আল কুরআন


সূরা হূদ (আয়াত: 104)

সূরা হূদ (আয়াত: 104)



হরকত ছাড়া:

وما نؤخره إلا لأجل معدود ﴿١٠٤﴾




হরকত সহ:

وَ مَا نُؤَخِّرُهٗۤ اِلَّا لِاَجَلٍ مَّعْدُوْدٍ ﴿۱۰۴﴾ؕ




উচ্চারণ: ওয়ামা-নুআখখিরুহূ ইল্লা-লিআজালিম মা‘দূদ।




আল বায়ান: আর নির্দিষ্ট কিছুকালের জন্যই আমি তা বিলম্বিত করছি।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০৪. আর আমরা তো কেবল নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্যই সেটা বিলম্বিত করছি।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি একটা নির্দিষ্ট সময়ের জন্য তাকে বিলম্বিত করি মাত্র।




আহসানুল বায়ান: (১০৪) আর আমি ওটা নির্দিষ্ট একটি কালের জন্যই বিলম্বিত করছি। [1]



মুজিবুর রহমান: আর আমি ওটা শুধু সামান্য কালের জন্য স্থগিত রেখেছি।



ফযলুর রহমান: কেবল একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্যই আমি তা (সে দিনটি) বিলম্বিত করছি।



মুহিউদ্দিন খান: আর আমি যে উহা বিলম্বিত করি, তা শুধু একটি ওয়াদার কারণে যা নির্ধারিত রয়েছে।



জহুরুল হক: আর আমরা এটি পিছিয়ে রাখি না একটি নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যতীত।



Sahih International: And We do not delay it except for a limited term.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০৪. আর আমরা তো কেবল নির্দিষ্ট কিছু সময়ের জন্যই সেটা বিলম্বিত করছি।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০৪) আর আমি ওটা নির্দিষ্ট একটি কালের জন্যই বিলম্বিত করছি। [1]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, কিয়ামত সংঘটিত হওয়াতে দেরী হওয়ার একমাত্র কারণ হল যে, আল্লাহ তাআলা তার জন্য একটি সময় নির্ধারিত করে রেখেছেন। অতঃপর যখন সেই নির্ধারিত সময় এসে যাবে, তখন এক মুহূর্তের জন্যও বিলম্ব করা হবে না।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০৩-১০৯ নং আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়::



পূর্বের আয়াতগুলোতে বিভিন্ন জাতির অবাধ্যতা ও তাদের ওপর আপতিত শাস্তির বর্ণনা তুলে ধরার পর আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে তাদের জন্য শিক্ষা যারা আখিরাতের আযাবকে ভয় করে, যেদিন মানুষকে একত্রিত করা হবে। لِأَجَلٍ مَّعْدُوْدٍ অর্থাৎ কিয়ামতকে বিলম্বে সংঘটিত করার কারণ হল আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য একটি নির্ধারিত সময় রেখে দিয়েছেন। যখন সে সময় এসে যাবে তখন এক মুহূর্তের জন্য বিলম্ব করা হবে না।



لَا تَكَلَّمُ نَفْسٌ কথা বলবে না অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার সামনে কথা বলার কারো হিম্মত ও সাহস হবে না। তিনি যদি অনুমতি দেন তাহলে সুযোগ পাবে।



একটি দীর্ঘ হাদীসে এসেছে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: সে দিন নাবীগণ ছাড়া কারো কোন কথা বলার হিম্মত থাকবে না। আর নাবীগণের মুখে সেদিন একমাত্র এ কথা হবে হে আল্লাহ তা‘আলা! আমাকে পরিত্রাণ দাও, আমাকে পরিত্রাণ দাও। (সহীহ বুখারী হা: ৮০৬)



কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে দু‘টো দল থাকবে। একটি হল দুর্ভাগ্যবান এবং অপরটি সৌভাগ্যবান।



অতঃপর যারা দুর্ভাগ্যবান তথা কাফির তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে আর তারা তথায় আর্তনাদ ও চিৎকার করবে। তারা জাহান্নামে আকাশ-জমিন যতদিন থাকবে ততদিন অবস্থান করবে। এই বাক্য দ্বারা অনেকে এই অর্থ গ্রহণ করেন যে, কোন কাফির-মুশরিকও জাহান্নামে স্থায়ী হবে না। কিন্তু এই অর্থ গ্রহণ করা মোটেও ঠিক হবে না। এটি মূলত আরবদের পরিভাষা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ আরবরা যখন কোন কিছুর চিরস্থায়ীত্ব বুঝাত তখন এইরূপ বলত যে,



هذا دائم دوام السموات والأرض



অর্থাৎ এই বস্তু আকাশ ও পৃথিবীর মত চিরস্থায়ী। এর দ্বারা মূলত তারা চিরস্থায়ী জিনিসকেই বুঝাত। সুতরাং কাফির-মুশরিকরা জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে। এই অর্থই সঠিক। আর যারা সৌভাগ্যবান তারা জান্নাতে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। আর সেখানে তাদেরকে এমন জিনিস দান করা হবে যা কোন দিন শেষ হওয়ার নয়। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(خٰلِدِيْنَ فِيْهَا لَا يَبْغُوْنَ عَنْهَا حِوَلًا)



“সেথায় তারা স্থায়ী হবে, তা হতে স্থানান্ত‎র কামনা করবে না।” (সূরা কাহ্ফ ১৮:১০৮)



আর যারা পাপী তাদেরকে এমনভাবে শাস্তি দেয়া হবে যেমন শাস্তি দেয়া হয়েছিল তাদের পূর্বপুরুষদেরকে। তাদের পূর্বপুরুষদেরকে যেমন ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল তাদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ করা হবে; এর চেয়ে একটুও কম করা হবে না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. আল্লাহ তা‘আলার সামনে তাঁর অনুমতি ব্যতীত কেউ কোন কথা বলতে পারবে না।

২. যারা ভাল কাজ করবে তারা জান্নাতে যাবে আর যারা খারাপ কাজ করবে তারা জাহান্নামে যাবে এবং তথায় চিরস্থায়ী হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১০৩-১০৫ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ কাফিরদেরকে ধ্বংস করা এবং মুমিনমু’মিনদেরকে মুক্তি দেয়ার মধ্যে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে আমার ওয়াদার সত্যতার, যে ওয়াদা আমি কিয়ামতের দিন সম্পর্কে করেছি। তিনি বলেন নিশ্চয় আমি আমার রাসূলদেরকে এবং মুমিনমু’মিনদেরকে সাহায্য করবো পার্থিব জীবনে এবং সকলের হাযির হওয়ার দিন; অর্থাৎ কিয়ামতের দিন। আর এক জায়গায় তিনি বলেনঃ তাদের কাছে তাদের প্রতিপালক ওয়াহী পাঠালেনঃ “আমি অবশ্যই যালিমদেরকে ধ্বংস করবো।”

মহান আল্লাহ বলেন যে, এটা এমন একটা দিন হবে যেই দিন সমস্ত মানুষকে অর্থাৎ প্রথম ও শেষের সব মানুষকে একত্রিত করা হবে, একজনও ছুটে যাবে না। ওটা হবে বড়ই কঠিন দিন। ঐ দিন হবে সকলের উপস্থিতির দিন। সেই দিন ফেরেশতা ও রাসূলদেরকে হাযির করা হবে এবং সমুদয় সৃষ্ট জীবকে একত্রিত করা হবে। তারা হচ্ছে মানব, দানব, পাখী, বন্য জন্তু এবং ভূ-পৃষ্টে বিচরণকারী সমস্ত কিছু। প্রকৃত ন্যায় বিচারক উত্তম রূপে ন্যায় বিচার করবেন। তিনি তিল পরিমাণও অত্যাচার করবেন না। যদি কিছু পুণ্য থাকে তবে তিনি তা বহু গুণে বাড়িয়ে দেবেন।

কিয়ামত সংঘটিত হতে বিলম্ব হওয়ার কারণ এই যে, একটা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত দুনিয়া বনী আদম দ্বারা আবাদ হতে থাকবে এটা মহান আল্লাহ পূর্ব হতেই নির্ধারণ করে রেখেছেন। এতে মোটেই আগা পিছা হবে না। অতঃপর এই নির্দিষ্ট সময় শেষে কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে। যেই দিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সেই দিন আল্লাহ তাআ’লার অনুমতি ছাড়া কেউই মুখ খুলতে পারবে না। কিন্তু রহমান (আল্লাহ) যাকে অনুমতি দেবেন সে-ই কথা বলবে এবং সে-ও সঠিক কথাই বলবে। রহমানের (আল্লাহর) সামনে সমস্ত শব্দ নীচু হয়ে যাবে। সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিমের শাফা’আতের হাদীসে রয়েছে যে, সেই দিন রাসূলগণ ছাড়া কেউই কথা বলবে না এবং তাঁদের কথা হবেঃ “হে আল্লাহ! নিরাপদে রাখুন, নিরাপত্তা দান করুন।” হাশরের ময়দানে বহু হতভাগ্য লোকও থাকবে এবং বহু ভাগ্যবান লোকও থাকবে। যেমন আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ এক দল বেহেশ্‌তে থাকবে এবং একদল দুযখে থাকবে। (৪২: ৭)

হযরত ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, যখন (আরবি) অবতীর্ণ হয় তখন হযরত উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ) আমরা কিসের উপর আমল করবো? আমাদের আমল কি এর উপর হবে যা পূর্বে শেষ হয়ে গেছে (অর্থাৎ পূর্বেই লিখিত আছে), না এর উপর যা পূর্বে শেষ হয় নাই (বরং নতুনভাবে লিখিত হবে)?” রাসূলুল্লাহ (সঃ) উত্তরে বলেনঃ “হে উমার (রাঃ)! তোমাদের আমল এর উপর ভিত্তি করেই হবে যা পূর্বেই লিখা হয়ে গেছে। (নতুনভাবে আর লিখা হবে না) তবে প্রত্যেকের জন্যে ওটাই সহজ হবে যার জন্যে (অর্থাৎ যে কাজের জন্যে) তার জন্ম হয়েছে।” (এ হাদীসটি হা’ফিয আবু ইয়ালা (রঃ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।