আল কুরআন


সূরা ইউনুস (আয়াত: 96)

সূরা ইউনুস (আয়াত: 96)



হরকত ছাড়া:

إن الذين حقت عليهم كلمة ربك لا يؤمنون ﴿٩٦﴾




হরকত সহ:

اِنَّ الَّذِیْنَ حَقَّتْ عَلَیْهِمْ کَلِمَتُ رَبِّکَ لَا یُؤْمِنُوْنَ ﴿ۙ۹۶﴾




উচ্চারণ: ইন্নাল্লাযীনা হাক্কাত ‘আলাইহিম কালিমাতুরাব্বিকা লা-ইউ’মিনূন।




আল বায়ান: নিশ্চয় যাদের উপর তোমার রবের বাণী সত্য হয়েছে, তারা ঈমান আনবে না;




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯৬. নিশ্চয় যাদের বিরুদ্ধে আপনার রবের বাক্য সাব্যস্ত হয়ে গেছে, তারা ঈমান আনবে না।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তাদের সম্পর্কে তোমার প্রতিপালকের বাক্য সত্য প্রমাণিত হয়েছে যে, তারা ঈমান আনবে না,




আহসানুল বায়ান: (৯৬) নিঃসন্দেহে যাদের সম্বন্ধে তোমার প্রতিপালকের বাক্য সত্য হয়েছে, তারা বিশ্বাস করবে না;



মুজিবুর রহমান: নিঃসন্দেহে যাদের সম্বন্ধে তোমার রবের বাক্য সাব্যস্ত হয়েছে, তারা কখনও ঈমান আনবেনা ।



ফযলুর রহমান: যাদের ব্যাপারে (কাফের অবস্থায় মারা যাবে বলে) তোমার প্রভুর কথা চূড়ান্ত হয়ে আছে তারা ঈমান আনবে না;



মুহিউদ্দিন খান: যাদের ব্যাপারে তোমার পরওয়ারদেগারের সিদ্ধান্ত নির্ধারিত হয়ে গেছে তারা ঈমান আনবে না।



জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ যাদের বিরুদ্ধে তোমার প্রভুর বাক্য সাব্যস্ত হয়ে গেছে তারা বিশ্বাস করবে না, --



Sahih International: Indeed, those upon whom the word of your Lord has come into effect will not believe,



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৯৬. নিশ্চয় যাদের বিরুদ্ধে আপনার রবের বাক্য সাব্যস্ত হয়ে গেছে, তারা ঈমান আনবে না।(১)


তাফসীর:

(১) সে কথাটি হচ্ছে এই যে, যারা নিজেরাই সত্যের অন্বেষী হয় না এবং যারা নিজেদের মনের দুয়ারে জিদ, হঠকারিতা, অন্ধগোষ্ঠি প্রীতি ও সংকীর্ণ স্বার্থ-বিদ্বেষের তালা রাখে আর যারা দুনিয়া প্রেমে বিভোর হয়ে পরিণামের কথা চিন্তাই করে না তারাই ঈমান লাভের সুযোগ থেকে বঞ্চিত থেকে যায়। হ্যাঁ তারা একসময় ঈমান আনবে, আর তা হচ্ছে, যখন তারা মর্মন্তদ শাস্তি দেখতে পাবে কিন্তু তখনকার ঈমান আর গ্রহণযোগ্য হবে না। আর এজন্যই মূসা আলাইহিস সালাম যখন ফিরআউন ও তার সভাষদদের উপর বদ-দোআ করলেন, তখন বলেছিলেন, “হে আমাদের রব! তাদের সম্পদ বিনষ্ট করুন, আর তাদের হৃদয় কঠিন করে দিন, তারা তো যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ না করা পর্যন্ত ঈমান আনবে না।” [ইবন কাসীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৯৬) নিঃসন্দেহে যাদের সম্বন্ধে তোমার প্রতিপালকের বাক্য সত্য হয়েছে, তারা বিশ্বাস করবে না;


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৯৪-৯৭ নং আয়াতের তাফসীর:



এখানে আল্লাহ তা‘আলা উম্মাতে মুহাম্মাদীকে উৎসাহ প্রদান করছেন যে, তারা যেন তাদের দীনের ওপর অটল থাকে। কারণ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্য নাবী, তাঁর সম্পর্কে পূর্ববর্তী কিতাব তাওরাত, ইঞ্জিলে বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এজন্য আল্লাহ তা‘আলা পূর্ববর্তী কিতাব যারা পাঠ করেছে তাদের কাছে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য বলেছেন। এখানে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলা হলেও উম্মাতে মুহাম্মাদী উদ্দেশ্য। কারণ কোন নাবী তার নবুওয়াতের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করতে পারে না। সুতরাং নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াতের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা যাবে না এবং মিথ্যাও প্রতিপন্ন করা যাবে না। যদি কেউ মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তাহলে পূর্বে মিথ্যা আরোপকারীদের মতই তার অবস্থা হবে এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের দলভুক্ত হবে। সে আখিরাতে নাজাত পাবে না। কারণ যাদের ওপর শাস্তি বাস্তবায়িত হয়েছে, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা মূলত ছিল কাফির। তারা আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলদের প্রতি ঈমান আনত না, তারা শুধু নিদর্শন দেখতে চাইত এবং ওযর পেশ করত। যেমন ফির‘আউন ও তার দলবল নিদর্শন দেখার পরও ঈমান আনেনি অনুরূপ তারাও নিদর্শন দেখতে চাইত। তাই আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তারা যদি সমস্ত নিদর্শনও দেখে এমনকি মৃত মানুষও যদি তাদের সাথে কথা বলে তবুও তারা ঈমান আনবে না। কারণ তাদের ওপর আল্লাহ তা‘আলার শাস্তির বিধান আবশ্যক হয়ে গেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَكَأَيِّنْ مِّنْ اٰيَةٍ فِي السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ يَمُرُّوْنَ عَلَيْهَا وَهُمْ عَنْهَا مُعْرِضُوْنَ)‏



“আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে অনেক নিদর্শন রয়েছে; তারা এ সমস্ত প্রত্যক্ষ করে, কিন্তু তারা এসব থেকে বিমুখ।” (সূরা ইউসুফ ১২:১০৫)



আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:



(وَمَا تَأْتِيْهِمْ مِّنْ اٰيَةٍ مِّنْ اٰيٰتِ رَبِّهِمْ إِلَّا كَانُوْا عَنْهَا مُعْرِضِيْنَ)‏



“তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলীর এমন কোন নিদর্শন তাদের নিকট উপস্থিত হয় না যা হতে তারা মুখ না ফেরায়।” (সূরা আন‘আম ৬:৪)



অতএব তাদের ইচ্ছানুযায়ী নিদর্শন প্রকাশ করে কোনই লাভ নেই। মূলত তারা ঈমান আনবে না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বর্ণনা পূর্ববর্তী কিতাবে দেয়া হয়েছে।

২. নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াতকে অস্বীকার বা সন্দেহ করলে আখিরাতে নাজাত পাওয়া যাবে না।

৩. যাদের ওপর শাস্তি বাস্তবায়িত হয়েছে তারা হল কাফির, তারা মু’মিন ছিল না।

৪. যে জানেনা সে যে ব্যক্তি জানে তার কাছে জিজ্ঞাসা করবে।

৫. দীনের মূল ভিত্তি এবং শাখা-প্রশাখা কোন একটির প্রতি সন্দেহ পোষণ করা কুফরী।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৯৪-৯৭ নং আয়াতের তাফসীর:

কাতাদা ইবনে আমা (রঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)! বলেছেনঃ “আমি সন্দেহও করি না এবং আমার জিজ্ঞেস করার কোন প্রয়োজনও নেই।এই আয়াতে উম্মতে মুহাম্মাদীকে দ্বীনের উপর অটল থাকার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। এতে জানানো হয়েছে যে, পূর্ববর্তী আসমানী গ্রন্থ তাওরাত, ইঞ্জীলে নবী (সঃ)-এর গুণাবলীর বর্ণনা বিদ্যমান ছিল। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “যারা নবী উম্মী (সঃ)-এর আনুগত্য করে, তারা এর উপর ভিত্তি করেই করে যে, তার গুণাবলীর বর্ণনা তারা তাওরাত ও ইঞ্জীলে লিখিত পেয়ে থাকে। কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোক তার উপর ঈমান আনয়ন করে না, অথচ তারা তার সত্যবাদিতা ও সততাকে এমনভাবে জানে ও চিনে, যেমনভাবে চিনে নিজেদের সন্তানদেরকে। তারা ইঞ্জীলের মধ্যে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে এবং নবী (সঃ)-এর গুণাবলী গোপন করে দেয়। হুজ্জত কায়েম হওয়ার পরেও তারা ঈমান আনে না। এ জন্যেই আল্লাহ পাক বলেনঃ “সত্যের প্রমাণাদি কায়েম হয়ে গেছে, কিন্তু যতই প্রমাণ তাদের কাছে উপস্থিত করা হাক না কেন, তারা ঐ পর্যন্ত ঈমান আনবে , যে পর্যন্ত না আল্লাহর আযাৰ অবলোকন করে। কিন্তু ঐ সময় তাদের ঈমান আনয়নে কোনই লাভ হবে না। কওমের এই পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার পরই মূসা (আঃ) তাদের উপর বদ দুআ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! তাদের ধন-সম্পদ ধ্বংস করে দিন এবং তাদের অন্তরসমূহের উপর মোহর লাগিয়ে দিন। শাস্তি দেখা ছাড়া তারা ঈমান আনবে না।” অনুরূপভাবে আল্লাহ পাকের উক্তি রয়েছে- “আমি যদি তাদের উপর ফিরিশতাও অবতীর্ণ করি এবং মৃত লোকেরা তাদের সাথে কথাও বলতে থাকে, আর সমস্তই যদি তাদের কাছে জমা করে দেয়া হয়, তবুও তারা ঈমান আনবে না। তাদের মধ্যে অধিকাংশ লোকই অজ্ঞ।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।