আল কুরআন


সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 22)

সূরা আন-নাহাল (আয়াত: 22)



হরকত ছাড়া:

إلهكم إله واحد فالذين لا يؤمنون بالآخرة قلوبهم منكرة وهم مستكبرون ﴿٢٢﴾




হরকত সহ:

اِلٰـهُکُمْ اِلٰهٌ وَّاحِدٌ ۚ فَالَّذِیْنَ لَا یُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَۃِ قُلُوْبُهُمْ مُّنْکِرَۃٌ وَّ هُمْ مُّسْتَکْبِرُوْنَ ﴿۲۲﴾




উচ্চারণ: ইলা-হুকুম ইলা-হুওঁ ওয়াহিদুন ফাল্লাযীনা লা-ইউ’মিনূনা বিলআ-খিরাতি কুলূবুহুম মুনকিরাতুওঁ ওয়াহুম মুছতাকবিরূন।




আল বায়ান: তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ। অতঃপর যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর অস্বীকারকারী এবং তারা অহঙ্কারী।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২২. তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ, কাজেই যারা আখিরাতে ঈমান আনে না তাদের অন্তর অস্বীকারকারী(১) এবং তারা অহংকারী।(২)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমাদের ইলাহ হলেন এক ইলাহ। কাজেই যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সত্য-অস্বীকারকারী আর তারা অহংকারী।




আহসানুল বায়ান: (২২) তোমাদের উপাস্য একক উপাস্য; সুতরাং যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সত্য বিমুখ এবং তারা অহংকারী। [1]



মুজিবুর রহমান: তোমাদের মা‘বূদ একই মা‘বূদ। সুতরাং যারা আখিরাতে বিশ্বাস করেনা তাদের অন্তর সত্যবিমুখ এবং তারা অহংকারী।



ফযলুর রহমান: তোমাদের প্রভু একক প্রভু। অতএব, যারা পরকাল বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর সত্যবিমুখ এবং তারা অহংকারী।



মুহিউদ্দিন খান: আমাদের ইলাহ একক ইলাহ। অনন্তর যারা পরজীবনে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সত্যবিমুখ এবং তারা অহংকার প্রদর্শন করেছে।



জহুরুল হক: তোমাদের উপাস্য একক উপাস্য; সেজন্য যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর প্রত্যাখ্যানকারী, আর তারা অহংকারী।



Sahih International: Your god is one God. But those who do not believe in the Hereafter - their hearts are disapproving, and they are arrogant.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ২২. তোমাদের ইলাহ এক ইলাহ, কাজেই যারা আখিরাতে ঈমান আনে না তাদের অন্তর অস্বীকারকারী(১) এবং তারা অহংকারী।(২)


তাফসীর:

(১) এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা জানাচ্ছেন যে, একমাত্র এক ও অমুখাপেক্ষী আল্লাহ ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। আর এটাও জানাচ্ছেন যে, কাফেররা তা অস্বীকার করে। তাদের মধ্যে ওয়ায নসীহত ও স্মরণ কোন প্রতিক্রিয়া করতে পারে না। তারা হক গ্রহণের বদলে শুধু অহংকারই করে বেড়ায়, কোন সঠিক কিছু মেনে নেয়াকে তারা অনেক বড় করে দেখে। অস্বীকার তাদের প্রকৃতিতে পরিণত হয়েছে। [ফাতহুল কাদীর] তারা এ জন্য প্রায়ই শুধু আশ্চর্যবোধ করত। তারা বলতঃ “তিনি কি সমস্ত ইলাহকে এক ইলাহ বানিয়ে ফেলেছেন? এটা তো এক আশ্চর্য বস্তু।” [সূরা ছোয়াদঃ ৫] অন্য আয়াতে আল্লাহ তাদের অবস্থা বর্ণনা করে বলেনঃ “শুধু এক আল্লাহর কথা বলা হলে যারা আখিরাতে বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয় এবং আল্লাহর পরিবর্তে উপাস্যগুলোর উল্লেখ করা হলে তারা আনন্দে উল্লসিত হয় [সূরা আয-যুমারঃ ৪৫]


(২) তাদের অহংকারের কারণে আল্লাহ তাদেরকে কঠোর শাস্তি দিবেন। সূরা গাফেরের ৬০ নং আয়াতেও আল্লাহ তা উল্লেখ করেছেন। [ইবন কাসীর] হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, যার অন্তরে সামান্যতম অহংকারও থাকবে সে জান্নাতে যাবে না। আর যার অন্তরে সামান্যতম ঈমানও থাকবে সে জাহান্নামে থাকবে না। একলোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল! কোন লোক যদি চায় যে তার কাপড় সুন্দর হোক, তার জুতা সুন্দর হোক? তিনি বললেন, নিশ্চয় আল্লাহ সুন্দর তিনি সুন্দর পছন্দ করেন। অহংকার হচ্ছে হককে না মানা ও মানুষকে হেয় করে দেখা। [মুসলিম: ৯১]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (২২) তোমাদের উপাস্য একক উপাস্য; সুতরাং যারা আখেরাতে বিশ্বাস করে না, তাদের অন্তর সত্য বিমুখ এবং তারা অহংকারী। [1]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, এক আল্লাহকে মেনে নেওয়া অস্বীকারকারী মুশরিকদের জন্য বড়ই কঠিন। তারা বলে, {أَجَعَلَ الْآلِهَةَ إِلَهًا وَاحِدًا إِنَّ هَذَا لَشَيْءٌ عُجَابٌ} অর্থাৎ, সে কি বহু উপাস্যের পরিবর্তে একটিমাত্র উপাস্য বানিয়ে নিয়েছে? এতো এক অত্যাশ্চর্য ব্যাপার। (সূরা স্বা-দ ৫)  অন্যত্র আরো বলেন, {وَإِذَا ذُكِرَ اللَّهُ وَحْدَهُ اشْمَأَزَّتْ قُلُوبُ الَّذِينَ لَا يُؤْمِنُونَ بِالْآخِرَةِ وَإِذَا ذُكِرَ الَّذِينَ مِن دُونِهِ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُونَ} অর্থাৎ, এক আল্লাহর কথা বলা হলে যারা পরকালে বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর বিতৃষ্ণায় সংকুচিত হয় এবং আল্লাহর পরিবর্তে তাদের দেবতাদের কথা উল্লেখ করা হলে তারা আনন্দে উল্লসিত হয়। (সুরা যুমার ৪৫)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ২১-২৩ নং আয়তের তাফসীর:



এখানে আল্লাহ তা‘আলা বলেন যে, মানুষ আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত যাদের উপাসনা করে তারা মূলত জড় পদার্থের ন্যায়। এরা কোন কিছু শোনে না, দেখে না এবং বুঝেও না। আর তারা এমন নির্বোধ যে, তারা কিয়ামত কখন হবে একথাও বলতে পারে না। অথচ তোমরা এই সমস্ত মৃত প্রাণহীন জন্তুর উপাসনা করছ। মৃত বলতে প্রাণহীন ও চেতনাহীন জড় (পাথর)ও বটে এবং মৃত সৎ লোকও বটে। কারণ মৃত্যুর পর পুনরুত্থানের কথা বলা (যে ব্যাপারে তাদের কোন বোধ নেই) জড় ব্যতীত সৎ লোকদের জন্যই বেশি সঙ্গত বলে মনে হয়। তাদেরকে শুধু মৃতই বলা হয়নি; বরং জীবিত নয় বলে স্পষ্ট করে দেয়া হয়েছে। যাতে কবর পূজোর স্পষ্ট খণ্ডন হচ্ছে। যারা বলে কবরে দাফন হওয়া ব্যক্তি মৃত নয়, জীবিত। আর আমরা জীবিতদেরকেই ডাকি। আল্লাহ তা‘আলার এ কথার পর জানা গেল মৃত্যু এসে যাবার পর আর কেউ পার্থিব জীবন পেতে পারে না, আর না পৃথিবীর সাথে তাদের কোন সম্পর্ক থাকে। সুতরাং মুশরিকরা আল্লাহ তা‘আলাকে বাদ দিয়ে যাদেরকে মা‘বূদ হিসেবে আহ্বান করে তারা এত দুর্বল যে, পুনরুত্থান কখন হবে তারা জানে না, তাহলে তাদের কাছ থেকে কী মঙ্গল কামনা করা যেতে পারে।



তাই আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, তোমরা যাদেরকে আহ্বান করছ তারা তোমাদের মা‘বূদ নয়, তোমাদের মা‘বূদ হচ্ছেন একজন, তিনি হলেন আল্লাহ তা‘আলা। উপকার ও ক্ষতি করার একমাত্র মালিক তিনিই যিনি সকল মানুষের প্রতিপালক, যিনি সবার উপাসনা পাবার যোগ্য। তিনিই একমাত্র ইলাহ, তিনি ব্যতীত আর কোন ইলাহ নেই। সুতরাং যারা আখিরাতে বিশ্বাসী নয়, তাদের জন্য এক আল্লাহকে বিশ্বাস করা অসম্ভব, তাই এক আল্লাহ তা‘আলাকে মানতে তাদের অন্তর অস্বীকার করে এবং এক আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত করতে অহঙ্কার করে। যেমন তারা বলত আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(اَجَعَلَ الْاٰلِھَةَ اِلٰھًا وَّاحِدًاﺊ اِنَّ ھٰذَا لَشَیْءٌ عُجَابٌﭔ)



“সে কি বহু উপাস্যের স্থানে একজন মাত্র উপাস্য সাব্যস্ত করে দিয়েছে? বস্তুতঃ এটা এক আশ্চর্য ব্যাপার।” (সূরা স্ব-দ ৩৮:৫)



আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:



(وَإِذَا ذُكِرَ اللّٰهُ وَحْدَهُ اشْمَأَزَّتْ قُلُوْبُ الَّذِيْنَ لَا يُؤْمِنُوْنَ بِالْاٰخِرَةِ ج وَإِذَا ذُكِرَ الَّذِيْنَ مِنْ دُوْنِه۪ٓ إِذَا هُمْ يَسْتَبْشِرُوْنَ)‏



“এক আল্লাহর কথা বলা হলে যারা আখিরাতকে বিশ্বাস করে না তাদের অন্তর ঘৃণায় ভরে যায় এবং আল্লাহর পরিবর্তে (তাদের দেবতাগুলোর) উল্লেখ করা হলে তারা আনন্দিত হয়ে যায়।” (সূরা যুমার ৩৯:৪৫) তবে তারা অহঙ্কার করুক আর না-ই করুক, তাতে কিছু আসে যায় না। কারণ আল্লাহ তা‘আলা তারা যা গোপন করছে আর প্রকাশ করছে সব দেখছেন, শুনছেন। আল্লাহ তা‘আলা অহঙ্কারীদেরকে ভালবাসেন না, তিনি প্রত্যেককে কর্মের ফলাফল দেবেন।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কবরে মৃত মানুষেরা কোন কিছুই শোনে না, তাই তাদেরকে আহ্বান করে কোন লাভ নেই।

২. ইবাদত পাওয়ার যোগ্য একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।

৩. কবরে শায়িত ব্যক্তির কাছে চাওয়া আর মূর্তিপূজো করা একই কথা।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ২২-২৩ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআলা খবর দিচ্ছেন যে, তিনিই একমাত্র সত্য মাবুদ। তিনি ছাড়া অন্য কেউ ইবাদতের যোগ্য নেই। তিনি এক, একক, অংশী বিহীন এবং অভাবমুক্ত। কাফিরদের অন্তর ভাল কথা অস্বীকারকারী। তারা সত্য কথা শুনে হতবুদ্ধি হয়ে পড়ে। এক আল্লাহর যিক্র শুনে তাদের অন্তর ম্লান হয়ে পড়ে। কিন্তু অন্যদের যিক্র শুনে তাদের অন্তর খুলে যায়। তারা মহান আল্লাহর ইবাদত থেকে অহংকার প্রকাশ করে। তাদের অন্তরে ঈমানও নেই এবং তারা ইবাদতে অভ্যস্তও নয়। এ সব লোক অত্যন্ত লাঞ্ছিত ভাবে জাহান্নামে প্রবেশ করবে। নিশ্চয় আল্লাহ তাআলা প্রত্যেক গোপনীয় ও প্রকাশ্য কথা সম্যক অবগত। প্রত্যেক আমলের উপর তিনি পুরস্কার অথবা শাস্তি প্রদান করবেন। তিনি অহংকারীদের ভালবাসেন না।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।