আল কুরআন


সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 35)

সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 35)



হরকত ছাড়া:

وأوفوا الكيل إذا كلتم وزنوا بالقسطاس المستقيم ذلك خير وأحسن تأويلا ﴿٣٥﴾




হরকত সহ:

وَ اَوْفُوا الْکَیْلَ اِذَا کِلْتُمْ وَ زِنُوْا بِالْقِسْطَاسِ الْمُسْتَقِیْمِ ؕ ذٰلِکَ خَیْرٌ وَّ اَحْسَنُ تَاْوِیْلًا ﴿۳۵﴾




উচ্চারণ: ওয়া আওফুল কাইলা ইযা-কিলতুম ওয়াযিনূবিলকিছতা-ছিল মুছতাকীমি যা-লিকা খাইরুওঁ ওয়া আহছানুতা’বীলা-।




আল বায়ান: আর মাপে পরিপূর্ণ দাও যখন তোমরা পরিমাপ কর এবং সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওযন কর। এটা কল্যাণকর ও পরিণামে সুন্দরতম।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৫. আর মেপে দেয়ার সময় পূর্ণ মাপে দাও এবং ওজন কর সঠিক দাঁড়িপাল্লায়(১), এটাই উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্ট।(২)




তাইসীরুল ক্বুরআন: মাপ দেয়ার সময় মাপ পূর্ণমাত্রায় করবে, আর ওজন করবে ত্রুটিহীন দাঁড়িপাল্লায়। এটাই উত্তম নীতি আর পরিণামেও তা উৎকৃষ্ট।




আহসানুল বায়ান: (৩৫) মেপে দেয়ার সময় পূর্ণরূপে মাপো এবং সঠিক দাঁড়ি-পাল্লায় ওজন কর, এটাই উত্তম[1] ও পরিণামে উৎকৃষ্টতম।



মুজিবুর রহমান: মেপে দেয়ার সময় পূর্ণ মাপে দিবে এবং ওযন করবে সঠিক দাঁড়ি পাল্লায়, এটাই উত্তম ও পরিণামে উৎকৃষ্ট।



ফযলুর রহমান: মাপের সময় তোমরা মাপ পুরোপুরি দেবে এবং সঠিক নিক্তিতে ওজন করবে। এটাই কল্যাণকর এবং পরিণামে এটাই শ্রেয়তর।



মুহিউদ্দিন খান: মেপে দেয়ার সময় পূর্ণ মাপে দেবে এবং সঠিক দাঁড়িপালায় ওজন করবে। এটা উত্তম; এর পরিণাম শুভ।



জহুরুল হক: আর পুরো মাপ দিয়ো যখন তোমরা মাপজোখ কর, আর ওজন করো সঠিক পাল্লায়। এটিই উত্তম আর পরিণামে শ্রেষ্ঠ।



Sahih International: And give full measure when you measure, and weigh with an even balance. That is the best [way] and best in result.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৩৫. আর মেপে দেয়ার সময় পূর্ণ মাপে দাও এবং ওজন কর সঠিক দাঁড়িপাল্লায়(১), এটাই উত্তম এবং পরিণামে উৎকৃষ্ট।(২)


তাফসীর:

১. আয়াতে মাপ ও ওজন সম্পর্কে যে নির্দেশ আছে, লেন-দেনের ক্ষেত্রে মাপ ও ওজন পূর্ণ করার আদেশ এবং কম মাপার নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। তার সারমর্ম এই যে, যার যতটুকু হক, তার চাইতে কম দেয়া হারাম। ইবন কাসীর]


২. এতে মাপ ও ওজন করা সম্পর্কে দুটি বিষয় বলা হয়েছে। (এক) এর উত্তম হওয়া। অর্থাৎ দুনিয়াতে এটি উত্তম হওয়া যুক্তি ও বিবেকের দাবী। (দুই) এর পরিণতি শুভ। এতে আখেরাতের পরিণতি তথা সওয়াব ও জান্নাত ছাড়াও দুনিয়ার উত্তম পরিণতির দিকেও ইঙ্গিত আছে। অর্থাৎ দুনিয়া ও আখেরাত উভয় স্থানেই এর পরিণতি শুভ। [ইবন কাসীর]

দুনিয়ায় এর শুভ পরিণামের কারণ হচ্ছে এই যে, এর ফলে পারস্পরিক আস্থা প্রতিষ্ঠিত হয়। কোন ব্যবসা ততক্ষণ পর্যন্ত উন্নতি করতে পারে না, যে পর্যন্ত জনগণের বিশ্বাস ও আস্থা অর্জন করতে না পারে। বিশ্বাস ও আস্থা উপরোক্ত বাণিজ্যিক সততা ব্যতীত অর্জিত হতে পারে না। ক্রেতা ও বিক্রেতা দু'জন দু’জনের উপর ভরসা করে, এর ফলে ব্যবসায়ে উন্নতি আসে এবং ব্যাপক সমৃদ্ধি দেখা দেয়। [দেখুন, ফাতহুল কাদীর] অন্যদিকে আখেরাতে এর শুভ পরিণাম পুরোপুরি নির্ভর করে ঈমান ও আল্লাহ ভীতির উপর।


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৩৫) মেপে দেয়ার সময় পূর্ণরূপে মাপো এবং সঠিক দাঁড়ি-পাল্লায় ওজন কর, এটাই উত্তম[1] ও পরিণামে উৎকৃষ্টতম।


তাফসীর:

[1] নেকীর দিক দিয়ে উত্তম। এ ছাড়াও মানুষের মাঝে বিশ্বস্ততা জন্মানোর জন্য ওজন ও মাপে ঈমানদারী (ব্যবসার জন্য) বড়ই ফলপ্রসূ।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৩৪-৩৫ নং আয়াতের তাফসীর:



(وَلَا تَقْرَبُوْا مَالَ الْيَتِيْمِ)



অর্থাৎ ইয়াতীমদের সম্পদ অন্যায়ভাবে খাওয়ার জন্য তাদের সম্পদের নিকটে যেয়ো না। সাধারণত এ কাজ হওয়ার সম্ভাবনা থাকে ইয়াতীমদের দায়িত্বশীলদের দ্বারা। সূরা নিসার শুরুর দিকে উল্লেখ করা হয়েছে “ইয়াতীমদের সম্পদ নিজেদের সম্পদের সাথে মিশ্রণ করে খেওনা”।



(حَتّٰي يَبْلُغَ أَشُدَّه)



অর্থাৎ ইয়াতিমরা সাবালক না হওয়া পর্যন্ত তাদের সম্পদ দেখাশোনা করতে গিয়ে যদি নিজের উপার্জনে বাধা সৃষ্টি হয় তাহলে অন্যের কাজ করলে যেমন একটা পারিশ্রমিক পাওয়া যেত তেমন ন্যায্যভাবে কিছু সম্পদ খাওয়া যাবে তাতে কোন গুনাহ হবে না। এ সম্পর্কে সূরা নিসার ৬নং আয়াতে আলোচনা করা হয়েছে।



أَشُدَّه শব্দের অর্থ:





أَشُدَّه শব্দের অর্থ হচ্ছে বালেগ হওয়া। আকেল সম্পন্ন হওয়া। যখন তার থেকে শৈশবের প্রভাব কেটে যাবে এবং সে নিজেই নিজের দায়িত্ব বুঝতে পারবে। অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা অঙ্গীকারের কথা স্বরণ করিয়ে দিচ্ছেন। অঙ্গীকার বলতে বান্দা ও আল্লাহ তা‘আলার মাঝে অঙ্গীকার ও মানুষ পরস্পরের মাঝে যেসকল অঙ্গীকার করে থাকে সবই শামিল। উভয় প্রকার অঙ্গীকার পালন করা জরুরী, কারণ সে সম্পর্কে কিয়ামতের মাঠে জিজ্ঞেস করা হবে।



দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তোমরা মেপে দেয়ার সময় পরিপূর্ণভাবে মেপে দেবে এবং সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করবে। কারণ এতেই বরকত নিহিত।



আল্লাহ তা‘আলার তা‘আলা বলেন:



(وَأَقِيْمُوا الْوَزْنَ بِالْقِسْطِ وَلَا تُخْسِرُوا الْمِيْزَانَ)



“ওজনের ন্যায্য মান প্রতিষ্ঠিত কর এবং ওজনে কম দিও না।” (সূরা আর রহমান ৫৫:৯)



এ সম্পর্কে সূরা হুদে আলোচনা করা হয়েছে। শুয়াইব (عليه السلام)-এর জাতিকে এ অপরাধের কারণে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. ইয়াতীমের মাল অন্যায়ভাবে ভক্ষণ করা যাবে না।

২. যে কোন প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে আখিরাতে জিজ্ঞেস করা হবে।

৩. ওজনে কম-বেশি করা যাবে না, এতে বাহ্যিক উপকারিতা দেখা গেলেও প্রকৃতপক্ষে তাতে লোকসান রয়েছে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৩৪-৩৫ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআলা বলছেনঃ তোমরা অসদুদ্দেশ্যে ইয়াতীম বা পিতৃহীনের মালে হেরফের করো না। তাদের বয়োপ্রাপ্ত হওয়ার পূর্বেই তাদের মাল খেয়ে ফেলার অপবিত্র নিয়ত থেকে দূরে থাকো। যার তত্ত্বাবধানে পিতৃহীন শিশু রয়েছে সে যদি স্বয়ং মালদার হয় তবে তার উচিত পিতৃহীনের মাল থেকে সম্পূর্ণরূপে পৃথক থাকা। আর যদি সে দরিদ্র হয় তবে উত্তম ও প্রচলিত পন্থায় তা থেকে খাবে।

রাসূলুল্লাহ (সঃ) হযরত আবু যারকে (রাঃ) বলেনঃ “হে আবু যার (রাঃ) । আমি তোমাকে খুবই দুর্বল দেখছি এবং তোমার জন্যে আমি ওটাই পছন্দ করছি যা নিজের জন্যে পছন্দ করে থাকি। সাবধান! তুমি কখনো দুই ব্যক্তির ওয়ালী হবে না এবং কখনো পিতৃহীনের মালের মুতাওয়াল্লী হবে না।” (এ হাদীসটি সহীহ মুসলিমে বর্ণিত আছে)

এরপর মহান আল্লাহ বলেনঃ তোমরা প্রতিশ্রুতি পালন করো। যে প্রতিশ্রুতি ও লেনদেন হয়ে যাবে তা পালন করতে বিন্দুমাত্র ত্রুটি করো না। জেনে রেখো যে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার কাছে প্রতিশ্রুতি সম্পর্কে জবাব দিহি করতে হবে।

তারপর মহামহিমান্বিত আল্লাহ মাপ ও ওজন সম্পর্কে সতর্ক করে বলছেনঃ তোমরা কোন কিছু মেপে দেয়ার সময় পূর্ণ মাপে মেপে দেবে। মোটেই কম। করবে না। আর কোন জিনিস ওজন করে দেয়ার সময় সঠিক দাঁড়িপাল্লায় ওজন করে দেবে। এখানেও কাউকেও ঠকাবার চেষ্টা করবে না। (আরবি) এর দ্বিতীয় (আরবি) পঠন রয়েছে। মাপ ও ওজন সঠিকভাবে করলে দুনিয়া ও আখেরাত উভয় জগতেই তোমাদের জন্যে কল্যাণ রয়েছে। দুনিয়াতেও এটা তোমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যের ব্যাপারে সুনামের বিষয়, আর পরকালেও তোমাদের মুক্তির উপায়। ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেনঃ “হে বণিকদের দল! তোমাদেরকে এমন দুটি জিনিস সমর্পণ করা হয়েছে যার কারণে তোমাদের পূর্ববর্তী লোকেরা ধ্বংস হয়ে গিয়েছে। অর্থাৎ মাপ ও ওজন (সুতরাং এ ব্যাপারে সতর্ক থাকবে)।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “যে ব্যক্তি কোন হারাম জিনিসের উপর ক্ষমতা রাখা সত্ত্বেও আল্লাহর ভয়ে তা ছেড়ে দেয় আল্লাহ তাআলা তাকে তার চেয়ে উত্তম জিনিস দান করবেন।”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।