সূরা ইউনুস (আয়াত: 95)
হরকত ছাড়া:
ولا تكونن من الذين كذبوا بآيات الله فتكون من الخاسرين ﴿٩٥﴾
হরকত সহ:
وَ لَا تَکُوْنَنَّ مِنَ الَّذِیْنَ کَذَّبُوْا بِاٰیٰتِ اللّٰهِ فَتَکُوْنَ مِنَ الْخٰسِرِیْنَ ﴿۹۵﴾
উচ্চারণ: ওয়ালা-তাকূনান্না মিনাল্লাযীনা কাযযাবূবিআ-য়া-তিল্লা-হি ফাতাকূনা মিনাল খা-ছিরীন।
আল বায়ান: আর তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না, যারা আল্লাহর আয়াতসমূহ অস্বীকার করেছে। তাহলে তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯৫. এবং যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করেছে আপনি কখনো তাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না- তাহলে আপনিও ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আর তুমি কক্ষনো তাদের মধ্যে শামিল হয়ো না যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে মিথ্যে জেনে অমান্য করে, তাহলে তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যাবে।
আহসানুল বায়ান: (৯৫) আর ঐসব লোকদেরও অন্তর্ভুক্ত হয়ো না, যারা আল্লাহর আয়াতগুলোকে মিথ্যা মনে করেছে, নচেৎ তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। [1]
মুজিবুর রহমান: আর ঐ সব লোকেরও অন্তর্ভুক্ত হয়োনা যারা আল্লাহর আয়াতগুলিকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে, যেন তুমি ধ্বংসপ্রাপ্তদের অন্তর্ভুক্ত না হও।
ফযলুর রহমান: যারা আল্লাহর নিদর্শনসমূহকে অবিশ্বাস করে তুমি কখনো তাদের মত হয়ো না; তাহলে তুমি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
মুহিউদ্দিন খান: এবং তাদের অন্তর্ভুক্তও হয়ো না যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আল্লাহর বাণীকে। তাহলে তুমিও অকল্যাণে পতিত হয়ে যাবে।
জহুরুল হক: আর তুমি তাদের অন্তর্ভুক্ত হয়ো না যারা আল্লাহ্র বাণী প্রত্যাখ্যান করে, পাছে তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যেকার হয়ে যাবে।
Sahih International: And never be of those who deny the signs of Allah and [thus] be among the losers.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৯৫. এবং যারা আল্লাহর আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করেছে আপনি কখনো তাদের অন্তর্ভুক্ত হবেন না- তাহলে আপনিও ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবেন।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৯৫) আর ঐসব লোকদেরও অন্তর্ভুক্ত হয়ো না, যারা আল্লাহর আয়াতগুলোকে মিথ্যা মনে করেছে, নচেৎ তুমি ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে। [1]
তাফসীর:
[1] এটাও প্রকৃতপক্ষে উম্মতকে সম্বোধন করে বুঝানো হচ্ছে যে, মিথ্যাজ্ঞান করার পথই হচ্ছে ক্ষতি ও ধ্বংসের পথ।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৯৪-৯৭ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে আল্লাহ তা‘আলা উম্মাতে মুহাম্মাদীকে উৎসাহ প্রদান করছেন যে, তারা যেন তাদের দীনের ওপর অটল থাকে। কারণ নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সত্য নাবী, তাঁর সম্পর্কে পূর্ববর্তী কিতাব তাওরাত, ইঞ্জিলে বর্ণনা দেয়া হয়েছে। এজন্য আল্লাহ তা‘আলা পূর্ববর্তী কিতাব যারা পাঠ করেছে তাদের কাছে তাঁর সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার জন্য বলেছেন। এখানে নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-কে সম্বোধন করে বলা হলেও উম্মাতে মুহাম্মাদী উদ্দেশ্য। কারণ কোন নাবী তার নবুওয়াতের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করতে পারে না। সুতরাং নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াতের ব্যাপারে সন্দেহ পোষণ করা যাবে না এবং মিথ্যাও প্রতিপন্ন করা যাবে না। যদি কেউ মিথ্যা প্রতিপন্ন করে তাহলে পূর্বে মিথ্যা আরোপকারীদের মতই তার অবস্থা হবে এবং সে আখিরাতে ক্ষতিগ্রস্তদের দলভুক্ত হবে। সে আখিরাতে নাজাত পাবে না। কারণ যাদের ওপর শাস্তি বাস্তবায়িত হয়েছে, যারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে তারা মূলত ছিল কাফির। তারা আল্লাহ তা‘আলা ও তাঁর রাসূলদের প্রতি ঈমান আনত না, তারা শুধু নিদর্শন দেখতে চাইত এবং ওযর পেশ করত। যেমন ফির‘আউন ও তার দলবল নিদর্শন দেখার পরও ঈমান আনেনি অনুরূপ তারাও নিদর্শন দেখতে চাইত। তাই আল্লাহ তা‘আলা বলেন: তারা যদি সমস্ত নিদর্শনও দেখে এমনকি মৃত মানুষও যদি তাদের সাথে কথা বলে তবুও তারা ঈমান আনবে না। কারণ তাদের ওপর আল্লাহ তা‘আলার শাস্তির বিধান আবশ্যক হয়ে গেছে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَكَأَيِّنْ مِّنْ اٰيَةٍ فِي السَّمٰوٰتِ وَالْأَرْضِ يَمُرُّوْنَ عَلَيْهَا وَهُمْ عَنْهَا مُعْرِضُوْنَ)
“আকাশমণ্ডলী ও পৃথিবীতে অনেক নিদর্শন রয়েছে; তারা এ সমস্ত প্রত্যক্ষ করে, কিন্তু তারা এসব থেকে বিমুখ।” (সূরা ইউসুফ ১২:১০৫)
আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:
(وَمَا تَأْتِيْهِمْ مِّنْ اٰيَةٍ مِّنْ اٰيٰتِ رَبِّهِمْ إِلَّا كَانُوْا عَنْهَا مُعْرِضِيْنَ)
“তাদের প্রতিপালকের নিদর্শনাবলীর এমন কোন নিদর্শন তাদের নিকট উপস্থিত হয় না যা হতে তারা মুখ না ফেরায়।” (সূরা আন‘আম ৬:৪)
অতএব তাদের ইচ্ছানুযায়ী নিদর্শন প্রকাশ করে কোনই লাভ নেই। মূলত তারা ঈমান আনবে না।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর বর্ণনা পূর্ববর্তী কিতাবে দেয়া হয়েছে।
২. নাবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম)-এর নবুওয়াতকে অস্বীকার বা সন্দেহ করলে আখিরাতে নাজাত পাওয়া যাবে না।
৩. যাদের ওপর শাস্তি বাস্তবায়িত হয়েছে তারা হল কাফির, তারা মু’মিন ছিল না।
৪. যে জানেনা সে যে ব্যক্তি জানে তার কাছে জিজ্ঞাসা করবে।
৫. দীনের মূল ভিত্তি এবং শাখা-প্রশাখা কোন একটির প্রতি সন্দেহ পোষণ করা কুফরী।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৯৪-৯৭ নং আয়াতের তাফসীর:
কাতাদা ইবনে আমা (রঃ) বলেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)! বলেছেনঃ “আমি সন্দেহও করি না এবং আমার জিজ্ঞেস করার কোন প্রয়োজনও নেই।এই আয়াতে উম্মতে মুহাম্মাদীকে দ্বীনের উপর অটল থাকার প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হয়েছে। এতে জানানো হয়েছে যে, পূর্ববর্তী আসমানী গ্রন্থ তাওরাত, ইঞ্জীলে নবী (সঃ)-এর গুণাবলীর বর্ণনা বিদ্যমান ছিল। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “যারা নবী উম্মী (সঃ)-এর আনুগত্য করে, তারা এর উপর ভিত্তি করেই করে যে, তার গুণাবলীর বর্ণনা তারা তাওরাত ও ইঞ্জীলে লিখিত পেয়ে থাকে। কিন্তু তাদের অধিকাংশ লোক তার উপর ঈমান আনয়ন করে না, অথচ তারা তার সত্যবাদিতা ও সততাকে এমনভাবে জানে ও চিনে, যেমনভাবে চিনে নিজেদের সন্তানদেরকে। তারা ইঞ্জীলের মধ্যে পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করে এবং নবী (সঃ)-এর গুণাবলী গোপন করে দেয়। হুজ্জত কায়েম হওয়ার পরেও তারা ঈমান আনে না। এ জন্যেই আল্লাহ পাক বলেনঃ “সত্যের প্রমাণাদি কায়েম হয়ে গেছে, কিন্তু যতই প্রমাণ তাদের কাছে উপস্থিত করা হাক না কেন, তারা ঐ পর্যন্ত ঈমান আনবে , যে পর্যন্ত না আল্লাহর আযাৰ অবলোকন করে। কিন্তু ঐ সময় তাদের ঈমান আনয়নে কোনই লাভ হবে না। কওমের এই পর্যায়ে পৌঁছে যাওয়ার পরই মূসা (আঃ) তাদের উপর বদ দুআ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেনঃ “হে আমার প্রতিপালক! তাদের ধন-সম্পদ ধ্বংস করে দিন এবং তাদের অন্তরসমূহের উপর মোহর লাগিয়ে দিন। শাস্তি দেখা ছাড়া তারা ঈমান আনবে না।” অনুরূপভাবে আল্লাহ পাকের উক্তি রয়েছে- “আমি যদি তাদের উপর ফিরিশতাও অবতীর্ণ করি এবং মৃত লোকেরা তাদের সাথে কথাও বলতে থাকে, আর সমস্তই যদি তাদের কাছে জমা করে দেয়া হয়, তবুও তারা ঈমান আনবে না। তাদের মধ্যে অধিকাংশ লোকই অজ্ঞ।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।