আল কুরআন


সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 93)

সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 93)



হরকত ছাড়া:

ولو شاء الله لجعلكم أمة واحدة ولكن يضل من يشاء ويهدي من يشاء ولتسألن عما كنتم تعملون ﴿٩٣﴾




হরকত সহ:

وَ لَوْ شَآءَ اللّٰهُ لَجَعَلَکُمْ اُمَّۃً وَّاحِدَۃً وَّ لٰکِنْ یُّضِلُّ مَنْ یَّشَآءُ وَ یَهْدِیْ مَنْ یَّشَآءُ ؕ وَ لَتُسْـَٔلُنَّ عَمَّا کُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ ﴿۹۳﴾




উচ্চারণ: ওয়া লাও শাআল্লা-হু লাজা‘আলাকুম উম্মাতাওঁ ওয়া-হিদাতাওঁ ওয়ালা-কিইঁ ইউদিল্লুমাইঁ ইয়াশাউ ওয়া ইয়াহদী মাইঁ ইয়াশাউ ওয়ালা তুছআলুন্না ‘আম্মা-কুনতুম তা‘মালূন।




আল বায়ান: আর যদি আল্লাহ চাইতেন, তোমাদের সকলকে এক জাতিতে পরিণত করতেন, কিন্তু আল্লাহ যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন, আর যাকে ইচ্ছা হিদায়াত দেন। তোমরা যা করতে সে সম্পর্কে অবশ্যই তোমাদের জিজ্ঞাসা করা হবে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯৩. আর ইচ্ছে করলে আল্লাহ তোমাদেরকে এক জাতি করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছে বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছে সৎপথে পরিচালিত করেন। আর তোমরা যা করতে সে বিষয়ে অবশ্যই তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে(১)।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আল্লাহ ইচ্ছে করলে তোমাদেরকে অবশ্যই এক উম্মাত করে দিতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছে গুমরাহ্ করেন, আর যাকে ইচ্ছে সঠিক পথপ্রদর্শন করেন। তোমরা যা কর সে সম্পর্কে অবশ্য অবশ্যই তোমাদেরকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।




আহসানুল বায়ান: (৯৩) যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন তাহলে তোমাদেরকে এক জাতি করতে পারতেন; কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন। আর তোমরা যা কর, সে বিষয়ে অবশ্যই তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে।



মুজিবুর রহমান: যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন তাহলে তোমাদেরকে এক জাতি করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎ পথে পরিচালিত করেন; তোমরা যা কর সে বিষয়ে অবশ্যই তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে।



ফযলুর রহমান: ইচ্ছা করলে আল্লাহ তোমাদের সবাইকে এক জাতি করে দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে চান পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে চান পথের সন্ধান দেন। আর তোমরা যা করতে সে সম্পর্কে তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে।



মুহিউদ্দিন খান: আল্লাহ ইচ্ছা করলে তোমাদের সবাইকে এক জাতি করে দিতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিপথগামী করেন এবং যাকে ইচ্ছা পথ প্রদর্শন করেন। তোমরা যা কর সে বিষয়ে অবশ্যই জিজ্ঞাসিত হবে।



জহুরুল হক: আর আল্লাহ্ যদি ইচ্ছা করতেন তবে তিনি নিশ্চয়ই তোমাদের এক জাতিভুক্ত করে দিতেন, কিন্তু তিনি পথহারা হতে দেন যাকে ইচ্ছে করেন, আর যাকে ইচ্ছে সৎপথে পরিচালিত করেন। আর তোমাদের অতিঅবশ্য জিজ্ঞাসা করা হবে যা তোমরা করে যাচ্ছিলে সে-সন্বন্ধে।



Sahih International: And if Allah had willed, He could have made you [of] one religion, but He causes to stray whom He wills and guides whom He wills. And you will surely be questioned about what you used to do.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৯৩. আর ইচ্ছে করলে আল্লাহ তোমাদেরকে এক জাতি করতে পারতেন, কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছে বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছে সৎপথে পরিচালিত করেন। আর তোমরা যা করতে সে বিষয়ে অবশ্যই তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে(১)।


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ আল্লাহ নিজেই মানুষকে নির্বাচন ও গ্রহণ করার স্বাধীনতা দিয়েছেন। তাই দুনিয়ায় মানুষদের পথ বিভিন্ন। কেউ গোমরাহীর দিকে যেতে চায় এবং আল্লাহ গোমরাহীর সমস্ত উপকরণ তার জন্য তৈরী করে দেন। কেউ সত্য-সঠিক পথের সন্ধানে ব্যাপৃত থাকে এবং আল্লাহ তাকে সঠিক পথনির্দেশনা দানের ব্যবস্থা করেন। এ জন্যই হাদীসে এসেছে, “তোমরা কাজ করে যাও, কেননা যার জন্য যাকে সৃষ্টি করা হয়েছে তার জন্য সে ধরনের কাজ করা সহজসাধ্য করে দেয়া হবে।” [বুখারীঃ ৪৯৪৭, মুসলিমঃ ২৬৪৭] সুতরাং বান্দার দায়িত্ব হলোঃ ভালো পথে চলার জন্য চেষ্টা করা এবং সে পথের উপর অটল থাকার জন্য আল্লাহর দরবারে সার্বক্ষনিক দোআ করা।


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৯৩) যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন তাহলে তোমাদেরকে এক জাতি করতে পারতেন; কিন্তু তিনি যাকে ইচ্ছা বিভ্রান্ত করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎপথে পরিচালিত করেন। আর তোমরা যা কর, সে বিষয়ে অবশ্যই তোমাদেরকে প্রশ্ন করা হবে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৯৩-৯৬ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করলে সকলকে একই উম্মত তথা সকলকে হিদায়াত দান করে ঈমানদার ও মুসলিম বানাতে পারতেন। কিন্তু তা করেননি, কারণ তিনি তাকেই হিদায়াত দান করেন যার মাঝে হিদায়াত গ্রহণ করার মানসিকতা ও প্রবণতা দেখতে পান। আর যার মাঝে পথভ্রষ্টতা ও গোমরাহী প্রাধান্য পেয়েছে তাকে পথভ্রষ্ট করেন। এ সম্পর্কে পূর্বে কয়েক স্থানে আলোচনা করা হয়েছে।



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দাদেরকে আবার নিষেধ করলেন তারা যেন মানুষকে ধোঁকা দেয়ার উদ্দেশ্যে শপথ না করে। যাতে চারিত্রিক দুর্বলতার কারণে কারো পা পিছলে না যায়। আর তোমাদের এ পরিস্থিতি দেখে যেন কোন কাফির ইসলাম গ্রহণ করা থেকে বিরত না হয়। আর তার ফলে তোমরা মানুষকে আল্লাহ তা‘আলার পথে বাধা দেয়ার পাপের শাস্তির উপযুক্ত হয়ে যাবে। কোন কোন মুফাসসির বলেন: أَيْمَانَكُمْ শব্দটি يمين এর বহুবচন, যার অর্থ রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর সঙ্গে বাইয়াত করা। অর্থাৎ বাইয়াত করার পর যেন কেউ মুরতাদ না হয়ে যায়। কারণ তোমাদের মুরতাদ হওয়া দেখে অমুসলিমরা ইসলাম গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে। আর এভাবে তোমরা দ্বিগুণ শাস্তির উপযুক্ত হয়ে যাবে। (ফাতহুল কাদীর)



আর আল্লাহ তা‘আলা বান্দাদেরকে নিষেধ করলেন তারা যেন পার্থিব ব্যাপারে তাদের কৃত অঙ্গীকার ভঙ্গ না করে। কারণ তাদের এই পার্থিব জিনিস থেকে আল্লাহ তা‘আলার নিকট যা আছে তা অতি উত্তম। সুতরাং ওয়াদা ও শপথ ভঙ্গ করে যদি কেউ পার্থিব জিনিসের লোভ করে তাহলে সে নিশ্চিত ক্ষতিগ্রস্ত হবে।



(مَا عِنْدَكُمْ يَنْفَدُ....)



অর্থাৎ মানুষ পার্থিব জীবনে যা কিছু উপার্জন করে তা সবই শেষ হয়ে যাবে। বরং আল্লাহ তা‘আলার নিকট জান্নাতের যে সকল নেয়ামত রয়েছে তা অতি উত্তম এবং চিরস্থায়ী। আল্লাহ তা‘আলা বলেন,



(إِنَّ هٰذَا لَرِزْقُنَا مَا لَه۫ مِنْ نَّفَادٍ)



“নিশ্চয়ই এটা হল আমার দেয়া রিয্ক, যা শেষ হবে না।” ( স্ব-দ ৩৮:৫৪)



আর আল্লাহ তা‘আলা ধৈর্য ধারণকারীদেরকে তাদের কৃতকর্ম থেকে অতি উত্তম প্রতিদান দান করবেন।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(إِنَّمَا يُوَفَّي الصّٰبِرُوْنَ أَجْرَهُمْ بِغَيْرِ حِسَابٍ)



“ধৈর্যশীলদেরকে বে-হিসাব পুরস্কার দেয়া হবে।” (সূরা যুমার ৩৯:১০)



সুতরাং আল্লাহ তা‘আলার কাছে যে উত্তম ও চিরস্থায়ী প্রতিদান রয়েছে তার আশায় দীনের পথে অটল থাকতে হবে এবং ধৈর্য ধারণ করতে হবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. হাসি-তামাসা করে শপথ করা যাবে না।

২. দুনিয়ার সকল জিনিস ক্ষণস্থায়ী। আর আল্লাহ তা‘আলার নিকট যা আছে তা চিরস্থায়ী।

৩. ধৈর্য ধারণ করলে আল্লাহ তা‘আলা উত্তম প্রতিদান দান করবেন।

৪. আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করেন এ গুণের প্রমাণ পেলাম।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৯৩-৯৬ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “আল্লাহ ইচ্ছা করলে দুনিয়ার মাযহাব ও চলার পথ একটাই হতো।” যেমন তিনি বলেছেনঃ “যদি আল্লাহ ইচ্ছা করতেন তবে হে মানুষ! তোমাদেরকে তিনি একই জাতি করতেন।” অর্থাৎ তিনি চাইলে তোমরা সবাই একই দলভূক্ত হতে। অন্য আয়াতে রয়েছেঃ “তোমার প্রতিপালক যদি ইচ্ছা করতেন তবে যমীনে যত মানুষ আছে সবাই মুমিনহয়ে যেতো।” অর্থাৎ তোমাদের মধ্যে প্রেম-প্রীতি ও মিল-মহব্বত থাকতো, পরস্পরের মধ্যে কোন হিংসা-বিদ্বেষ থাকতো না।

মহান আল্লাহ বলেনঃ “তোমার প্রতিপালক এতই ক্ষমতাবান যে, তিনি ইচ্ছা করলে সমস্ত মানুষকে একই জাতি করে দিতে পারেন। কিন্তু তোমার প্রতিপালকের যার উপর দয়া হবে সে ছাড়া সবারই মধ্যে এই মতানৈক্য ও মতবিরোধ থেকেই যাবে। এ জন্যেই তাদেরকে সৃষ্টি করেছেন।” অনুরূপভাবেই এখানে তিনি বলেছেনঃ “কিন্তু যাকে ইচ্ছা, তিনি পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা, হিদায়াত দান করেন। অতঃপর তিনি কিয়ামতের দিন তোমাদের আমল সম্পর্কে তোমাদের সকলকেই জিজ্ঞাসাবাদ করবেন এবং ছোট, বড়, ভাল ও মন্দ সমস্ত আমলের বিনিময় প্রদান করবেন।

এরপর তিনি মুসলমানদেরকে হিদায়াত করছেনঃ “তোমরা তোমাদের শপথ ও প্রতিশ্রুতিকে প্রবঞ্চনার মাধ্যম বানিয়ে নিয়ো না। অন্যথায় ধর্মে অটল থাকার পরেও তোমাদের পদস্খলন ঘটে যাবে। যেমন কেউ সরল সোজা পথ। থেকে ভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। আর তোমাদের এই কাজ অন্যদেরকে আল্লাহর পথ হতে বিরত রাখার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। ফলে এর দুর্ভোগ তোমাদেরকেই পোহাতে হবে। কেননা, কাফিররা যখন দেখবে যে, মুসলমানরা চুক্তি করে তা ভঙ্গ করে থাকে, তখন তাদের দ্বীনের উপর কোন আস্থা থাকবে না। সুতরাং তারা ইসলাম গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকবে। আর যেহেতু এর কারণ হবে। তোমরাই, সেই হেতু তোমাদেরকে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে।”

মহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ “আল্লাহকে সামনে রেখে যে ওয়াদা অঙ্গীকার তোমরা কর এবং তাঁর শপথ করে যে চুক্তি তোমরা করে থাকো, পার্থিব লোভের বশবর্তী হয়ে তা ভঙ্গ করা তোমাদের জন্যে হারাম। যদিও এর বিনিময়ে সারা দুনিয়াও তোমাদের লাভ হয়, তথাপি ওর নিকটেও যেয়ো না। কেননা, দুনিয়া অতি নগণ্য ও তুচ্ছ। আল্লাহর নিকট যা রয়েছে তা অতি উত্তম। তার প্রতিদান ও পুরস্কারের আশা রাখো। যে ব্যক্তি আল্লাহর কথার উপর বিশ্বাস রাখবে, তাঁর কাছেই যা কিছু চাইবে এবং তাঁর আদেশ ও নিষেধ পালনার্থে নিজেরা ওয়াদা- অঙ্গীকারের হিফাযত করবে, তার জন্যে আল্লাহর কাছে যে পুরস্কার ও প্রতিদান রয়েছে তা সমস্ত দুনিয়া হতেও বহুগুণে বেশী ও উত্তম। সুতরাং এটাকে ভালরূপে জেনে নাও। অজ্ঞতা বশতঃ এমন কাজ করো না যে, তার কারণে আখেরাতের পুরস্কার নষ্ট হয়ে যায়। জেনে রেখো যে, দুনিয়ার নিয়ামত ধ্বংসশীল এবং আখেরাতের নিয়ামত অবিনশ্বর। তা কখনো শেষ হবার নয়।

আল্লাহপাক বলেনঃ “আমি শপথ করে বলেছি যে, যারা ধৈর্য ধারণ করবে, কিয়ামতের দিন আমি তাদেরকে সৎ আমলের অতি উত্তম প্রতিদান প্রদান করবো এবং তাদেরকে ক্ষমা করে দেবো।”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।