সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 108)
হরকত ছাড়া:
ويقولون سبحان ربنا إن كان وعد ربنا لمفعولا ﴿١٠٨﴾
হরকত সহ:
وَّ یَقُوْلُوْنَ سُبْحٰنَ رَبِّنَاۤ اِنْ کَانَ وَعْدُ رَبِّنَا لَمَفْعُوْلًا ﴿۱۰۸﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইয়াকূলূনা ছুবহা-না রাব্বিনাইন কা-না ওয়া‘দুরাব্বিনা-লামাফ‘ঊলা-।
আল বায়ান: আর তারা বলে, ‘পবিত্র মহান আমাদের রব! আমাদের রবের ওয়াদা অবশ্যই কার্যকর হয়ে থাকে’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০৮. আর তারা বলে, আমাদের রব পবিত্ৰ, মহান। আমাদের রবের প্রতিশ্রুতি কার্যকর হয়েই থাকে৷
তাইসীরুল ক্বুরআন: আর তারা বলে, ‘আমাদের রব্ব মহান, পবিত্র; আমাদের রব্বের ও‘য়াদা অবশ্যই পূর্ণ হবে।
আহসানুল বায়ান: (১০৮) এবং বলে, আমাদের প্রতিপালক পবিত্র, মহান! অবশ্যই আমাদের প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি কার্যকর হয়েই থাকে। [1]
মুজিবুর রহমান: এবং বলেঃ আমাদের রাব্ব পবিত্র, মহান! আমাদের রবের প্রতিশ্রুতি কার্যকর হয়েই থাকে। [সাজদাহ]
ফযলুর রহমান: আর তারা বলে, “আমাদের প্রভুর মহিমা! আমাদের প্রভুর ওয়াদা বাস্তবায়িত হবেই।”
মুহিউদ্দিন খান: এবং বলেঃ আমাদের পালনকর্তা পবিত্র, মহান। নিঃসন্দেহে আমাদের পালকর্তার ওয়াদা অবশ্যই পূর্ণ হবে।
জহুরুল হক: আর তারা বলে -- "মহিমা হোক আমাদের প্রভুর? আমাদের প্রভুর অংগীকার কৃতকার্য হবেই!"
Sahih International: And they say, "Exalted is our Lord! Indeed, the promise of our Lord has been fulfilled."
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১০৮. আর তারা বলে, আমাদের রব পবিত্ৰ, মহান। আমাদের রবের প্রতিশ্রুতি কার্যকর হয়েই থাকে৷
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১০৮) এবং বলে, আমাদের প্রতিপালক পবিত্র, মহান! অবশ্যই আমাদের প্রতিপালকের প্রতিশ্রুতি কার্যকর হয়েই থাকে। [1]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, মক্কার এই কাফেররা যারা প্রত্যেক বিষয়ে অজ্ঞ, তারা যদি ঈমান না আনে, তবে তুমি কোন পরোয়া করো না। কারণ, যারা জ্ঞানী এবং অহী ও রিসালাতের প্রকৃতত্ব যারা বোঝে, তারা ঈমান এনেছে। এমন কি কুরআন শুনে আল্লাহর সামনে সিজদায় পড়ে গেছে। আর তারা তাঁর পবিত্রতা বর্ণনা করে এবং প্রতিপালকের অঙ্গীকারসমূহের উপর পূর্ণ বিশ্বাসও রাখে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১০৭-১০৯ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে মু’মিনদের কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হচ্ছে যে, তারা আল্লাহ তা‘আলার প্রতিটি কাজে পূর্ণ বিশ্বাসী। তারা আল্লাহ তা‘আলার প্রতিটি আদেশ ও নিষেধ যথাযথভাবে পালন করে। আল্লাহ তা‘আলা র বিধানের কখনো নাফরমানী করে না।
(قُلْ اٰمِنُوْا بِه۪ٓ أَوْ لَا تُؤْمِنُوْا)
অর্থাৎ তোমরা যারা কুরআনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন কর বা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও, তোমরা ঈমান আনয়ন কর আর নাই কর তাতে আল্লাহ তা‘আলার কিছু আসে যায় না। তবে যারা সত্যের ব্যাপারে সম্যক জ্ঞান রাখে, ইতোপূর্বে আসমানী কিতাব তেলাওয়াত করেছে তারা কুরআনের তেলাওয়াত শুনে আল্লাহ তা‘আলার জন্য সিজদায় লুটে পড়ে এবং এর প্রতি ঈমান আনে।
(أُوْتُوا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِه۪ٓ)
অর্থাৎ সেই আলেমগণ যারা কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে বিগত কিতাবগুলো পড়েছেন এবং তারা ওয়াহীর প্রকৃত তত্ত্ব ও রিসালাতের নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তারা এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে ক্রন্দনরত অবস্থায় সিজদায় পড়ে যায় যে, তিনি তাদেরকে শেষ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে চেনার তাওফীক দান করেছেন এবং কুরআন ও রিসালাতের ওপর ঈমান আনার সৌভাগ্য দান করেছেন। এদের অধিকাংশই আহলে কিতাব যেমন আব্দুল্লাহ বিন সালাম।
(إِنْ كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا)
অর্থাৎ কিয়ামত ও পুনরুত্থানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা অবশ্যই সংঘটিত হবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. প্রকৃত সত্য অনুধাবন করতে পারে এমন ব্যক্তিরাই সঠিক পথের পথিক হয়।
২. আল্লাহ তা‘আলার অমিয়বাণী শুনে কাদঁতে কাঁদতে সিজাদায় লুটিয়ে পড়া মু’মিনদের বৈশিষ্ট্য ।
৩. পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব প্রাপ্তরাও জানত যে, কিয়ামত অবশ্যই ঘটবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১০৭-১০৯ নং আয়াতের তাফসীর
মহান আল্লাহ বলেনঃ (হে কাফিরের দল!) তোমাদের ঈমান আনয়নের উপর কুরআনের সত্যতা নির্ভরশীল নয়। তোমরা একে মানো বা না-ই মানো, এতে কোন কিছু যায় আসে না। কুরআন যে নিজে আল্লাহর কালাম এবং সত্য গ্রন্থ এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। সদা সর্বদা প্রাচীন ও পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে এর বর্ণনা চলে আসছে। যে সব আহলে কিতাব সৎ ও আল্লাহর কিতাবের উপর আমলকারী এবং যারা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহে কোন পরিবর্তন ও পরিবর্ধন আনয়ন করেন নাই তারা তো এই কুরআন শোনা মাত্রই আবেগ উদ্বেলিত হয়ে সিজদায়ে শুকর আদায় করে থাকেন এবং বলেনঃ “হে আল্লাহ! আপনার শুকর যে আপনি আমাদের বর্তমানেই এই রাসূলকে (সঃ) পাঠিয়েছেন এবং এই কালাম অবতীর্ণ করেছেন। আর তারা আল্লাহর পূর্ণ ও ব্যাপক শক্তির কারণে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমা প্রকাশ করে থাকেন; তাঁরা জানতেন যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য-মিথ্যা নয়। আজ তার ওয়াদা পূর্ণ হতে দেখে তারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান এবং তাদের প্রতিপালকের তাসবীহ পাঠে রত থাকেন, আর তার প্রতিশ্রুতির সত্যতা স্বীকার করে নেন। তারা অত্যন্ত বিনয়ের সাথে কাঁদতে কাঁদতে তাঁদের প্রতিপালকের সামনে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন। ঈমান, আল্লাহর কালাম এবং তাঁর রাসূলের (সঃ) কারণে তাঁদের ঈমান, ইসলাম, হিদায়াত, তাকওয়া, এবং ভয়-ভীতি আরো বৃদ্ধি পায়। এই সংযোগ সিফাত বা বিশ্লেষণের উপর বিশ্লেষণের সংযোগ ‘যাত’ বা সত্তার উপর সত্তার সংযোগ নয়।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।