আল কুরআন


সূরা হূদ (আয়াত: 100)

সূরা হূদ (আয়াত: 100)



হরকত ছাড়া:

ذلك من أنباء القرى نقصه عليك منها قائم وحصيد ﴿١٠٠﴾




হরকত সহ:

ذٰلِکَ مِنْ اَنْۢبَآءِ الْقُرٰی نَقُصُّهٗ عَلَیْکَ مِنْهَا قَآئِمٌ وَّ حَصِیْدٌ ﴿۱۰۰﴾




উচ্চারণ: যা-লিকা মিন আমবাইল কুরা-নাকুসসুহূ‘আলাইকা মিনহা কাইমুওঁ ওয়া হাসীদ।




আল বায়ান: এ হচ্ছে জনপদসমূহের কিছু সংবাদ, যা আমি তোমার কাছে বর্ণনা করছি। তা থেকে কিছু আছে বিদ্যমান এবং কিছু হয়েছে বিলুপ্ত।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০০. এগুলো জনপদসমূহের কিছু সংবাদ যা আমরা আপনার কাছে বর্ণনা করছি। এগুলোর মধ্যে কিছু এখনো বিদ্যমান এবং কিছু নির্মুল হয়েছে।




তাইসীরুল ক্বুরআন: এ হল জনপদসমূহের কিছু খবরাদি যা আমি তোমার নিকট বর্ণনা করলাম, তাদের কতক এখনও দাঁড়িয়ে আছে আর কতক কর্তিত ফসলের দশা প্রাপ্ত হয়েছে।




আহসানুল বায়ান: (১০০) এটা ছিল সেই জনপদসমূহের কতিপয় অবস্থা যা আমি তোমার নিকট বর্ণনা করছি, ওগুলির মধ্যে কোন কোন জনপদ তো বিদ্যমান রয়েছে এবং কোন কোনটি নির্মূল হয়ে গেছে।[1]



মুজিবুর রহমান: এটা ছিল এই যে, জনপদসমূহের কতিপয় অবস্থা যা আমি তোমার নিকট বর্ণনা করছি, ওগুলির মধ্যে কোন কোনটির সম্পূর্ণ বিলুপ্তি ঘটেছে।



ফযলুর রহমান: এ হল জনপদসমূহের কিছু সংবাদ যা আমি তোমার কাছে বর্ণনা করছি। এসব জনপদের মধ্যে কতক অবশিষ্ট আছে, আর কতক নিশ্চিহ্ন হয়ে গিয়েছে।



মুহিউদ্দিন খান: এ হচ্ছে কয়েকটি জনপদের সামান্য ইতিবৃত্ত, যা আমি আপনাকে শোনাচ্ছি। তন্মধ্যে কোন কোনটি এখনও বর্তমান আছে আর কোন কোনটির শিকড় কেটে দেয়া হয়েছে।



জহুরুল হক: এই হচ্ছে জনপদসমূহের কিছু সংবাদ যা তোমার কাছে বর্ণনা করলাম, এগুলোর মধ্যে কতকটা দাঁড়িয়ে আছে, আর কেটে ফেলা হয়েছে।



Sahih International: That is from the news of the cities, which We relate to you; of them, some are [still] standing and some are [as] a harvest [mowed down].



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০০. এগুলো জনপদসমূহের কিছু সংবাদ যা আমরা আপনার কাছে বর্ণনা করছি। এগুলোর মধ্যে কিছু এখনো বিদ্যমান এবং কিছু নির্মুল হয়েছে।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০০) এটা ছিল সেই জনপদসমূহের কতিপয় অবস্থা যা আমি তোমার নিকট বর্ণনা করছি, ওগুলির মধ্যে কোন কোন জনপদ তো বিদ্যমান রয়েছে এবং কোন কোনটি নির্মূল হয়ে গেছে।[1]


তাফসীর:

[1] قائم (বিদ্যমান) দ্বারা ঐ সকল শহর বা জনপদকে বুঝানো হয়েছে, যার ধংসাবশেষ এখনও ছাদসহ বিদ্যমান রয়েছে। আর حصيد ,محصود এর অর্থে; সেই শহর বা জনপদকে বুঝানো হয়েছে, যা কাটা ফসলের মত নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী যুগের যে কতিপয় শহর ও জনপদের কাহিনী আমি বর্ণনা করছি, তার মধ্যে কোন কোন শহরের ধংসাবশেষ এখনও বর্তমান আছে, যা শিক্ষামূলক স্মৃতি। আর কোন কোন জনপদকে এমনভাবে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে, যা একেবারে দুনিয়া থেকে মিটে গেছে এবং শুধু ইতিহাসের পাতায় তা বাকি রয়ে গেছে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০০-১০২ নং আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়::



قَآئِمٌ বিদ্যমান দ্বারা ঐ সকল শহর বা জনপদকে বুঝানো হয়েছে, যার ধ্বংসাবশেষ এখনও ছাদসহ বিদ্যমান রয়েছে। আর حَصِيْدٌ এর অর্থে সে শহর বা জনপদকে বুঝানো হয়েছে যা কাটা ফসলের মত নিশ্চি‎হ্ন হয়ে গেছে। অর্থাৎ পূর্ববর্তী যুগের যে কতিপয় শহর ও জনপদের কাহিনী আমি বর্ণনা করছি, তার মধ্যে কোন কোন শহরের ধ্বংসাবশেষ এখনও বর্তমান আছে, যা শিক্ষামূলক স্মৃতি। আর কোন কোন জনপদকে এমনভাবে নিশ্চিহ্ন করা হয়েছে যা একেবারে দুনিয়া থেকে মিটে গেছে এবং শুধু ইতিহাসের পাতায় তা বাকি রয়ে গেছে। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে ধ্বংস করার মাধ্যমে তাদের ওপর কোনই অত্যাচার করেননি। বরং তারা তাদের কৃতকর্মের ফলাফলস্বরূপ এ শাস্তি পেয়েছে। আর আল্লাহ তা‘আলা কারো প্রতি জুলুমকারীও নন। যেমন আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَمَا اللّٰهُ يُرِيْدُ ظُلْمًا لِّلْعِبَادِ)



“আল্লাহ তো বান্দাদের প্রতি কোন জুলুম করতে চান না।” (সূরা মু’মিন ৪০:৩১) বরং এই সমস্ত মানুষেরা তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করেছে।



(وَمَنْ يَّتَعَدَّ حُدُوْدَ اللّٰهِ فَأُولٰ۬ئِكَ هُمُ الظَّالِمُوْنَ)



“আর যারা আল্লাহর সীমা অতিক্রম করবে তারাই হবে অত্যাচারী।” (সূরা বাক্বারা ২:২২৯)



সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা কারো প্রতি জুলুম করেন না বরং মানুষেরা নিজেই আল্লাহ তা‘আলার নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে নিজেদের প্রতি জুলুম করে। অতএব যারা আল্লাহ তা‘আলা ছাড়া অন্যের ইবাদত করে তাদের সে সকল মা‘বূদ কোন উপকার করতে পারেনি এবং কিয়ামতের দিনও পারবে না। অথচ তাদের বিশ্বাস ছিল যে, তাদের মা‘বূদ ক্ষতি থেকে রক্ষা করবে, কল্যাণ বয়ে আনবে।



(وَكَذٰلِكَ أَخْذُ رَبِّكَ)



অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা যেমন পূর্ববর্তী জনপদসমূহকে অপরাধের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছেন তেমনি ভবিষ্যতেও যত অত্যাচারি জালিম জাতির আগমন ঘটবে তাদেরকে শাস্তি দিতে সক্ষম। হাদীসে এসেছে: আল্লাহ তা‘আলা অবশ্যই জালিমদেরকে অবকাশ দেন। কিন্তু যখন তাদেরকে পাকড়াও করেন, তখন কোন সুযোগ থাকে না। অতঃপর তিনি এ আয়াত পাঠ করেন। (সহীহ বুখারী হা: ৪৬৮৬, সহীহ মুসলিম হা: ২৫৮৩) সুতরাং আমাদের সতর্ক হওয়া উচিত, আমাদের দ্বারা যেন আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্যতামূলক কোন কাজ না হয়। কারণ সেই আল্লাহ তা‘আলা এখনো আছেন এবং থাকবেন যিনি পূর্বের বিভিন্ন অবাধ্য জাতিকে পাপের কারণে ধ্বংস করে দিয়েছেন।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দার প্রতি জুলুম করেন না।

২. আল্লাহ তা‘আলা ব্যতীত দুনিয়াতে যাদের উপাসনা করা হয় তারা আখিরাতে ক্ষতির কারণ হবে।

৩. মু’মিনদের সতর্ক হওয়া উচিত, তাদের দ্বারা যেন আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্যতামূলক কোন কাজ না হয়।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১০০-১০১ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ তাআ’লা নবীদের ও তাদের উম্মত বর্গের ঘটনাবলী এবং কিভাবে তিনি কাফিরদেরকে ধ্বংস করেন এবং মুমিনমু’মিনদেরকে মুক্তি দেন, এসব বর্ণনা করার পর তিনি এখানে বলেনঃ এগুলি হচ্ছে ঐ গ্রামবাসীদের ঘটনা যা আমি তোমার (রাসূলুল্লাহর সঃ) সামনে বর্ণনা করছি। ওগুলির মধ্যে কতকগুলি গ্রাম এখনো আবাদ রয়েছে এবং কতকগুলি একেবারে বিলুপ্ত হয়ে গেছে।

আল্লাহ পাক বলেনঃ আমি তাদের প্রতি অত্যাচার করে তাদেরকে ধ্বংস করি নাই। বরং তারা নিজেরাই কুফরী ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করার কারণে নিজেদেরকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দেয়। আর তারা যে সব বাতিল মা’বুদের উপর নির্ভর করেছিল বিপদের সময় তারা তাদের কোনই কাজে আসে নাই। বরং তাদের পূজা পার্বনই তাদের ধ্বংস ও ক্ষতির কারণ হয়। উভয় জগতের শাস্তি তাদের উপর পতিত হয়।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।