সূরা ইউসুফ (আয়াত: 22)
হরকত ছাড়া:
ولما بلغ أشده آتيناه حكما وعلما وكذلك نجزي المحسنين ﴿٢٢﴾
হরকত সহ:
وَ لَمَّا بَلَغَ اَشُدَّهٗۤ اٰتَیْنٰهُ حُکْمًا وَّ عِلْمًا ؕ وَ کَذٰلِکَ نَجْزِی الْمُحْسِنِیْنَ ﴿۲۲﴾
উচ্চারণ: ওয়া লাম্মা-বালাগা আশুদ্দাহূআ-তাইনা-হু হুকমাওঁ ওয়া ‘ইলমাওঁ ওয়া কাযা-লিকা নাজযিল মুহছিনীন।
আল বায়ান: আর সে যখন পূর্ণ যৌবনে উপনীত হল, আমি তাকে হিকমত ও জ্ঞান দান করলাম এবং এভাবেই আমি ইহসানকারীদের প্রতিদান দিয়ে থাকি।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ২২. আর সে যখন পূর্ণ যৌবনে উপনীত হল তখন আমরা তাকে হিকমত ও জ্ঞান দান করলাম(১)। আর এভাবেই আমরা ইহসানকারীদের পুরস্কৃত করি।(২)
তাইসীরুল ক্বুরআন: যখন সে তার পরিপূর্ণ যৌবনে পৌঁছল, তখন তাকে বিচার-বুদ্ধি ও জ্ঞান দান করলাম, আমি সৎকর্মশীলদেরকে এভাবেই প্রতিদান দিয়ে থাকি।
আহসানুল বায়ান: (২২) সে যখন পূর্ণ যৌবনে উপনীত হল, তখন আমি তাকে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করলাম।[1] আর এভাবেই আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি।
মুজিবুর রহমান: সে যখন পূর্ণ যৌবনে উপনীত হল তখন আমি তাকে হিকমাত ও জ্ঞান দান করলাম, এবং এভাবেই আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কৃত করি।
ফযলুর রহমান: ইউসুফ যখন যৌবনে উপনীত হয়, তখন আমি তাকে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করি। এভাবেই আমি সৎকর্মশীলদের পুরস্কৃত করি।
মুহিউদ্দিন খান: যখন সে পূর্ণ যৌবনে পৌছে গেল, তখন তাকে প্রজ্ঞা ও ব্যুৎপত্তি দান করলাম। এমননিভাবে আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে প্রতিদান দেই।
জহুরুল হক: আর যখন তিনি তাঁর পূর্ণ যৌবনে পৌঁছুলেন, আমরা তাঁকে বুদ্ধি ও বিদ্যা দান করলাম। আর এইভাবে আমরা সৎকর্মশীলদের পুরস্কার প্রদান করি।
Sahih International: And when Joseph reached maturity, We gave him judgment and knowledge. And thus We reward the doers of good.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ২২. আর সে যখন পূর্ণ যৌবনে উপনীত হল তখন আমরা তাকে হিকমত ও জ্ঞান দান করলাম(১)। আর এভাবেই আমরা ইহসানকারীদের পুরস্কৃত করি।(২)
তাফসীর:
(১) অর্থাৎ যখন ইউসুফ আলাইহিস সালাম পূর্ণ শক্তি ও যৌবনে পদার্পণ করলেন, তখন আমি তাকে প্রজ্ঞা ও বুৎপত্তি দান করলাম। শক্তি ও যৌবন কোন বয়সে অর্জিত হল, এ সম্পর্কে তাফসীরবিদগণের বিভিন্ন উক্তি রয়েছে। আর ইলম বা বুৎপত্তি দান করার অর্থ এস্থলে নবুওয়াত দান করা। [ইবন কাসীর] মূলতঃ কুরআনের ভাষায় সাধারণভাবে এমন শব্দের মানে হয় “নবুওয়াত দান করা”। ফায়সালা করার শক্তিকে কুরআনের মূল ভাষ্যে বলা হয়েছে “হুকুম”। এ হুকুম অর্থ কর্তৃত্বও হয়। [কুরতুবী]
(২) আমি ইহসানকারীদেরকে এমনিভাবে প্রতিদান দিয়ে থাকি। উদ্দেশ্য এই যে, নিশ্চিত ধ্বংসের কবল থেকে মুক্তি দিয়ে রাজত্ব ও সম্মান পর্যন্ত পৌছানো ছিল ইউসুফ 'আলাইহিস সালাম-এর সদাচরণ, আল্লাহ ভীতি ও সৎকর্মের পরিণতি। এটা শুধু তারই বৈশিষ্ট নয়, যে কেউ এমন সৎকর্ম করবে, সে এমনিভাবে আমার পুরস্কার লাভ করবে। সুতরাং যেভাবে আমি ইউসুফকে বিভিন্ন ঘাত-প্রতিঘাত পার করে সফলতা দিয়েছি তেমনি আপনাকেও হে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম! আমি আপনার কাওমের মুশরিকদের শক্রতা থেকে নাজাত দেব এবং আপনাকে যমীনে প্রতিষ্ঠিত করব। [কুরতুবী]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (২২) সে যখন পূর্ণ যৌবনে উপনীত হল, তখন আমি তাকে প্রজ্ঞা ও জ্ঞান দান করলাম।[1] আর এভাবেই আমি সৎকর্মপরায়ণদেরকে পুরস্কৃত করে থাকি।
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, নবুঅত অথবা নবী হওয়ার পূর্বের জ্ঞান ও বিচার ক্ষমতা।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৯-২২ নং আয়াতের তাফসীর:
সিরিয়া থেকে মিসরে যাওয়ার পথে একটি ব্যবসায়ী কাফেলা পথ ভুল করে জঙ্গলের মধ্যে উক্ত পরিত্যক্ত কূপের নিকটে এসে তাঁবু ফেলে। (কুরতুবী, আল বিদায়াহ ১/১৮৯) তারা পানির সন্ধানে কূপে বালতি নিক্ষেপ করল। وَارِدٌ বলা হয় কাফেলার সে ব্যক্তিদেরকে যারা যাত্রীদের পানি ইত্যাদি ব্যবস্থাপনার উদ্দেশ্যে কাফেলার আগে আগে চলে। বালতির রশি ধরে ইউসুফ (عليه السلام) উপরে উঠে এলেন। কাফেলার সবাই এরূপ এক সুদর্শন বালক দেখে আনন্দে আত্মহারা হয়ে বলে উঠল যে, কী সুখবর! এ যে এক গোলাম বা সুদর্শন বালক। রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) মিরাজের রাতে ইউসুফ (عليه السلام) কে দেখে বলেছিলেন:
قَدْ اُعْطِيَ شَطْرَ الْحُسْنِ
তাঁকে অর্ধেক সৌন্দর্য দেয়া হয়েছে। (সহীহ মুসলিম হা: ২৪৯)
বিষয়টি একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা মনে হলেও সবকিছুই ছিল আল্লাহর পূর্ব পরিকল্পিত। ইউসুফ (عليه السلام) কে উদ্ধার করার জন্যই আল্লাহ উক্ত কাফেলাকে তারেদ ভুলক্রমে এখানে এনেছেন। আবূ বকর ইবনু আইয়াশ বলেন: ইউসুফ (عليه السلام) তিনদিন কূপের মধ্যে ছিলেন। (তাফসীর ইবনে কাসীর, অত্র আয়াতের তাফসীর)
بِضَاعَةً অর্থ বাণিজ্যিক পণ্য, وَأَسَرُّوْهُ অর্থ তারা তাকে লুকিয়ে ফেলল, অর্থাৎ বাণিজ্যিক পণ্য হিসেবে ইউসুফ (عليه السلام) কে তারা লুকিয়ে ফেলল। কিন্তু কারা লুকিয়ে ফেলল? এ নিয়ে দুটি মত পাওয়া যায় (১) মুজাহিদ, সুদ্দী ও ইবনু জারীর বলেন, পানি সংগ্রহকারীরা লুকিয়ে রেখেছিল যাতে কাফেলার সবাই জানতে না পারে, কারণ জানতে পারলে সবাই শরীক দাবী করবে। কাফেলার লোক জিজ্ঞেস করলে বলব: কূপের মালিক আমাদের কাছে হস্তান্তর করেছে যাতে মিসরে নিয়ে বিক্রি করে দিই। (২) ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন, ইউসুফ (عليه السلام) এর ভাইয়েরা ভ্রাতৃত্ব সম্পর্ক লুকিয়ে রেখেছিল আর ইউসুফ (عليه السلام) নিজেও তার বিষয়টি গোপন রেখেছিলেন এ ভয়ে যে, হয়তো তাকে হত্যা করে ফেলবে। ইমাম শাওকানী বলেন: উত্তম কথা হল কাফেলার লোকেরা গোপন রেখেছিল যাতে স্বজনরা এসে খোঁজাখুঁজি না করে। কারণ যেহেতু কূপে পড়েছিল সেহেতু নিশ্চয়ই এ এলাকার হবে। সুতরাং তারা তাঁকে পেয়ে সাথে সাথে গোপন করে নিল যাতে কাফেলার সমস্ত লোক শরীক দাবী করে না বসে অথবা তাঁর আত্মীয়-স্বজন খবর পেয়ে যেন তাঁকে ফিরিয়ে নিতে না আসে।
ইউসুফ (عليه السلام) এর ভাইয়েরা কাফেলার কাছে বিক্রির প্রস্তাব দিয়ে বলল: ছেলেটি আমাদের পলাতক গোলাম। তোমরা ওকে আমাদের কাছ থেকে কিনে নিতে পার। কাফেলা নামে মাত্র কয়েকটি দিরহাম দিয়ে সস্তা মূল্যে ইউসুফকে কিনে নিল। যেহেতু ইউসুফ (عليه السلام) এর ভাইয়েরা বলেছে এটা আমাদের পালিয়ে আসা গোলাম, তাই কাফেলা কিনার পর তাদের থেকে একটি লিখিত নেয় যাতে করে কেউ দাবী না করতে পারে। এর দ্বারা ইউসুফ (عليه السلام) এর ভাইদের দুটি উদ্দেশ্য ছিল। এক যাতে ইউসুফ তার বাপ-ভাইদের নাম করে পুনরায় বাড়ি ফিরে আসার সুযোগ না পায়। দুই যাতে ইউসুফ দেশান্তরী হয়ে যায় ও অন্যের ক্রীতদাস হয়ে জীবন যাপন করে। কত নিষ্ঠুর হলে ভাইয়েরা ভায়ের প্রতি এরূপ আচরণ করতে পারে, কল্পনা করা যায় কি!
মিসরের অর্থমন্ত্রীর গৃহে ইউসুফ (عليه السلام):
ইউসুফ (عليه السلام) কে তার ভাইদের কাছ থেকে স্বল্পমূল্যে ক্রয় করে নিয়ে ব্যবসারী কাফেলা তাকে বিক্রির জন্য মিসরের বাজারে উপস্থিত করল। বালক ইউসুফের রূপ-সৌন্দর্য দেখে বিত্তশালীরা হাটে রীতিমত দামের প্রতিযোগিতা শুরু করল। কিন্তু আল্লাহ তা‘আলা এ মর্যাদাবান ব্যক্তিকে মর্যাদার স্থানে সমুন্নত করবেন। তাই ইউসুফের প্রতি মিসরের অর্থমন্ত্রীর দৃষ্টিপাত করালেন। সকল খরিদদারকে ডিঙিয়ে মিসরের তৎকালীন অর্থ ও রাজস্বমন্ত্রী ক্বিৎফীর (قطفير) তাকে বহু মূল্য দিয়ে খরিদ করে নিলেন। ক্বিৎফীর ছিলেন নিঃসন্তান।
মিসরের অর্থমন্ত্রীর উপাধি ছিল ‘আযীয’ বা ‘আযীযে মিসর’। ইউসুফকে ক্রয় করে এনে তিনি তাকে স্বীয় স্ত্রীর হাতে অর্পণ করলেন এবং বললেন, একে উত্তমভাবে লালন-পালন কর। এর জন্য উত্তম থাকার উত্তম ব্যবস্থা কর। ভবিষ্যতে আমাদের কল্যাণে আসতে পারে অথবা আমরা সন্তান হিসেবে গ্রহণ করে নেব। যেহেতু তাদের কোন সন্তান ছিল না। সে সময়ে মিসরের বাদশা ছিল রাইয়ান বিন অলীদ এবং আযীযে মিসর (মিসরের মন্ত্রী) যিনি ইউসুফ (عليه السلام) কে ক্রয় করেন তার স্ত্রীর নাম কেউ বলে রাঈল, আবার কেউ বলে যুলাইখা। তবে যুলাইখা নামেই প্রসিদ্ধ। রাজ প্রাসাদে ইউসুফ (عليه السلام) এর মিসরীয় জীবন শুরু হল।
এভাবেই আল্লাহ তা‘আলা ইউসুফ (عليه السلام)-কে মিসরের ভূখণ্ডে একটি উৎকৃষ্ট বাসস্থান প্রদান করলেন, যেমন জালিম ভাই ও কূপ থেকে রক্ষা করেছিলেন। আল্লাহ তা‘আলা এভাবেই তাঁর কার্য সম্পাদন করলেন এবং তাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা শিক্ষা দিলেন। অতঃপর যখন তিনি পূর্ণ বয়সে উপনীত হলেন তখন আল্লাহ তা‘আলা তাকে নবুওয়াত দান করলেন এবং তাকে প্রজ্ঞা শিক্ষা দিলেন। সৎকর্মপরায়ণদেরকে আল্লাহ তা‘আলা এভাবেই প্রতিদান দিয়ে থাকেন।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :
১. রাখে আল্লাহ তা‘আলা মারে কে? ইউসুফ (عليه السلام) এর ভাইয়েরা তাঁকে মারার চেষ্টা করলেও আল্লাহ তা‘আলা রাখবেন বিধায় মারা সম্ভব হয়নি।
২. ইউসুফ (عليه السلام) কে পৃথিবীর মানুষের অর্ধেক সৌন্দর্য দেয়া হয়েছে।
৩. যারা আল্লাহ পথে অবিচল থাকে আল্লাহ এভাবেই তাদেরকে উত্তম প্রতিদান দিয়ে থাকেন।
৪. যে যুবক আল্লাহর পথে জীবনকে পরিচালনা করে আল্লাহ তাকে ইলম ও হিকমত দান করেন।
৫. স্বাধীন ব্যক্তিকে ক্রয়-বিক্রয় করা হারাম।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ২১-২২ নং আয়াতের তাফসীর
আল্লাহ তাআ’লা খবর দিচ্ছেন যে, মিসরের যে লোকটি হযরত ইউসুফ (আঃ) কে ক্রয় করেছিলেন, আল্লাহ তাঁর অন্তরে তাঁর মর্যাদা ও ব্যক্তিত্বের ভাল জাগিয়ে দিয়েছিলেন। তিনি হযরত ইউসুফের (আঃ) চেহারায় নূরাণী ঔজ্জ্বল্যের ভাব লক্ষ্য করেই বুঝে ফেলে ছিলেন যে, তার মধ্যে মঙ্গল ও যোগ্যতা নিহিত রয়েছে। লোকটি ছিলেন মিসরের উযীর। হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, তাঁর নাম ছিল কিত্ফীর। আর মুহাম্মদ ইবনু ইসহাক (রঃ) বলেন যে, তাঁর নাম ছিল ইতফীর ইবনু রাওহীব। আর তিনিই হচ্ছেন আযীয। তিনি মিসরের কোষাগারের কোষাধ্যক্ষ ছিলেন। ঐ সময় মিসরের বাদশাহ ছিলেন রাইয়ান ইবনু ওয়ালীদ। তিনি আমালীকদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। মিসরের আযীযের স্ত্রীর নাম ছিল রাঈল বিনতু রাআ’বীল। কেউ কেউ তার নাম যুলাইখাও বলেছেন। হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, মিসরের যে লোকটি হযরত ইউসুফকে (আঃ) ক্রয় করেছিলেন তাঁর নাম ছিল মালিক ইবনু যাআর ইবনু কারীব ইবনু আনাক ইবনু মাদইয়ান ইবনু ইবরাহীম। এ সব ব্যাপারে সঠিক জ্ঞান একমাত্র আল্লাহ তাআ’লারই রয়েছে।
হযরত আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রাঃ) বলেন যে, পরিণামদর্শী ও বুদ্ধি বলে অনুমান করতে ও বুঝে নিতে সক্ষম তিন ব্যক্তি অতীত হয়েছেন। প্রথম হচ্ছেন মিসরের এই আযীয, যিনি হযরত ইউসুফকে (আঃ) এক নযর দেখা মাত্রই তাঁর মর্যাদা বুঝে ফেলেন। তাই বাড়ীতে তাকে নিয়ে গিয়েই স্বীয় স্ত্রীকে বলেনঃ “সম্মানজনকভাবে এর থাকবার ব্যবস্থা কর।”
দ্বিতীয়া হচ্ছেন (হযরত শুআ’ইবের আঃ) ঐ মেয়েটি যিনি (হযরত মূসা (আঃ) সম্পর্কে) তাঁর পিতাকে বলেছিলেনঃ হে পিতঃ! আপনি একে মজুর নিযুক্ত করুন, কারণ আপনার মজুর হিসাবে উত্তম হবে সেই ব্যক্তি যে শক্তিশালী, বিশ্বস্ত (আর এই ব্যক্তির মধ্যে এই গুণ বিদ্যমান রয়েছে)।’
তৃতীয় হচ্ছেন হযরত আবু বকর সিদ্দীক (রাঃ)। তিনি দুনিয়া হতে বিদায় গ্রহণের সময় খিলাফতের দায়িত্বভার হযরত উমার ইবনু খত্তাবের (রাঃ) হাতে অর্পণ করে যান।
আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ যেমন আমি ইউসুফকে (আঃ) তার ভাইদের যুলুম হতে রক্ষা করেছি তেমনি তাকে যমীনে অর্থাৎ মিসরে প্রতিষ্ঠিত করেছি। কেননা আমার ইচ্ছা পূর্ণ হবার ছিল যে, আমি তাকে স্বপ্নের ব্যাখ্যা দান শিক্ষা দেবো। আল্লাহর ইচ্ছাকে কে রোধ করতে পারে? কে পারে তার বিরোধিতা করতে? তিনি সবারই উপর ব্যাপক ক্ষমতাবান। তার সামনে সবাই অক্ষম ও অপারগ। তিনি যা ইচ্ছা করেন তাই করে থাকেন। কিন্তু অধিকাংশ লোকই এটা অবগত নয়। তারা না মানে তার কলাকৌশল, না রয়েছে তাদের তাঁর সূক্ষ্মদর্শিতা সম্পর্কে কোন অবগতি। তারা তাঁর হিকমত বুঝে উঠতেই পারে না।
হযরত ইউসুফ (আঃ) যখন প্রাপ্ত বয়সে পৌঁছলেন এবং তাঁর বিবেক-বুদ্ধি পূর্ণতা প্রাপ্ত হলো তখন মহান আল্লাহ তাঁকে নুবওয়াত দান করলেন এবং তাঁকে তাঁর বিশিষ্ট বান্দারূপে মনোনীত করলেন। এটা কোন নতুন কথা নয়। এভাবেই আল্লাহ তাআ’লা সকর্মশীল লোকদেরকে প্রতিদান প্রদান করে থাকেন।
হযরত ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, ঐ সময় তাঁর বয়স হয়েছিল তেত্রিশ বছর। যহ্হাক (রঃ) বলেন যে, ঐ সময় তাঁর বয়স বিশ বছর হয়েছিল। হযরত হাসান (রঃ) চল্লিশ বছর বলেছেন। হযরত ইকরামা (রঃ) বলেন যে, ঐ সময় তিনি পঁচিশ বছর বয়স্ক ছিলেন। সুদ্দী (রঃ) ত্রিশ বছর বলেছেন। আর সাঈদ ইবনু জুবাইর (রঃ) বলেছেন আঠারো বছর। ইমাম মা’লিক (রঃ) রাবী’আ' ইবনু যায়েদ ইবনু আসলাম (রঃ) এবং শা’বী (রঃ) বলেন যে, (আরবি) দ্বারা যৌবনে পদার্পণ করা বুঝানো হয়েছে। এছাড়া আরো উক্তি রয়েছে। এ সব ব্যাপারে আল্লাহ তাআ’লাই সর্বাধিক সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।