আল কুরআন


সূরা ইউনুস (আয়াত: 97)

সূরা ইউনুস (আয়াত: 97)



হরকত ছাড়া:

ولو جاءتهم كل آية حتى يروا العذاب الأليم ﴿٩٧﴾




হরকত সহ:

وَ لَوْ جَآءَتْهُمْ کُلُّ اٰیَۃٍ حَتّٰی یَرَوُا الْعَذَابَ الْاَلِیْمَ ﴿۹۷﴾




উচ্চারণ: ওয়ালাও জাআতহুম কুল্লুআ-য়াতিন হাত্তা-ইয়ারাউল ‘আযা-বাল আলীম।




আল বায়ান: যদিও তাদের নিকট সকল নিদর্শন এসে উপস্থিত হয়, যতক্ষণ না তারা যন্ত্রণাদায়ক আযাব প্রত্যক্ষ করে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯৭. যদিও তাদের কাছে সবগুলো নিদর্শন আসে, যে পর্যন্ত না তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেখতে পাবে(১)।




তাইসীরুল ক্বুরআন: এমনকি তাদের কাছে প্রত্যেকটি নিদর্শন আসলেও- যে পর্যন্ত না তারা ভয়াবহ শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে।




আহসানুল বায়ান: (৯৭) যদিও তাদের নিকট সমস্ত নিদর্শন আগত হয়, যে পর্যন্ত না তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ করেছে।[1]



মুজিবুর রহমান: যদিও তাদের নিকট সমস্ত প্রমাণ পৌঁছে যায়, যে পর্যন্ত না তারা যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।



ফযলুর রহমান: তাদের কাছে প্রতিটি নিদর্শন এলেও, যতক্ষণ না তারা কষ্টদায়ক শাস্তি দেখতে পাবে।



মুহিউদ্দিন খান: যদি তাদের সামনে সমস্ত নিদর্শনাবলী এসে উপস্থিত হয় তবুও যতক্ষণ না তারা দেখতে পায় বেদনাদায়ক আযাব।



জহুরুল হক: যদিও তাদের কাছে প্রতিটি নিদর্শন এসে যায়, যে পর্যন্ত না তারা মর্মন্তুদ শাস্তি প্রত্যক্ষ করে।



Sahih International: Even if every sign should come to them, until they see the painful punishment.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৯৭. যদিও তাদের কাছে সবগুলো নিদর্শন আসে, যে পর্যন্ত না তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেখতে পাবে(১)।


তাফসীর:

(১) শাস্তি দেখার পর তাদের ঈমান আর গ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হবে না। সূরা ইউনুসের ৮৮ নং আয়াতেও এ কথা বলা হয়েছে, মূসা আলাইহিস সালাম ফিরআউন সম্পর্কে বলেছিলেন যে, “ওরা তো মৰ্মম্ভদ শাস্তি প্রত্যক্ষ না করা পর্যন্ত ঈমান আনবে না” অনুরূপভাবে সূরা আল-আন’আমের ১১১ নং আয়াতে বলা হয়েছেঃ “আমি তাদের কাছে ফিরিশতা পাঠালেও এবং মৃতেরা তাদের সাথে কথা বললেও এবং সকল বস্তুকে তাদের সামনে হাযির করলেও আল্লাহর ইচ্ছে না হলে তারা কখনো ঈমান আনবে না; কিন্তু তাদের অধিকাংশই অজ্ঞ”। অর্থাৎ ঈমান না আনা তাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছে সুতরাং যত নিদর্শনই তাদের কাছে আসুক না কেন তা কোন কাজে লাগবে না।


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৯৭) যদিও তাদের নিকট সমস্ত নিদর্শন আগত হয়, যে পর্যন্ত না তারা যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রত্যক্ষ করেছে।[1]


তাফসীর:

[1] এরা ঐ সকল মানুষ, যারা কুফর ও আল্লাহর অবাধ্যাচরণে এমনভাবে নিমজ্জিত থাকে যে, তাদের উপর ওয়াজ-নসীহতের কোন প্রভাব পড়ে না এবং কোন প্রমাণ তাদের জন্য ফল দেয় না। কারণ পাপাচরণ করে করে সত্য গ্রহণের প্রাকৃতিক ক্ষমতা তারা শেষ করে দিয়েছে। তারা তাদের চোখ খুললেও তখন খুলে, যখন আল্লাহর শাস্তি তাদের মাথার উপর এসে পড়ে। আর তখন সেই ঈমান আল্লাহর নিকট গ্রহণযোগ্য হয় না। ((فَلَمْ يَكُ يَنْفَعُهُمْ إِيمَانُهُمْ لَمَّا رَأَوْا بَأْسَنَا ‘‘অতঃপর তাদের এ ঈমান তাদের কোন উপকারে আসল না, যখন তারা শাস্তি প্রত্যক্ষ করল।’’ (সূরা মু’মিন ৮৫ আয়াত)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৯৪-৯৭ নং আয়াতের তাফসীর:



এখানে আল্লাহ তা‘আলা উম্মাতে মুহাম্মাদীকে উৎসাহ প্রদান করছেন যে, তারা যেন তাদের দীনের ওপর অটল থাকে। কারণ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্য নাবী, তাঁর সম্পর্কে পূর্ববর্তী কিতাব তাওরাত, ইঞ্জিলে বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এজন্য আল্লাহ তা‘আলা পূর্ববর্তী কিতাব যারা পাঠ করেছে তাদের কাছে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য বলেছেন। এখানে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলা হলেও উম্মাতে মুহাম্মাদী উদ্দেশ্য। কারণ কোন নাবী তার নবুওয়াতের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করতে পারে না। সুতরাং নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াতের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা যাবে না এবং মিথ্যাও প্রতিপন্ন করা যাবে না। যদি কেউ মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তাহলে পূর্বে মিথ্যা আরোপকারীদের মতই তার অবস্থা হবে এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের দলভুক্ত হবে। সে আখিরাতে নাজাত পাবে না। কারণ যাদের ওপর শাস্তি বাস্তবায়িত হয়েছে, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা মূলত ছিল কাফির। তারা আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলদের প্রতি ঈমান আনত না, তারা শুধু নিদর্শন দেখতে চাইত এবং ওযর পেশ করত। যেমন ফির‘আউন ও তার দলবল নিদর্শন দেখার পরও ঈমান আনেনি অনুরূপ তারাও নিদর্শন দেখতে চাইত। তাই আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তারা যদি সমস্ত নিদর্শনও দেখে এমনকি মৃত মানুষও যদি তাদের সাথে কথা বলে তবুও তারা ঈমান আনবে না। কারণ তাদের ওপর আল্লাহ তা‘আলার শাস্তির বিধান আবশ্যক হয়ে গেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَكَأَيِّنْ مِّنْ اٰيَةٍ فِي السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ يَمُرُّوْنَ عَلَيْهَا وَهُمْ عَنْهَا مُعْرِضُوْنَ)‏



“আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে অনেক নিদর্শন রয়েছে; তারা এ সমস্ত প্রত্যক্ষ করে, কিন্তু তারা এসব থেকে বিমুখ।” (সূরা ইউসুফ ১২:১০৫)



আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:



(وَمَا تَأْتِيْهِمْ مِّنْ اٰيَةٍ مِّنْ اٰيٰتِ رَبِّهِمْ إِلَّا كَانُوْا عَنْهَا مُعْرِضِيْنَ)‏



“তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলীর এমন কোন নিদর্শন তাদের নিকট উপস্থিত হয় না যা হতে তারা মুখ না ফেরায়।” (সূরা আন‘আম ৬:৪)



অতএব তাদের ইচ্ছানুযায়ী নিদর্শন প্রকাশ করে কোনই লাভ নেই। মূলত তারা ঈমান আনবে না।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বর্ণনা পূর্ববর্তী কিতাবে দেয়া হয়েছে।

২. নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াতকে অস্বীকার বা সন্দেহ করলে আখিরাতে নাজাত পাওয়া যাবে না।

৩. যাদের ওপর শাস্তি বাস্তবায়িত হয়েছে তারা হল কাফির, তারা মু’মিন ছিল না।

৪. যে জানেনা সে যে ব্যক্তি জানে তার কাছে জিজ্ঞাসা করবে।

৫. দীনের মূল ভিত্তি এবং শাখা-প্রশাখা কোন একটির প্রতি সন্দেহ পোষণ করা কুফরী।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৯৪-৯৭ নং আয়াতের তাফসীর:

কাতাদা ইবনে আমা (রঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)! বলেছেনঃ “আমি সন্দেহও করি না এবং আমার জিজ্ঞেস করার কোন প্রয়োজনও নেই।এই আয়াতে উম্মতে মুহাম্মাদীকে দ্বীনের উপর অটল থাকার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। এতে জানানো হয়েছে যে, পূর্ববর্তী আসমানী গ্রন্থ তাওরাত, ইঞ্জীলে নবী (সঃ)-এর গুণাবলীর বর্ণনা বিদ্যমান ছিল। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “যারা নবী উম্মী (সঃ)-এর আনুগত্য করে, তারা এর উপর ভিত্তি করেই করে যে, তার গুণাবলীর বর্ণনা তারা তাওরাত ও ইঞ্জীলে লিখিত পেয়ে থাকে। কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোক তার উপর ঈমান আনয়ন করে না, অথচ তারা তার সত্যবাদিতা ও সততাকে এমনভাবে জানে ও চিনে, যেমনভাবে চিনে নিজেদের সন্তানদেরকে। তারা ইঞ্জীলের মধ্যে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে এবং নবী (সঃ)-এর গুণাবলী গোপন করে দেয়। হুজ্জত কায়েম হওয়ার পরেও তারা ঈমান আনে না। এ জন্যেই আল্লাহ পাক বলেনঃ “সত্যের প্রমাণাদি কায়েম হয়ে গেছে, কিন্তু যতই প্রমাণ তাদের কাছে উপস্থিত করা হাক না কেন, তারা ঐ পর্যন্ত ঈমান আনবে , যে পর্যন্ত না আল্লাহর আযাৰ অবলোকন করে। কিন্তু ঐ সময় তাদের ঈমান আনয়নে কোনই লাভ হবে না। কওমের এই পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার পরই মূসা (আঃ) তাদের উপর বদ দুআ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! তাদের ধন-সম্পদ ধ্বংস করে দিন এবং তাদের অন্তরসমূহের উপর মোহর লাগিয়ে দিন। শাস্তি দেখা ছাড়া তারা ঈমান আনবে না।” অনুরূপভাবে আল্লাহ পাকের উক্তি রয়েছে- “আমি যদি তাদের উপর ফিরিশতাও অবতীর্ণ করি এবং মৃত লোকেরা তাদের সাথে কথাও বলতে থাকে, আর সমস্তই যদি তাদের কাছে জমা করে দেয়া হয়, তবুও তারা ঈমান আনবে না। তাদের মধ্যে অধিকাংশ লোকই অজ্ঞ।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।