আল কুরআন


সূরা ইউনুস (আয়াত: 102)

সূরা ইউনুস (আয়াত: 102)



হরকত ছাড়া:

فهل ينتظرون إلا مثل أيام الذين خلوا من قبلهم قل فانتظروا إني معكم من المنتظرين ﴿١٠٢﴾




হরকত সহ:

فَهَلْ یَنْتَظِرُوْنَ اِلَّا مِثْلَ اَیَّامِ الَّذِیْنَ خَلَوْا مِنْ قَبْلِهِمْ ؕ قُلْ فَانْتَظِرُوْۤا اِنِّیْ مَعَکُمْ مِّنَ الْمُنْتَظِرِیْنَ ﴿۱۰۲﴾




উচ্চারণ: ফাহাল ইয়ানতাজিরূনা ইল্লা-মিছলা আইইয়া-মিল্লাযীনা খালাও মিন কাবলিহিম কুল ফানতাজিরূ ইন্নী মা‘আকুম মিনাল মুনতাজিরীন।




আল বায়ান: তবে কি তারা কেবল তাদের পূর্বে বিগত লোকদের অনুরূপ দিনগুলোরই অপেক্ষা করছে? বল, ‘তবে তোমরা অপেক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষমান’।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০২. তবে কি তারা কেবল তাদের আগে যা ঘটেছে সেটার অনুরূপ ঘটনারই প্রতীক্ষা করে? বলুন, তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষা করছি।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তবে তারা কি তাদের পূর্বে যে সব দিনগুলো ঘটে গেছে সে রকম ঘটা ছাড়া অন্য কিছুর অপেক্ষা করছে? বল, ‘‘তাহলে অপেক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষমান থাকলাম।’’




আহসানুল বায়ান: (১০২) অতএব তারা শুধু ঐ লোকদের অনুরূপ ঘটনাবলীর প্রতীক্ষা করছে, যারা তাদের পূর্বে গত হয়ে গেছে। তুমি বলে দাও, ‘তাহলে তোমরা (ওর) প্রতীক্ষায় থাক, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষারতদের অন্তর্ভুক্ত রইলাম।’ [1]



মুজিবুর রহমান: অতএব তারা শুধু ঐ লোকদের অনুরূপ ঘটনাবলীর প্রতীক্ষা করছে যারা তাদের পূর্বে গত হয়েছে। তুমি বলে দাওঃ আচ্ছা তাহলে তোমরা ওর প্রতীক্ষায় থাক, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষারতদের মধ্যে রইলাম।



ফযলুর রহমান: অতএব, তারা কি তাদের পূর্বে যারা চলে গিয়েছে তাদের ঘটনাবলীর মতই কোন কিছুর জন্য অপেক্ষা করছে? বল, “তাহলে তোমরা অপেক্ষা করো, আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি।”



মুহিউদ্দিন খান: সুতরাং এখন আর এমন কিছু নেই, যার অপেক্ষা করবে, কিন্তু সেসব দিনের মতই দিন, যা অতীত হয়ে গেছে এর পূর্বে। আপনি বলুন; এখন পথ দেখ; আমিও তোমাদের সাথে পথ চেয়ে রইলাম।



জহুরুল হক: তবে তারা কিসের প্রতীক্ষা করে ওদের দিনের অনুরূপ ব্যতীত যারা তাদের আগে গত হয়ে গেছে? বলোঃ "তবে তোমরা প্রতীক্ষা কর, নিঃসন্দেহ আমিও তোমাদের সঙ্গে প্রতীক্ষমাণদের মধ্যে রয়েছি।"



Sahih International: So do they wait except for like [what occurred in] the days of those who passed on before them? Say, "Then wait; indeed, I am with you among those who wait."



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০২. তবে কি তারা কেবল তাদের আগে যা ঘটেছে সেটার অনুরূপ ঘটনারই প্রতীক্ষা করে? বলুন, তোমরা প্রতীক্ষা কর, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষা করছি।(১)


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ তারা তো কেবল তাদের পূর্বে যারা চলে গেছে, নুহ, হুদ ও সামূদের কাওমের উপর দিয়ে যে যুগান্তকারী ঘটনা ঘটে গেল সেটার মত ঘটনারই অপেক্ষা করছে। [তাবারী] পূর্ববর্তী উম্মতদের মধ্যে যারা নবী-রাসূলদের উপর মিথ্যারোপ করেছিল, তাদের উপর যেমন শাস্তি এসেছিল এরাও কি তদ্রুপ শাস্তিরই অপেক্ষা করছে? [ইবন কাসীর]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০২) অতএব তারা শুধু ঐ লোকদের অনুরূপ ঘটনাবলীর প্রতীক্ষা করছে, যারা তাদের পূর্বে গত হয়ে গেছে। তুমি বলে দাও, ‘তাহলে তোমরা (ওর) প্রতীক্ষায় থাক, আমিও তোমাদের সাথে প্রতীক্ষারতদের অন্তর্ভুক্ত রইলাম।’ [1]


তাফসীর:

[1] অর্থাৎ, এ সকল মানুষ যাদের উপর কোন প্রমাণ ও ধমক প্রভাব বিস্তার করে না, ফলে তারা ঈমান আনে না। তারা কি এই অপেক্ষায় আছে যে, তাদের সাথে সেই ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি ঘটুক; যা পূর্ববর্তী জাতিরা ভোগ করেছে। অর্থাৎ মু’মিনদেরকে রক্ষা করে বাকি সকলকে ধ্বংস করে দেওয়া হত। (যেমন পরবর্তী আয়াতে বর্ণিত হয়েছে।) যদি তারই অপেক্ষায় থাকে, তবে ঠিক আছে, তোমরাও অপেক্ষা কর, আমিও অপেক্ষা করছি।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০১-১০৩ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা বান্দাদেরকে চিন্তার দৃষ্টি প্রসারিত করার নির্দেশনা দিয়ে বলেন, সারা বিশ্বে আমার যেসব নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে, যেমন আকাশের তারকারাজি, নক্ষত্র, সূর্য, চন্দ্র, রাত, দিন ইত্যাদি এগুলো তোমরা চিন্তার দৃষ্টি দিয়ে লক্ষ্য করে দেখ যে, কিভাবে রাতকে দিনের মধ্যে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হচ্ছে। কখনো দিন বড় হচ্ছে আবার কখনো রাত বড় হচ্ছে, আকাশকে তারকারাজি দ্বারা সৌন্দর্যমণ্ডিত করা, আকাশ হতে বৃষ্টিবর্ষণ, জমিন হতে বিভিন্ন প্রকার তরুলতা উৎপন্ন এ সবগুলো মহাশক্তিশালী আল্লাহ তা‘আলার নিদর্শন, যা প্রমাণ করে তিনি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই, কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় যে, এসব নিদর্শন ও ভয়-ভীতি কাফিরদের কোনই উপকারে আসে না। তারা একটু চিন্তা করে দেখে না যে, আল্লাহ তা‘আলা কেন এতসব নেয়ামত সৃষ্টি করেছেন, এসব নেয়ামত কেন তাদের জন্য নিয়োজিত করে দিয়েছেন? কিন্তু এসব নিদর্শন তাদের কোন উপকারে আসেনি। কারণ তাদের ওপর আল্লাহ তা‘আলার বাণী সাব্যস্ত হয়ে গেছে যে, তারা ঈমান আনবে না।



তবে কি তারা এই অপেক্ষায় আছে যে, তাদের সাথে সেই ঘটনা ঘটুক যা পূর্ববর্তীদের ওপর ঘটেছিল। অর্থাৎ যেমন পূর্ববর্তী আয়াতে বলা হয়েছে যে, মু’মিনদেরকে রক্ষা এবং কাফিরদেরকে ধ্বংস করে দেব। যদি এমনটিই হয় তাহলে বলে দাও! তোমরা অপেক্ষা কর আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করছি।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. আল্লাহ তা‘আলার সৃষ্টি নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করতে হবে এবং তা থেকে উপদেশ গ্রহণ করতে হবে।

২. যে কাজের কারণে পূর্ববর্তী জাতিরা ধ্বংস হয়েছিল সে কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১০১-১০৩ নং আয়াতের তাফসীর:

এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা স্বীয় বন্দাদেরকে অন্তদৃষ্টি প্রসারিত করার উপদেশ দিতে গিয়ে বলেন- সারা বিশ্বে আমার যেসব নিদর্শন ছড়িয়ে রয়েছে, যেমন আকাশের তারকারাজি, নক্ষত্র, সূর্য, চন্দ্র, রাত, দিন ইত্যাদি, এগুলোর প্রতি তোমরা তোমাদের অন্তর্দৃষ্টি নিক্ষেপ করে দেখো যে, কিভাবে রাত্রির মধ্যে দিবসকে এবং দিবসের মধ্যে রাত্রিকে প্রবেশ করিয়ে দেয়া হচ্ছে! কখনো দিন বড় হচ্ছে, আবার কখনো রাত বড় হচ্ছে। আর আকাশের উচ্চতা ও প্রশস্ততা, তারকারাজি দ্বারা তাকে সৌন্দর্যমণ্ডিত করা, আকাশ হতে বৃষ্টি বর্ষণ, যমীন শুষ্ক হয়ে যাওয়ার পর পুনরায় তাকে সঞ্জীবিত ও সবুজ-শ্যামল করা, উদ্ভিদ ও বৃক্ষরাজিতে ফল, ফুল ও পাঁপড়ি সৃষ্টি করা, বিভিন্ন প্রকারের তরুলতা উৎপন্ন করা, বিভিন্ন প্রকারের জীব-জন্তু সৃষ্টি করা, এগুলোর আকৃতি, রং, উপকারিতা ও অপকারিতা পৃথক হওয়া, পাহাড়, মরুভূমি, বন-জঙ্গল, বাগবাগিচা, আবাদী ও পতিত ভূমি, সমুদ্র, তার তলদেশের বিস্ময়কর বস্তুরাজি, তরঙ্গমালা, জোয়ার-ভাটা, এতদসত্ত্বেও ভ্রমণকারীদের ওর উপর দিয়ে নৌকা, জাহাজ ইত্যাদি যোগে ভ্রমণ করা, এ সবগুলো হচ্ছে মহাশক্তিশালী আল্লাহ তা'আলার নিদর্শনসমূহ, যিনি ছাড়া অন্য কোন উপাস্য নেই। কিন্তু বড়ই পরিতাপের বিষয় এই যে, এসব নিদর্শন কাফিরদের চিন্তা ও গবেষণার কোনই কারণ হচ্ছে না। আল্লাহর দলীল সাব্যস্ত হয়ে গেছে, এরা ঈমান আনছে না এবং আনবেও না। এ লোকগুলো তো ঐ শাস্তির দিনগুলোরও অপেক্ষা করছে, যার সম্মুখীন হয়েছিল তাদের পূর্ববর্তী কওমগুলো। আল্লাহ পাক বলেনঃ হে নবী (সঃ)! তাদেরকে বলে দাও- তোমরা সময়ের জন্যে অপেক্ষা কর। আমিও তোমাদের সাথে অপেক্ষা। করছি। অবশেষে যখন অপেক্ষার সময় শেষ হয়ে শাস্তি এসেই পড়বে তখন আমি রাসূলদেরকে এবং তাদের উম্মতদেরকে বাঁচিয়ে নিব। আর যারা রাসূলদেরকে অস্বীকার করেছিল তাদেরকে ধ্বংস করে দিব। মুমিনদেরকে রক্ষা করার যিম্মা মহান আল্লাহ গ্রহণ করেছেন, যেমন তিনি সকর্মশীলদের উপর করুণা বর্ষণ নিজের যিম্মায় নিয়েছেন। সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, আল্লাহর কিতাব লাওহে মাহফুজে, যা আরশের উপর রয়েছে, তাতে লিখিত আছেঃ “আমার রহমত আমার গযবের উপর জয়যুক্ত।”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।