সূরা ইউনুস (আয়াত: 4)
হরকত ছাড়া:
إليه مرجعكم جميعا وعد الله حقا إنه يبدأ الخلق ثم يعيده ليجزي الذين آمنوا وعملوا الصالحات بالقسط والذين كفروا لهم شراب من حميم وعذاب أليم بما كانوا يكفرون ﴿٤﴾
হরকত সহ:
اِلَیْهِ مَرْجِعُکُمْ جَمِیْعًا ؕ وَعْدَ اللّٰهِ حَقًّا ؕ اِنَّهٗ یَبْدَؤُا الْخَلْقَ ثُمَّ یُعِیْدُهٗ لِیَجْزِیَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ بِالْقِسْطِ ؕ وَ الَّذِیْنَ کَفَرُوْا لَهُمْ شَرَابٌ مِّنْ حَمِیْمٍ وَّ عَذَابٌ اَلِیْمٌۢ بِمَا کَانُوْا یَکْفُرُوْنَ ﴿۴﴾
উচ্চারণ: ইলাইহি মারজি‘উকুম জামী‘আওঁ ওয়া‘দাল্লা-হি হাক্কান ইন্নাহূইয়াবদাউল খালকা ছুম্মা ইউ‘ঈদুহূলিইয়াজযিয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়া আ‘মিলুসসা-লিহা-তি বিলকিছতি ওয়াল্লাযীনা কাফারূলাহুম শারা-বুম মিন হামীমিওঁ ওয়া ‘আযা-বুন আলীমুম বিমা-কা-নূ ইয়াকফুরূন।
আল বায়ান: তাঁরই কাছে তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন। আল্লাহর ওয়াদা সত্য। নিশ্চয় তিনি সৃষ্টির সূচনা করেন। তারপর তার পুনরাবর্তন ঘটান। যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদেরকে ইনসাফপূর্ণ প্রতিদান দেয়ার জন্য। আর যারা কুফরী করেছে, তাদের জন্য রয়েছে উত্তপ্ত পানীয় এবং বেদনাদায়ক আযাব। এ কারণে যে তারা কুফরী করত।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪. তারই কাছে তোমাদের সকলের ফিরে যাওয়া(১); আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য।(২) সৃষ্টিকে তিনিই প্রথম অস্তিত্বে আনেন, তারপর সেটার পুনরাবৃত্তি ঘটাবেন(৩) যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদেরকে ইনসাফপূর্ণ প্রতিফল প্রদানের জন্য। আর যারা কুফরী করেছে তাদের জন্য রয়েছে অত্যন্ত গরম পানীয়(৪) ও অতীব কষ্টদায়ক শাস্তি; কারণ তারা কুফরী করত।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তাঁর কাছেই তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন। আল্লাহর ওয়া‘দা নিশ্চিত সত্য। তিনি সৃষ্টির সূচনা করেন, পরে তিনিই আবার সৃষ্টি করবেন যাতে তিনি- যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে- তাদেরকে পূর্ণ ইনসাফের সাথে প্রতিদান দিতে পারেন। আর যারা কুফুরী করেছে তাদের জন্য আছে অতি উত্তপ্তপানীয় ও বেদনা দায়ক শাস্তি, যেহেতু তারা সত্য প্রত্যাখ্যান করত।
আহসানুল বায়ান: (৪) তোমাদের সকলকে তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য; নিশ্চয় তিনিই প্রথমবার সৃষ্টি করেন, অতঃপর তিনিই পুনর্বারও সৃষ্টি করবেন, যাতে তাদেরকে ইনসাফ মত প্রতিফল প্রদান করেন যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে। আর যারা কুফরী করেছে তারা তাদের আচরিত কুফরীর ফলে পান করার জন্য পাবে উত্তপ্ত পানি এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। [1]
মুজিবুর রহমান: তোমাদের সকলকে তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে, আল্লাহর ও‘য়াদা সত্য; নিশ্চয়ই তিনিই প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন, অতঃপর তিনিই পুনর্বার সৃষ্টি করবেন, যাতে এরূপ লোকদের যারা ঈমান এনেছে এবং ভাল কাজ করেছে তাদেরকে ইনসাফ মত প্রতিফল প্রদান করেন; আর যারা অবিশ্বাসী তারা পান করার জন্য পাবে উত্তপ্ত পানি এবং তাদের জন্য রয়েছে যন্ত্রনাদায়ক শাস্তি তাদের কুফরীর কারণে।
ফযলুর রহমান: তাঁর কাছেই তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন (নির্ধারিত)। আল্লাহর ওয়াদা সত্য। তিনিই প্রথম সৃষ্টি করেন; পরে ঈমানদার ও সৎকর্মশীলদের ন্যায্য প্রতিফল দেওয়ার জন্য আবার সৃষ্টি করবেন। তবে যারা কাফের, কুফরি করার কারণে তাদের জন্য রয়েছে গরম পানির শরবত ও কষ্টদায়ক শাস্তি।
মুহিউদ্দিন খান: তাঁর কাছেই ফিরে যেতে হবে তোমাদের সবাইকে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য, তিনিই সৃষ্টি করেন প্রথমবার আবার পুনর্বার তৈরী করবেন তাদেরকে বদলা দেয়ার জন্য যারা ঈমান এনেছে এবং নেক কাজ করেছে ইনসাফের সাথে। আর যারা কাফের হয়েছে, তাদের পান করতে হবে ফুটন্ত পানি এবং ভোগ করতে হবে যন্ত্রনাদায়ক আযাব এ জন্যে যে, তারা কুফরী করছিল।
জহুরুল হক: তাঁরই দিকে তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন। আল্লাহ্র এই প্রতিশ্রুতি ধ্রুবসত্য। নিঃসন্দেহ তিনিই সৃষ্টির সূচনা করেন, তারপর তিনি তার পুনরাবর্তন ঘটান, যেন তিনি ন্যায়সঙ্গতভাবে পারিতোষিক দিতে পারেন তাদের যারা বিশ্বাস করে ও সৎকর্ম করে। আর যারা অবিশ্বাস করে তাদের জন্যে রয়েছে ফুটন্ত জলের পানীয়, আর মর্মন্তুদ শাস্তি, কেননা তারা অবিশ্বাস পোষণ করত।
Sahih International: To Him is your return all together. [It is] the promise of Allah [which is] truth. Indeed, He begins the [process of] creation and then repeats it that He may reward those who have believed and done righteous deeds, in justice. But those who disbelieved will have a drink of scalding water and a painful punishment for what they used to deny.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪. তারই কাছে তোমাদের সকলের ফিরে যাওয়া(১); আল্লাহর প্রতিশ্রুতি সত্য।(২) সৃষ্টিকে তিনিই প্রথম অস্তিত্বে আনেন, তারপর সেটার পুনরাবৃত্তি ঘটাবেন(৩) যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকাজ করেছে তাদেরকে ইনসাফপূর্ণ প্রতিফল প্রদানের জন্য। আর যারা কুফরী করেছে তাদের জন্য রয়েছে অত্যন্ত গরম পানীয়(৪) ও অতীব কষ্টদায়ক শাস্তি; কারণ তারা কুফরী করত।
তাফসীর:
(১) অর্থাৎ তোমাদের এ দুনিয়া থেকে ফিরে গিয়ে নিজেদের রবের কাছে হিসেব দিতে হবে। সে সুনির্দিষ্ট সময়ে তিনি তোমাদের সবাইকে একত্রিত কববেন। [ইবন কাসীর; সা’দী]
(২) এ আয়াতে সমগ্র সৃষ্টিজগতের বহু নিদর্শন উল্লেখিত হয়েছে, যা আল্লাহ তা'আলার পূর্ণ কুদরত ও পরিপূর্ণ হেকমতের স্বাক্ষর বহন করে এবং এ দাবী প্রমাণ হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে যে, আল্লাহ্ তা'আলা সৃষ্টিকে ধ্বংস করে গুড়িয়ে দিতে সক্ষম এবং পরে পুনরায় সেই কণাসমূহকে একত্রিত করে একেবারে নতুন অবস্থায় জীবিত করে হিসাব-নিকাশের পর পুরস্কার কিংবা শাস্তির আইন জারি করবেন। কুরাইশ কাফেরদের অধিকাংশই আল্লাহকে তাদের সৃষ্টিকর্তা হিসেবে মানত। তাই আল্লাহ তা'আলা এর দ্বারাই তাদের উপর দলীল নিচ্ছেন যে, যিনি প্রথমবার সৃষ্টি করতে পারেন তিনি অবশ্যই ধ্বংসের পর দ্বিতীয়বার সেটাকে অস্তিত্বে আনতে সক্ষম। [কুরতুবী] আর এটা তার ওয়াদা। এ ওয়াদা তিনি অবশ্যই পূরণ করবেন। কারণ, এর মাধ্যমে তিনি যারা হৃদয় দিয়ে ঈমান এনেছে এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ দিয়ে ওয়াজিব ও মুস্তাহাব পালন করে নেক আমল করেছে, তাদেরকে প্রতিফল দিবেন। [সা'দী]। আর যারা কুফরী করবে তাদেরকেও তাদের কুফরীর কারণে তিনি যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দিবেন।
(৩) এ বাক্যটির মধ্যে দাবী ও প্রমাণ উভয়েরই সমাবেশ ঘটেছে। দাবী হচ্ছে, আল্লাহ পুনর্বার মানুষকে সৃষ্টি করবেন। এর প্রমাণ হিসেবে বলা হয়েছে, তিনিই প্রথমবার মানুষ সৃষ্টি করেছেন। আর যে ব্যক্তি একথা স্বীকার করে যে, আল্লাহই সৃষ্টির সূচনা করেছেন। সে কখনো আল্লাহর পক্ষে এ সৃষ্টির পুনরাবৃত্তিকে অসম্ভব বা দুর্বোধ্য মনে করতে পারে না। অন্য আয়াতে আল্লাহ বলেন, “যেভাবে আমরা প্রথম সৃষ্টির সূচনা করেছিলাম সেভাবে পুনরায় সৃষ্টি করব; এটা আমার কৃত প্রতিশ্রুতি, আর আমরা তা পালন করবই।” [সূরা আল-আম্বিয়া: ১০৪]
(৪) এ অত্যন্ত গরম পানীয় কাফেরদের জন্য শাস্তি স্বরূপ থাকবে। এ প্রচণ্ড গরম পানীয়ের বিভিন্ন গুণাগুণ অন্যান্য আয়াতে বর্ণিত হয়েছে। সূরা আর-রাহমানের ৪৪ নং আয়াতে বলা হয়েছেঃ “তারা জাহান্নামের আগুন ও ফুটন্ত পানির মধ্যে ছুটোছুটি করবে” আবার কোথাও বলা হয়েছেঃ “এবং যাদেরকে পান করতে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি যা তাদের নাড়ীভুঁড়ি ছিন্ন-বিচ্ছিন্ন করে দেবে?”। [সূরা মুহাম্মাদঃ ১৫] আরো বলা হয়েছে “তাদের মাথার উপর ঢেলে দেয়া হবে ফুটন্ত পানি, যা দ্বারা তাদের উদরে যা আছে তা এবং তাদের চামড়া বিগলিত করা হবে।” [সূরা আল-হাজ্জঃ ১৯–২০]
অন্য আয়াতে বলা হয়েছেঃ “তারা পানীয় চাইলে তাদেরকে দেয়া হবে গলিত ধাতুর ন্যায় পানীয়, যা তাদের মুখমন্ডল দগ্ধ করবে।” [সূরা আল-কাহফঃ ২৯] আরো বলা হয়েছেঃ “তারপর তোমরা পান করবে তার উপর অতি উষ্ণ পানি, ফলে তারা পান করবে তৃষ্ণার্ত উটের ন্যায়।” [সূরা আল-ওয়াকি'আহঃ ৫৪–৫৫] কুরআনের কোন কোন আয়াতে এ গরম পানিকে পুঁজ হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়েছে, বলা হয়েছেঃ “এবং পান করানো হবে গলিত পুঁজ; যা সে অতি কষ্টে একেক ঢোক করে গিলবে এবং তা গিলা প্রায় সহজ হবে না।” [সূরা ইবরাহীমঃ ১৬–১৭] আবার কোন কোন স্থানে বলা হয়েছে যে, তাদের জন্য সমভাবে গরম পানীয় ও পুঁজ উভয়টিই থাকবে, “কাজেই তারা আস্বাদন করুক ফুটন্ত পানি ও পুঁজ”। [সূরা সোয়াদঃ ৫৭] আরো এসেছেঃ “সেখানে তারা আস্বাদন করবে না শীত, না কোন পানীয়, ফুটন্ত পানি ও পুজ ছাড়া।” [সূরা আন-নাবা ২৪–২৫]।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪) তোমাদের সকলকে তাঁরই দিকে ফিরে যেতে হবে, আল্লাহর ওয়াদা সত্য; নিশ্চয় তিনিই প্রথমবার সৃষ্টি করেন, অতঃপর তিনিই পুনর্বারও সৃষ্টি করবেন, যাতে তাদেরকে ইনসাফ মত প্রতিফল প্রদান করেন যারা ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে। আর যারা কুফরী করেছে তারা তাদের আচরিত কুফরীর ফলে পান করার জন্য পাবে উত্তপ্ত পানি এবং যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি। [1]
তাফসীর:
[1] এই আয়াতে কিয়ামত সংঘটন, আল্লাহর নিকট সকলের উপস্থিতি এবং উত্তম প্রতিদান ও শাস্তির বর্ণনা আছে। উক্ত বিষয় কুরআন কারীমের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন ভাবে বর্ণিত হয়েছে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৩-৪ নং আয়াতের তাফসীর:
(الْعَرْشِ........ إِنَّ رَبَّكُمُ اللّٰهُ)
আল্লাহ তা‘আলা স্ব সত্ত্বায় আরশে সমুন্নত, এ সম্পর্কে সূরা আ‘রাফ এর ৫৪ নং আয়াতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।
(يُدَبِّرُ الْأَمْرَ) আল্লাহ তা‘আলা আকাশ ও জমিন সৃষ্টি করার পর তিনি সমস্ত বিশ্বজাহানকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ ও পরিচালনা করেন যে, কখনো পরস্পরের মাঝে কোন সংঘর্ষ হয় না। প্রত্যেকে নিজ নিজ কর্মে অবিরত। তিনি তাতে দিয়েছেন জীবন, মৃত্যু, রিযিক। তিনি দিবা-রাত্রির পরিবর্তন করেন, মানুষের জন্য কষ্ট দূর করেন, যে চায় তাকে দেন ইত্যাদি কার্য তিনি পরিচালনা করেন।
(مَا مِنْ شَفِيْعٍ إِلَّا مِنْۭ بَعْدِ إِذْنِهِ)
আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি ব্যতীত কেউ আল্লাহ তা‘আলার নিকট সুপারিশ করতে পারবে না। অথচ মক্কার কাফিরদের বিশ্বাস ছিল যে, তাদের দেবতারা তাদের জন্য আল্লাহ তা‘আলার দরবারে সুপারিশ করবে। যেমন তারা বলত:
(مَا نَعْبُدُهُمْ إِلَّا لِيُقَرِّبُوْنَآ إِلَي اللّٰهِ زُلْفٰي)
“আমরা তো এদের উপাসনা এজন্য করি, যেন তারা আমাদেরকে আল্লাহর নৈকট্যে পৌঁছে দেয়।” (সূরা যুমার ৩৯:৩)
অথচ আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি ব্যতীত কারো পক্ষে এটা সম্ভব নয়। যেমন আল্লাহ তা‘আলা কুরআনের একাধিক জায়গায় বলেন:
(وَلَا يَشْفَعُوْنَ إِلَّا لِمَنِ ارْتَضٰي)
“তারা সুপারিশ করে শুধু তাদের জন্য যাদের প্রতি তিনি সন্তুষ্ট।” (সূরা আম্বিয়াহ ২১:২৮)
আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:
(لَا تُغْنِيْ شَفَاعَتُهُمْ شَيْئًا إِلَّا مِنْۭ بَعْدِ أَنْ يَّأْذَنَ اللّٰهُ لِمَنْ يَّشَا۬ءُ وَيَرْضٰي)
“তাদের কোন সুপারিশ কাজে আসবে না যতক্ষণ আল্লাহ যাকে ইচ্ছা এবং যার প্রতি সন্তুষ্ট তাকে অনুমতি না দেন।” (সূরা নাজম ৫৩:২৬)
অতএব এসব আয়াত ও অনুরূপ হাদীস হতে প্রমাণিত হয় যে, কেউ সুপারিশ করার দাবি করলেই সুপারিশ করতে পারবে এমন নয়, বরং আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি ছাড়া সুপারিশ সম্ভব নয়। আর আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি পেতে হলে অবশ্যই তাঁর মনঃপুত এবং অপরাধমুক্ত হতে হবে। অনুরূপ যার জন্য সুপারিশ করা হবে তার ক্ষেত্রেও আল্লাহ তা‘আলার সম্মতি থাকতে হবে। সুতরাং সুপারিশের দাবি করাও সহজ নয় এবং সুপারিশের জন্য কারো কাছে ধরণা দেয়াও ঠিক নয়।
(إِلَيْهِ مَرْجِعُكُمْ)
‘তাঁরই নিকট তোমাদের সকলের প্রত্যাবর্তন’ মানুষের বিশ্বাস যে, আমরা যখন মরে যাব তখন আমাদের সব কিছু শেষ হয়ে যাবে। আমাদেরকে শাস্তি পেতে হবে না। অথচ আল্লাহ তা‘আলা অত্র আয়াতে বলেছেন যে, তোমাদের মৃত্যুর পর পুনরায় আমার নিকট তোমাদেরকে আসতে হবে। আর আমি যেহেতু প্রথমবার সৃষ্টি করেছি সেহেতু এমনটি মনে কর না যে, তোমাদের মৃত্যুর পর পুনরায় আমি তোমাদেরকে জীবিত করতে পারব না। এতে আমি পুরোপুরি সক্ষম। আর সেদিন আমি প্রত্যেককে তার কর্মের ফলাফল দেব। যেমন
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(فَمَنْ يَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ خَيْرًا يَّرَه۫ - وَمَنْ يَّعْمَلْ مِثْقَالَ ذَرَّةٍ شَرًّا يَّرَه۫)
“অতঃপর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।” (সূরা যিলযাল ৯৯:৭-৮)
আর যে এতে অবিশ্বাস করবে তার জন্য শাস্তিস্বরূপ পানীয় হিসেবে গরম পানি থাকবে এবং এ অস্বীকারের কারণে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি থাকবে। যেমন আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(وَسُقُوْا مَا۬ءً حَمِيْمًا فَقَطَّعَ أَمْعَا۬ءَهُمْ)
“এবং যাদেরকে এমন ফুটন্ত পানি পান করানো হবে যা তাদের নাড়ি-ভুঁড়ি পর্যন্ত কেটে ফেলবে?” (সূরা মুহাম্মাদ ৪৭:১৫) তার সাথে তাদের জন্য আরো থাকবে পুঁজ।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(لَّا يَذُوْقُوْنَ فِيْهَا بَرْدًا وَّلَا شَرَابًا - إِلَّا حَمِيْمًا وَّغَسَّاقًا)
“সেখানে তারা কোন প্রকার শীতলতার স্বাদও গ্রহণ করতে পারবে না, আর না কোন পানীয় বস্তুরও; ফুটন্ত পানি ও পুঁজ ব্যতীত।” (সূরা নাবা ৭৮:২৪-২৫)
আরো থাকবে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি, আল্লাহ তা‘আলার বাণী:
(سَيُصِيْبُ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا مِنْهُمْ عَذَابٌ أَلِيْمٌ)
“তাদের মধ্যে যারা কুফরী করেছে তাদের ওপর শীঘ্রই যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি পতিত হবে।” (সূরা তাওবাহ ৯:৯০)
সুতরাং কিয়ামতের দিন তারাই সফলকাম হবে যারা সঠিক ঈমান ও সৎআমল নিয়ে যাবে, আর যারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে কুফরী করেছে তাদের জন্য যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি ছাড়া কিছুই থাকবে না।
আয়াত হতে শিক্ষনীয় বিষয়:
১. আল্লাহ তা‘আলার কাছে তাঁর অনুমতি ব্যতীত কেউ শাফা‘য়াত করতে পারবে না।
২. আল্লাহ তা‘আলা একমাত্র মা‘বূদ, তাই তাঁরই ইবাদত করা সকলের কর্তব্য।
৩. কিয়ামত অবশ্যই সংঘটিত হবে।
৪. আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে পুনরায় জীবিত করবেন এবং তাদের প্রতিফল দেবেন।
৫. অবিশ্বাসীদের জন্য আখিরাতে রয়েছে কঠিন শাস্তি, ইত্যাদি।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা খবর দিচ্ছেন যে, কিয়ামতের দিন সমস্ত সৃষ্টজীব তার দিকেই প্রত্যাবর্তিত হবে। তাঁর সৃষ্ট সমস্ত প্রাণীকে অবশ্যই অবশ্যই তার কাছে ফিরে যেতে হবে। কেননা, যেমন তিনি তাদেরকে প্রথমবার সৃষ্টি করেছেন তেমনিই তিনি দ্বিতীয়বারও তাদেরকে সৃষ্টি করতে সক্ষম। আল্লাহ তা'আলা আদল ও ইনসাফের সাথে আমলের প্রতিদান প্রদান করবেন। একটুও কম করবেন না। আর কাফিরদেরকে তাদের কুফরীর কারণে কিয়ামতের দিন বিভিন্ন শাস্তি দেয়া হবে। যেমন প্রচণ্ড লু হাওয়া, গরম পানি এবং এই ধরনের আরও শাস্তি। এই কাফিররা যে জাহান্নামকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করছে তার মধ্যেই তাদেরকে চিরকাল বসবাস করতে হবে এবং সেখানে পাবে তারা তামার ন্যায় গলানো গরম পানি।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।