আল কুরআন


সূরা হূদ (আয়াত: 101)

সূরা হূদ (আয়াত: 101)



হরকত ছাড়া:

وما ظلمناهم ولكن ظلموا أنفسهم فما أغنت عنهم آلهتهم التي يدعون من دون الله من شيء لما جاء أمر ربك وما زادوهم غير تتبيب ﴿١٠١﴾




হরকত সহ:

وَ مَا ظَلَمْنٰهُمْ وَ لٰکِنْ ظَلَمُوْۤا اَنْفُسَهُمْ فَمَاۤ اَغْنَتْ عَنْهُمْ اٰلِهَتُهُمُ الَّتِیْ یَدْعُوْنَ مِنْ دُوْنِ اللّٰهِ مِنْ شَیْءٍ لَّمَّا جَآءَ اَمْرُ رَبِّکَ ؕ وَ مَا زَادُوْهُمْ غَیْرَ تَتْبِیْبٍ ﴿۱۰۱﴾




উচ্চারণ: ওয়ামা-জালামনা-হুম ওয়ালা-কিন জালামূআনফুছাহুম ফামাআগনাত ‘আনহুম আলিহাতুহুমুল্লাতী ইয়াদ‘ঊনা মিন দূ নিল্লা-হি মিন শাইয়িল লাম্মা-জাআ আমরু রাব্বিকা ওয়ামা-যা-দুহুম গাইরা তাতবীব।




আল বায়ান: আর আমি তাদের উপর যুলম করিনি, বরং তারা নিজদের উপর যুলম করেছে। তারপর যখন তোমার রবের নির্দেশ আসল তখন আল্লাহ ছাড়া যে সব উপাস্যকে তারা ডাকত, তারা তাদের কোন উপকার করেনি এবং তারা ধ্বংস ছাড়া তাদের আর কিছুই বৃদ্ধি করেনি।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০১. আর আমরা তাদের প্রতি যুলুম করিনি কিন্তু তারাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল। অতঃপর যখন আপনার রবের নির্দেশ আসল, তখন আল্লাহ ছাড়া তারা যে ইলাহসমূহের ইবাদাত করত তারা তাদের কোন কাজে আসল না। আর তারা ধ্বংস ছাড়া তাদের অন্য কিছুই বৃদ্ধি করল না।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি তাদের উপর যুলম করিনি বরং তারাই নিজেদের উপর যুলম করেছিল, কিন্তু তোমার প্রতিপালকের হুকুম যখন এসে গেল, তখন আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা যেসব ইলাহকে ডাকত ওগুলো তাদের কোনই কাজে আসল না, তারা ধ্বংস ছাড়া কিছুই বৃদ্ধি করতে পারল না।




আহসানুল বায়ান: (১০১) আমি তাদের প্রতি অত্যাচার করিনি,[1] কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের উপর অত্যাচার করেছে।[2] বস্তুতঃ যখন তোমার প্রতিপালকের হুকুম এসে পৌঁছল, তখন তাদের সেই উপাস্যগুলি, আল্লাহকে ছেড়ে ওরা যাদের উপাসনা করত, তারা ওদের কোন কাজে লাগল না। উল্টো তারা তাদের ধ্বংসই বৃদ্ধি করল। [3]



মুজিবুর রহমান: আমি তাদের প্রতি অত্যাচার করিনি, কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের উপর অত্যাচার করেছে। বস্তুতঃ তাদের কোনই উপকার করেনি তাদের সেই উপাস্যগুলি যাদের তারা ইবাদাত করত আল্লাহকে ছেড়ে, যখন এসে পৌঁছল তোমার রবের হুকুম; তাদের ক্ষতি সাধন ছাড়া তারা আর কোনো কিছুই বৃদ্ধি করলনা।



ফযলুর রহমান: আমি তাদের প্রতি কোন অবিচার করিনি, বরং তারাই নিজেদের প্রতি অবিচার করেছে। ফলে, যখন তোমার প্রভুর নির্দেশ এসে গেছে তখন আল্লাহকে ছাড়া তারা যেসব উপাস্যকে ডাকত তারা তাদের কোনই কাজে আসেনি। তারা কেবল তাদের সর্বনাশই বৃদ্ধি করেছে।



মুহিউদ্দিন খান: আমি কিন্তু তাদের প্রতি জুলুম করি নাই বরং তারা নিজেরাই নিজের উপর অবিচার করেছে। ফলে আল্লাহকে বাদ দিয়ে তারা যেসব মাবুদকে ডাকতো আপনার পালনকর্তার হুকুম যখন এসে পড়ল, তখন কেউ কোন কাজে আসল না। তারা শুধু বিপর্যয়ই বৃদ্ধি করল।



জহুরুল হক: আর আমরা তাদের প্রতি অন্যায় করি নি, কিন্তু তারা তাদের নিজেদের প্রতি অন্যায় করেছিল, সুতরাং তাদের দেবতারা, যাদের তারা আহ্বান করত আল্লাহ্‌কে ছেড়ে দিয়ে, তাদের কোনো কাজে আসে নি যে-সময়ে তোমার প্রভুর বিধান এসে পৌঁছাল। আর তারা ধ্বংস ব্যতীত কিছুই তাদের জন্য সংযোগ করে নি।



Sahih International: And We did not wrong them, but they wronged themselves. And they were not availed at all by their gods which they invoked other than Allah when there came the command of your Lord. And they did not increase them in other than ruin.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০১. আর আমরা তাদের প্রতি যুলুম করিনি কিন্তু তারাই নিজেদের প্রতি যুলুম করেছিল। অতঃপর যখন আপনার রবের নির্দেশ আসল, তখন আল্লাহ ছাড়া তারা যে ইলাহসমূহের ইবাদাত করত তারা তাদের কোন কাজে আসল না। আর তারা ধ্বংস ছাড়া তাদের অন্য কিছুই বৃদ্ধি করল না।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০১) আমি তাদের প্রতি অত্যাচার করিনি,[1] কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের উপর অত্যাচার করেছে।[2] বস্তুতঃ যখন তোমার প্রতিপালকের হুকুম এসে পৌঁছল, তখন তাদের সেই উপাস্যগুলি, আল্লাহকে ছেড়ে ওরা যাদের উপাসনা করত, তারা ওদের কোন কাজে লাগল না। উল্টো তারা তাদের ধ্বংসই বৃদ্ধি করল। [3]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, তাদেরকে শাস্তি দিয়ে ও ধ্বংস করে।

[2] (বরং তারাই) কুফরী ও অবাধ্যতা করে (নিজেদের উপর অত্যাচার করেছে।)

[3] অথচ তাদের বিশ্বাস এই ছিল যে, এরা তাদেরকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে এবং মঙ্গল এনে দেবে। কিন্তু যখন আল্লাহর আযাব উপস্থিত হল, তখন স্পষ্ট হয়ে গেল যে, তাদের উক্ত বিশ্বাস ভ্রান্ত ছিল এবং এ কথা প্রমাণ হয়ে গেল যে, আল্লাহ ব্যতীত কেউ কারোর মঙ্গল বা অমঙ্গল করার ক্ষমতা রাখে না।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০০-১০২ নং আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়::



قَآئِمٌ বিদ্যমান দ্বারা ঐ সকল শহর বা জনপদকে বুঝানো হয়েছে, যার ধ্বংসাবশেষ এখনও ছাদসহ বিদ্যমান রয়েছে। আর حَصِيْدٌ এর অর্থে সে শহর বা জনপদকে বুঝানো হয়েছে যা কাটা ফসলের মত নিশ্চি‎হ্ন হয়ে গেছে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী যুগের যে কতিপয় শহর ও জনপদের কাহিনী আমি বর্ণনা করছি, তার মধ্যে কোন কোন শহরের ধ্বংসাবশেষ এখনও বর্তমান আছে, যা শিক্ষামূলক স্মৃতি। আর কোন কোন জনপদকে এমনভাবে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে যা একেবারে দুনিয়া থেকে মিটে গেছে এবং শুধু ইতিহাসের পাতায় তা বাকি রয়ে গেছে। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ধ্বংস করার মাধ্যমে তাদের ওপর কোনই অত্যাচার করেননি। বরং তারা তাদের কৃতকর্মের ফলাফলস্বরূপ এ শাস্তি পেয়েছে। আর আল্লাহ তা‘আলা কারো প্রতি জুলুমকারীও নন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَمَا اللّٰهُ يُرِيْدُ ظُلْمًا لِّلْعِبَادِ)



“আল্লাহ তো বান্দাদের প্রতি কোন জুলুম করতে চান না।” (সূরা মু’মিন ৪০:৩১) বরং এই সমস্ত মানুষেরা তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে।



(وَمَنْ يَّتَعَدَّ حُدُوْدَ اللّٰهِ فَأُولٰ۬ئِكَ هُمُ الظَّالِمُوْنَ)



“আর যারা আল্লাহর সীমা অতিক্রম করবে তারাই হবে অত্যাচারী।” (সূরা বাক্বারা ২:২২৯)



সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা কারো প্রতি জুলুম করেন না বরং মানুষেরা নিজেই আল্লাহ তা‘আলার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিজেদের প্রতি জুলুম করে। অতএব যারা আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্যের ইবাদত করে তাদের সে সকল মা‘বূদ কোন উপকার করতে পারেনি এবং কিয়ামতের দিনও পারবে না। অথচ তাদের বিশ্বাস ছিল যে, তাদের মা‘বূদ ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে, কল্যাণ বয়ে আনবে।



(وَكَذٰلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ)



অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা যেমন পূর্ববর্তী জনপদসমূহকে অপরাধের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছেন তেমনি ভবিষ্যতেও যত অত্যাচারি জালিম জাতির আগমন ঘটবে তাদেরকে শাস্তি দিতে সক্ষম। হাদীসে এসেছে: আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই জালিমদেরকে অবকাশ দেন। কিন্তু যখন তাদেরকে পাকড়াও করেন, তখন কোন সুযোগ থাকে না। অতঃপর তিনি এ আয়াত পাঠ করেন। (সহীহ বুখারী হা: ৪৬৮৬, সহীহ মুসলিম হা: ২৫৮৩) সুতরাং আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত, আমাদের দ্বারা যেন আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্যতামূলক কোন কাজ না হয়। কারণ সেই আল্লাহ তা‘আলা এখনো আছেন এবং থাকবেন যিনি পূর্বের বিভিন্ন অবাধ্য জাতিকে পাপের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছেন।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দার প্রতি জুলুম করেন না।

২. আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত দুনিয়াতে যাদের উপাসনা করা হয় তারা আখিরাতে ক্ষতির কারণ হবে।

৩. মু’মিনদের সতর্ক হওয়া উচিত, তাদের দ্বারা যেন আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্যতামূলক কোন কাজ না হয়।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১০০-১০১ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআ’লা নবীদের ও তাদের উম্মত বর্গের ঘটনাবলী এবং কিভাবে তিনি কাফিরদেরকে ধ্বংস করেন এবং মুমিনমু’মিনদেরকে মুক্তি দেন, এসব বর্ণনা করার পর তিনি এখানে বলেনঃ এগুলি হচ্ছে ঐ গ্রামবাসীদের ঘটনা যা আমি তোমার (রাসূলুল্লাহর সঃ) সামনে বর্ণনা করছি। ওগুলির মধ্যে কতকগুলি গ্রাম এখনো আবাদ রয়েছে এবং কতকগুলি একেবারে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

আল্লাহ পাক বলেনঃ আমি তাদের প্রতি অত্যাচার করে তাদেরকে ধ্বংস করি নাই। বরং তারা নিজেরাই কুফরী ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কারণে নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। আর তারা যে সব বাতিল মা’বুদের উপর নির্ভর করেছিল বিপদের সময় তারা তাদের কোনই কাজে আসে নাই। বরং তাদের পূজা পার্বনই তাদের ধ্বংস ও ক্ষতির কারণ হয়। উভয় জগতের শাস্তি তাদের উপর পতিত হয়।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।