আল কুরআন


সূরা হূদ (আয়াত: 102)

সূরা হূদ (আয়াত: 102)



হরকত ছাড়া:

وكذلك أخذ ربك إذا أخذ القرى وهي ظالمة إن أخذه أليم شديد ﴿١٠٢﴾




হরকত সহ:

وَ کَذٰلِکَ اَخْذُ رَبِّکَ اِذَاۤ اَخَذَ الْقُرٰی وَ هِیَ ظَالِمَۃٌ ؕ اِنَّ اَخْذَهٗۤ اَلِیْمٌ شَدِیْدٌ ﴿۱۰۲﴾




উচ্চারণ: ওয়া কাযা-লিকা আখযুরাব্বিক ইযাআখাযাল কুরা-ওয়াহিয়া জা-লিমাতুন ইন্না আখযাহূআলীমুন শাদীদ।




আল বায়ান: আর এরূপই হয় তোমার রবের পাকড়াও যখন তিনি পাকড়াও করেন অত্যাচারী জনপদসমূহকে। নিঃসন্দেহে তাঁর পাকড়াও বড়ই যন্ত্রণাদায়ক, কঠোর।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০২. এরূপই আপনার রবের পাকড়াও! যখন তিনি পাকড়াও করেন অত্যাচারী জনপদসমূহকে নিশ্চয় তার পাকড়াও যন্ত্রণাদায়ক, কঠিন।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমার প্রতিপালকের পাকড়াও এ রকমই হয়ে থাকে যখন তিনি পাকড়াও করেন কোন জনপদকে যখন তারা যুলমে লিপ্ত থাকে। অবশ্যই তাঁর পাকড়াও ভয়াবহ, বড়ই কঠিন।




আহসানুল বায়ান: (১০২) আর এরূপই তোমার প্রতিপালকের পাকড়াও; যখন তিনি কোন অত্যাচারী জনপদের অধিবাসীদেরকে পাকড়াও করেন। নিঃসন্দেহে তাঁর পাকড়াও অত্যন্ত যাতনাদায়ক, কঠিন। [1]



মুজিবুর রহমান: ‘এরূপই তোমার রবের পাকড়াও। তিনি কোন জনপদের অধিবাসীদের পাকড়াও করেন যখন তারা অত্যাচার করে। নিঃসন্দেহে তাঁর পাকড়াও হচ্ছে অত্যন্ত যন্ত্রনাদায়ক, কঠোর।



ফযলুর রহমান: তোমার প্রভু যখন জালেম জনপদসমূহকে ধরেন তখন এভাবেই ধরে থাকেন। তাঁর ধরা বড় কষ্টদায়ক ও কঠোর।



মুহিউদ্দিন খান: আর তোমার পরওয়ারদেগার যখন কোন পাপপূর্ণ জনপদকে ধরেন, তখন এমনিভাবেই ধরে থাকেন। নিশ্চয় তাঁর পাকড়াও খুবই মারাত্নক, বড়ই কঠোর।



জহুরুল হক: আর এইভাবেই হচ্ছে তোমার প্রভুর পাকড়ানো যখন তিনি পাকড়াও করেন জনপদগুলোকে যখন তারা অন্যায়াচরণ করে। নিঃসন্দেহ তাঁর পাকড়ানো মর্মন্তুদ, কঠিন।



Sahih International: And thus is the seizure of your Lord when He seizes the cities while they are committing wrong. Indeed, His seizure is painful and severe.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০২. এরূপই আপনার রবের পাকড়াও! যখন তিনি পাকড়াও করেন অত্যাচারী জনপদসমূহকে নিশ্চয় তার পাকড়াও যন্ত্রণাদায়ক, কঠিন।(১)


তাফসীর:

(১) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহ অত্যাচারীকে পৃথিবীতে সুযোগ ও অবকাশ দিয়ে থাকেন। আবার যখন তাকে ধরেন তখন আর ছাড়েন না। বর্ণনাকার সাহাবী আবু মূসা আশ'আরী বলেনঃ তারপর তিনি এ আয়াত পাঠ করলেনঃ “এরূপই আপনার প্রতিপালকের শাস্তি! তিনি শাস্তি দান করেন জনপদসমূহকে যখন ওরা যুলুম করে থাকে। নিশ্চয়ই তার শাস্তি মর্মম্ভদ, কঠিন।” [বুখারীঃ ৪৬৮৬, মুসলিমঃ ২৫৮৩]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০২) আর এরূপই তোমার প্রতিপালকের পাকড়াও; যখন তিনি কোন অত্যাচারী জনপদের অধিবাসীদেরকে পাকড়াও করেন। নিঃসন্দেহে তাঁর পাকড়াও অত্যন্ত যাতনাদায়ক, কঠিন। [1]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা যেমন পূর্ববর্তী জনপদসমূহকে ধ্বংস করেছেন, অনুরূপ ভবিষ্যতেও তিনি অত্যাচারীদেরকে পাকড়াও করার ক্ষমতা রাখেন। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে, নবী (সাঃ) বলেছেন, ‘‘আল্লাহ তাআলা অবশ্যই অত্যাচারীদেরকে ঢিল দেন। কিন্তু যখন তাদেরকে পাকড়াও করেন, তখন কোন সুযোগ দেন না।’’ অতঃপর তিনি উক্ত আয়াত পাঠ করেছেন। (বুখারী, মুসলিম)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০০-১০২ নং আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়::



قَآئِمٌ বিদ্যমান দ্বারা ঐ সকল শহর বা জনপদকে বুঝানো হয়েছে, যার ধ্বংসাবশেষ এখনও ছাদসহ বিদ্যমান রয়েছে। আর حَصِيْدٌ এর অর্থে সে শহর বা জনপদকে বুঝানো হয়েছে যা কাটা ফসলের মত নিশ্চি‎হ্ন হয়ে গেছে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী যুগের যে কতিপয় শহর ও জনপদের কাহিনী আমি বর্ণনা করছি, তার মধ্যে কোন কোন শহরের ধ্বংসাবশেষ এখনও বর্তমান আছে, যা শিক্ষামূলক স্মৃতি। আর কোন কোন জনপদকে এমনভাবে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে যা একেবারে দুনিয়া থেকে মিটে গেছে এবং শুধু ইতিহাসের পাতায় তা বাকি রয়ে গেছে। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ধ্বংস করার মাধ্যমে তাদের ওপর কোনই অত্যাচার করেননি। বরং তারা তাদের কৃতকর্মের ফলাফলস্বরূপ এ শাস্তি পেয়েছে। আর আল্লাহ তা‘আলা কারো প্রতি জুলুমকারীও নন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَمَا اللّٰهُ يُرِيْدُ ظُلْمًا لِّلْعِبَادِ)



“আল্লাহ তো বান্দাদের প্রতি কোন জুলুম করতে চান না।” (সূরা মু’মিন ৪০:৩১) বরং এই সমস্ত মানুষেরা তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে।



(وَمَنْ يَّتَعَدَّ حُدُوْدَ اللّٰهِ فَأُولٰ۬ئِكَ هُمُ الظَّالِمُوْنَ)



“আর যারা আল্লাহর সীমা অতিক্রম করবে তারাই হবে অত্যাচারী।” (সূরা বাক্বারা ২:২২৯)



সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা কারো প্রতি জুলুম করেন না বরং মানুষেরা নিজেই আল্লাহ তা‘আলার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিজেদের প্রতি জুলুম করে। অতএব যারা আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্যের ইবাদত করে তাদের সে সকল মা‘বূদ কোন উপকার করতে পারেনি এবং কিয়ামতের দিনও পারবে না। অথচ তাদের বিশ্বাস ছিল যে, তাদের মা‘বূদ ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে, কল্যাণ বয়ে আনবে।



(وَكَذٰلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ)



অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা যেমন পূর্ববর্তী জনপদসমূহকে অপরাধের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছেন তেমনি ভবিষ্যতেও যত অত্যাচারি জালিম জাতির আগমন ঘটবে তাদেরকে শাস্তি দিতে সক্ষম। হাদীসে এসেছে: আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই জালিমদেরকে অবকাশ দেন। কিন্তু যখন তাদেরকে পাকড়াও করেন, তখন কোন সুযোগ থাকে না। অতঃপর তিনি এ আয়াত পাঠ করেন। (সহীহ বুখারী হা: ৪৬৮৬, সহীহ মুসলিম হা: ২৫৮৩) সুতরাং আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত, আমাদের দ্বারা যেন আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্যতামূলক কোন কাজ না হয়। কারণ সেই আল্লাহ তা‘আলা এখনো আছেন এবং থাকবেন যিনি পূর্বের বিভিন্ন অবাধ্য জাতিকে পাপের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছেন।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দার প্রতি জুলুম করেন না।

২. আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত দুনিয়াতে যাদের উপাসনা করা হয় তারা আখিরাতে ক্ষতির কারণ হবে।

৩. মু’মিনদের সতর্ক হওয়া উচিত, তাদের দ্বারা যেন আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্যতামূলক কোন কাজ না হয়।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ যেভাবে আমি ঐ অত্যাচারী কওমকে ধ্বংস করেছি, তেমনিভাবে যারাই এদের মত আমল করবে তাদেরকেও এইরূপ প্রতিফলই পেতে হবে। আল্লাহ তাআ’লার পাকড়াও খুবই যন্ত্রণাদায়ক ও কঠিন হয়ে থাকে। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে হযরত আবু মূসা আশআ’রী (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ নিশ্চয় আল্লাহ তাআ’লা যালিমদেরকে অবকাশ ও ঢিল দিয়েছেন, শেষ পর্যন্ত কোন অবকাশ মিলবে না। অতঃপর তিনি উপরোক্ত আয়াতটি পাঠ করেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।