আল কুরআন


সূরা হূদ (আয়াত: 103)

সূরা হূদ (আয়াত: 103)



হরকত ছাড়া:

إن في ذلك لآية لمن خاف عذاب الآخرة ذلك يوم مجموع له الناس وذلك يوم مشهود ﴿١٠٣﴾




হরকত সহ:

اِنَّ فِیْ ذٰلِکَ لَاٰیَۃً لِّمَنْ خَافَ عَذَابَ الْاٰخِرَۃِ ؕ ذٰلِکَ یَوْمٌ مَّجْمُوْعٌ ۙ لَّهُ النَّاسُ وَ ذٰلِکَ یَوْمٌ مَّشْهُوْدٌ ﴿۱۰۳﴾




উচ্চারণ: ইন্না ফী যা-লিকা লাআ-য়াতাল লিমান খা-ফা ‘আযা-বাল আ-খিরাতি যা-লিকা ইয়াওমুম মাজমূ‘উল্লাহুন্না-ছুওয়া যা-লিকা ইয়াওমুম মাশহুদ।




আল বায়ান: নিশ্চয় এতে রয়েছে নিদর্শন তার জন্য যে আখিরাতের আযাবকে ভয় করে। সেটি এমন একটি দিন, যেদিন সকল মানুষকে সমবেত করা হবে এবং সেটি এমন এক দিন, যেদিন সবাই হাযির হবে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০৩. নিশ্চয় এতে রয়েছে নিদর্শন তার জন্য যে আখিরাতের শাস্তিকে ভয় করে(১)। সেটি এমন এক দিন, যেদিন সমস্ত মানুষকে একত্র করা হবে; আর সেটি এমন এক দিন যেদিন সবাইকে উপস্থিত করা হবে(২);




তাইসীরুল ক্বুরআন: এতে অবশ্যই নিদর্শন আছে তার জন্য যে আখেরাতের শাস্তিকে ভয় করে। এটা এমন দিন, যে দিনের জন্য সব মানুষকে একত্রিত করা হবে, এটা হাযির হওয়ার দিন।




আহসানুল বায়ান: (১০৩) নিশ্চয় এতে[1] সে ব্যক্তির জন্য নিদর্শন রয়েছে, যে ব্যক্তি পরকালের শাস্তিকে ভয় করে। ওটা এমন একটা দিন হবে, যেদিন সমস্ত মানুষকে সমবেত করা হবে এবং ওটা হবে সকলের উপস্থিতির দিন। [2]



মুজিবুর রহমান: এসব ঘটনায় সেই ব্যক্তিদের জন্য বড় উপদেশ রয়েছে যারা পরকালের শাস্তিকে ভয় করে; ওটা এমন একটি দিন হবে যেদিন সমস্ত মানুষকে সমবেত করা হবে এবং ওটা হল সকলের উপস্থিতির দিন।



ফযলুর রহমান: যারা পরকালের আজাবকে ভয় করে তাদের জন্য আসলেই এতে বড় এক শিক্ষা রয়েছে। সেটা এমন এক দিন যখন সকল মানুষকে একত্রিত করা হবে। সেটা এমন এক দিন যখন সকলেই উপস্থিত থাকবে।



মুহিউদ্দিন খান: নিশ্চয় ইহার মধ্যে নিদর্শন রয়েছে এমন প্রতিটি মানুষের জন্য যে আখেরাতের আযাবকে ভয় করে। উহা এমন একদিন, যে দিন সব মানুষেই সমবেত হবে, সেদিনটি যে হাযিরের দিন।



জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ এতে রয়েছে নিদর্শন তার জন্য যে পরকালের শাস্তিকে ভয় করে। এই হচ্ছে মানুষকে একত্রিত করণের দিন, আর এই হচ্ছে সাক্ষ্যদানের দিন।



Sahih International: Indeed in that is a sign for those who fear the punishment of the Hereafter. That is a Day for which the people will be collected, and that is a Day [which will be] witnessed.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০৩. নিশ্চয় এতে রয়েছে নিদর্শন তার জন্য যে আখিরাতের শাস্তিকে ভয় করে(১)। সেটি এমন এক দিন, যেদিন সমস্ত মানুষকে একত্র করা হবে; আর সেটি এমন এক দিন যেদিন সবাইকে উপস্থিত করা হবে(২);


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ ইতিহাসের এ ঘটনাবলীর মধ্যে এমন একটি নিশানী রয়েছে যে সম্পর্কে চিন্তাভাবনা করলে মানুষের মনে নিশ্চিত বিশ্বাস জন্মাবে যে, আখেরাতের আযাব অবশ্যই আসবে এবং এ সম্পর্কিত নবীদের দেয়া খবর সত্য। তাছাড়া এ নিশানী থেকে সেই আখেরাতের আযাব কেমন কঠিন ও ভয়াবহ হবে সেকথাও জানতে পারবে। ফলে এ জ্ঞান তার মনে ভীতির সঞ্চার করে তাকে সঠিক পথে এনে দাঁড় করিয়ে দেবে।


(২) অর্থাৎ সেদিন আগের পরের সবাইকে একত্রিত করা হবে। কেউই বাকি থাকবে না। অন্য আয়াতে আল্লাহ্‌ বলেনঃ “আর আমি তাদের সবাইকে জমায়েত করেছি, তাদের কাউকেই ছাড়িনি।” [সূরা আল-কাহাফঃ ৪৭]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০৩) নিশ্চয় এতে[1] সে ব্যক্তির জন্য নিদর্শন রয়েছে, যে ব্যক্তি পরকালের শাস্তিকে ভয় করে। ওটা এমন একটা দিন হবে, যেদিন সমস্ত মানুষকে সমবেত করা হবে এবং ওটা হবে সকলের উপস্থিতির দিন। [2]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, আল্লাহর ধর-পাকড়ে অথবা এই ঘটনাবলীতে, যা নসীহত ও শিক্ষার জন্য বর্ণনা করা হয়েছে (তাদের জন্য শিক্ষা রয়েছে)।

[2] অর্থাৎ, হিসাব ও প্রতিদানের জন্য।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০৩-১০৯ নং আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়::



পূর্বের আয়াতগুলোতে বিভিন্ন জাতির অবাধ্যতা ও তাদের ওপর আপতিত শাস্তির বর্ণনা তুলে ধরার পর আল্লাহ তা‘আলা বলছেন, এসব ঘটনার মধ্যে রয়েছে তাদের জন্য শিক্ষা যারা আখিরাতের আযাবকে ভয় করে, যেদিন মানুষকে একত্রিত করা হবে। لِأَجَلٍ مَّعْدُوْدٍ অর্থাৎ কিয়ামতকে বিলম্বে সংঘটিত করার কারণ হল আল্লাহ তা‘আলা তার জন্য একটি নির্ধারিত সময় রেখে দিয়েছেন। যখন সে সময় এসে যাবে তখন এক মুহূর্তের জন্য বিলম্ব করা হবে না।



لَا تَكَلَّمُ نَفْسٌ কথা বলবে না অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলার সামনে কথা বলার কারো হিম্মত ও সাহস হবে না। তিনি যদি অনুমতি দেন তাহলে সুযোগ পাবে।



একটি দীর্ঘ হাদীসে এসেছে: রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন: সে দিন নাবীগণ ছাড়া কারো কোন কথা বলার হিম্মত থাকবে না। আর নাবীগণের মুখে সেদিন একমাত্র এ কথা হবে হে আল্লাহ তা‘আলা! আমাকে পরিত্রাণ দাও, আমাকে পরিত্রাণ দাও। (সহীহ বুখারী হা: ৮০৬)



কিয়ামতের দিন মানুষের মধ্যে দু‘টো দল থাকবে। একটি হল দুর্ভাগ্যবান এবং অপরটি সৌভাগ্যবান।



অতঃপর যারা দুর্ভাগ্যবান তথা কাফির তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে আর তারা তথায় আর্তনাদ ও চিৎকার করবে। তারা জাহান্নামে আকাশ-জমিন যতদিন থাকবে ততদিন অবস্থান করবে। এই বাক্য দ্বারা অনেকে এই অর্থ গ্রহণ করেন যে, কোন কাফির-মুশরিকও জাহান্নামে স্থায়ী হবে না। কিন্তু এই অর্থ গ্রহণ করা মোটেও ঠিক হবে না। এটি মূলত আরবদের পরিভাষা হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। কারণ আরবরা যখন কোন কিছুর চিরস্থায়ীত্ব বুঝাত তখন এইরূপ বলত যে,



هذا دائم دوام السموات والأرض



অর্থাৎ এই বস্তু আকাশ ও পৃথিবীর মত চিরস্থায়ী। এর দ্বারা মূলত তারা চিরস্থায়ী জিনিসকেই বুঝাত। সুতরাং কাফির-মুশরিকরা জাহান্নামে চিরস্থায়ী হবে। এই অর্থই সঠিক। আর যারা সৌভাগ্যবান তারা জান্নাতে চিরস্থায়ীভাবে অবস্থান করবে। আর সেখানে তাদেরকে এমন জিনিস দান করা হবে যা কোন দিন শেষ হওয়ার নয়। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(خٰلِدِيْنَ فِيْهَا لَا يَبْغُوْنَ عَنْهَا حِوَلًا)



“সেথায় তারা স্থায়ী হবে, তা হতে স্থানান্ত‎র কামনা করবে না।” (সূরা কাহ্ফ ১৮:১০৮)



আর যারা পাপী তাদেরকে এমনভাবে শাস্তি দেয়া হবে যেমন শাস্তি দেয়া হয়েছিল তাদের পূর্বপুরুষদেরকে। তাদের পূর্বপুরুষদেরকে যেমন ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল তাদের ক্ষেত্রেও অনুরূপ করা হবে; এর চেয়ে একটুও কম করা হবে না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. আল্লাহ তা‘আলার সামনে তাঁর অনুমতি ব্যতীত কেউ কোন কথা বলতে পারবে না।

২. যারা ভাল কাজ করবে তারা জান্নাতে যাবে আর যারা খারাপ কাজ করবে তারা জাহান্নামে যাবে এবং তথায় চিরস্থায়ী হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১০৩-১০৫ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ কাফিরদেরকে ধ্বংস করা এবং মুমিনমু’মিনদেরকে মুক্তি দেয়ার মধ্যে অবশ্যই নিদর্শন রয়েছে আমার ওয়াদার সত্যতার, যে ওয়াদা আমি কিয়ামতের দিন সম্পর্কে করেছি। তিনি বলেন নিশ্চয় আমি আমার রাসূলদেরকে এবং মুমিনমু’মিনদেরকে সাহায্য করবো পার্থিব জীবনে এবং সকলের হাযির হওয়ার দিন; অর্থাৎ কিয়ামতের দিন। আর এক জায়গায় তিনি বলেনঃ তাদের কাছে তাদের প্রতিপালক ওয়াহী পাঠালেনঃ “আমি অবশ্যই যালিমদেরকে ধ্বংস করবো।”

মহান আল্লাহ বলেন যে, এটা এমন একটা দিন হবে যেই দিন সমস্ত মানুষকে অর্থাৎ প্রথম ও শেষের সব মানুষকে একত্রিত করা হবে, একজনও ছুটে যাবে না। ওটা হবে বড়ই কঠিন দিন। ঐ দিন হবে সকলের উপস্থিতির দিন। সেই দিন ফেরেশতা ও রাসূলদেরকে হাযির করা হবে এবং সমুদয় সৃষ্ট জীবকে একত্রিত করা হবে। তারা হচ্ছে মানব, দানব, পাখী, বন্য জন্তু এবং ভূ-পৃষ্টে বিচরণকারী সমস্ত কিছু। প্রকৃত ন্যায় বিচারক উত্তম রূপে ন্যায় বিচার করবেন। তিনি তিল পরিমাণও অত্যাচার করবেন না। যদি কিছু পুণ্য থাকে তবে তিনি তা বহু গুণে বাড়িয়ে দেবেন।

কিয়ামত সংঘটিত হতে বিলম্ব হওয়ার কারণ এই যে, একটা নির্ধারিত সময় পর্যন্ত দুনিয়া বনী আদম দ্বারা আবাদ হতে থাকবে এটা মহান আল্লাহ পূর্ব হতেই নির্ধারণ করে রেখেছেন। এতে মোটেই আগা পিছা হবে না। অতঃপর এই নির্দিষ্ট সময় শেষে কিয়ামত সংঘটিত হয়ে যাবে। যেই দিন কিয়ামত সংঘটিত হবে সেই দিন আল্লাহ তাআ’লার অনুমতি ছাড়া কেউই মুখ খুলতে পারবে না। কিন্তু রহমান (আল্লাহ) যাকে অনুমতি দেবেন সে-ই কথা বলবে এবং সে-ও সঠিক কথাই বলবে। রহমানের (আল্লাহর) সামনে সমস্ত শব্দ নীচু হয়ে যাবে। সহীহ্ বুখারী ও সহীহ্ মুসলিমের শাফা’আতের হাদীসে রয়েছে যে, সেই দিন রাসূলগণ ছাড়া কেউই কথা বলবে না এবং তাঁদের কথা হবেঃ “হে আল্লাহ! নিরাপদে রাখুন, নিরাপত্তা দান করুন।” হাশরের ময়দানে বহু হতভাগ্য লোকও থাকবে এবং বহু ভাগ্যবান লোকও থাকবে। যেমন আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ (আরবি)

অর্থাৎ এক দল বেহেশ্‌তে থাকবে এবং একদল দুযখে থাকবে। (৪২: ৭)

হযরত ইবনু উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, যখন (আরবি) অবতীর্ণ হয় তখন হযরত উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ) আমরা কিসের উপর আমল করবো? আমাদের আমল কি এর উপর হবে যা পূর্বে শেষ হয়ে গেছে (অর্থাৎ পূর্বেই লিখিত আছে), না এর উপর যা পূর্বে শেষ হয় নাই (বরং নতুনভাবে লিখিত হবে)?” রাসূলুল্লাহ (সঃ) উত্তরে বলেনঃ “হে উমার (রাঃ)! তোমাদের আমল এর উপর ভিত্তি করেই হবে যা পূর্বেই লিখা হয়ে গেছে। (নতুনভাবে আর লিখা হবে না) তবে প্রত্যেকের জন্যে ওটাই সহজ হবে যার জন্যে (অর্থাৎ যে কাজের জন্যে) তার জন্ম হয়েছে।” (এ হাদীসটি হা’ফিয আবু ইয়ালা (রঃ) স্বীয় মুসনাদে বর্ণনা করেছেন)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।