আল কুরআন


সূরা হূদ (আয়াত: 10)

সূরা হূদ (আয়াত: 10)



হরকত ছাড়া:

ولئن أذقناه نعماء بعد ضراء مسته ليقولن ذهب السيئات عني إنه لفرح فخور ﴿١٠﴾




হরকত সহ:

وَ لَئِنْ اَذَقْنٰهُ نَعْمَآءَ بَعْدَ ضَرَّآءَ مَسَّتْهُ لَیَقُوْلَنَّ ذَهَبَ السَّیِّاٰتُ عَنِّیْ ؕ اِنَّهٗ لَفَرِحٌ فَخُوْرٌ ﴿ۙ۱۰﴾




উচ্চারণ: ওয়ালাই আযাকনা-হু না‘মাআ বা‘দা দাররাআ মাছছাতহু লাইয়াকূলান্না যাহাবাছ ছাইয়িআ-তু‘আন্নী ইন্নাহূলাফারিহুন ফাখূর।




আল বায়ান: আর দুঃখ-দুর্দশা স্পর্শ করার পর যদি আমি তাকে নিআমত আস্বাদন করাই, তাহলে সে অবশ্যই বলবে, ‘আমার থেকে বিপদ-আপদ দূর হয়ে গেছে, আর সে হবে অতি উৎফুল্ল, অহঙ্কারী।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০. আর যদি দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করার পর আমরা তাকে সুখ আস্বাদন করাই তখন সে অবশ্যই বলবে, আমার বিপদ-আপদ কেটে গেছে, আর সে তো হয় উৎফুল্ল ও অহংকারী।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আর যদি তার উপরে আসা দুঃখ কষ্টের পর তাকে নি‘মাতের স্বাদ আস্বাদন করাই, তখন সে অবশ্য অবশ্যই বলবে, ‘আমার দূরবস্থা কেটে গেছে’। তখন সে আনন্দে উৎফুল্ল হয়, হয়ে পড়ে অহঙ্কারী।




আহসানুল বায়ান: (১০) আর যদি তার উপর আপতিত কোন কষ্টের পর তাকে কোন নিয়ামত আস্বাদন করাই, তাহলে সে বলতে শুরু করে, ‘আমার সব দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে গেল’; [1] (আর তখন) সে উৎফুল্ল অহংকারী হয়ে যায়। [2]



মুজিবুর রহমান: আর তাকে বিপদ-আপদ স্পর্শ করার পর আমি যদি তাকে নি‘আমাতের স্বাদ গ্রহণ করাই তখন সে বলতে শুরু করেঃ আমার সব দুঃখ কষ্ট দূর হয়ে গেল। (আর) সে গর্ব করতে থাকে, আত্মপ্রশংসা করতে থাকে।



ফযলুর রহমান: আর যদি দুঃখ-কষ্ট স্পর্শ করার পর তাকে আমি সুখ আস্বাদন করাই তাহলে সে বলে, “আমার দুরবস্থা কেটে গিয়েছে।” সে তখন খুব খুশী ও অহংকারী হয়।



মুহিউদ্দিন খান: আর যদি তার উপর আপতিত দুঃখ কষ্টের পরে তাকে সুখভোগ করতে দেই, তবে সে বলতে থাকে যে, আমার অমঙ্গল দূর হয়ে গেছে, আর সে আনন্দে আত্নহারা হয়, অহঙ্কারে উদ্দত হয়ে পড়ে।



জহুরুল হক: আর যদি আমরা তাকে অনুগ্রহের আস্বাদ করাই দুঃখ-কষ্ট তাকে স্পর্শ করার পরে সে তখন বলেই থাকে -- "আমার থেকে বিপদ-আপদ কেটে গেছে।" নিঃসন্দেহ সে উল্লসিত, অহংকারী, --



Sahih International: But if We give him a taste of favor after hardship has touched him, he will surely say, "Bad times have left me." Indeed, he is exultant and boastful -



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০. আর যদি দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করার পর আমরা তাকে সুখ আস্বাদন করাই তখন সে অবশ্যই বলবে, আমার বিপদ-আপদ কেটে গেছে, আর সে তো হয় উৎফুল্ল ও অহংকারী।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০) আর যদি তার উপর আপতিত কোন কষ্টের পর তাকে কোন নিয়ামত আস্বাদন করাই, তাহলে সে বলতে শুরু করে, ‘আমার সব দুঃখ-কষ্ট দূর হয়ে গেল’; [1] (আর তখন) সে উৎফুল্ল অহংকারী হয়ে যায়। [2]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, ভাবে যে আমার কষ্টের সময় অতিবাহিত হয়ে গেছে। আমার আর কোন কষ্ট আসবে না।

[2] অর্থাৎ, তার নিকট যা কিছু থাকে, তা নিয়ে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায় এবং অন্যদের উপর অহংকার করে। অবশ্য এই মন্দ গুণ থেকে মু’মিন ও সৎকর্মশীলগণ স্বতন্ত্র, যেমন পরের আয়াতে এই কথা পরিষ্কার বুঝা যায়।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৯-১১ নং আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়::



অত্র আয়াতে মানুষের মধ্যে সাধারণত যে মন্দ গুণ পাওয়া যায়, এখানে তারই বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। সুখ-দুঃখ এ দু’টি মিলিয়ে মানুষের জীবন, কেউ আজীবন সুখে থাকবে না, আবার কেউ আজীবন দুঃখে থাকবে না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষকে যখন সুখের পর দুঃখ-দুর্দশা স্পর্শ করে তখন সে একেবারে নিরাশ হয়ে যায়। সে ভুলেই যায় যে, কিছুদিন পূর্বেও সে সুখী ছিল। এই সুখ যে তার আবার ফিরে আসতে পারে তা কল্পনাই করে না। মনে হয় যেন সে ইতোপূর্বে কোন আরাম-আয়েশ ভোগ করেনি। তাই সে নিরাশ হয়ে আল্লাহ তা‘আলার প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَإِذَآ أَذَقْنَا النَّاسَ رَحْمَةً فَرِحُوْا بِهَا ط وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌۭ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيْهِمْ إِذَا هُمْ يَقْنَطُوْنَ)‏



“আর যখন মানুষকে রহমতের স্বাদ ভোগ করাই, তখন তারা তাতে আনন্দিত হয়, আর যদি তাদের কাজ-কর্মের দরুন তাদের ওপর কোন বিপদ আসে, তবে তখনই তারা নিরাশ হয়ে পড়ে।” (সূরা রূম ৩০:৩৬)



পক্ষান্তরে তাকে যখন দুঃখের পর সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দান করি তখন সে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়, সে অহংকারে ফেটে পড়ে, অতীতের দুঃখের কথা ভুলে যায়। মনে হয় যেন সেই দুঃখ তাকে আর কোন দিন স্পর্শ করতে পারবে না।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(إِذْ قَالَ لَه۫ قَوْمُه۫ لَا تَفْرَحْ إِنَّ اللّٰهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِيْنَ)‏



“স্মরণ কর! যখন তার সম্প্রদায় তাকে বলেছিল, ‘অহঙ্কার কর না, নিশ্চয় আল্লাহ অহঙ্কারীদেরকে পছন্দ করেন না।” (সূরা কাসাস ২৮:৭৬)



তবে যারা আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখে তারা এই দু‘ প্রকার বদ অভ্যাস থেকে মুক্ত। তারা দুঃখের সময় নিরাশও হয় না এবং সুখের সময় আনন্দে আত্মহারাও হয় না তারা সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করে এবং আল্লাহ তা‘আলার ওপর ধৈর্য ধারণ করে। তাদের জন্যই রয়েছে ক্ষমা ও মহা পুরস্কার।



রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: সে সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনের জন্য যে ফায়সালাই করেন তাদের জন্য ভালই করেন। যদি সে সুখ লাভ করে তাহলে তার ওপর সে আল্লাহ তা‘আলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে যা তার জন্য মঙ্গলময়। আর যদি কোন দুঃখ কষ্ট পায় তাহলে ধৈর্য ধারণ করে, এটাও তার জন্য মঙ্গলময়। (সহীহ মুসলিম হা: ২৯৯৯)



অন্য এক হাদীসে এসেছে: একজন মু’মিন যখন কোন দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয় এবং কষ্ট পায় এমনকি তার পায়ে কাঁটা বিদ্ধ হয় তখন আল্লাহ তার কারণে সে মু’মিনের গুনাহ ক্ষমা করেন। (সহীহ বুখারী হা: ৫৬৪১)



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কষ্টের সময় নিরাশ হওয়া যাবে না এবং সুখের সময় আনন্দে আত্মহারাও হওয়া যাবে না।

২. সর্বদা আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করতে হবে এবং তাঁর প্রশংসা করতে হবে।

৩. আল্লাহ তা‘আলার রহমত থেকে নিরাশ হওয়া কবিরা গুনাহ।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৯-১১ নং আয়াতের তাফসীর

পূর্ণ ঈমানদারগণ ছাড়া সাধারণভাবে জনগণের মধ্যে যে সব খারাপ গুণ ও বদ অভ্যাস রয়েছে, আল্লাহ তাআ’লা এখানে তারই বর্ণনা দিচ্ছেন যে, মানুষ সুখের পর দুঃখ-কষ্টে পতিত হলে সম্পূর্ণরূপে নিরাশ ও অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে এবং মহান আল্লাহর প্রতি বদ ধারণা পোষণ করতে শুরু করে দেয়, ইতিপূর্বে যেন সে কোন আরাম ও সুখ ভোগ করেই নাই। অথবা এই দুঃখ-কষ্টের পর পুনরায় যে তাদের উপর শান্তি নেমে আসতে পারে এ আশাও তারা করে না। পক্ষান্তরে, দুঃখ-কষ্টে পতিত হওয়ার পর যদি সুখ শান্তি তাদেরকে স্পর্শ করে তখন তারা বলতে শুরু করে যে, দুঃসময় তাদের উপর থেকে সরে গেছে। এ কথা বলে তারা খুশীতে আত্মহারা হয়ে যায় এবং অন্যদের উপর গর্ব করতে থাকে। এর পর আবার যে তাদের উপর দুঃখ বিপদ নেমে আসতে পারে সে সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণরূপে বেখেয়াল ও নিশ্চিন্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু যারা মু’মিন তারা এই বদ অভ্যাস থেকে মুক্ত। তারা দুঃখ-দুর্দশায় ধৈর্য ধারণ করে এবং সুখ ও আরামের সময় মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ও তার অনুগত হয়ে থাকে। এসব লোক এর বিনিময়ে ক্ষমা ও বড় পুরস্কার লাভ করে। যেমন হাদীসে এসেছে (রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন): “যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ! মু'মিনের উপর এমন কোন কষ্ট, বিপদ, দুঃখ ও চিন্তা পতিত হয় না যার কারণে আল্লাহ তাআ’লা তার গুণাহ মাফ না করেন, এমন কি একটা কাঁটা ফুটলেও।”

সহীহ্ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে। (যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন): “যাঁর হাতে আমার জীবন রয়েছে তাঁর শপথ! “মু'মিনের জন্যে আল্লাহর প্রত্যেকটা ফায়সালা কল্যাণকর হয়ে থাকে। সে সুখ শান্তির সময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, ফলে তা তার জন্যে কল্যাণকর হয় এবং দুঃখ-কষ্টের সময় ধৈর্য ধারণ করে, ফলে তখনই সে কল্যাণ লাভ করে থাকে।” এ জন্যেই আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ “আসরের সময়ের শপথ! নিশ্চয় মানুষ অত্যন্ত ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। কিন্তু যারা ঈমান আনে, ভাল কাজ করে, একে অপরকে সত্যের প্রতি উপদেশ দিতে থাকে এবং একে অন্যকে (আমলের) পাবন্দ থাকার উপদেশ দিতে থাকে। (তারাই ক্ষতি হতে রক্ষা পাবে)” মহান আল্লাহ আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “নিশ্চয় মানুষকে দুর্বল মনা করে সৃষ্টি করা হয়েছে। যখন তাকে দুঃখ স্পর্শ করে তখন সে হায়-হুতাশ করতে থাকে। আর যখন সে স্বচ্ছল হয় তখন কার্পণ্য করতে শুরু করে। (৭০:১৯)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।