আল কুরআন


সূরা হূদ (আয়াত: 9)

সূরা হূদ (আয়াত: 9)



হরকত ছাড়া:

ولئن أذقنا الإنسان منا رحمة ثم نزعناها منه إنه ليئوس كفور ﴿٩﴾




হরকত সহ:

وَ لَئِنْ اَذَقْنَا الْاِنْسَانَ مِنَّا رَحْمَۃً ثُمَّ نَزَعْنٰهَا مِنْهُ ۚ اِنَّهٗ لَیَـُٔوْسٌ کَفُوْرٌ ﴿۹﴾




উচ্চারণ: ওয়ালাইন আযাকনাল ইনছা-না মিন্না-রাহমাতান ছুম্মা নাযা‘না-হা-মিনহু ইন্নাহূ লাইয়াঊছুন কাফূর।




আল বায়ান: আর যদি আমি মানুষকে আমার পক্ষ থেকে রহমত আস্বাদন করাই, অতঃপর তার থেকে তা কেড়ে নেই, নিশ্চয় সে তখন (হয়ে পড়বে) নিরাশ, অকৃতজ্ঞ।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯. আর যদি আমরা মানুষকে আমাদের কাছ থেকে রহমত আস্বাদন করাই(১) ও পরে তার কাছ থেকে আমরা তা ছিনিয়ে নেই তবে তো নিশ্চয় সে হয়ে পড়ে হতাশ ও অকৃতজ্ঞ।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি যদি মানুষকে আমার পক্ষ থেকে রহমত আস্বাদন করাই অতঃপর তা তার থেকে ছিনিয়ে নেই, তখন সে অবশ্যই হতাশ ও অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে।




আহসানুল বায়ান: (৯) আর যদি আমি মানুষকে স্বীয় অনুগ্রহ আস্বাদন করিয়ে তার নিকট হতে তা ছিনিয়ে নিই, তাহলে সে নিরাশ ও অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে।[1]



মুজিবুর রহমান: আমি যদি মানুষকে আমার পক্ষ হতে করুণার স্বাদ গ্রহণ করাই, অতঃপর তার রাশ টেনে ধরি তাহলে সে নিরাশ ও অকৃতজ্ঞ হয়ে যায়।



ফযলুর রহমান: আর আমি যদি মানুষকে আমার অনুগ্রহের স্বাদ গ্রহণ করাই এবং পরে তা প্রত্যাহার করে নেই তাহলে নিশ্চয়ই সে ভীষণ হতাশ ও অকৃতজ্ঞ হয়।



মুহিউদ্দিন খান: আর অবশ্যই যদি আমি মানুষকে আমার রহমতের আস্বাদ গ্রহণ করতে দেই, অতঃপর তা তার থেকে ছিনিয়ে নেই; তাহলে সে হতাশ ও কৃতঘ্ন হয়।



জহুরুল হক: আর যদি আমরা মানূষকে আমাদের থেকে করুণার আস্বাদ করাই ও পরে তার থেকে তা নিয়ে নিই, তাহলে সে নিশ্চয়ই হবে হতাশ্বাস, অকৃতজ্ঞ।



Sahih International: And if We give man a taste of mercy from Us and then We withdraw it from him, indeed, he is despairing and ungrateful.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৯. আর যদি আমরা মানুষকে আমাদের কাছ থেকে রহমত আস্বাদন করাই(১) ও পরে তার কাছ থেকে আমরা তা ছিনিয়ে নেই তবে তো নিশ্চয় সে হয়ে পড়ে হতাশ ও অকৃতজ্ঞ।


তাফসীর:

(১) অন্য আয়াতেও আল্লাহ্ তা'আলা এ বিষয়টি তুলে ধরেছেন। তিনি বলেন, “আর যদি দুঃখ-দৈন্য স্পর্শ করার পর আমরা তাকে আমার পক্ষ থেকে অনুগ্রহের আস্বাদন দেই তখন সে অবশ্যই বলে থাকে, এ আমার প্রাপ্য এবং আমি মনে করি না যে, কিয়ামত সংঘটিত হবে। আর আমি যদি আমার রবের কাছে ফিরে যাইও তার কাছে নিশ্চয় আমার জন্য কল্যাণই থাকবে। অতএব, আমরা কাফিরদেরকে তাদের আমল সম্বন্ধে অবশ্যই অবহিত করব এবং তাদেরকে অবশ্যই আস্বাদন করাব কঠোর শাস্তি।” [সূরা ফুসসিলাত: ৫০] আরও বলেন, “আর আমরা যখন মানুষকে আমাদের পক্ষ থেকে কোন রহমত আস্বাদন করাই তখন সে এতে উৎফুল্ল হয় এবং যখন তাদের কৃতকর্মের জন্য তাদের বিপদ-আপদ ঘটে তখন তো মানুষ হয়ে পড়ে খুবই অকৃতজ্ঞ।” [সূরা আশ-শূরা: ৪৮]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৯) আর যদি আমি মানুষকে স্বীয় অনুগ্রহ আস্বাদন করিয়ে তার নিকট হতে তা ছিনিয়ে নিই, তাহলে সে নিরাশ ও অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে।[1]


তাফসীর:

[1] সাধারণতঃ মানুষের মধ্যে যে খারাপ গুণ পাওয়া যায়, এই আয়াতে ও পরের আয়াতে তারই বর্ণনা রয়েছে। হতাশা ভবিষ্যতের সাথে সম্পৃক্ত আর অকৃতজ্ঞতা অতীত ও বর্তমানের সাথে সম্পৃক্ত।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৯-১১ নং আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়::



অত্র আয়াতে মানুষের মধ্যে সাধারণত যে মন্দ গুণ পাওয়া যায়, এখানে তারই বর্ণনা দেয়া হচ্ছে। সুখ-দুঃখ এ দু’টি মিলিয়ে মানুষের জীবন, কেউ আজীবন সুখে থাকবে না, আবার কেউ আজীবন দুঃখে থাকবে না। কিন্তু অধিকাংশ মানুষকে যখন সুখের পর দুঃখ-দুর্দশা স্পর্শ করে তখন সে একেবারে নিরাশ হয়ে যায়। সে ভুলেই যায় যে, কিছুদিন পূর্বেও সে সুখী ছিল। এই সুখ যে তার আবার ফিরে আসতে পারে তা কল্পনাই করে না। মনে হয় যেন সে ইতোপূর্বে কোন আরাম-আয়েশ ভোগ করেনি। তাই সে নিরাশ হয়ে আল্লাহ তা‘আলার প্রতি অকৃতজ্ঞ হয়। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَإِذَآ أَذَقْنَا النَّاسَ رَحْمَةً فَرِحُوْا بِهَا ط وَإِنْ تُصِبْهُمْ سَيِّئَةٌۭ بِمَا قَدَّمَتْ أَيْدِيْهِمْ إِذَا هُمْ يَقْنَطُوْنَ)‏



“আর যখন মানুষকে রহমতের স্বাদ ভোগ করাই, তখন তারা তাতে আনন্দিত হয়, আর যদি তাদের কাজ-কর্মের দরুন তাদের ওপর কোন বিপদ আসে, তবে তখনই তারা নিরাশ হয়ে পড়ে।” (সূরা রূম ৩০:৩৬)



পক্ষান্তরে তাকে যখন দুঃখের পর সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দান করি তখন সে আনন্দে আত্মহারা হয়ে যায়, সে অহংকারে ফেটে পড়ে, অতীতের দুঃখের কথা ভুলে যায়। মনে হয় যেন সেই দুঃখ তাকে আর কোন দিন স্পর্শ করতে পারবে না।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(إِذْ قَالَ لَه۫ قَوْمُه۫ لَا تَفْرَحْ إِنَّ اللّٰهَ لَا يُحِبُّ الْفَرِحِيْنَ)‏



“স্মরণ কর! যখন তার সম্প্রদায় তাকে বলেছিল, ‘অহঙ্কার কর না, নিশ্চয় আল্লাহ অহঙ্কারীদেরকে পছন্দ করেন না।” (সূরা কাসাস ২৮:৭৬)



তবে যারা আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলের ওপর দৃঢ় বিশ্বাস রাখে তারা এই দু‘ প্রকার বদ অভ্যাস থেকে মুক্ত। তারা দুঃখের সময় নিরাশও হয় না এবং সুখের সময় আনন্দে আত্মহারাও হয় না তারা সর্বাবস্থায় আল্লাহ তা‘আলার প্রশংসা করে এবং আল্লাহ তা‘আলার ওপর ধৈর্য ধারণ করে। তাদের জন্যই রয়েছে ক্ষমা ও মহা পুরস্কার।



রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেন: সে সত্তার শপথ, যার হাতে আমার প্রাণ! আল্লাহ তা‘আলা মু’মিনের জন্য যে ফায়সালাই করেন তাদের জন্য ভালই করেন। যদি সে সুখ লাভ করে তাহলে তার ওপর সে আল্লাহ তা‘আলার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে যা তার জন্য মঙ্গলময়। আর যদি কোন দুঃখ কষ্ট পায় তাহলে ধৈর্য ধারণ করে, এটাও তার জন্য মঙ্গলময়। (সহীহ মুসলিম হা: ২৯৯৯)



অন্য এক হাদীসে এসেছে: একজন মু’মিন যখন কোন দুশ্চিন্তাগ্রস্থ হয় এবং কষ্ট পায় এমনকি তার পায়ে কাঁটা বিদ্ধ হয় তখন আল্লাহ তার কারণে সে মু’মিনের গুনাহ ক্ষমা করেন। (সহীহ বুখারী হা: ৫৬৪১)



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. কষ্টের সময় নিরাশ হওয়া যাবে না এবং সুখের সময় আনন্দে আত্মহারাও হওয়া যাবে না।

২. সর্বদা আল্লাহ তা‘আলার ওপর ভরসা করতে হবে এবং তাঁর প্রশংসা করতে হবে।

৩. আল্লাহ তা‘আলার রহমত থেকে নিরাশ হওয়া কবিরা গুনাহ।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৯-১১ নং আয়াতের তাফসীর

পূর্ণ ঈমানদারগণ ছাড়া সাধারণভাবে জনগণের মধ্যে যে সব খারাপ গুণ ও বদ অভ্যাস রয়েছে, আল্লাহ তাআ’লা এখানে তারই বর্ণনা দিচ্ছেন যে, মানুষ সুখের পর দুঃখ-কষ্টে পতিত হলে সম্পূর্ণরূপে নিরাশ ও অকৃতজ্ঞ হয়ে পড়ে এবং মহান আল্লাহর প্রতি বদ ধারণা পোষণ করতে শুরু করে দেয়, ইতিপূর্বে যেন সে কোন আরাম ও সুখ ভোগ করেই নাই। অথবা এই দুঃখ-কষ্টের পর পুনরায় যে তাদের উপর শান্তি নেমে আসতে পারে এ আশাও তারা করে না। পক্ষান্তরে, দুঃখ-কষ্টে পতিত হওয়ার পর যদি সুখ শান্তি তাদেরকে স্পর্শ করে তখন তারা বলতে শুরু করে যে, দুঃসময় তাদের উপর থেকে সরে গেছে। এ কথা বলে তারা খুশীতে আত্মহারা হয়ে যায় এবং অন্যদের উপর গর্ব করতে থাকে। এর পর আবার যে তাদের উপর দুঃখ বিপদ নেমে আসতে পারে সে সম্পর্কে তারা সম্পূর্ণরূপে বেখেয়াল ও নিশ্চিন্ত হয়ে পড়ে। কিন্তু যারা মু’মিন তারা এই বদ অভ্যাস থেকে মুক্ত। তারা দুঃখ-দুর্দশায় ধৈর্য ধারণ করে এবং সুখ ও আরামের সময় মহান আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে ও তার অনুগত হয়ে থাকে। এসব লোক এর বিনিময়ে ক্ষমা ও বড় পুরস্কার লাভ করে। যেমন হাদীসে এসেছে (রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন): “যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ! মু'মিনের উপর এমন কোন কষ্ট, বিপদ, দুঃখ ও চিন্তা পতিত হয় না যার কারণে আল্লাহ তাআ’লা তার গুণাহ মাফ না করেন, এমন কি একটা কাঁটা ফুটলেও।”

সহীহ্ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে। (যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন): “যাঁর হাতে আমার জীবন রয়েছে তাঁর শপথ! “মু'মিনের জন্যে আল্লাহর প্রত্যেকটা ফায়সালা কল্যাণকর হয়ে থাকে। সে সুখ শান্তির সময় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে, ফলে তা তার জন্যে কল্যাণকর হয় এবং দুঃখ-কষ্টের সময় ধৈর্য ধারণ করে, ফলে তখনই সে কল্যাণ লাভ করে থাকে।” এ জন্যেই আল্লাহ তাআ’লা বলেনঃ “আসরের সময়ের শপথ! নিশ্চয় মানুষ অত্যন্ত ক্ষতির মধ্যে রয়েছে। কিন্তু যারা ঈমান আনে, ভাল কাজ করে, একে অপরকে সত্যের প্রতি উপদেশ দিতে থাকে এবং একে অন্যকে (আমলের) পাবন্দ থাকার উপদেশ দিতে থাকে। (তারাই ক্ষতি হতে রক্ষা পাবে)” মহান আল্লাহ আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “নিশ্চয় মানুষকে দুর্বল মনা করে সৃষ্টি করা হয়েছে। যখন তাকে দুঃখ স্পর্শ করে তখন সে হায়-হুতাশ করতে থাকে। আর যখন সে স্বচ্ছল হয় তখন কার্পণ্য করতে শুরু করে। (৭০:১৯)





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।