সূরা আর-রাদ (আয়াত: 40)
হরকত ছাড়া:
وإما نرينك بعض الذي نعدهم أو نتوفينك فإنما عليك البلاغ وعلينا الحساب ﴿٤٠﴾
হরকত সহ:
وَ اِنْ مَّا نُرِیَنَّکَ بَعْضَ الَّذِیْ نَعِدُهُمْ اَوْ نَتَوَفَّیَنَّکَ فَاِنَّمَا عَلَیْکَ الْبَلٰغُ وَ عَلَیْنَا الْحِسَابُ ﴿۴۰﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইম্মা- নুরিইয়ান্নাকা বা‘দাল্লাযীনা‘ইদুহুম আও নাতাওয়াফফাইয়ান্নাকা ফাইন্নামা‘আলাইকাল বালা-গু ওয়া ‘আলাইনাল হিছা-ব।
আল বায়ান: আর যে প্রতিশ্রুতি আমি তাদেরকে দিচ্ছি, যদি তার কিছু তোমাকে দেখাই অথবা তোমার মৃত্যু ঘটাই (তাতে কিছুই আসে যায় না)। তবে তোমার কর্তব্য কেবল পৌঁছে দেয়া, আর আমার দায়িত্ব হিসাব নেয়া।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪০. আর আমরা তাদেরকে যে শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি তার কিছু যদি আমরা আপনাকে দেখাই বা যদি এর আগে আপনার মৃত্যু ঘটাই(১) তবে আপনার কর্তব্য তো শুধু প্রচার করা, আর হিসাব-নিকাশ তো আমারই দায়িত্ব।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি তাদেরকে যে শাস্তি দেয়ার ওয়া‘দা করেছি তার কিছু যদি তোমাকে দেখাই কিংবা (দেখানোর পূর্বেই) তোমার মৃত্যু ঘটাই, (উভয় অবস্থাতেই) তোমার দায়িত্ব হল প্রচার করে দেয়া, আর হিসেব নেয়ার কাজ হল আমার।
আহসানুল বায়ান: (৪০) আমি তাদেরকে যে শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিই, তার কিছু যদি তোমাকে দেখিয়ে দিই অথবা যদি এর পূর্বে তোমার মৃত্যু ঘটিয়েই দিই, তাহলে তোমার কর্তব্য তো শুধু প্রচার করা, আর আমার কাজ হিসাব গ্রহণ করা।
মুজিবুর রহমান: আমি তাদেরকে যে শাস্তির কথা বলি, তার কিছু যদি তোমাকে দেখিয়েই দিই অথবা যদি এর পূর্বে তোমার মৃত্যু ঘটিয়েই দিই - তোমার কর্তব্যতো শুধু প্রচার করা; আর হিসাব গ্রহণের দায়িত্ব আমার।
ফযলুর রহমান: আমি তাদেরকে যা (যে শাস্তির) ওয়াদা করছি তার কিছুটা যদি তোমাকে দেখাই অথবা যদি (তার আগেই) তোমার জীবনাবসান ঘটাই তাহলেও তোমার কর্তব্য তো শুধু (সত্যের বাণী) পৌঁছে দেওয়া। হিসাব নেওয়ার দায়িত্ব তো আমার।
মুহিউদ্দিন খান: আমি তাদের সাথে যে ওয়াদা করেছি, তার কোন একটি যদি আপনাকে দেখিয়ে দেই কিংবা আপনাকে উঠিয়ে নেই, তাতে কি আপনার দায়িত্ব তো পৌছে দেয়া এবং আমার দায়িত্ব হিসাব নেয়া।
জহুরুল হক: আর তোমাকে যদি আমরা দেখাই ওদের যা ওয়াদা করেছি তা থেকে কিছুটা, অথবা তোমার মৃত্যু ঘটিয়ে দিই, -- সর্বাবস্থায়ই তোমার উপরে হচ্ছে পৌঁছে দেওয়া, আর আমাদের উপরে হচ্ছে হিসাব গ্রহণ।
Sahih International: And whether We show you part of what We promise them or take you in death, upon you is only the [duty of] notification, and upon Us is the account.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪০. আর আমরা তাদেরকে যে শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি তার কিছু যদি আমরা আপনাকে দেখাই বা যদি এর আগে আপনার মৃত্যু ঘটাই(১) তবে আপনার কর্তব্য তো শুধু প্রচার করা, আর হিসাব-নিকাশ তো আমারই দায়িত্ব।
তাফসীর:
(১) অর্থাৎ আপনার শক্রদেরকে যে অপমান ও লাঞ্ছনাজনক শাস্তির ধমক দেয়া হচ্ছে তা যদি দুনিয়াতেই এসে যায় তবে তা হবে দুনিয়াবী শাস্তি। আর যদি আপনাকে তাদের শাস্তি দেখানোর পূর্বেই আমরা মৃত্যু দিয়ে দেই, তবে আপনার দায়িত্ব তো শুধু দাওয়াত প্রচার করে যাওয়া, তারপর আমার কাছেই তাদের হিসাব ও প্রতিফল। [মুয়াস্সার]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪০) আমি তাদেরকে যে শাস্তির প্রতিশ্রুতি দিই, তার কিছু যদি তোমাকে দেখিয়ে দিই অথবা যদি এর পূর্বে তোমার মৃত্যু ঘটিয়েই দিই, তাহলে তোমার কর্তব্য তো শুধু প্রচার করা, আর আমার কাজ হিসাব গ্রহণ করা।
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪০-৪১ নং আয়াতের তাফসীর:
কাফেরদেরকে শাস্তি দেয়ার যে প্রতিশ্রুতি আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে দিয়েছেন উক্ত আয়াতে সেদিকে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তাদেরকে শাস্তি দেয়ার যে প্রতিশ্রুতি প্রদান করা হয়েছে সে ব্যাপারে তুমি তাড়াহুড়া করো না। তারা যদি তাদের অবাধ্যতার মাঝে অটল থাকে তাহলে তাদের যে প্রতিশ্রুতি দেয়া হয়েছে তা অবশ্যই পাকড়াও করবে। হয়তো তুমি দুনিয়াতে তা প্রত্যক্ষ করে চক্ষু শীতল করতে পারবে অথবা তাদের শাস্তি আসার পূর্বে তোমার মৃত্যু হতে পারে। এটা নিয়ে তোমার ব্যস্ত থাকার কোন বিষয় নয়। তোমার দায়িত্ব তাবলীগের কাজ করা, তা করে যাও। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(يٰٓأَيُّهَا الرَّسُوْلُ بَلِّغْ مَآ أُنْزِلَ إِلَيْكَ مِنْ رَّبِّكَ ط وَإِنْ لَّمْ تَفْعَلْ فَمَا بَلَّغْتَ رِسَالَتَه۫ )
“হে রাসূল! তোমার প্রতিপালকের নিকট হতে তোমার প্রতি যা অবতীর্ণ হয়েছে তা প্রচার কর; যদি না কর তবে তুমি তাঁর রিসালাত প্রচার করলে না।” (সূরা মায়েদা ৫:৬৭)
সুতরাং রাসূলের দায়িত্ব শুধু পৌঁছে দেয়া, কাউকে হেদায়েত করা নয়। হেদায়েত করা, শাস্তি দেয়া, রহমত করা, মানুষের হিসাব নিকাশ করা এ সমস্ত দায়িত্ব একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার অন্য কারো নয়। কারণ সকলকে একদিন আল্লাহ তা‘আলার কাছেই ফিরে যেতে হবে। সেদিন তিনি তাদের হিসাব গ্রহণ করবেন এবং তদানুযায়ী প্রতিদান দিবেন। তারা কি দেখে না যে, জমিনকে সংকুচিত করা হচ্ছে অর্থাৎ কাফিরদের থেকে জমিন মুসলিমদের দখলে চলে যাচ্ছে।
কাফিররা দিন-দিন পরাজিত হচ্ছে। বরকত উঠে যাচ্ছে আর মন্দ ও অকল্যাণ বৃদ্ধি পাচ্ছে। মানুষ ও গাছপালা মারা যাচ্ছে। যার ফলে জমিন শ্মশানে পরিণত হচ্ছে ইত্যাদি। এখানে সংকীর্ণ বলতে জমিন নয় বরং জমিনের সবকিছু ধ্বংস হওয়াকে বুঝানো হয়েছে।
আবার কেউ কেউ এর দ্বারা উদ্দেশ্য নিয়েছেন জমিন পানিতে নিমজ্জিত হয়ে বিলীন হয়ে যাবে।
তবে এর দ্বারা সঠিক উদ্দেশ্য হল ইসলাম শিরকের উপর জয়যুক্ত হওয়া।
আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(وَلَقَدْ أَهْلَكْنَا مَا حَوْلَكُمْ مِّنَ الْقُرٰي)
“তোমাদের আশপাশের এলাকার অনেক জনবসতি আমি ধ্বংস করে দিয়েছি।” (সূরা আহকাফ ৪৬:২৭)
সুতরাং অচিরেই তাদেরকে আল্লাহ তা‘আলার নিকট ফিরে যেতে হবে। আর তখন তিনি তাদের হিসাব গ্রহণ করবেন। অতএব হে রাসূল! আপনার তাড়াহুড়া করার কোন প্রয়োজন নেই। তাদের ব্যাপারে আমিই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করব।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. রাসূলের দায়িত্ব শুধু পৌঁছে দেয়া।
২. ইসলাম একদিন জয়লাভ করবেই।
৩. পৃথিবীর সব কিছু শেষ হওয়ার মাধ্যমে পৃথিবী সংকীর্ণ হয়ে যাবে।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪০-৪১ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআ’লা তাঁর রাসূলকে (সঃ) বলছেনঃ হে রাসূল (সঃ)! তোমার শত্রুদের উপর আমার শাস্তি যে আসবে তা আমি তোমার জীবদ্দশাতেই আনি বা তোমার মৃত্যুর পরই আনয়ন করি তাতে তোমার কি হয়েছে? তোমার কাজ তো শুধু আমার বাণী মানুষের কাছে পৌঁছিয়ে দেয়া। আর তা তো তুমি করেছে। তাদের হিসাব গ্রহণ এবং তাদেরকে বিনিময় প্রদানের দায়িত্ব আমার। তুমি শুধু তাদেরকে উপদেশ দিতে থাকো। তুমি তাদের উপর দারোগা বা রক্ষক নও। যে মুখ ফিরিয়ে নেবে এবং কুফরী করবে, তাদেরকে আল্লাহ স্বয়ং শাস্তির মধ্যে নিক্ষেপ করবেন। তাদের প্রত্যাবর্তন আমারই কাছে এবং তাদের হিসাব নিকাশ গ্রহণের দায়িত্বও আমার। তারা কি দেখে নাই যে, আমি যমীনকে তোমার দখলে আনয়ন করেছি। তারা দেখে না যে, জনবহুল স্থান ও সুউচ্চ অট্টালিকা ধ্বংসাবশেষ ও বিজনে পরিণত হচ্ছে? তারা কি লক্ষ্য করে না যে, মুসলমানরা কাফিরদের উপর আধিপত্য লাভ করছে। তারা অবলোকন করছে না যে, দিন দিন বরকত উঠে যাচ্ছে এবং মন্দ ও অকল্যাণ আসতে রয়েছে। মানুষ মরতে আছে এবং যমীন শ্মশানে পরিণত হচ্ছে? যদি স্বয়ং যমীনকে সংকীর্ণ করে দেয়া হতো তবে এর উপর মানুষের কুঁড়ে ঘর নির্মাণ করাও অসম্ভব হয়ে পড়তো। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে দিন দিন মানুষ এবং মানুষও গাছপালা কমতে থাকা। এর দ্বারা উদ্দেশ্য যমীনের সংকীর্ণতা নয়, বরং মানুষ মরে যাওয়া। বিদ্বান মণ্ডলী, ধর্মশাস্ত্রবিধ এবং ভাল লোকদের মৃত্যুও হচ্ছে যমীনের ধ্বংস হওয়া। এ ব্যাপারে একজন আরব কৰি নিম্নরূপ কবিতা বলেছেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “যে ভূমিতে কোন (দ্বীনের) আলেম জীবন যাপন করেন সেই ভূমি জীবন্তরূপ লাভ করে, আর যখন আলেম মৃত্যু মুখে পতিত হন তখন সেই ভূমিও মরে যায় অর্থাৎ বিজনে পরিণত হয়। যেমন, যখন ভূমিতে বৃষ্টি বর্ষিত হয় তখন তা সবুজ শ্যামল হয়ে ওঠে, কিন্তু যদি তাতে বৃষ্টিপাত না হয় তবে তা শুকিয়ে যায় এবং অনুর্বর হয়ে পড়ে।” সুতরাং এই আয়াতের ভাবার্থ হচ্ছে ইসলাম শিরকের উপর জয়যুক্ত হওয়া যেমন আল্লাহ তাআ’লা বলেছেনঃ (আরবি)
অর্থাৎ “অবশ্যই আমি তোমাদের চতুষ্পর্শ্বের গ্রামগুলিকে ধ্বংস করে দিয়েছি।” (৪৬: ২৭) এটা ইমাম ইবনু জারীরেরও (রঃ) পছন্দনীয় উক্তি।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।