সূরা ইউসুফ (আয়াত: 78)
হরকত ছাড়া:
قالوا يا أيها العزيز إن له أبا شيخا كبيرا فخذ أحدنا مكانه إنا نراك من المحسنين ﴿٧٨﴾
হরকত সহ:
قَالُوْا یٰۤاَیُّهَا الْعَزِیْزُ اِنَّ لَهٗۤ اَبًا شَیْخًا کَبِیْرًا فَخُذْ اَحَدَنَا مَکَانَهٗ ۚ اِنَّا نَرٰىکَ مِنَ الْمُحْسِنِیْنَ ﴿۷۸﴾
উচ্চারণ: কা-লূইয়া আইয়ুহাল ‘আযীযুইন্না লাহূ আবান শাইখান কাবীরান ফাখুযআহাদানা-মাকানাহূ ইন্না-নারা-কা মিনাল মুহছিনীন।
আল বায়ান: তারা বলল, ‘হে আযীয, তার পিতা বড় বৃদ্ধ, আপনি তার স্থলে আমাদের একজনকে নিন, আমরা তো আপনাকে দেখছি সৎকর্মশীলদের অন্তর্ভুক্ত।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭৮. তারা বলল, হে আযীয, এর পিতা তো অত্যন্ত বৃদ্ধ; কাজেই এর জায়গায় আপনি আমাদের একজনকে রাখুন। আমরা তো আপনাকে দেখছি মুহসিন ব্যক্তিদের একজন।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা বলল, ‘হে ‘আযীয! এর পিতা আছেন যিনি খুবই বৃদ্ধ, কাজেই তার স্থলে আমাদের একজনকে রাখুন, আমরা তো আপনাকে বড়ই সদাচারী লোকদের অন্তর্ভুক্ত দেখছি।’
আহসানুল বায়ান: (৭৮) তারা বলল, ‘হে আযীয![1] এর পিতা আছেন অতিশয় বৃদ্ধ, সুতরাং এর স্থলে আপনি আমাদের একজনকে রাখুন! আমরা তো আপনাকে দেখছি মহানুভব ব্যক্তিদের একজন।’ [2]
মুজিবুর রহমান: তারা বললঃ হে আযীয! এর পিতা আছেন অতিশয় বৃদ্ধ, সুতরাং এর স্থলে আপনি আমাদের একজনকে রাখুন! আমরাতো আপনাকে দেখছি মহানুভব ব্যক্তিদের একজন।
ফযলুর রহমান: তারা বলল, “শাসক মহোদয়! তার একজন বয়োবৃদ্ধ পিতা আছে। (সে তার জন্য কষ্ট পাবে।) তার স্থলে আপনি আমাদের একজনকে রেখে দিন। আমরা মনে করি, আপনি একজন মহানুভব মানুষ।
মুহিউদ্দিন খান: তারা বলতে লাগলঃ হে আযীয, তার পিতা আছেন, যিনি খুবই বৃদ্ধ বয়স্ক। সুতরাং আপনি আমাদের একজনকে তার বদলে রেখে দিন। আমরা আপনাকে অনুগ্রহশীল ব্যক্তিদের একজন দেখতে পাচ্ছি।
জহুরুল হক: ওরা বললে -- "ওহে প্রধান! এর পিতা আছেন, অত্যন্ত বুড়ো মানুষ, অতএব তার জায়গায় আমাদের একজনকে রেখে নিন, যেহেতু আমরা আপনাকে দেখছি মহানুভবদের মধ্যেকার।"
Sahih International: They said, "O 'Azeez, indeed he has a father [who is] an old man, so take one of us in place of him. Indeed, we see you as a doer of good."
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৭৮. তারা বলল, হে আযীয, এর পিতা তো অত্যন্ত বৃদ্ধ; কাজেই এর জায়গায় আপনি আমাদের একজনকে রাখুন। আমরা তো আপনাকে দেখছি মুহসিন ব্যক্তিদের একজন।(১)
তাফসীর:
(১) ইউসুফ ভ্রাতারা যখন দেখল যে, কোন চেষ্টাই সফল হচ্ছে না এবং বিনইয়ামীনকে এখানে ছেড়ে যাওয়া ব্যতীত গত্যন্তর নেই; তখন তারা প্রার্থনা জানাল যে, এর পিতা নিরতিশয় বয়োবৃদ্ধ ও দুর্বল। এর বিচ্ছেদের যাতনা সহ্য করা তার পক্ষে সম্ভবপর নয়। তাই আপনি এর পরিবর্তে আমাদের কাউকে গ্রেফতার করে নিন। আমরা দেখছি, আপনি খুবই অনুগ্রহশীল। এ ভরসায়ই আমরা এ প্রার্থনা জানাচ্ছি। অথবা অর্থ এই যে, আপনি পূর্বেও আমাদের প্রতি অনুগ্রহ করেছেন। অথবা এ অনুগ্রহ আমাদের উপর আপনার থাকবে। [কুরতুবী]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৭৮) তারা বলল, ‘হে আযীয![1] এর পিতা আছেন অতিশয় বৃদ্ধ, সুতরাং এর স্থলে আপনি আমাদের একজনকে রাখুন! আমরা তো আপনাকে দেখছি মহানুভব ব্যক্তিদের একজন।’ [2]
তাফসীর:
[1] তাঁরা ইউসুফ (আঃ)-কে ‘আযীয’ (মিসরের রাজা) এ জন্য বলেছিলেন যে, সেই সময় সমস্ত মৌলিক এখতিয়ার ও শক্তি ইউসুফ (আঃ)-এর হাতেই ছিল। আর মিসরের আসল রাজা শুধু নামমাত্র রাজা ছিলেন।
[2] পিতা তো অবশ্যই বৃদ্ধ ছিলেন, কিন্তু এখানে তাঁদের মূল উদ্দেশ্য ছিল বিনয়্যামীনকে মুক্ত করা। তাঁদের মাথায় ইউসুফ (আঃ) সংক্রান্ত কথা স্মরণ হচ্ছিল যে, এমন আবার না হয় যে, বিনয়্যামীনকে ছেড়ে পিতার কাছে আমাদেরকে ফিরে যেতে হয় এবং তিনি আমাদেরকে বলেন যে, তোমরা আমার বিনয়্যামীনকে ইউসুফের মত হারিয়ে এলে। তাই ইউসুফ (আঃ)-এর মহানুভবতা ও অনুগ্রহের প্রশংসা করে এই কথা বললেন, হয়তো তিনি এ অনুগ্রহটুকুও করবেন যে, বিনয়্যামীনকে ছেড়ে দিয়ে তাঁর স্থলে অন্য কোন ভাইকে রেখে নেবেন।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৬৯-৮৭ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে আল্লাহ তা‘আলা ইউসুফ (عليه السلام) কর্তৃক তার সহদর ভাই বিন ইয়ামীনকে তার নিকট আটক রাখার যে কৌশল অবলম্বন করেছিলেন তারই বর্ণনা দিচ্ছেন। বিস্তারিত বর্ণনা তাফসীর ইবনু কাসীর রয়েছে; যার সারসংক্ষেপ হলো এই যে, ইউসুফ (عليه السلام)-এর ভাইয়েরা যখন বিন ইয়ামীন-সহ মিসরে আগমন করে ইউসুফ (عليه السلام)-এর নিকট প্রবেশ করল তখন ইউসুফ (عليه السلام) সহোদর ভাই (বিনয়ামীন) কে নিজের কাছে রাখলেন এবং বললেন: আমিই তোমার আপন ভাই ইউসুফ, সুতরাং তারা আমার সাথে যে আচরণ করেছে সে জন্য দুঃখ করো না। আমি তোমাকে আমার নিকট রাখার জন্য চেষ্টা করছি অতঃপর পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক যখন ইউসুফ (عليه السلام) তাদের সামগ্রীর ব্যবস্থা করে দিলেন তখন সহোদর ভাইয়ের মালপত্রের মধ্যে পানপাত্রটি রেখে দেয়া হল। অতঃপর তারা যখন রওনা শুরু করল তখন এক আহ্বায়ক ঘোষণা দিয়ে বলল: হে যাত্রীদল! তোমরা চোর! এ চোর বলা সে ঘোষণাকারীর জন্য সত্য ছিল, কারণ সে এ পরিকল্পনার কথা জানত। একথা শুনে তারা জিজ্ঞেস করল যে, আপনাদের কী হারিয়েছে? তখন তারা বলল: রাজার পান-পাত্র হারিয়েছে। সে ঘোষক বলল: আমি এ কথার জামানত দিচ্ছি যে, তল্লাশি চালানোর পূর্বে যদি কেউ ওটা এনে দেয় তাহলে তাকে এক উট বোঝাই করা খাদ্য দেয়া হবে। ইউসুফ (عليه السلام) এর ভাইয়েরা যেহেতু এ পরিকল্পনা সস্পর্কে অবগত ছিল না তাই তারা আল্লাহ তা‘আলার শপথ করে বলল: আপনারা তো জানেন আমরা কোন অশান্তি সৃষ্টি করতে আসিনি এবং আমরা চুরিও করি না।
রাজ্যে প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী চুরির অপরাধে কাউকে আটক করে রাখার বিধান ছিল না। তাই চুক্তি করে নেয়ার দরকার ছিল। বিধায় রাজকর্মচারীরা বলল, যদি তোমরা মিথ্যাবাদী হও, তাহলে তার শাস্তি কী হবে? তারা বলল: যার পণ্যের মাঝে তা পাওয়া যাবে বিনিময়স্বরূপ তাকে রেখে দেয়া হবে।
কারণ ঐ সময়কার শরীয়তের অথবা রাষ্ট্রীয় বিধান ছিল, যদি কেউ চুরি করে তাহলে যার জিনিস চুরি করেছে চোরকে তার হাতে সঁপে দেয়া হত এবং তার গোলাম হিসেবে বিবেচিত হত। তখন ইউসুফ (عليه السلام) এর কর্মচারীরা তাদের মালপত্রে খোঁজাখুঁজি করতে লাগল, সবশেষে তাঁর সহোদর ভাইয়ের মালপত্রে তা পেয়ে গেল। এই কৌশল অবলম্বন করার জ্ঞান ইউসুফ (عليه السلام) ওয়াহী মারফত পেয়েছেন। এ থেকে বুঝা গেল যে, কোন সঠিক উদ্দেশ্য সাধনের জন্য এ ধরণের কৌশল অবলম্বন করা বৈধ।
বিনয়ামীন চোর হিসেবে প্রমাণিত হলে তাদের একজন বলল: সে চুরি করে থাকলে এটা আশ্চর্যের কোন বিষয় নয়, কারণ ইতোপূর্বে তার ভাই চুরি করেছিল। অর্থাৎ ইউসুফ (عليه السلام) ছোট বেলায় যখন ফুফুর সাথে থাকতেন, ফুফু ইউসুফকে নিজের কাছে রাখার জন্য যে চুরির ঘটনা সাজিয়েছিলেন সে ঘটনার দিকে ইঙ্গিত করছিল। যদিও তারা ভালভাবে জানত যে, উক্ত ঘটনা মিথ্যা সাজানো বিষয়। কিন্তু সেটাকে সত্যিকার চুরি বলে আখ্যায়িত করল বিনয়ামীনের প্রতি আক্রোশবশত। ইউসুফ (عليه السلام) তাদের এ কথা শুনে প্রতিবাদ করলেন না, বরং মনে মনে গোপন রাখলেন এবং ধৈর্য ধারণ করলেন।
চুক্তি মোতাবেক যখন বিন ইয়ামীনকে নিয়ে যেতে লাগলেন তখন তারা আপত্তি পেশ করল যে, হে আযীয! (এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল ইউসুফ (عليه السلام), কারণ তিনিই সব কিছুর মূল, মিসরের রাজা শুধু নামে ছিল) এর পিতা অতিশয় বৃদ্ধ সুতরাং আপনি তার স্থলে আমাদের একজনকে রেখে দিন।
পিতা তো বৃদ্ধই ছিলেন, কিন্তু এখানে তাদের মূল উদ্দেশ্য ছিল যেভাবেই হোক না কেন বিনয়ামীনকে মুক্ত করা। কারণ পিতার সাথে অঙ্গীকার করে এসেছে, বিনয়ামীনকে সাথে নিয়ে যেতে হবে। তাই তারা খুব কাকুতি-মিনতি করল। কিন্তু ইউসুফ (عليه السلام)-এর উদ্দেশ্যই ছিল যে, বিনয়ামীনকে নিজের কাছে রাখা, যার ফলে ইউসুফ (عليه السلام) তাদের প্রস্তাবকে অস্বীকার করলেন এবং বললেন: যে অপরাধী তাকে বাদ দিয়ে অন্যকে পাকড়াও করব এ কাজ থেকে আল্লাহ তা‘আলার কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। যখন ইউসুফ (عليه السلام) এর ভাইয়েরা তাদের নিকট থেকে বিনয়ামীনকে পাওয়ার ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে গেল তখন তারা সকল ভাইয়েরা মিলে পরামর্শ করতে লাগল; এমনকি তাদের মধ্যে যে বয়সে বড় সে বলল: তোমরা কি জান না, তোমাদের পিতা আল্লাহ তা‘আলার নামে অঙ্গীকার নিয়েছেন এবং পূর্বেও ইউসুফের ব্যাপারে এরূপ করেছ? সুতরাং আমাকে আমার পিতা অনুমতি না দেয়া পর্যন্ত আমি এ দেশ ছাড়ব না। অথবা যতক্ষণ পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা আমার ব্যাপারে কোন সিদ্ধান্ত না দেন। সুতরাং তোমরা তোমাদের পিতার নিকট ফিরে যাও এবং তাকে প্রকৃত ঘটনা খুলে বল যে, বিনয়ামীন চুরি করবে তা কে জানত? যদি আপনার এ কথা বিশ্বাস না হয় তাহলে আমরা যে জনপদে ছিলাম তার অধিবাসীদেরকে জিজ্ঞেস করুন অথবা আমরা যে যাত্রীদের সাথে এসেছিলাম তাদের কাছে জিজ্ঞেস করুন। আর আমরা এ ব্যাপারে সত্যবাদী। তখন ইয়া‘কূব (عليه السلام) পূর্বে ইউসুফ (عليه السلام) কে হারিয়ে যে কথা বলেছিলেন সে কথাই বললেন যে, এটা তোমাদের সাজানো কাহিনী। সুতরাং তিনি তাদের এ কথা বিশ্বাস করলেন না বরং তিনি পূর্বের মতই ধৈর্য ধারণ করলেন এবং তাদের থেকে মুখ ফিরিয়ে নিলেন ও ইউসুফ (عليه السلام) এর জন্য আফসোস করলেন। তাঁর এই নতুন ছেলের শোক তাঁকে পুরাতন শোকের কথা স্মরণ করিয়ে দিল, যার ফলে তিনি সম্পূর্ণ ভেঙ্গে পড়লেন। ইয়া‘কূব (عليه السلام) এর এই ভেঙ্গে পড়া দেখে তাঁর ছেলেরা চিন্তা করতে নিষেধ করল। তখন ইয়া‘কূব (عليه السلام) বললেন: আমি আমার এসব নিবেদন আল্লাহ তা‘আলার নিকট করছি। সুতরাং ইয়া‘কূব (عليه السلام) তাঁর এসব বিষয়ে আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করলেন, ধৈর্য ধারণ করলেন এবং বললেন: আমি আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে এমন বিষয় জানি যা তোমরা জান না। সুতরাং হে আমার ছেলেরা! তোমরা যাও এবং ইউসুফ ও তাঁর সহোদর ভাইকে খোঁজ কর, আর তোমরা আল্লাহ তা‘আলার রহমত থেকে নিরাশ হয়ো না। কারণ কাফির ব্যতীত কেউ আল্লাহ তা‘আলার রহমত থেকে নিরাশ হয় না। এটা মু’মিনের একটি দৃষ্টান্ত। হাদীসে এসেছে রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: অন্যতম একটি কবীরাহ গুনাহ হল আল্লাহ তা‘আলার রহমত থেকে নিরাশ হওয়া। সূরা হিজরে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَمَنْ يَّقْنَطُ مِنْ رَّحْمَةِ رَبِّهِ إِلَّا الضَّا۬لُّوْنَ)
“কেবল পথভ্রষ্ট লোকেরাই আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হয়।” (সূরা হিজর ১৫:৫৬)
সুতরাং কোন কঠিন মুহূর্তে পতিত হলে বা কোন বড় ধরণের গুনাহর কাজ করে ফেললে আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ হওয়া যাবে না, বরং কঠিন মুহূর্তে ধৈর্যের সাথে আল্লাহর রহমতের আশা করতে হবে এবং কোন গুনাহ হয়ে গেলে তাওবাহ করে আল্লাহর ক্ষমার আশা রাখতে হবে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার নাম ব্যতীত অন্য কারো নামে শপথ করা নিষেধ, কারণ আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত কোন ব্যক্তি, বস্তুর নামে শপথ করা, কসম খাওয়া শির্ক যা হারাম।
২. কোন বিষয়ে কাজ করতে গেলে আল্লাহ তা‘আলার ওপর আস্থা রাখা আবশ্যক।
৩. যত বড় বিপদই হোক না কেন নিরাশ হওয়া যাবে না।
৪. শরীয়ত সমর্থিত পন্থায় কৌশল অবলম্বন করা বৈধ। যেমন ইউসুফ (عليه السلام) তাঁর ভাইকে নিজের নিকট রাখার জন্য কৌশল অবলম্বন করেছিলেন।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৭৮-৭৯ নং আয়াতের তাফসীর
যখন বিনইয়ামীনের মালপত্র হতে শাহী পানপাত্র বের হলো তখন ভাইদের ফায়সালা অনুসারে তাঁকে শাহী বন্দীরূপে গণ্য করা হলো। তারা মিসরের আযীযকে (হযরত ইউসুফকে (আঃ)) সুপারিশ করে এবং করুণা আকর্ষণ করে বললেনঃ “দেখুন! আমার এ ভাইটি আমাদের পিতার অত্যন্ত প্রিয়পাত্র। তিনি এখন অত্যন্ত দুর্বল ও বৃদ্ধ হয়ে পড়েছেন। এর এক সহোদর ভাই ইতিপূর্বে হারিয়ে গেছে, যার কারণে তিনি পূর্ব হতেই শোকার্ত রয়েছেন। এখন এই খবর শুনলেই আমরা আশঙ্কা করছি যে, তিনি শোকে দুঃখে অত্যন্ত কাতর হয়ে পড়বেন। এমনকি তিনি প্রাণেই বাঁচেন কিনা সন্দেহ আছে। সুতরাং মেহেরবাণী করে আমাদের একজনকে তার স্থলে রেখে দিন এবং তাকে ছেড়ে দিন। আপনি একজন মহানুভব ব্যক্তি। কাজেই দয়া করে আমাদের এই আবেদন মঞ্জুর করুন।” হযরত ইউসুফ (আঃ) উত্তরে বললেনঃ “কি করে আমার দ্বারা এটা সম্ভব হতে পারে? এটা তো বড়ই অন্যায় ও অত্যাচারমূলক কাজ যে, পাপ করবে একজন আর ধরা হবে অন্যকে! চুরি করবে একজন, আর বন্দী হবে অন্যজন। চোরকেই বন্দী করা হবে, বাদশাহকে নয়। নিস্পাপ ব্যক্তিকে শাস্তি দেয়া এবং পাপীকে ছেড়ে দেয়া প্রকাশ্যভাবে অবিচার ও অন্যায়।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।