আল কুরআন


সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 21)

সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 21)



হরকত ছাড়া:

أموات غير أحياء وما يشعرون أيان يبعثون ﴿٢١﴾




হরকত সহ:

اَمْوَاتٌ غَیْرُ اَحْیَآءٍ ۚ وَ مَا یَشْعُرُوْنَ ۙ اَیَّانَ یُبْعَثُوْنَ ﴿۲۱﴾




উচ্চারণ: আমওয়া-তুন গাইরু আহইয়াইওঁ ওয়ামা-ইয়াশ‘উরূনা আইইয়া-না ইউব‘আছূন।




আল বায়ান: (তারা) মৃত, জীবিত নয় এবং তারা জানে না কখন তাদেরকে পুনরুজ্জীবিত করা হবে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২১. তারা নিষ্প্রাণ, নির্জীব এবং কখন তাদেরকে পুনরুথিত করা হবে সে বিষয়ে তাদের কোন চেতনা নেই।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা প্রাণহীন, জীবিত নয়, তাদের কোনই চেতনা নেই কবে তাদেরকে (পুনর্জীবিত করে) উঠানো হবে।




আহসানুল বায়ান: (২১) তারা নিষ্প্রাণ, নির্জীব[1] এবং পুনরুত্থান কবে হবে, সে বিষয়ে তাদের কোন চেতনা (বোধ) নেই।[2]



মুজিবুর রহমান: তারা নিস্প্রাণ নির্জীব এবং পুনরুত্থান কবে হবে সে বিষয়ে তাদের কোন জ্ঞান নেই।



ফযলুর রহমান: তারা মৃত, জীবিত নয়। আর কখন তাদেরকে উঠানো হবে তারা তাও জানে না।



মুহিউদ্দিন খান: তারা মৃত-প্রাণহীন এবং কবে পুনরুত্থিত হবে, জানে না।



জহুরুল হক: তারা মৃত, জীবন্ত নয়, আর তারা জানে না কখন তাদের পুনরুত্থিত করা হবে।



Sahih International: They are, [in fact], dead, not alive, and they do not perceive when they will be resurrected.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২১. তারা নিষ্প্রাণ, নির্জীব এবং কখন তাদেরকে পুনরুথিত করা হবে সে বিষয়ে তাদের কোন চেতনা নেই।(১)


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ অতি ভক্তের দল এসব সত্তাকে সংকট নিরসনকারী, অভিযোগের প্রতিকারকারী, দরিদ্রের সহায়, ধনদাতা এবং আরো কত কিছু মনে করে নিজেদের প্রয়োজন পূর্ণ করার জন্য ডাকতে থাকে। অথচ এরা আসলে মৃত নিশ্চল বস্তু এগুলোতে কোন রূহ নেই। এগুলো কোন কথা শুনে না, দেখে না, বুঝেও না। আরও অতিরিক্ত হচ্ছে যে, এগুলো জানে না কখন কিয়ামত অনুষ্ঠিত হবে, তাহলে তাদের কাছে কিভাবে কোন উপকারের আশা করা যেতে পারে? কিভাবে সওয়াব ও প্রতিদানের আশা তাদের কাছে করা যায়? এটা তো শুধু তার কাছ থেকেই জানা যায় যে সবকিছু জানে এবং সবকিছুর সৃষ্টিকর্তা। [ইবন কাসীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২১) তারা নিষ্প্রাণ, নির্জীব[1] এবং পুনরুত্থান কবে হবে, সে বিষয়ে তাদের কোন চেতনা (বোধ) নেই।[2]


তাফসীর:

[1] মৃত বলতে প্রাণহীন ও চেতনাহীন জড় (পাথর)ও বটে এবং মৃত সৎলোকও বটে। কারণ মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের কথা বলা (যে ব্যাপারে তাদের কোন বোধ নেই) জড় ব্যতীত সৎলোকেদের জন্যই বেশী সঙ্গত বলে মনে হয়। তাদেরকে শুধু মৃতই বলা হয়নি; বরং জীবিত নয় বলে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে। যাতে কবর পূজার স্পষ্ট খন্ডন হচ্ছে। যারা বলে কবরে দাফন হওয়া ব্যক্তি মৃত নয়, জীবিত। আর আমরা জীবিতদেরকেই ডাকি। আল্লাহর এই কথার পর জানা গেল মৃত্যু এসে যাওয়ার পর পার্থিব জীবন কেউ পেতে পারে না, আর না পৃথিবীর সাথে তাদের কোন সম্পর্ক থাকে।

[2] তাহলে তাদের থেকে উপকার বা মঙ্গল কামনা কেমন করে করা যেতে পারে?


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২১-২৩ নং আয়তের তাফসীর:



এখানে আল্লাহ তা‘আলা বলেন যে, মানুষ আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত যাদের উপাসনা করে তারা মূলত জড় পদার্থের ন্যায়। এরা কোন কিছু শোনে না, দেখে না এবং বুঝেও না। আর তারা এমন নির্বোধ যে, তারা কিয়ামত কখন হবে একথাও বলতে পারে না। অথচ তোমরা এই সমস্ত মৃত প্রাণহীন জন্তুর উপাসনা করছ। মৃত বলতে প্রাণহীন ও চেতনাহীন জড় (পাথর)ও বটে এবং মৃত সৎ লোকও বটে। কারণ মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের কথা বলা (যে ব্যাপারে তাদের কোন বোধ নেই) জড় ব্যতীত সৎ লোকদের জন্যই বেশি সঙ্গত বলে মনে হয়। তাদেরকে শুধু মৃতই বলা হয়নি; বরং জীবিত নয় বলে স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। যাতে কবর পূজোর স্পষ্ট খণ্ডন হচ্ছে। যারা বলে কবরে দাফন হওয়া ব্যক্তি মৃত নয়, জীবিত। আর আমরা জীবিতদেরকেই ডাকি। আল্লাহ তা‘আলার এ কথার পর জানা গেল মৃত্যু এসে যাবার পর আর কেউ পার্থিব জীবন পেতে পারে না, আর না পৃথিবীর সাথে তাদের কোন সম্পর্ক থাকে। সুতরাং মুশরিকরা আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে যাদেরকে মা‘বূদ হিসেবে আহ্বান করে তারা এত দুর্বল যে, পুনরুত্থান কখন হবে তারা জানে না, তাহলে তাদের কাছ থেকে কী মঙ্গল কামনা করা যেতে পারে।



তাই আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, তোমরা যাদেরকে আহ্বান করছ তারা তোমাদের মা‘বূদ নয়, তোমাদের মা‘বূদ হচ্ছেন একজন, তিনি হলেন আল্লাহ তা‘আলা। উপকার ও ক্ষতি করার একমাত্র মালিক তিনিই যিনি সকল মানুষের প্রতিপালক, যিনি সবার উপাসনা পাবার যোগ্য। তিনিই একমাত্র ইলাহ, তিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। সুতরাং যারা আখিরাতে বিশ্বাসী নয়, তাদের জন্য এক আল্লাহকে বিশ্বাস করা অসম্ভব, তাই এক আল্লাহ তা‘আলাকে মানতে তাদের অন্তর অস্বীকার করে এবং এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করতে অহঙ্কার করে। যেমন তারা বলত আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(اَجَعَلَ الْاٰلِھَةَ اِلٰھًا وَّاحِدًاﺊ اِنَّ ھٰذَا لَشَیْءٌ عُجَابٌﭔ)



“সে কি বহু উপাস্যের স্থানে একজন মাত্র উপাস্য সাব্যস্ত করে দিয়েছে? বস্তুতঃ এটা এক আশ্চর্য ব্যাপার।” (সূরা স্ব-দ ৩৮:৫)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(وَإِذَا ذُكِرَ اللّٰهُ وَحْدَهُ اشْمَأَزَّتْ قُلُوْبُ الَّذِيْنَ لَا يُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ ج وَإِذَا ذُكِرَ الَّذِيْنَ مِنْ دُوْنِه۪ٓ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُوْنَ)‏



“এক আল্লাহর কথা বলা হলে যারা আখিরাতকে বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর ঘৃণায় ভরে যায় এবং আল্লাহর পরিবর্তে (তাদের দেবতাগুলোর) উল্লেখ করা হলে তারা আনন্দিত হয়ে যায়।” (সূরা যুমার ৩৯:৪৫) তবে তারা অহঙ্কার করুক আর না-ই করুক, তাতে কিছু আসে যায় না। কারণ আল্লাহ তা‘আলা তারা যা গোপন করছে আর প্রকাশ করছে সব দেখছেন, শুনছেন। আল্লাহ তা‘আলা অহঙ্কারীদেরকে ভালবাসেন না, তিনি প্রত্যেককে কর্মের ফলাফল দেবেন।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কবরে মৃত মানুষেরা কোন কিছুই শোনে না, তাই তাদেরকে আহ্বান করে কোন লাভ নেই।

২. ইবাদত পাওয়ার যোগ্য একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।

৩. কবরে শায়িত ব্যক্তির কাছে চাওয়া আর মূর্তিপূজো করা একই কথা।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৯-২১ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআলা খবর দিচ্ছেন যে, তিনি গোপনীয় ও প্রকাশ্য সবকিছুই জানেন। তাঁর কাছে দুটোই সমান। কিয়ামতের দিন প্রত্যেক আমলকারীকে তার আমলের প্রতিদান তিনি প্রদান করবেন, ভালকে পুরস্কার এবং মন্দকে শাস্তি। যে মিথ্যা উপাস্যদের কাছে এই লোকগুলি তাদের প্রয়োজন পূরণের আবেদন জানায় তারা কোন কিছুরই সৃষ্টিকর্তা নয়; বরং তারা নিজেরাই সৃষ্ট। যেমন হযরত খালীল (আঃ) স্বীয় কওমকে বলেছিলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “তোমরা যাদেরকে নিজেরাই খোদাই করে নির্মাণ কর, তোমরা কি তাদেরই পূজা কর? প্রকৃতপক্ষে আল্লাহই সৃষ্টি করেছেন তোমাদেরকে এবং তোমরা যেগুলিকে তৈরী কর সেগুলিকেও।” (৩৭:৯৫-৯৬)

মহান আল্লাহ বলেনঃ “আল্লাহ ছাড়া তোমরা বরং এমন মা'বুদের ইবাদত করছো যারা নির্জীব জড় পদার্থ, যারা শুনেও না, দেখেও না এবং বুঝেও না। তাদের তো এতোটুকুও অনুভূতি নেই যে, কিয়ামত কখন হবে? তাহলে তোমরা তাদের কাছে উপকার ও ছাওয়াব লাভের আশা কি করে করছো? এই আশা তো ঐ আল্লাহর কাছেই করা উচিত, যিনি সমস্ত কিছুর খবর রাখেন এবং যিনি সারা বিশ্বের প্রতিপালক!





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।