সূরা আল-ইসরা (বনী-ইসরাঈল) (আয়াত: 109)
হরকত ছাড়া:
ويخرون للأذقان يبكون ويزيدهم خشوعا ﴿١٠٩﴾
হরকত সহ:
وَ یَخِرُّوْنَ لِلْاَذْقَانِ یَبْکُوْنَ وَ یَزِیْدُهُمْ خُشُوْعًا ﴿۱۰۹﴾ٛ
উচ্চারণ: ওয়া ইয়াখিররূনা লিলআযকা-নি ইয়াবকূনা ওয়া ইয়াযীদুহুম খুশূ‘আ-।
আল বায়ান: ‘আর তারা কাঁদতে কাঁদতে লুটিয়ে পড়ে এবং এটা তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে’।[সাজদাহ]
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০৯. আর তারা কাঁদতে কাঁদতে নতমস্তকে লুটিয়ে পড়ে এবং এটা তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা কাঁদতে কাঁদতে অধোমুখে সাজদাহয় লুটিয়ে পড়ে আর তা তাদের বিনয় ও নম্রতা বাড়িয়ে দেয়।[সাজদাহ]
আহসানুল বায়ান: (১০৯) আর তারা কাঁদতে কাঁদতে ভূমিতে চেহারা লুটিয়ে (সিজদা) দেয় এবং এ (কুরআন) তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে।’ [1] (সিজদাহ-৪)
মুজিবুর রহমান: এবং কাঁদতে কাঁদতে তাদের মুখমন্ডল মাটিতে লুটিয়ে পড়ে এবং এতে তাদের বিনয়ই বৃদ্ধি পায়।[সাজদাহ]
ফযলুর রহমান: তারা সেজদায় পড়ে কাঁদতে থাকে এবং এটা তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে।সেজদা
মুহিউদ্দিন খান: তারা ক্রন্দন করতে করতে নতমস্তকে ভুমিতে লুটিয়ে পড়ে এবং তাদের বিনয়ভাব আরো বৃদ্ধি পায়।
জহুরুল হক: আর তারা লুটিয়ে পড়ে চিবুকের উপরে কাঁদতে কাঁদতে, আর এতে তাদের বিনয় বেড়ে যায়।
Sahih International: And they fall upon their faces weeping, and the Qur'an increases them in humble submission.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১০৯. আর তারা কাঁদতে কাঁদতে নতমস্তকে লুটিয়ে পড়ে এবং এটা তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১০৯) আর তারা কাঁদতে কাঁদতে ভূমিতে চেহারা লুটিয়ে (সিজদা) দেয় এবং এ (কুরআন) তাদের বিনয় বৃদ্ধি করে।’ [1] (সিজদাহ-৪)
তাফসীর:
[1] চেহারা লুটিয়ে সিজদায় পড়ে যাওয়ার পুনরাবৃত্তি ঘটেছে। কারণ, প্রথম সিজদা ছিল আল্লাহর মাহাত্ম্য, তাঁর পবিত্রতার বর্ণনা এবং কৃতজ্ঞতা স্বরূপ এবং কুরআন শুনে যে ভীতি ও বিনয়ভাব তাদের মধ্যে জন্ম নেয় এবং কুরআনের আকর্ষণ ও চমৎকারিত্বে এত বেশী তারা প্রভাবিত হয়ে পড়ে যে, তা পুনরায় তাদেরকে সিজদায় পতিত করে। (এই আয়াত পাঠ করার পর সিজদা করা মুস্তাহাব। সিজদার আহকাম জানতে সূরা আ’রাফের শেষ আয়াতের টীকা দেখুন।)
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১০৭-১০৯ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে মু’মিনদের কিছু বৈশিষ্ট্য বর্ণনা করা হচ্ছে যে, তারা আল্লাহ তা‘আলার প্রতিটি কাজে পূর্ণ বিশ্বাসী। তারা আল্লাহ তা‘আলার প্রতিটি আদেশ ও নিষেধ যথাযথভাবে পালন করে। আল্লাহ তা‘আলা র বিধানের কখনো নাফরমানী করে না।
(قُلْ اٰمِنُوْا بِه۪ٓ أَوْ لَا تُؤْمِنُوْا)
অর্থাৎ তোমরা যারা কুরআনকে মিথ্যা প্রতিপন্ন কর বা তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নাও, তোমরা ঈমান আনয়ন কর আর নাই কর তাতে আল্লাহ তা‘আলার কিছু আসে যায় না। তবে যারা সত্যের ব্যাপারে সম্যক জ্ঞান রাখে, ইতোপূর্বে আসমানী কিতাব তেলাওয়াত করেছে তারা কুরআনের তেলাওয়াত শুনে আল্লাহ তা‘আলার জন্য সিজদায় লুটে পড়ে এবং এর প্রতি ঈমান আনে।
(أُوْتُوا الْعِلْمَ مِنْ قَبْلِه۪ٓ)
অর্থাৎ সেই আলেমগণ যারা কুরআন অবতীর্ণ হওয়ার পূর্বে বিগত কিতাবগুলো পড়েছেন এবং তারা ওয়াহীর প্রকৃত তত্ত্ব ও রিসালাতের নিদর্শনসমূহ সম্পর্কে অবগত হয়েছেন। তারা এ ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলার কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে ক্রন্দনরত অবস্থায় সিজদায় পড়ে যায় যে, তিনি তাদেরকে শেষ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে চেনার তাওফীক দান করেছেন এবং কুরআন ও রিসালাতের ওপর ঈমান আনার সৌভাগ্য দান করেছেন। এদের অধিকাংশই আহলে কিতাব যেমন আব্দুল্লাহ বিন সালাম।
(إِنْ كَانَ وَعْدُ رَبِّنَا)
অর্থাৎ কিয়ামত ও পুনরুত্থানের যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন তা অবশ্যই সংঘটিত হবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. প্রকৃত সত্য অনুধাবন করতে পারে এমন ব্যক্তিরাই সঠিক পথের পথিক হয়।
২. আল্লাহ তা‘আলার অমিয়বাণী শুনে কাদঁতে কাঁদতে সিজাদায় লুটিয়ে পড়া মু’মিনদের বৈশিষ্ট্য ।
৩. পূর্ববর্তী আসমানী কিতাব প্রাপ্তরাও জানত যে, কিয়ামত অবশ্যই ঘটবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১০৭-১০৯ নং আয়াতের তাফসীর
মহান আল্লাহ বলেনঃ (হে কাফিরের দল!) তোমাদের ঈমান আনয়নের উপর কুরআনের সত্যতা নির্ভরশীল নয়। তোমরা একে মানো বা না-ই মানো, এতে কোন কিছু যায় আসে না। কুরআন যে নিজে আল্লাহর কালাম এবং সত্য গ্রন্থ এতে সন্দেহের কোন অবকাশ নেই। সদা সর্বদা প্রাচীন ও পূর্ববর্তী গ্রন্থসমূহে এর বর্ণনা চলে আসছে। যে সব আহলে কিতাব সৎ ও আল্লাহর কিতাবের উপর আমলকারী এবং যারা পূর্ববর্তী আসমানী কিতাবসমূহে কোন পরিবর্তন ও পরিবর্ধন আনয়ন করেন নাই তারা তো এই কুরআন শোনা মাত্রই আবেগ উদ্বেলিত হয়ে সিজদায়ে শুকর আদায় করে থাকেন এবং বলেনঃ “হে আল্লাহ! আপনার শুকর যে আপনি আমাদের বর্তমানেই এই রাসূলকে (সঃ) পাঠিয়েছেন এবং এই কালাম অবতীর্ণ করেছেন। আর তারা আল্লাহর পূর্ণ ও ব্যাপক শক্তির কারণে তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব ও মহিমা প্রকাশ করে থাকেন; তাঁরা জানতেন যে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য-মিথ্যা নয়। আজ তার ওয়াদা পূর্ণ হতে দেখে তারা আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান এবং তাদের প্রতিপালকের তাসবীহ পাঠে রত থাকেন, আর তার প্রতিশ্রুতির সত্যতা স্বীকার করে নেন। তারা অত্যন্ত বিনয়ের সাথে কাঁদতে কাঁদতে তাঁদের প্রতিপালকের সামনে সিজদায় লুটিয়ে পড়েন। ঈমান, আল্লাহর কালাম এবং তাঁর রাসূলের (সঃ) কারণে তাঁদের ঈমান, ইসলাম, হিদায়াত, তাকওয়া, এবং ভয়-ভীতি আরো বৃদ্ধি পায়। এই সংযোগ সিফাত বা বিশ্লেষণের উপর বিশ্লেষণের সংযোগ ‘যাত’ বা সত্তার উপর সত্তার সংযোগ নয়।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।