দেবে এবং এর ফলে সে জাহান্নামী হয়ে যাবে। (এ হাদীস মুসনাদে আহমাদে বর্ণিত আছে)
বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) এক সমাবেশে জনগণকে লক্ষ্য করে বলেছিলেনঃ “সমস্ত মুসলমান পরস্পর ভাই ভাই। কেউ কারো উপর জুলুম করবে না এবং কেউ কারো মর্যাদার হানি করবে না।” অতঃপর তিনি স্বীয় বক্ষের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেনঃ “তাকওয়া এখানে।” একথা তিনি তিনবার বলেন। তারপর তিনি বলেনঃ “যে দুই ব্যক্তি পরস্পর দ্বীনী বন্ধু হিসেবে রয়েছে, অতঃপর তাদের মধ্যে প্রভেদ সৃষ্টি হয়ে যায়, এখন তাদের মধ্যে যে ব্যক্তি এই প্রভেদের কথা বর্ণনা করবে সে মন্দ, বদতর এবং চরম দুষ্ট।” (এ হাদীসটি ‘মুসনাদ গ্রন্থে রয়েছে)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।