সূরা ইউসুফ (আয়াত: 4)
হরকত ছাড়া:
إذ قال يوسف لأبيه يا أبت إني رأيت أحد عشر كوكبا والشمس والقمر رأيتهم لي ساجدين ﴿٤﴾
হরকত সহ:
اِذْ قَالَ یُوْسُفُ لِاَبِیْهِ یٰۤاَبَتِ اِنِّیْ رَاَیْتُ اَحَدَعَشَرَ کَوْکَبًا وَّ الشَّمْسَ وَ الْقَمَرَ رَاَیْتُهُمْ لِیْ سٰجِدِیْنَ ﴿۴﴾
উচ্চারণ: ইয কা-লা ইঊছুফুলিআবীহি ইয়াআবাতি ইন্নী রাআইতু আহাদা ‘আশারা কাওকাবাওঁ ওয়াশশামছা ওয়াল কামারা রাআইতুহুম লী ছা-জিদীন।
আল বায়ান: যখন ইউসুফ তার পিতাকে বলল, ‘হে আমার পিতা, আমি দেখেছি এগারটি নক্ষত্র, সূর্য ও চাঁদকে, আমি দেখেছি তাদেরকে আমার প্রতি সিজদাবনত অবস্থায়’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪. স্মরণ করুন, যখন ইউসুফ তার পিতাকে বলেছিলেন, হে আমার পিতা! আমি তো দেখেছি এগার নক্ষত্র, সূর্য এবং চাঁদকে, দেখেছি তাদেরকে আমার প্রতি সিজদাবনত অবস্থায়।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: স্মরণ কর, ইউসুফ যখন তার পিতাকে বলেছিল, ‘হে আব্বাজান! আমি (স্বপ্নে) দেখেছি এগারটি তারকা আর সূর্য ও চন্দ্র; দেখলাম তারা আমাকে সাজদাহ করছে।’
আহসানুল বায়ান: (৪) যখন ইউসুফ[1] তার পিতাকে বলল, ‘হে আমার পিতা! আমি (স্বপ্নে) এগারটি নক্ষত্র, সূর্য এবং চন্দ্র দেখলাম;[2] দেখলাম ওরা আমাকে সিজদাহ করছে।’
মুজিবুর রহমান: যখন ইউসুফ তার পিতাকে বললঃ হে পিতা! আমি এগারটি নক্ষত্র, সূর্য এবং চাঁদকে দেখেছি - দেখেছি ওদেরকে আমার প্রতি সাজদাহবনত অবস্থায়।
ফযলুর রহমান: (স্মরণ করো) যখন ইউসুফ তার বাবাকে বলল, “বাবা! আমি (স্বপ্নে) এগারটি তারকা এবং চনদ্র ও সূর্যকে দেখেছি। দেখলাম, তারা আমাকে সেজদা করছে।”
মুহিউদ্দিন খান: যখন ইউসুফ পিতাকে বললঃ পিতা, আমি স্বপ্নে দেখেছি এগারটি নক্ষত্রকে। সুর্যকে এবং চন্দ্রকে। আমি তাদেরকে আমার উদ্দেশে সেজদা করতে দেখেছি।
জহুরুল হক: স্মরণ করো! ইউসুফ তাঁর পিতাকে বললেন -- "হে আমার আব্বা! আমি নিশ্চয়ই দেখলাম এগারোটি তারা আর সূর্য ও চন্দ্র -- তাদের দেখলাম আমার কারণে তারা সিজদারত।"
Sahih International: [Of these stories mention] when Joseph said to his father, "O my father, indeed I have seen [in a dream] eleven stars and the sun and the moon; I saw them prostrating to me."
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪. স্মরণ করুন, যখন ইউসুফ তার পিতাকে বলেছিলেন, হে আমার পিতা! আমি তো দেখেছি এগার নক্ষত্র, সূর্য এবং চাঁদকে, দেখেছি তাদেরকে আমার প্রতি সিজদাবনত অবস্থায়।(১)
তাফসীর:
(১) ইউসুফ আলাইহিস সালাম সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ”কারীম ইবনে করীম ইবনে কারীম ইবনে কারীম হল ইউসুফ ইবনে ইয়াকুব ইবনে ইসহাক ইবনে ইবরাহীম আলাইহিমুস সালাম। অর্থাৎ চার পুরুষ ধরে সম্মানিত হচ্ছেন ইউসুফ আলাইহিস সালাম। [বুখারীঃ ৩৩৯০, ৪৬৮৮] অপর এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-কে প্রশ্ন করা হয়েছিল যে, সবচেয়ে সম্মানিত কে? তিনি বললেনঃ তাদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত হল যে বেশী তাকওয়ার অধিকারী। লোকেরা বললঃ আমরা এ ব্যাপারে প্রশ্ন করছি না, তখন তিনি বললেনঃ তাহলে সবচেয়ে সম্মানিত হলেন আল্লাহর নবী ইউসুফ। তার পিতা একজন নবী ছিলেন, আর তার দাদাও একজন নবী, যেমনিভাবে তার পরদাদাও নবী। [বুখারী ৩৩৫০, মুসলিমঃ ২৩৭৮]
ইউসুফ আলাইহিস সালাম তার পিতাকে বললেনঃ পিতা! আমি স্বপ্নে এগারটি নক্ষত্র এবং সূর্য ও চন্দ্রকে দেখেছি। আরো দেখেছি যে, তারা আমাকে সিজদা করছে। এটা ছিল ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর স্বপ্ন। এর ব্যাখ্যা প্রসঙ্গে আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা বলেনঃ এগারটি নক্ষত্রের অর্থ হচ্ছে ইউসুফ আলাইহিস সালাম-এর এগার ভাই, সূর্য ও চন্দ্রের অর্থ পিতা ও মাতা। তিনি আরো বলেনঃ নবীদের স্বপ্ন ছিল ওহীর নামান্তর। [তাবারী; ইবন কাসীর] হাদীসে এসেছে, ‘নেক স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ থেকে, আর খারাপ স্বপ্ন শয়তানের পক্ষ থেকে। সুতরাং তোমাদের কেউ যখন কোন খারাপ স্বপ্ন দেখবে তখন সে যেন তা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চায় এবং তার বাম দিকে থুথু ফেলে। ফলে সেটা তার কোন ক্ষতি করতে পারবে না। [বুখারী: ৬৯৮৬]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪) যখন ইউসুফ[1] তার পিতাকে বলল, ‘হে আমার পিতা! আমি (স্বপ্নে) এগারটি নক্ষত্র, সূর্য এবং চন্দ্র দেখলাম;[2] দেখলাম ওরা আমাকে সিজদাহ করছে।’
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ হে মুহাম্মাদ! তোমার সম্প্রদায়ের নিকট ইউসুফ (আঃ)-এর ঘটনা বর্ণনা কর, যখন সে তার পিতাকে বলল---। ইউসুফ (আঃ)-এর পিতা ছিলেন ইয়াকূব (আঃ); যেমন অন্য জায়গায় স্পষ্টভাবে তা উল্লিখিত হয়েছে। আর হাদীসেও উক্ত সম্পর্ক বর্ণনা করা হয়েছে, কারীম (সম্মানিত) বিন কারীম বিন কারীম, ইউসুফ বিন ইয়াকূব বিন ইবরাহীম (আলাইহিমুস সালাম)। (আহমাদ ২/৯৬)
[2] কোন কোন তফসীরবিদ বলেছেন যে, এগারটি নক্ষত্র থেকে উদ্দেশ্য হল, ইউসুফ (আঃ)-এর এগার ভাই। আর চাঁদ ও সূর্য থেকে উদ্দেশ্য হল, তাঁর পিতা-মাতা। এ স্বপ্নের তা’বীর (ব্যাখ্যা) ৪০ অথবা ৮০ বছর পর যখন তাঁর পিতা-মাতা সহ সমস্ত ভায়েরা মিসরে গিয়ে তাঁর সামনে সিজদাবনত হয়েছিলেন, তখন বাস্তব রূপ পেয়েছিল। যেমন এ কথা সূরার শেষের দিকে (১০০নং আয়াতে) আসবে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪-৬ নং আয়াতের তাফসীর:
ইউসুফ (عليه السلام) তাঁর পিতা ইয়া‘কূব (عليه السلام)-কে বললেন, হে আমার পিতা! আমি স্বপ্নে দেখেছি এগারটি তারকা আমাকে সিজদা করছে এবং চন্দ্র, সূর্যও সিজদা করছে।
ইবনু আব্বাস ও কাতাদাহ বলেন: এগারটি নক্ষত্র দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে ইউসুফ (عليه السلام) এর এগার ভাই এবং সূর্য ও চন্দ্র দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে ইউসুফ (عليه السلام)-এর মাতা-পিতা। (কুরতুবী, তাফসীর সাদী, অত্র আয়াতের তাফসীর) বস্তুতঃ এ স্বপ্নের ব্যাখ্যা বাস্তবায়িত হয় যখন ইউসুফ (عليه السلام)-এর পিতা-মাতাসহ সব ভায়েরা মিসরে গিয়ে তাঁর সামনে সিজদাবনত হয়। যা অত্র সূরার ৯৯-১০০ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য যে, স্বপ্ন ব্যাখ্যা করা জ্ঞানের অন্যতম একটি শাখা। ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়া‘কূব (عليه السلام) সকলে এ বিষয়ে পারদর্শী ছিলেন। ইউসুফ (عليه السلام) কেও আল্লাহ তা‘আলা স্বপ্ন ব্যাখ্যা করার জ্ঞান দান করেছিলেন। যা ৬ নং আয়াতে উল্লেখ রয়েছে।
ইউসুফ (عليه السلام)-এর স্বপ্নের কথা শুনে ইয়া‘কূব (عليه السلام) বুঝতে পারলেন যে, তাঁর এই পুত্র মহা সম্মানের অধিকারী হবে এবং নবুওয়াতের ধারা তাঁর কাছে পৌঁছবে। তাই তিনি ইউসুফ (عليه السلام) কে এই স্বপ্নের কথা তাঁর ভাইদের কাছে প্রকাশ করতে নিষেধ করলেন। কারণ তাঁর ভাইয়েরা যখন এ স্বপ্নের কথা শুনবে তখন তারা এ মর্যাদার কথা বুঝতে পারবে। আর এ মর্যাদার কথা বুঝতে পেরে ইউসুফ (عليه السلام) এর কোন ক্ষতি সাধন করতে পারে, যার ফলে তিনি এ স্বপ্ন প্রকাশ করতে নিষেধ করলেন।
এ আয়াত প্রমাণ করে স্বপ্নের কথা সকলের কাছে বলা যাবে না, কেবল যাকে নিজের কল্যাণকামী বা একনিষ্ঠ মনে হবে তাদের কাছেই বলা উচিত। হাদীসে এসেছে: ভাল স্বপ্ন আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে, যখন তোমাদের কেউ ভাল স্বপ্ন দেখবে তখন যেন তার প্রিয় ব্যক্তি ছাড়া অন্য কারো কাছে না বলে। অন্য বর্ণনায় এসেছে, জ্ঞানী অথবা কল্যাণকামীর কাছে বলবে। আর যদি অপছন্দনীয় কিছু দেখে তাহলে তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহ তা‘আলার কাছে আশ্রয় চাইবে, তিন বার থুথু ফেলবে। অন্য বর্ণনাতে পার্শ্ব পরিবর্তন করে বাম দিকে শয়নের কথা বলা হয়েছে। এবং তা কারো কাছে বর্ণনা করবে না, এতে তা সে ব্যক্তির ক্ষতি করবে না। (সহীহ বুখারী হা: ৭০৪৪, সহীহ মুসলিম হা: ২২৬১)
ইউসুফ (عليه السلام) কে পিতা তাঁর ভাইদের ষড়যন্ত্রের কারণও বলে দিলেন যে, শয়তান যেহেতু মানুষের চিরশত্র“ সেহেতু সে মানুষকে ভ্রষ্ট ও হিংসা-বিদ্বেষে নিমজ্জিত করার সুযোগ খোঁজে। বলা বাহুল্য, এটা শয়তানের জন্য একটি সুবর্ণ সুযোগ ছিল যে, ইউসুফ (عليه السلام) এর বিরুদ্ধে ভাইদের মনে হিংসা বিদ্বেষের আগুন জ্বালিয়ে দেয়া। যেমন পরবর্তী জীবনে ইউসুফ (عليه السلام) তার ভাইদের চক্রান্তের শিকার হয়েছিলেন।
ইউসুফ (عليه السلام) এর স্বপ্নের মর্মার্থ বুঝতে পেরে ইয়া‘কূব (عليه السلام) আরো বললেন, তোমার পিতৃপুরুষ ইবরাহীম, ইসহাক ও ইয়া‘কূবকে যেভাবে নবুওয়াতের জন্য মনোনীত করেছেন, স্বপ্ন ব্যাখ্যার জ্ঞান দান করেছেন এবং নেয়ামত দিয়েছেন সেভাবেই তোমার প্রতিপালক তোমাকে নবুওয়াতের জন্য মনোনীত করবেন, স্বপ্ন ব্যাখ্যার জ্ঞান দান করবেন এবং নেয়ামতকে পূর্ণ করবেন। মূলতঃ অত্র আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা ইউসুফ (عليه السلام) কে তিনটি নেয়ামতের সুসংবাদ দিয়েছেন (১) আল্লাহ তা‘আলা তাকে নাবী হিসেবে মনোনীত করবেন, (২) স্বপ্ন ব্যাখ্যা করার জ্ঞান দান করবেন, (৩) তার প্রতি স্বীয় নেয়ামত পূর্ণ করবেন। ফলে ইউসুফ (عليه السلام) স্বপ্নের ব্যাখ্যায় পারদর্শী ছিলেন, যেমন মিসরের বাদশার স্বপ্নের ব্যাখ্যা করে দিয়েছিলেন যা অত্র সূরার ৪১ ও ৪৭-৪৯ নং আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। আর এখানে যে নেয়ামতের কথা বলা হয়েছে তা দ্বারা দুটি উদ্দেশ্য হতে পারে (১) নবুওয়াত যা ইউসুফ (عليه السلام)-কে প্রদান করা হয়েছিল; যেমন আয়াতের পরের অংশ প্রমাণ করছে যে, ‘যেভাবে তিনি এটা পূর্বে পূর্ণ করেছিলেন তোমার পিতৃ-পুরুষ ইব্রাহীম ও ইস্হাকের প্রতি’ তাদের প্রতি যে নেয়ামত পরিপূর্ণ করে দেয়া হয়েছিল তা হল নবুওয়াত। (২) সেই নেয়ামতসমূহ যা ইউসুফ (عليه السلام)-কে মিসরে প্রদান করা হয়েছিল। আল্লাহ তা‘আলাই এ ব্যাপারে ভাল জানেন।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. পিতা সন্তানদের লালন-পালন করবেন, সন্তানদের মধ্য হতে যার মাঝে জ্ঞান, বুদ্ধিমত্তা ও বুঝার যোগ্যতা অনুভব করবেন তার ব্যাপারে বিশেষ গুরুত্বারোপ করবেন।
২. সত্য স্বপ্ন আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে। ইউসুফ (عليه السلام) সত্য স্বপ্ন দেখেছেন, ফলে তাঁর পিতা স্বপ্নের কথা ভাইদের কাছে বর্ণনা করতে নিষেধ করেছেন। ভাল স্বপ্ন প্রিয় মানুষের কাছে প্রকাশ করা যাবে, তবে মন্দ স্বপ্ন প্রকাশ করা ঠিক নয়।
৩. আল্লাহ তা‘আলা ইউসুফ (عليه السلام)-কে স্বপ্নের সঠিক ব্যাখ্যা শিক্ষা দিয়েছিলেন।
৪. কল্যাণার্থে নেয়ামত প্রকাশ না করে গোপন রাখা বৈধ। এজন্য ইউসুফ (عليه السلام) এর পিতা স্বপ্নের কথা কাউকে বলতে নিষেধ করেছেন। অথচ এখানে স্বপ্ন একটি নেয়ামত ছিল।
৫. শয়তান সহোদর ভাইদের মাঝেও প্রবেশ করে তাদের অন্তরে পরস্পরের প্রতি বিদ্বেষ সৃষ্টি করতে পারে, ফলে ভাইরা পরস্পরের প্রতি দয়াদ্র হওয়া সত্ত্বেও শত্র“তে পরিণত হয়।
৬. কেউ কারো কাছে স্বপ্নের কথা বললে উত্তম দিকনির্দেশনা দেয়া উচিত।
৭. পিতা সব সন্তানদের প্রতি ন্যায়-নীতি অবলম্বন করবেন, যদিও কোন সন্তানকে অধিক পরিমাণ গুরুত্ব দেয়ার প্রয়োজন হয় তাহলে তা পিতা প্রকাশ করবেন না। কারণ ভাইদের মাঝে বিদ্বেষের কারণ হতে পারে।
৮. একটি উত্তম পরিবার থেকে উত্তম সন্তানের আশা করা যায়। যেমন পিতা ইয়া‘কূব তেমনি সন্তান ইউসুফ (عليه السلام)।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ ‘হে মুহাম্মদ (সঃ)! তোমার কওমের কাছে ইউসুফের (আঃ) কাহিনীটি বর্ণনা কর।' হযরত ইউসুফের (আঃ) পিতা হচ্ছেন ইয়াকুব ইবনু ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (আঃ)। যেমন মুসনাদে আহমদে ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “কারীম ইবনু কারীম ইবনু কারীম ইবনু কারীম ইউসুফ ইবনু ইয়াকুব ইবনু ইসহাক ইবনু ইবরাহীম (আঃ)।”
হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহকে (সঃ) জিজ্ঞেস করা হয়ঃ “লোকদের মধ্যে সবচেয়ে সম্মানিত কে?” তিনি উত্তরে বলেনঃ “তাদের মধ্যে ঐ ব্যক্তি হচ্ছে সবচেয়ে বেশি সম্মানিত, যার অন্তরে আল্লাহর ভয় সবচেয়ে বেশি আছে।” সাহাবীগণ বললেনঃ “আমরা আপনাকে এটা জিজ্ঞেস করছি না।” তিনি বললেনঃ “তাহলে মানুষের মধ্যে সর্বাপেক্ষা সম্মানিত ব্যক্তি হচ্ছেন আল্লাহর নবী হযরত ইউসুফ (আঃ) যিনি নিজেও ছিলেন নবী, পিতাও ছিলেন নবী, পিতামহও ছিলেন নবী এবং প্রপিতামহও ছিলেন আল্লাহর নবী ও তাঁর খলীল বা দোস্ত।” তাঁরা এবারও বললেনঃ “আমরা এটাও জিজ্ঞেস করি নাই।” তিনি তখন তাদেরকে প্রশ্ন করলেনঃ “তা হলে কি তোমরা আমাকে আরবের গোত্রগুলি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছো?” তারা জবাবে বললেনঃ “জ্বি, হ্যাঁ।' তিনি বললেনঃ “তা হলে জেনে রেখোঁরেখো যে, তোমাদের মধ্যে অজ্ঞতার যুগে যারা ভাল ও ভদ্র ছিল, ইসলাম গ্রহণের পরেও তারা ভাল ও সম্ভান্তই থাকবে যদি তারা বোধশক্তি লাভ করে।” (এ হাদীসটি ইমাম বুখারী (রঃ) স্বীয় 'সহীহ' গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন যে, নবীদের স্বপ্ন আল্লাহ তাআ’লার ওয়াহী হয়ে থাকে। তাফসীরকারকগণ বলেছেন যে, এখানে এগারোটি নক্ষত্র দ্বারা হযরত ইউসুফের (আঃ) এগারোটি ভাইকে বুঝানো হয়েছে। আর সুর্য ও চন্দ্র দ্বারা উদ্দেশ্য হচ্ছে তাঁর পিতা ও মাতা। এই স্বপ্নের ব্যাখ্যা স্বপ্ন দেখার চল্লিশ বছর পর প্রকাশ পায়। আবার কেউ কেউ বলেন যে, ব্যাখ্যা প্রকাশ পায় আশি বছর পর, যখন তিনি তাঁর পিতা মাতাকে রাজ-সিংহাসনে বসান এবং তাঁর এগারোটি ভাই তার সামনে সিজদাবনত হয়। ঐ সময় তিনি বলেনঃ “হে পিতঃ! এটাই আমার পূর্বেকার স্বপ্নের ব্যাখ্যা, আমার প্রতিপালক ওটা সত্যে পরিণত করেছেন।”
হযরত জা’বির (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, ইয়াহুদীদের মধ্যে বুসতানা’ নামক একজন বিখ্যাত আলেম ছিলেন। তিনি নবীর (সঃ) নিকট এসে বলেনঃ “হে মুহাম্মদ (সঃ)! যে এগারটি নক্ষত্র হযরত ইউসুফকে (আঃ) সিজদা করেছিল ওগুলির নাম আমাকে বলে দিন।” বর্ণনাকারী বলেন যে, তাঁর একথা শুনে নবী (সঃ) কিছুক্ষণ নীরব থাকেন। তখন হযরত জিবরাঈল (আঃ) আকাশ হতে অবতরণ করে তাঁকে তারকা গুলির নাম বলে দেন। রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন ঐ লোকটিকে ডেকে বলেনঃ “তারকাগুলির নাম তোমাকে বলে দিলে তুমি ঈমান আনবে তো?” তিনি উত্তরে বলেনঃ “হ্যাঁ, নিশ্চয়।” নবী (সঃ) বললেনঃ “ওগুলির নাম হচ্ছেঃ (১) জিরইয়ান, (২) তা’রিক, (৩) দিয়াল, (৪) যুল কানফাত, (৫) কা’বিস, (৬) অসাব, (৭) আমূদান, (৮) ফালীক, (৯) মিসবাহ, (১০) যরূহ এবং (১১) ফারাগ।” তখন ইয়াহূদী আ’লেমটি বলে উঠলেনঃ “আল্লাহর শপথ! ঐ নক্ষত্রগুলির এই নামই বটে। (এ হাদীসটি ইমাম আবু জাফর ইবনু জারীর (রাঃ) বর্ণনা করেছেন। এই রিওয়াইয়াতটি দালায়েলে বায়হাকী, মুসনাদে আবি ইয়ালা, মুসনাদে বাযযার এবং তাফসীরে আবি হা’তিমেও রয়েছে)
আর একটি রিওয়াইয়াতে রয়েছে যে, হযরত ইউসুফ (আঃ) যখন তাঁর স্বপ্নের কথা তাঁর পিতার নিকট বর্ণনা করেন তখন তাঁর পিতা হযরত ইয়াকুব (আঃ) তাঁকে বলেনঃ এটা সত্য স্বপ্ন। পরবর্তীকালে আল্লাহ এটা পূর্ণ করে দেখাবেন। তিনি বলেন যে, সুর্য দ্বারা তাঁর পিতা এবং চন্দ্র দ্বারা তাঁর মাতাকে বুঝানো হয়েছে। (এ রিওয়াইয়াতটি মুসনাদে আবি ইয়ালায় রয়েছে। কিন্তু এই রিওয়াইতের সনদে হাকীম ইবনু যাহীর ফাযারী একাকী রয়েছেন, যাকে কতিপয় ইমাম দুর্বল বলেছেন। আর অধিকাংশই তাকে পরিত্যাগ করেছেন। হুসনে ইউসুফের বর্ণনাকারী ইনিই। চারজন শায়েখই তাকে দুর্বল বলেছেন)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।