আল কুরআন


সূরা ইউনুস (আয়াত: 103)

সূরা ইউনুস (আয়াত: 103)



হরকত ছাড়া:

ثم ننجي رسلنا والذين آمنوا كذلك حقا علينا ننج المؤمنين ﴿١٠٣﴾




হরকত সহ:

ثُمَّ نُنَجِّیْ رُسُلَنَا وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا کَذٰلِکَ ۚ حَقًّا عَلَیْنَا نُنْجِ الْمُؤْمِنِیْنَ ﴿۱۰۳﴾




উচ্চারণ: ছুম্মা নুনাজ্জী রুছুলানা-ওয়াল্লাযীনা আ-মানূ কাযা-লিকা হাক্কান ‘আলাইনা-নুনজিল মু’মিনীন।




আল বায়ান: তারপর আমি নাজাত দেই আমার রাসূলদেরকে এবং তাদেরকেও যারা ঈমান এনেছে। এটা আমার দায়িত্ব যে, মুমিনদের নাজাত দেই।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০৩. তারপর আমরা আমাদের রাসূলদেরকে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে উদ্ধার করি। এভাবে মুমিনদেরকে উদ্ধার করা আমাদের দায়িত্ব।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: অবশেষে আমি আমার রসূলদেরকে আর মু’মিনদেরকে রক্ষা করি, এভাবে মু’মিনদেরকে রক্ষা করা আমার কর্তব্য।




আহসানুল বায়ান: (১০৩) অতঃপর আমি স্বীয় রসূলদেরকে উদ্ধার করি এবং যারা বিশ্বাস করেছে তাদেরকেও, অনুরূপ বিশ্বাসীদেরকেও উদ্ধার করা আমার দায়িত্ব।



মুজিবুর রহমান: শেষ পর্যন্ত আমি স্বীয় রাসূলদেরকে এবং মু’মিনদেরকে নাজাত দিলাম, এ রূপেই আমি মু’মিনদেরকে নাজাত দিয়ে থাকি।



ফযলুর রহমান: পরিশেষে আমি আমার রসূলদেরকে ও যারা ঈমান আনে তাদেরকে রক্ষা করি। বিষয়টি এমনই; আমার দায়িত্ব হিসেবেই আমি মুমিনদেরকে রক্ষা করি।



মুহিউদ্দিন খান: অতঃপর আমি বাঁচিয়ে নেই নিজের রসূলগণকে এবং তাদেরকে যারা ঈমান এনেছে এমনিভাবে। ঈমানদারদের বাঁচিয়ে নেয়া আমার দায়িত্বও বটে।



জহুরুল হক: তারপর আমরা রসূলগণকে উদ্ধার করি আর যারা বিশ্বাস করেছেন তাদেরও, এইভাবেই, -- বিশ্বাসীদের উদ্ধার করা আমাদের দায়িত্ব।



Sahih International: Then We will save our messengers and those who have believed. Thus, it is an obligation upon Us that We save the believers



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০৩. তারপর আমরা আমাদের রাসূলদেরকে এবং যারা ঈমান এনেছে তাদেরকে উদ্ধার করি। এভাবে মুমিনদেরকে উদ্ধার করা আমাদের দায়িত্ব।(১)


তাফসীর:

(১) এ দায়িত্ব আল্লাহ স্বয়ং তার নিজের উপর নিয়ে নিয়েছেন। কেউ তাঁকে বাধ্য করার নেই। তিনি নিজ করুণাবশতঃ মুমিনদেরকে উদ্ধার করে থাকেন। অন্য আয়াতে আল্লাহ্ তা'আলা বলেনঃ “তোমাদের প্রভূ তার নিজের উপর রহমতকে লিখে নিয়েছেন।” [সূরা আল-আনআমঃ ৫৪] অপর এক হাদীসে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ “আল্লাহ তাঁর কাছে আরশের উপর একটি কিতাবে লিখে রেখেছেন যে, আমার রহমত আমার ক্রোধের উপর প্রাধান্য পাবে’। [বুখারীঃ ৩১৯৪, মুসলিমঃ ২৭৫১]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০৩) অতঃপর আমি স্বীয় রসূলদেরকে উদ্ধার করি এবং যারা বিশ্বাস করেছে তাদেরকেও, অনুরূপ বিশ্বাসীদেরকেও উদ্ধার করা আমার দায়িত্ব।


তাফসীর:

-


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০১-১০৩ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা বান্দাদেরকে চিন্তার দৃষ্টি প্রসারিত করার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, সারা বিশ্বে আমার যেসব নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে, যেমন আকাশের তারকারাজি, নক্ষত্র, সূর্য, চন্দ্র, রাত, দিন ইত্যাদি এগুলো তোমরা চিন্তার দৃষ্টি দিয়ে লক্ষ্য করে দেখ যে, কিভাবে রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হচ্ছে। কখনো দিন বড় হচ্ছে আবার কখনো রাত বড় হচ্ছে, আকাশকে তারকারাজি দ্বারা সৌন্দর্যমণ্ডিত করা, আকাশ হতে বৃষ্টিবর্ষণ, জমিন হতে বিভিন্ন প্রকার তরুলতা উৎপন্ন এ সবগুলো মহাশক্তিশালী আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শন, যা প্রমাণ করে তিনি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় যে, এসব নিদর্শন ও ভয়-ভীতি কাফিরদের কোনই উপকারে আসে না। তারা একটু চিন্তা করে দেখে না যে, আল্লাহ তা‘আলা কেন এতসব নেয়ামত সৃষ্টি করেছেন, এসব নেয়ামত কেন তাদের জন্য নিয়োজিত করে দিয়েছেন? কিন্তু এসব নিদর্শন তাদের কোন উপকারে আসেনি। কারণ তাদের ওপর আল্লাহ তা‘আলার বাণী সাব্যস্ত হয়ে গেছে যে, তারা ঈমান আনবে না।



তবে কি তারা এই অপেক্ষায় আছে যে, তাদের সাথে সেই ঘটনা ঘটুক যা পূর্ববর্তীদের ওপর ঘটেছিল। অর্থাৎ যেমন পূর্ববর্তী আয়াতে বলা হয়েছে যে, মু’মিনদেরকে রক্ষা এবং কাফিরদেরকে ধ্বংস করে দেব। যদি এমনটিই হয় তাহলে বলে দাও! তোমরা অপেক্ষা কর আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে এবং তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করতে হবে।

২. যে কাজের কারণে পূর্ববর্তী জাতিরা ধ্বংস হয়েছিল সে কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১০১-১০৩ নং আয়াতের তাফসীর:

এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বন্দাদেরকে অন্তদৃষ্টি প্রসারিত করার উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন- সারা বিশ্বে আমার যেসব নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে, যেমন আকাশের তারকারাজি, নক্ষত্র, সূর্য, চন্দ্র, রাত, দিন ইত্যাদি, এগুলোর প্রতি তোমরা তোমাদের অন্তর্দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দেখো যে, কিভাবে রাত্রির মধ্যে দিবসকে এবং দিবসের মধ্যে রাত্রিকে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হচ্ছে! কখনো দিন বড় হচ্ছে, আবার কখনো রাত বড় হচ্ছে। আর আকাশের উচ্চতা ও প্রশস্ততা, তারকারাজি দ্বারা তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করা, আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ, যমীন শুষ্ক হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় তাকে সঞ্জীবিত ও সবুজ-শ্যামল করা, উদ্ভিদ ও বৃক্ষরাজিতে ফল, ফুল ও পাঁপড়ি সৃষ্টি করা, বিভিন্ন প্রকারের তরুলতা উৎপন্ন করা, বিভিন্ন প্রকারের জীব-জন্তু সৃষ্টি করা, এগুলোর আকৃতি, রং, উপকারিতা ও অপকারিতা পৃথক হওয়া, পাহাড়, মরুভূমি, বন-জঙ্গল, বাগবাগিচা, আবাদী ও পতিত ভূমি, সমুদ্র, তার তলদেশের বিস্ময়কর বস্তুরাজি, তরঙ্গমালা, জোয়ার-ভাটা, এতদসত্ত্বেও ভ্রমণকারীদের ওর উপর দিয়ে নৌকা, জাহাজ ইত্যাদি যোগে ভ্রমণ করা, এ সবগুলো হচ্ছে মহাশক্তিশালী আল্লাহ তা'আলার নিদর্শনসমূহ, যিনি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই। কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় এই যে, এসব নিদর্শন কাফিরদের চিন্তা ও গবেষণার কোনই কারণ হচ্ছে না। আল্লাহর দলীল সাব্যস্ত হয়ে গেছে, এরা ঈমান আনছে না এবং আনবেও না। এ লোকগুলো তো ঐ শাস্তির দিনগুলোরও অপেক্ষা করছে, যার সম্মুখীন হয়েছিল তাদের পূর্ববর্তী কওমগুলো। আল্লাহ পাক বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তাদেরকে বলে দাও- তোমরা সময়ের জন্যে অপেক্ষা কর। আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা। করছি। অবশেষে যখন অপেক্ষার সময় শেষ হয়ে শাস্তি এসেই পড়বে তখন আমি রাসূলদেরকে এবং তাদের উম্মতদেরকে বাঁচিয়ে নিব। আর যারা রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল তাদেরকে ধ্বংস করে দিব। মুমিনদেরকে রক্ষা করার যিম্মা মহান আল্লাহ গ্রহণ করেছেন, যেমন তিনি সকর্মশীলদের উপর করুণা বর্ষণ নিজের যিম্মায় নিয়েছেন। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, আল্লাহর কিতাব লাওহে মাহফুজে, যা আরশের উপর রয়েছে, তাতে লিখিত আছেঃ “আমার রহমত আমার গযবের উপর জয়যুক্ত।”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।