সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 34)
হরকত ছাড়া:
ولا تقربوا مال اليتيم إلا بالتي هي أحسن حتى يبلغ أشده وأوفوا بالعهد إن العهد كان مسئولا ﴿٣٤﴾
হরকত সহ:
وَ لَا تَقْرَبُوْا مَالَ الْیَتِیْمِ اِلَّا بِالَّتِیْ هِیَ اَحْسَنُ حَتّٰی یَبْلُغَ اَشُدَّهٗ ۪ وَ اَوْفُوْا بِالْعَهْدِ ۚ اِنَّ الْعَهْدَ کَانَ مَسْـُٔوْلًا ﴿۳۴﴾
উচ্চারণ: ওয়ালা-তাকরাবূমা-লাল ইয়াতীমি ইল্লা-বিল্লাতী হিয়া আহছানুহাত্তা-ইয়াবলুগা আশুদ্দাহূ ওয়া আওফূবিল‘আহদি ইন্নাল ‘আহদা কা-না মাছউলা।
আল বায়ান: আর তোমরা ইয়াতীমের সম্পদের কাছে যেয়ো না সুন্দরতম পন্থা* ছাড়া, যতক্ষণ না সে বয়সের পূর্ণতায় উপনীত হয়। আর অঙ্গীকার পূর্ণ কর, নিশ্চয় অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৪. আর ইয়াতীম বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সদুপায়ে ছাড়া তার সম্পত্তির ধারে-কাছেও যেও না এবং প্রতিশ্রুতি পালন করো; নিশ্চয় প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: ইয়াতীম বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তার সম্পদের কাছেও যেয়ো না সৎ উদ্দেশ্য ব্যতীত। আর ওয়া‘দা পূর্ণ কর, ওয়া‘দা সম্পর্কে অবশ্যই জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
আহসানুল বায়ান: (৩৪) সাবালক না হওয়া পর্যন্ত সদুদ্দেশ্যে ছাড়া এতীমের সম্পত্তির নিকটবর্তী হয়ো না।[1] আর প্রতিশ্রুতি পালন করো; নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে। [2]
মুজিবুর রহমান: পিতৃহীন বয়ঃপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সদুদ্দেশ্য ছাড়া তার সম্পত্তির নিকটবর্তী হয়োনা এবং প্রতিশ্রুতি পালন কর; নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।
ফযলুর রহমান: বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সুন্দরতম পদ্ধতি ছাড়া এতিমের সম্পদের কাছেও যাবে না। আর ওয়াদা পূরণ করবে। ওয়াদা সম্পর্কে নিশ্চয়ই জিজ্ঞাসা করা হবে।
মুহিউদ্দিন খান: আর, এতিমের মালের কাছেও যেয়ো না, একমাত্র তার কল্যাণ আকাংখা ছাড়া; সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির যৌবনে পদার্পন করা পর্যন্ত এবং অঙ্গীকার পূর্ন কর। নিশ্চয় অঙ্গীকার সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
জহুরুল হক: আর এতীমের সম্পত্তির কাছে যেও না যা শ্রেষ্ঠতম সেই উদ্দেশ্য ব্যতীত, যে পর্যন্ত না সে তার সাবালকত্বে পৌঁছে। আর প্রতিশ্রুতি পালন করো, নিঃসন্দেহ প্রতিশ্রুতি সন্বন্ধে প্রশ্ন করা হবে।
Sahih International: And do not approach the property of an orphan, except in the way that is best, until he reaches maturity. And fulfill [every] commitment. Indeed, the commitment is ever [that about which one will be] questioned.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩৪. আর ইয়াতীম বয়োপ্রাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত সদুপায়ে ছাড়া তার সম্পত্তির ধারে-কাছেও যেও না এবং প্রতিশ্রুতি পালন করো; নিশ্চয় প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩৪) সাবালক না হওয়া পর্যন্ত সদুদ্দেশ্যে ছাড়া এতীমের সম্পত্তির নিকটবর্তী হয়ো না।[1] আর প্রতিশ্রুতি পালন করো; নিশ্চয়ই প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে কৈফিয়ত তলব করা হবে। [2]
তাফসীর:
[1] অবৈধভাবে কারো জান নষ্ট করতে নিষেধ করার পর এখানে মাল নষ্ট করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে। আর ইয়াতীমের মালের ব্যাপারটা যেহেতু বেশী গুরুতত্ত্বপূর্ণ তাই বললেন, ইয়াতীমের সাবালক হওয়া পর্যন্ত তার মালকে এমন কাজে লাগাও যাতে তার লাভ হয়। চিন্তা-ভাবনা না করেই এমন ব্যবসায় লাগিয়ে দিও না, যাতে তা (মাল) নষ্ট হয়ে যায় অথবা ক্ষতির সম্মুখীন হয়। কিংবা সাবালক হওয়ার পূর্বেই তার মাল নিঃশেষ হয়ে যায়।
[2] ‘প্রতিশ্রুতি’ বা অঙ্গীকার বলতে সেই অঙ্গীকার যা আল্লাহ ও বান্দাদের মধ্যে রয়েছে এবং সেই অঙ্গীকারও যা বান্দাগণ আপোসে একে অপরের সাথে করে থাকে। উভয় অঙ্গীকার পূরণ করা জরুরী। পক্ষান্তরে প্রতিশ্রুতি রক্ষা না করলে কাল কিয়ামতে জিজ্ঞাসিত হতে হবে এবং সে ব্যাপারে কৈফিয়ত দিতে হবে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৩৪-৩৫ নং আয়াতের তাফসীর:
(وَلَا تَقْرَبُوْا مَالَ الْيَتِيْمِ)
অর্থাৎ ইয়াতীমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে খাওয়ার জন্য তাদের সম্পদের নিকটে যেয়ো না। সাধারণত এ কাজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ইয়াতীমদের দায়িত্বশীলদের দ্বারা। সূরা নিসার শুরুর দিকে উল্লেখ করা হয়েছে “ইয়াতীমদের সম্পদ নিজেদের সম্পদের সাথে মিশ্রণ করে খেওনা”।
(حَتّٰي يَبْلُغَ أَشُدَّه)
অর্থাৎ ইয়াতিমরা সাবালক না হওয়া পর্যন্ত তাদের সম্পদ দেখাশোনা করতে গিয়ে যদি নিজের উপার্জনে বাধা সৃষ্টি হয় তাহলে অন্যের কাজ করলে যেমন একটা পারিশ্রমিক পাওয়া যেত তেমন ন্যায্যভাবে কিছু সম্পদ খাওয়া যাবে তাতে কোন গুনাহ হবে না। এ সম্পর্কে সূরা নিসার ৬নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।
أَشُدَّه শব্দের অর্থ:
أَشُدَّه শব্দের অর্থ হচ্ছে বালেগ হওয়া। আকেল সম্পন্ন হওয়া। যখন তার থেকে শৈশবের প্রভাব কেটে যাবে এবং সে নিজেই নিজের দায়িত্ব বুঝতে পারবে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা অঙ্গীকারের কথা স্বরণ করিয়ে দিচ্ছেন। অঙ্গীকার বলতে বান্দা ও আল্লাহ তা‘আলার মাঝে অঙ্গীকার ও মানুষ পরস্পরের মাঝে যেসকল অঙ্গীকার করে থাকে সবই শামিল। উভয় প্রকার অঙ্গীকার পালন করা জরুরী, কারণ সে সম্পর্কে কিয়ামতের মাঠে জিজ্ঞেস করা হবে।
দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তোমরা মেপে দেয়ার সময় পরিপূর্ণভাবে মেপে দেবে এবং সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করবে। কারণ এতেই বরকত নিহিত।
আল্লাহ তা‘আলার তা‘আলা বলেন:
(وَأَقِيْمُوا الْوَزْنَ بِالْقِسْطِ وَلَا تُخْسِرُوا الْمِيْزَانَ)
“ওজনের ন্যায্য মান প্রতিষ্ঠিত কর এবং ওজনে কম দিও না।” (সূরা আর রহমান ৫৫:৯)
এ সম্পর্কে সূরা হুদে আলোচনা করা হয়েছে। শুয়াইব (عليه السلام)-এর জাতিকে এ অপরাধের কারণে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. ইয়াতীমের মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করা যাবে না।
২. যে কোন প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে আখিরাতে জিজ্ঞেস করা হবে।
৩. ওজনে কম-বেশি করা যাবে না, এতে বাহ্যিক উপকারিতা দেখা গেলেও প্রকৃতপক্ষে তাতে লোকসান রয়েছে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৩৪-৩৫ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআলা বলছেনঃ তোমরা অসদুদ্দেশ্যে ইয়াতীম বা পিতৃহীনের মালে হেরফের করো না। তাদের বয়োপ্রাপ্ত হওয়ার পূর্বেই তাদের মাল খেয়ে ফেলার অপবিত্র নিয়ত থেকে দূরে থাকো। যার তত্ত্বাবধানে পিতৃহীন শিশু রয়েছে সে যদি স্বয়ং মালদার হয় তবে তার উচিত পিতৃহীনের মাল থেকে সম্পূর্ণরূপে পৃথক থাকা। আর যদি সে দরিদ্র হয় তবে উত্তম ও প্রচলিত পন্থায় তা থেকে খাবে।
রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত আবু যারকে (রাঃ) বলেনঃ “হে আবু যার (রাঃ) । আমি তোমাকে খুবই দুর্বল দেখছি এবং তোমার জন্যে আমি ওটাই পছন্দ করছি যা নিজের জন্যে পছন্দ করে থাকি। সাবধান! তুমি কখনো দুই ব্যক্তির ওয়ালী হবে না এবং কখনো পিতৃহীনের মালের মুতাওয়াল্লী হবে না।” (এ হাদীসটি সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে)
এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ তোমরা প্রতিশ্রুতি পালন করো। যে প্রতিশ্রুতি ও লেনদেন হয়ে যাবে তা পালন করতে বিন্দুমাত্র ত্রুটি করো না। জেনে রেখো যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার কাছে প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জবাব দিহি করতে হবে।
তারপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ মাপ ও ওজন সম্পর্কে সতর্ক করে বলছেনঃ তোমরা কোন কিছু মেপে দেয়ার সময় পূর্ণ মাপে মেপে দেবে। মোটেই কম। করবে না। আর কোন জিনিস ওজন করে দেয়ার সময় সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করে দেবে। এখানেও কাউকেও ঠকাবার চেষ্টা করবে না। (আরবি) এর দ্বিতীয় (আরবি) পঠন রয়েছে। মাপ ও ওজন সঠিকভাবে করলে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতেই তোমাদের জন্যে কল্যাণ রয়েছে। দুনিয়াতেও এটা তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপারে সুনামের বিষয়, আর পরকালেও তোমাদের মুক্তির উপায়। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ “হে বণিকদের দল! তোমাদেরকে এমন দুটি জিনিস সমর্পণ করা হয়েছে যার কারণে তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ মাপ ও ওজন (সুতরাং এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবে)।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি কোন হারাম জিনিসের উপর ক্ষমতা রাখা সত্ত্বেও আল্লাহর ভয়ে তা ছেড়ে দেয় আল্লাহ তাআলা তাকে তার চেয়ে উত্তম জিনিস দান করবেন।”
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।