সূরা ইউনুস (আয়াত: 43)
হরকত ছাড়া:
ومنهم من ينظر إليك أفأنت تهدي العمي ولو كانوا لا يبصرون ﴿٤٣﴾
হরকত সহ:
وَ مِنْهُمْ مَّنْ یَّنْظُرُ اِلَیْکَ ؕ اَفَاَنْتَ تَهْدِی الْعُمْیَ وَ لَوْ کَانُوْا لَا یُبْصِرُوْنَ ﴿۴۳﴾
উচ্চারণ: ওয়া মিনহুম মাইঁ ইয়ানজু রু ইলাইকা আফাআনতা তাহদিল ‘উমইয়া ওয়ালাও কা-নূলাইউবসিরূন।
আল বায়ান: আর তাদের মধ্যে কেউ আছে এমন, যে তোমার দিকে তাকায়। তবে কি তুমি অন্ধকে পথ দেখাবে, তারা না দেখলেও?
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৩. আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ আপনার দিকে তাকিয়ে থাকে। তবে কি আপনি অন্ধকে পথ দেখাবেন, তারা না দেখলেও?(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: তাদের মধ্যে কেউ কেউ তোমার দিকে তাকায়, তুমি কি অন্ধকে পথ দেখাবে, তারা না দেখলেও?
আহসানুল বায়ান: (৪৩) আর তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে, যারা তোমার দিকে তাকিয়ে থাকে। তবে কি তুমি অন্ধকে পথ দেখাবে; যদিও তাদের দৃষ্টিশক্তি না থাকে?[1]
মুজিবুর রহমান: আর তাদের কতক এমনও আছে যারা তোমাকে দেখছে; তুমি কি অন্ধকে পথ দেখাতে পারবে, যদি তাদের অর্ন্তদৃষ্টি না থাকে?
ফযলুর রহমান: আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ তোমার দিকে তাকায়। কিন্তু তারা যদি না দেখে তবে কি আর তুমি (এই) অন্ধদেরকে পথ দেখাতে পারবে?
মুহিউদ্দিন খান: আবার তাদের মধ্যে কেউ কেউ তোমাদের প্রতি দৃষ্টিনিবদ্ধ রাখে; তুমি অন্ধদেরকে কি পথ দেখাবে যদি তারা মোটেও দেখতে না পারে।
জহুরুল হক: আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ তোমার দিকে তাকিয়ে থাকে। তুমি কি অন্ধকে পথ দেখতে পারো, -- পরন্ত তারা দেখতে পায় না?
Sahih International: And among them are those who look at you. But can you guide the blind although they will not [attempt to] see?
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪৩. আর তাদের মধ্যে কেউ কেউ আপনার দিকে তাকিয়ে থাকে। তবে কি আপনি অন্ধকে পথ দেখাবেন, তারা না দেখলেও?(১)
তাফসীর:
(১) তাদের এ তাকানোর দ্বারা তারা আপনার কাছে নবুওয়াতের যে দলীল-প্রমাণাদি আছে তা দেখতে পায়, কিন্তু তারা এর দ্বারা উপকৃত হয় না। পক্ষান্তরে মুমিনগণ আপনার প্রতি দৃষ্টিপাত করেই আপনার সততার ব্যাপারে নিশ্চিন্ত হতে পারে। তাই আপনার প্রতি সম্মানে তাদের চোখ ভরে যায়। কাফেরগণ আপনার প্রতি দৃষ্টিপাত করলেও সম্মানের সাথে দেখে না। [ইবন কাসীর] আর যারা সম্মানের সাথে দেখবে না তাদের হিদায়াত তাওফীক হবে না। [কুরতুবী] আল্লাহ্ তা'আলা অন্য আয়াতে আরও বলেনঃ “তারা যখন আপনাকে দেখে তখন তারা আপনাকে শুধু ঠাট্টা-বিদ্রুপের পাত্ররূপে গণ্য করে এবং বলে, এই-ই কি সে, যাকে আল্লাহ রাসূল করে পাঠিয়েছেন? সে তো আমাদেরকে আমাদের দেবতাগণ হতে দূরে সরিয়ে দিত, যদি না আমরা তাদের আনুগত্যে দৃঢ় প্রতিষ্ঠিত থাকতাম। যখন তারা শাস্তি দেখতে পাবে তখন তারা জানবে কে বেশী পথভ্রষ্ট।” [সূরা আল-ফুরকানঃ ৪১–৪২]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪৩) আর তাদের মধ্যে কিছু লোক আছে, যারা তোমার দিকে তাকিয়ে থাকে। তবে কি তুমি অন্ধকে পথ দেখাবে; যদিও তাদের দৃষ্টিশক্তি না থাকে?[1]
তাফসীর:
[1] অনুরূপ কিছু মানুষ তোমার দিকে তাকিয়ে দেখে, কিন্তু যেহেতু তাদের উদ্দেশ্য অন্য কিছু থাকে, ফলে তাদেরও অন্ধ ব্যক্তিদের মত কোন লাভ হয় না। বিশেষ করে সেই অন্ধ ব্যক্তি, যে চোখ থাকতেও অন্ধ হয়। কারণ অনেক অন্ধ লোক আছে, যারা অন্তর-দৃষ্টি দ্বারা দেখে। তারা চোখের দেখা থেকে বঞ্চিত হওয়ার পরেও, অনেক কিছু বুঝে নিতে পারে। কিন্তু এরা সেই অন্ধের মত যে অন্ধ অন্তর-দৃষ্টি থেকেও বঞ্চিত। এসব কথার উদ্দেশ্য হল, নবী (সাঃ)-কে সান্তনা দেওয়া। যেমন একজন ডাক্তার যখন জেনে নেন যে, রোগী চিকিৎসা করানোর ব্যাপারে অধৈর্য এবং সে আমার নির্দেশনা ও চিকিৎসার কোন পরোয়া করে না, তখন তিনি তার প্রতি ভ্রূক্ষেপ করেন না এবং তার জন্য সময় নষ্ট করতে পছন্দ করেন না।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪২-৪৪ নং আয়াতের তাফসীর:
অত্র আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা কিছু মিথ্যুকদের ব্যাপারে সংবাদ দিচ্ছেন যারা রাসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) সম্পর্কে মিথ্যা বলে। তারা রাসূলের নিকট এসে তাঁর কথা-বার্তা শ্রবণ করে, কুরআন তেলাওয়াত শ্রবণ করে কিন্তু তারা তা হিদায়েতের উদ্দেশ্যে শ্রবণ করে না, বরং কথার ভুল ধরার জন্য এবং প্রোপাগাণ্ডা ছড়ানোর জন্য, ফলে তাদের কোনই লাভ হয় না। যেমন একজন বধিরের কোন লাভ হয় না। কারণ কী বলা হচ্ছে তা সে শুনতে পায় না। অনুরূপভাবে কতক লোক রয়েছে যারা অন্তর্নিহিত দৃষ্টিতে তোমার দিকে তাকিয়ে থাকে তোমার সুন্দর আচরণ, সৎ চরিত্র অবলোকন করে কিন্তু তাতেও তাদের কোন ফায়দা হয় না। কারণ তারা চোখ থাকতেও অন্ধ। যার কারণে তারা হিদায়াত গ্রহণ করে না। সুতরাং তাদেরকে আপনি এড়িয়ে চলুন যেমন একজন চিকিৎসক তার রুগীকে এড়িয়ে চলে, যখন রুগী ডাক্তারের কথা শুনে না। আর তাদের এ সমস্ত কৃতকর্মের ফলাফল আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে আখিরাতে দান করবেন। তিনি কারো প্রতি বিন্দু পরিমাণও জুলুম করবেন না। বরং মানুষেরা নিজেরাই নিজেদের প্রতি জুলুম করে, যার ফলে তারা সঠিক পথের অনুসরণ করে না। হাদীসে কুদসীতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন: হে আমার বান্দা! আমি নিজের প্রতি জুলুম করা হারাম করে নিয়েছি এবং তা তোমাদের জন্যও হারাম করে দিয়েছি। সুতরাং তোমরা পরস্পর জুলুম করো না। (সহীহ মুসলিম হা: ২৫৭৭)
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. চোখ দিয়ে ভাল জিনিস দেখতে হবে এবং কান দিয়ে ভালো কথা শ্রবণ করতে হবে।
২. কোন কিছু সঠিক উদ্দেশ্যে শ্রবণ বা দর্শন করলে সে উদ্দেশ্য হাসিল হয়।
৩. আল্লাহ তা‘আলা তাঁর বান্দার প্রতি কোন জুলুম করবেন না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪১-৪৪ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা স্বীয় নবী (সঃ)-কে বলেছেন-যদি এই মুশরিকরা তোমাকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, তবে তুমিও তাদের প্রতি ও তাদের কার্যকলাপের প্রতি অসন্তুষ্টি প্রকাশ কর এবং স্পষ্টভাবে বলে দাও আমার আমল আমার জন্যে এবং তোমাদের আমল তোমাদের জন্যে । আমি তোমাদের মা'বুদগুলোকে কখনই স্বীকার করবো না।
ইবরাহীম খলীল (আঃ) ও তাঁর অনুসারীরা তাদের মুশরিক কওমকে বলেছিলেনঃ “আমরা তোমাদের হতে এবং তোমাদের মা’রূদগণ হতে সম্পূর্ণ মুক্ত।” মহান আল্লাহ স্বীয় রাসূল (আঃ)-কে আরো বলেন-কুরায়েশদের মধ্যেই কতক লোক এমনও রয়েছে যে, তারা তোমার উত্তম কথা ও পবিত্র কুরআন শুনে থাকে এবং তা তাদের হৃদয়গ্রাহী হয়। এটাই ছিল তাদের জন্যে যথেষ্ট। কিন্তু এর পরেও তারা সঠিক পথে আসে না। এতে তোমার কোনই ত্রুটি নেই। কেননা, তুমি বধিরদেরকে শুনাতে সক্ষম নও এবং তাদেরকে হিদায়াত করারও শক্তি তোমার নেই, যে পর্যন্ত না আল্লাহ তাদেরকে হিদায়াত করার ইচ্ছা করেন। আবার তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা গভীর দৃষ্টিতে তোমার দিকে তাকাতে থাকে। তোমার নির্মল নিষ্কলুষ চরিত্র, সুন্দর অবয়ব এবং নবুওয়াতের প্রমাণাদি (যার মাধ্যমে চক্ষুষ্মন লোকেরা উপকৃত হতে পারে) স্বচক্ষে অবলোকন করে। কিন্তু এরপরেও কুরআনের হিদায়াত দ্বারা মোটেই উপকৃত হয় না, যেমন বিদ্বান ও অন্তদৃষ্টিসম্পন্ন ব্যক্তিরা উপকার লাভ করে থাকে। এরূপ মুমিন লোকেরা যখন তোমার দিকে তাকায় তখন তারা অত্যন্ত সম্মানের দৃষ্টিতে তাকায়। পক্ষান্তরে যখন কাফিররা তোমার দিকে তাকায় তখন তারা ঘৃণার দৃষ্টিতে তাকিয়ে থাকে। তারা তোমাকে দেখে উপহাস করে।
আল্লাহ তা'আলা কারো উপর বিন্দুমাত্র অত্যাচার করেন না। কেউ শুনে এবং হিদায়াতপ্রাপ্ত হয়। আবার অন্য কেউ শুনে, দেখে, অথচ অন্ধ ও বধির হয়ে যায় । সে চোখ থাকতেও অন্ধ এবং কান থাকতেও বধির। তার অন্তঃকরণ রয়েছে, কিন্তু তা মৃত। কেউ লাভবান হলো, আবার কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হলো। মহান আল্লাহর পবিত্র সত্তা সম্পূর্ণ স্বাধীন। তিনি সবারই কাছে পুংখানুপুংখরূপে হিসাব গ্রহণ করবেন, কিন্তু তাঁর কাছে কেউ কোন হিসাব চাইতে পারে না। আল্লাহ তো বান্দার উপর যুলুম করেন না। কিন্তু বান্দা নিজেই নিজের উপর যুলুম করে থাকে। হাদীসে কুদসীতে রয়েছে যে, আল্লাহ তাআলা বলেনঃ “হে আমার বান্দারা! আমি নিজের উপর যুলুম করাকে হারাম করেছি এবং তোমাদের উপরও এটা হারাম করে দিলাম। সুতরাং তোমরা একে অপরের উপর যুলুম করবে না। তোমাদের কার্যাবলী আমি দেখে যাচ্ছি। আমি তোমাদের প্রতিটি কাজের পূর্ণ প্রতিদান প্রদান করবো। যে ভাল প্রতিদান প্রাপ্ত হবে সে যেন আল্লাহর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। আর যে ব্যক্তি শাস্তি প্রাপ্ত হবে সে যেন নিজেকেই ভৎসনা করে।`
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।