সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 52)
হরকত ছাড়া:
يوم يدعوكم فتستجيبون بحمده وتظنون إن لبثتم إلا قليلا ﴿٥٢﴾
হরকত সহ:
یَوْمَ یَدْعُوْکُمْ فَتَسْتَجِیْبُوْنَ بِحَمْدِهٖ وَ تَظُنُّوْنَ اِنْ لَّبِثْتُمْ اِلَّا قَلِیْلًا ﴿۵۲﴾
উচ্চারণ: ইয়াওমা ইয়াদ‘ঊকুম ফাতাছতাজীবূনা বিহামদিহী ওয়া তাজুননূনা ইল্লাবিছতুম ইল্লাকালীলা-।
আল বায়ান: ‘যেদিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন, তখন তাঁর প্রশংসার সাথে তোমরা সাড়া দেবে। আর তোমরা ধারণা করবে, অল্প সময়ই তোমরা অবস্থান করেছিলে’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫২. যেদিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন, এবং তোমরা তার প্রশংসার সাথে তার ডাকে সাড়া দেবে(১) এবং তোমরা মনে করবে, তোমরা অল্পকালই অবস্থান করেছিলে।(২)
তাইসীরুল ক্বুরআন: যে দিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন আর তোমরা তাঁর প্রশংসা করতে করতে তাঁর ডাকে সাড়া দিবে আর তোমরা ধারণা করবে যে, তোমরা খুব অল্প সময়ই অবস্থান করেছিলে।
আহসানুল বায়ান: (৫২) যেদিন তিনি তোমাদেরকে আহবান করবেন[1] এবং তোমরা প্রশংসার সাথে তাঁর আহবানে সাড়া দিবে এবং তোমরা মনে করবে, তোমরা অল্পকালই অবস্থান করেছিলে?’ [2]
মুজিবুর রহমান: যেদিন তিনি তোমাদেরকে আহবান করবেন এবং তোমরা প্রশংসার সাথে তাঁর আহবানে সাড়া দিবে এবং তোমরা মনে করবে, তোমরা অল্পকালই অবস্থান করেছিলে।
ফযলুর রহমান: “যেদিন তিনি তোমাদেরকে ডাক দেবেন আর তোমরা তাঁর প্রশংসা করতে করতে তাঁর ডাকে সাড়া দেবে; এবং তোমাদের মনে হবে, (পৃথিবীতে) তোমরা খুব কম সময়ের জন্য অবস্থান করেছিলে।”
মুহিউদ্দিন খান: যেদিন তিনি তোমাদেরকে আহবান করবেন, অতঃপর তোমরা তাঁর প্রশংসা করতে করতে চলে আসবে। এবং তোমরা অনুমান করবে যে, সামান্য সময়ই অবস্থান করেছিলে।
জহুরুল হক: যেদিন তিনি তোমাদের ডাকবেন তখন অচিরেই তোমরা সাড়া দেবে তাঁর প্রশংসার সাথে, আর তোমরা ভাববে যে তোমরা তো অবস্থান করছিলে শুধু অল্পক্ষণ।
Sahih International: On the Day He will call you and you will respond with praise of Him and think that you had not remained [in the world] except for a little."
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৫২. যেদিন তিনি তোমাদেরকে ডাকবেন, এবং তোমরা তার প্রশংসার সাথে তার ডাকে সাড়া দেবে(১) এবং তোমরা মনে করবে, তোমরা অল্পকালই অবস্থান করেছিলে।(২)
তাফসীর:
১. আয়াতের অর্থ এই যে, হাশরের ময়দানে যখন তোমাদেরকে ডাকা হবে, তখন তোমরা সবাই ঐ আওয়ায অনুসরণ করে একত্রিত হয়ে যাবে। ময়দানে আসার সময় তোমরা সবাই আল্লাহর প্রশংসা করতে করতে উপস্থিত হবে। আয়াতের বাহ্যিক অর্থ থেকে জানা যায় যে, তখন মুমিন ও কাফের সবারই এই অবস্থা হবে। কিন্তু ইবন আব্বাস বলেন, এখানে হামদ দ্বারা তাঁর নির্দেশ ও ইচ্ছার অনুগত হয়ে যাওয়ার কথা বুঝানো হয়েছে। কাতাদা বলেন, এর অর্থ তোমরা তাঁর পরিচয় জানতে পারবে এবং আনুগত্য করে তাঁর ডাকে সাড়া দিবে।
কোন কোন তফসীরবিদ বলে, এর অর্থ হচ্ছে, আর তাঁর জন্যই যাবতীয় হামদ ও স্তুতি সর্বাবস্থায়। [ইবন কাসীর] কুরআন ও হাদীসের অসংখ্য বর্ণনা থেকে জানা যায় যে, হাশরের ময়দানে বিভিন্ন স্থানে অবস্থান করতে হবে এবং প্রত্যেক অবস্থানস্থলে মানুষের অবস্থা বিভিন্নরূপ হবে। ইমাম কুরতুবী বলেনঃ হাশরে পুনরুত্থানের শুরু হামদ দ্বারা হবে। সবাই হামদ করতে করতে উত্থিত হবে এবং সব ব্যাপারে সমাপ্তিও হামদের মাধ্যমে হবে। যেমন- বলা হয়েছে, “আর তাদের (হাশরবাসীদের) ফয়সালা হক অনুযায়ী করা হয়েছে এবং বলা হয়েছে যে, সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্যে।” [সূরা আয-যুমারঃ ৭৫]
২. অর্থাৎ দুনিয়ায় মৃত্যুকাল থেকে নিয়ে কিয়ামতের দিনে উত্থান পর্যন্তকার সময়কালটা মাত্র কয়েক ঘন্টার বেশী বলে মনে হবে না। তোমরা তখন মনে করবে, আমরা সামান্য একটু সময় ঘুমিয়ে পড়েছিলাম তার মধ্যে হঠাৎ এ কিয়ামতের শোরগোল আমাদের জাগিয়ে দিয়েছে। কুরআন তাদের এ সমস্ত কথাবার্তার বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরেছে। কোথাও বলেছে, “যেদিন তারা তা দেখতে পাবে সেদিন তাদের মনে হবে যেন তারা পৃথিবীতে মাত্র এক সন্ধ্যা অথবা এক প্রভাত অবস্থান করেছে!” [সূরা আন নাযি’আতঃ ৪৬]
আবার বলা হয়েছে, “যেদিন শিংগায় ফুঁক দেয়া হবে এবং যেদিন আমি অপরাধীদেরকে দৃষ্টিহীন অবস্থায় সমবেত করব। সেদিন তারা নিজেদের মধ্যে চুপি চুপি বলাবলি করবে, “তোমরা মাত্র দশদিন অবস্থান করেছিলে।” [সূরা ত্বা-হাঃ ১০২–১০৪] আরো বলা হয়েছে, “যেদিন কিয়ামত হবে সেদিন অপরাধীরা শপথ করে বলবে যে, তারা মুহুর্তকালের বেশী অবস্থান করেনি। এভাবেই তারা সত্যভ্ৰষ্ট হত।” [সূরা আর-রূমঃ ৫৫] আবার কোথাও বলা হয়েছে, “আল্লাহ্ বলবেন, তোমরা একদিন বা দিনের কিছু অংশ; আপনি না হয়, গণনাকারীদেরকে জিজ্ঞেস করুন।” তিনি বলবেন, “তোমরা অল্প কালই অবস্থান করেছিলে, যদি তোমরা জানতে! [সূরা আল-মুমিনূনঃ ১১২–১১৪]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৫২) যেদিন তিনি তোমাদেরকে আহবান করবেন[1] এবং তোমরা প্রশংসার সাথে তাঁর আহবানে সাড়া দিবে এবং তোমরা মনে করবে, তোমরা অল্পকালই অবস্থান করেছিলে?’ [2]
তাফসীর:
[1] ‘আহবান করবেন’ এর অর্থ, কবর থেকে জীবিত করে তাঁর সমীপে উপস্থিত করবেন। তোমরা তাঁর প্রশংসা করতে করতে তাঁর আজ্ঞা পালন করবে অথবা তাঁকে তোমরা চিনে নিয়ে তাঁর নিকট উপস্থিত হয়ে যাবে।
[2] সেখানে দুনিয়ার এই জীবন-কাল অতি অল্প মনে হবে। كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَهَا لَمْ يَلْبَثُوا إِلَّا عَشِيَّةً أَوْ ضُحَاهَا ‘‘যেদিন তারা কিয়ামত দেখবে, সেদিন মনে হবে যেন তারা দুনিয়াতে মাত্র এক সন্ধ্যা অথবা এক সকাল অবস্থান করেছিল।’’ (সূরা নাযিআতঃ ৪৬) এই বিষয়কে অন্যান্য আয়াতেও বর্ণনা করা হয়েছে। যেমন, সূরা ত্বহার ১০২-১০৪ নং, সূরা রূমের ৫৫নং এবং সূরা মু’মিনূনের ১১২-১১৪নং আয়াতে। কেউ কেউ বলেছেন যে, প্রথমবার ফুঁ মারা হবে, তখন সমস্ত মৃত কবরসমূহে জীবিত হয়ে যাবে। অতঃপর দ্বিতীয় ফুঁ মারা হলে, হিসাব-নিকাশের জন্য হাশরের মাঠে একত্রিত হয়ে যাবে। উভয় ফুঁকের মধ্যে চল্লিশ বছরের ব্যবধান হবে। আর এই দিনগুলোতে তাদেরকে আযাব দেওয়া হবে না। তখন তারা ঘুমিয়ে থাকবে। দ্বিতীয় ফুঁকে উঠে বলবে, ‘‘হায় আমাদের দুর্ভোগ, কে আমাদেরকে নিদ্রাস্থল থেকে উত্থিত করল? (সূরা ইয়াসীনঃ ৫২) (ফাতহুল কাদীর) তবে প্রথম কথাটিই বেশী সঠিক।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪৯-৫২ নং আয়াতের তাফসীর:
যারা কিয়ামত ও পুনরুত্থানকে অস্বীকার করে, অসম্ভব মনে করে এখানে তাদের উত্তর দেয়া হয়েছে। বস্তুবাদী কাফির-মুশরিকরা মনে করে কিভাবে পুনরুত্থান সম্ভব? অথচ আমরা মরে গেলে হাড়ে পরিণত হয়ে যাব, দেহ ভেঙ্গে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে, কোন অস্তিত্ব থাকবে না, এরপরেও কি নতুন করে সৃষ্টি করা সম্ভব? এটা কোনদিন সম্ভব হতে পারে না। আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে বলে দিতে নির্দেশ দিচ্ছেন যে, বল: শুধু হাড় বা মাটি কেন তোমরা পাথর হয়ে গেলেও অথবা লোহা হয়ে গেলেও অথবা এমন কিছুতে পরিণত হয়ে যাও যা তোমাদের ধারণায় তার মধ্যে জীবন দেয়া খুবই কঠিন, তা হতেও আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে পুনরায় জীবিত করবেন, এটা তাঁর জন্য কোন কঠিন বিষয় নয়। তাদের এ কথা প্রসঙ্গে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَضَرَبَ لَنَا مَثَلًا وَّنَسِیَ خَلْقَھ۫ﺚ قَالَ مَنْ یُّحْیِ الْعِظَامَ وَھِیَ رَمِیْمٌﮝقُلْ یُحْیِیْھَا الَّذِیْٓ اَنْشَاَھَآ اَوَّلَ مَرَّةٍﺚ وَھُوَ بِکُلِّ خَلْقٍ عَلِیْمُﮞ)
“আর সে আমার সম্পর্কে উদাহরণ বর্ণনা করে, অথচ সে নিজের জন্মের কথা ভুলে যায়। সে বলে: কে জীবিত করবে এ হাড়গুলোকে, যখন তা পঁচে গলে যাবে? বলুন! তিনিই এগুলোকে আবার জীবিত করবেন, যিনি তা প্রথমবারে সৃষ্টি করেছেন। আর যিনি সর্বপ্রকার সৃষ্টি সম্পর্কে সম্যক অবগত আছেন।” (সূরা ইয়াসিন ৩৬:৭৮-৭৯)
যখন এভাবে উত্তর দেয়া হয় তখন স্বীকার করেও অস্বীকৃতিমূলকভাবে মাথা নাড়িয়ে বলে এটা কখন করা হবে। তারা বলত:
(وَيَقُوْلُوْنَ مَتٰي هٰذَا الْوَعْدُ إِنْ كُنْتُمْ صٰدِقِيْنَ)
“আর তারা বলে: তোমরা যদি সত্যবাদী হও (তবে বল:) এই প্রতিশ্রুতি কবে বাস্তবায়িত হবে?” (সূরা মুলক ৬৭:২৫)
তাদের এ কথার উত্তর দিয়ে আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
(ثُمَّ اِذَا دَعَاکُمْ دَعْوَةًﺣ مِّنَ الْاَرْضِﺣ اِذَآ اَنْتُمْ تَخْرُجُوْنَ)
“আবার যখন তিনি তোমাদেরকে জমিন থেকে (বের হয়ে আসার জন্য) আহ্বান করবেন, তখন তোমরা সঙ্গে সঙ্গে বের হয়ে আসবে।” (সূরা রূম ৩০:২৫) আর সে সময়টা খুবই নিকটে। যখন আল্লাহ তা‘আলার ডাকে সাড়া দিয়ে পুনরুত্থিত হবে তখন তাদের কাছে দুনিয়ার জীবনটা মনে হবে খুবই সামান্য সময়ের।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(كَأَنَّهُمْ يَوْمَ يَرَوْنَهَا لَمْ يَلْبَثُوْآ إِلَّا عَشِيَّةً أَوْ ضُحَاهَا)
“যেদিন তারা তা দেখবে, তাতে তাদের মনে হবে যেন তারা (পৃথিবীতে) এক সন্ধ্যা অথবা এক সকালের অধিক অবস্থান করেনি।” (সূরা নাযিয়াত ৭৯:৪৬)
এরূপ সূরা মু’মিনুনের ১১২-১১৪ নং আয়াতে উল্লেখ রয়েছে। সুতরাং পুনরুত্থানকে মানুষ যতই অসম্ভব মনে করুক, তাতে অসম্ভবের কিছুই নেই বরং সকলকে আল্লাহ তা‘আলার দরবারে হাজির হতে হবে। সে পুড়ে ছাইয়ে পরিণত হোক আর মাটিতে মিশে যাক আল্লাহ তা‘আলা তাকে উপস্থিত করবেন।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মানুষ মৃত্যুর পর নিশ্চিহ্ন হয়ে গেলেও আল্লাহ তা‘আলা পুনরুত্থিত করবেন।
২. যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন তিনি দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করতে আরো অধিক সক্ষম।
৩. পুনরুত্থানের পর মানুষের কাছে মনে হবে যেন তারা অল্প কিছুক্ষণ পৃথিবীতে অবস্থান করেছে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪৯-৫২ নং আয়াতের তাফসীর
কাফির, যারা কিয়ামতে বিশ্বাসী ছিল না এবং মৃত্যুর পরে পুনরুত্থানকে অসম্ভব মনে করতো, তারা অস্বীকারের উদ্দেশ্য নিয়ে জিজ্ঞেস করতোঃ আমরা অস্থি ও মাটি হয়ে যাওয়ার পরেও কি আমাদেরকে নতুনভাবে সৃষ্টি করা হবে?
সুরায়ে নাযিআ’তে এই অস্বীকারকারীদের উক্তি নিম্নরূপে বর্ণিত হয়েছেঃ “আমরা কি আবার পূর্বাবস্থায় ফিরে আসবো? তবে কি আমরা যখন চুর্ণ-বিচূর্ণ হাড়ে পরিণত হয়ে যাবে তখন (পুনর্জীবনে) প্রত্যাবর্তিত হবো? বলতে লাগলোঃ এমতাবস্থায় এই প্রত্যাবর্তন (আমাদের জন্যে) বড়ই ক্ষতিকর হবে।” সূরায়ে ইয়াসীনে রয়েছেঃ “সে আমার সম্বন্ধে এক অভিনব বিষয় বর্ণনা করলো এবং নিজের মূল সৃষ্টিকে ভুলে গেল; সে বলেঃ কে জীবিত করবে এই হাড়গুলিকে, যখন তা পচে গেল?” সুতরাং তাদেরকে উত্তর দেয়া হচ্ছেঃ হাড় তো দূরের কথা, তোমরা পাথর হয়ে যাও বা লোহা হয়ে যাও অথবা এর চেয়ে শক্ত জিনিস হয়ে যাও, যেমন পাহাড় বা যমীন অথবা আসমান, এমনকি তোমরা যদি স্বয়ং মৃত্যুও হয়ে যাও, তবুও তোমাদেরকে পূনরুজ্জীবিত করা আল্লাহ তাআলার কাছে খুবই সহজ। তোমরা যাই হয়ে যাও না কেন, পুনরুত্থিত হবেই।
হাদীসে রয়েছে যে, কিয়ামতের দিন জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী স্থানে মৃত্যুকে নেকড়ে বাঘের আকারে আনয়ন করা হবে এবং জান্নাতবাসী ও জাহান্নামবাসী উভয় দলকেই বলা হবেঃ “তোমরা একে চিনো কি?” সবাই সমস্বরে বলে উঠবেঃ “হাঁ, চিনি।” তারপর ওকে যবাহ করে দেয়া হবে। তারপর ঘোষণা করা হবেঃ “জান্নাতী লোকেরা! এখন থেকে তোমাদের চিরস্থায়ী জীবন হয়ে গেল, আর মৃত্যু হবে না। হে জাহান্নামী লোকেরা! আজ থেকে তোমাদের জীবন চিরস্থায়ী হয়ে গেল, আর তোমরা মৃত্যুবরণ করবে না।”
এখানে আল্লাহ তাআলা বলেনঃ তারা (কাফির ও মুশরিকরা) জিজ্ঞেস করেঃ “আচ্ছা, আমরা যখন অস্থিতে পরিণত ও চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবো, অথবা পাথর ও লোহা হয়ে যাবো, বা এমন কিছু হয়ে যাবো যা খুবই শক্ত, তখন কে এমন আছে যে, আমাদেরকে নতুন সৃষ্টি রূপে পুনরুত্থিত করবে? হে নবী (সঃ)! তুমি তাদের এই প্রশ্ন ও বাজে প্রতিবাদের জবাবে তাদেরকে বুঝিয়ে বলঃ তোমাদেরকে পুনরুত্থিত করবেন তিনিই যিনি তোমাদের প্রকৃত সৃষ্টিকর্তা আল্লাহ। যিনি তোমাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন যখন তোমরা কিছুই ছিলে না। তাহলে দ্বিতীয়বার সৃষ্টি করা তাঁর পক্ষে কঠিন হতে পারে কি? না, বরং এটা তাঁর পক্ষে খুবই সহজ, তোমরা যা কিছুই হয়ে যাও না কেন। এই উত্তরে। তারা সম্পূর্ণরূপে নির্বাক হয়ে যাবে বটে, কিন্তু এর পরেও তারাহঠকারিতা ও দুষ্টামি হতে বিরত থাকবে না এবং তাদের বদ আকীদা পরিত্যাগ করবে না। বরং তারা উপহাসের ছলে মাথা নাড়তে নাড়তে বলবেঃ “আচ্ছা, এটা হবে কখন? যদি সত্যবাদী হও তবে এর নির্দিষ্ট সময় বলে দাও?” বেঈমানদের অভ্যাস এই যে, তারা সব কাজেই তাড়াহুড়া করে থাকে। এই সময় অতি নিকটবর্তী। তোমরা এজন্যে অপেক্ষা করতে থাকো। এটা যে, আসবে তাতে কোন সন্দেহ নেই। যা আসবার তা আসবেই এটা মনে করে নাও। আল্লাহ তাআলার একটা শব্দের সাথে সাথেই তোমর যমীন হতে বের হয়ে পড়বে। চোখের পলক ফেলার সময় পরিমাণও বিলম্ব হবে না। আল্লাহর নির্দেশের সাথে সাথেই তোমাদের দ্বারা হাশরের ময়দান পূর্ণ হয়ে যাবে। কবর হতে উঠে আল্লাহর প্রশংসা করতঃ তাঁর নির্দেশ পালনে তোমরা দাঁড়িয়ে যাবে। প্রশংসার যোগ্য তিনিই; তোমরা তাঁর হুকুম ও ইচ্ছার বাইরে নও।
হাদীসে এসেছে যে, যারা “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ পড়েছে তাদের জন্যে তাদের কবরে কোন ভয় ও সন্ত্রাস সৃষ্টি হবে না। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “আমি যেন তাদেরকে দেখতে রয়েছি যে, তারা কবর থেকে উঠতে রয়েছে। তারা মাথা হতে মাটি ঝাড়তে ঝাড়তে এবং “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ' পাঠ করতে করতে উঠে দাঁড়াবে এবং বলবেঃ “আল্লাহরই সমস্ত প্রশংসা যিনি আমাদের দুঃখ দুর। করেছেন।” সূরায়ে ফাতিরের তাফসীরে এই বর্ণনা আসবে ইনশা-আল্লাহ। ঐ সময় মানুষের বিশ্বাস হবে যে, তারা খুব অল্প সময় দুনিয়ায় অবস্থান করেছে। যেন তারা সকালে বা সন্ধ্যায় দুনিয়ায় থেকেছে। কেউ বলবে দশ দিন, কেউ বলবে একদিন এবং কেউ মনে করবে মাত্র এক ঘন্টা। প্রশ্নের উত্তরে তারা একথাই বলবেঃ “আমরা একদিন বা একদিনের কিছু কম সময় অবস্থান করেছি।” আর একথা তারা শপথ করে বলবে। অনুরূপভাবে তারা দুনিয়াতেও মিথ্যা কথার উপর কসম খেতো।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।