আল কুরআন


সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 93)

সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 93)



হরকত ছাড়া:

إنما السبيل على الذين يستأذنونك وهم أغنياء رضوا بأن يكونوا مع الخوالف وطبع الله على قلوبهم فهم لا يعلمون ﴿٩٣﴾




হরকত সহ:

اِنَّمَا السَّبِیْلُ عَلَی الَّذِیْنَ یَسْتَاْذِنُوْنَکَ وَ هُمْ اَغْنِیَآءُ ۚ رَضُوْا بِاَنْ یَّکُوْنُوْا مَعَ الْخَوَالِفِ ۙ وَ طَبَعَ اللّٰهُ عَلٰی قُلُوْبِهِمْ فَهُمْ لَا یَعْلَمُوْنَ ﴿۹۳﴾




উচ্চারণ: ইন্নামাছছাবীলু‘আলাল লাযীনা ইয়াছতা’যিনূনাকা ওয়াহুম আগনিয়াউ রাদূ বিআইঁ ইয়াকূনূমা‘আল খাওয়া-লিফি ওয়া তাবা‘আল্লা-হু ‘আলা-কুলূবিহিম ফাহুম লাইয়া‘লামূন।




আল বায়ান: কিন্তু (অভিযোগের) পথ আছে তাদের উপর, যারা তোমার কাছে অনুমতি চায় অথচ তারা ধনী, তারা পেছনে থাকা লোকদের সাথে থাকা বেছে নিয়েছে আর আল্লাহ তাদের অন্তর- সমূহের উপর মোহর এঁটে দিয়েছেন, তাই তারা জানে না।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯৩. যারা অভাবমুক্ত হয়েও অব্যাহতি প্রার্থনা করেছে, অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণ আছে। তারা অন্তঃপুরবাসিনীদের সাথে থাকাই পছন্দ করেছিল; আর আল্লাহ তাদের অন্তরের উপর মোহর এঁটে দিয়েছেন, ফলে তারা জানতে পারে না।




তাইসীরুল ক্বুরআন: অভিযোগ তো তাদের বিরুদ্ধে যারা সম্পদশালী হওয়া সত্ত্বেও (যুদ্ধে যাওয়া হতে) তোমার কাছে অব্যাহতি প্রার্থনা করেছিল, যারা ঘরে বসা থাকা (স্ত্রী লোকদের) সঙ্গে থাকতেই পছন্দ করেছিল, আল্লাহ তাদের হৃদয়কে সীল করে দিয়েছেন আর এজন্য (কিসে নিজেদের কল্যাণ আছে আর কিসে অকল্যাণ) তা তারা জানে না।




আহসানুল বায়ান: (৯৩) অভিযোগ তো শুধুমাত্র ঐ লোকদের বিরুদ্ধেই যারা ধনবান হওয়া সত্ত্বেও (যুদ্ধে গমন না করার) অনুমতি চায়। তারা অন্তঃপুরবাসী মহিলাদের সাথে থাকতে পছন্দ করল। আর আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিলেন, সুতরাং তারা জ্ঞানলাভে অক্ষম।[1]



মুজিবুর রহমান: অভিযোগতো শুধুমাত্র ঐ লোকদেরই উপর যারা সামর্থ্যশালী হওয়া সত্ত্বেও (যুদ্ধে গমন না করার) অনুমতি প্রার্থনা করছে, তারা অন্তঃপুরবাসিনী মহিলাদের সাথে থাকাকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে। আল্লাহ তাদের অন্তরসমূহের উপর মোহর মেরে দিলেন, কাজেই তারা (পাপ-পুণ্যকে) বুঝতে পারেনা।



ফযলুর রহমান: আসলে অভিযোগ তাদের বিরুদ্ধে, যারা ধনী হওয়া সত্ত্বেও তোমার কাছে (জেহাদে না যাওয়ার জন্য) অনুমতি চায়। তারা পেছনে থেকে-যাওয়া মহিলাদের সাথে (বাড়িতে) থাকতে পছন্দ করেছে। আল্লাহ তাদের অন্তরে ছাপ মেরে দিয়েছেন; তাই তারা জানতে পারছে না।



মুহিউদ্দিন খান: অভিযোগের পথ তো তাদের ব্যাপারে রয়েছে, যারা তোমার নিকট অব্যাহতি কামনা করে অথচ তারা সম্পদশালী। যারা পেছনে পড়ে থাকা লোকদের সাথে থাকতে পেরে আনন্দিত হয়েছে। আর আল্লাহ মোহর এঁটে দিয়েছেন তাদের অন্তরসমূহে। বস্তুতঃ তারা জানতেও পারেনি।



জহুরুল হক: বস্তুতঃ পথ তাদেরই বিরুদ্ধে যারা তোমার কাছে অব্যাহতি চায় অথচ তারা বিত্তবান। তারা পেছনে রয়ে থাকাদের সাথে অবস্থানই পছন্দ করেছিল, আর আল্লাহ্ তাদের হৃদয়ের উপরে মোহর মেরে দিয়েছেন, যেজন্য তারা বুঝতে পারে না।



Sahih International: The cause [for blame] is only upon those who ask permission of you while they are rich. They are satisfied to be with those who stay behind, and Allah has sealed over their hearts, so they do not know.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৯৩. যারা অভাবমুক্ত হয়েও অব্যাহতি প্রার্থনা করেছে, অবশ্যই তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কারণ আছে। তারা অন্তঃপুরবাসিনীদের সাথে থাকাই পছন্দ করেছিল; আর আল্লাহ তাদের অন্তরের উপর মোহর এঁটে দিয়েছেন, ফলে তারা জানতে পারে না।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৯৩) অভিযোগ তো শুধুমাত্র ঐ লোকদের বিরুদ্ধেই যারা ধনবান হওয়া সত্ত্বেও (যুদ্ধে গমন না করার) অনুমতি চায়। তারা অন্তঃপুরবাসী মহিলাদের সাথে থাকতে পছন্দ করল। আর আল্লাহ তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিলেন, সুতরাং তারা জ্ঞানলাভে অক্ষম।[1]


তাফসীর:

[1] এরা মুনাফিক্ব যাদের বর্ণনা ৮৬-৮৭নং আয়াতে এসেছে। এখানে দ্বিতীয়বার বিশুদ্ধচিত্ত মুসলিমদের মোকাবেলায় তাদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। যেহেতু প্রত্যেক জিনিস তার বিপরীতধর্মী জিনিস দ্বারা জানা বা চেনা যায়। خَوالِف শব্দটি خَالِفَة এর বহুবচন; যার অর্থ হল পিছনে থাকা মহিলা, এখানে উদ্দেশ্য হল, মহিলা, শিশু, অক্ষম, খুব অসুস্থ এবং বৃদ্ধ ব্যক্তি; যারা জিহাদে শরীক হতে অপারগ। لاَ يَعلَمُون এর অর্থ হল, তারা জানে না যে, জিহাদে পিছনে থাকা কত বড় অপরাধ। নচেৎ তারা সম্ভবতঃ রসূল (সাঃ) থেকে পিছনে বসে থাকত না।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৯১-৯৩ নং আয়াতের তাফসীর:



এ আয়াতগুলোতে ঐ সমস্ত লোকেদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যাদের জিহাদে শরীক না হওয়ার শরীয়তসম্মত কারণ রয়েছে। যেমন:



১. বৃদ্ধ ও অক্ষম লোক। যেমন- খোঁড়া, অন্ধ প্রভৃতি লোকেরা এ শ্রেণির শামিল। ২. অসুস্থ, ৩. যারা জিহাদে যাওয়ার সরঞ্জাম ও ব্যয় বহনে অসামর্থ এবং বাইতুল মাল থেকেও সাহায্য করা হয়নি।



এরা যদি আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কল্যাণকামী হয় অর্থাৎ জিহাদে না গিয়েও জিহাদের আকাক্সক্ষা, মুজাহিদদের প্রতি ভালবাসা, আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর দুশমনদের সাথে শত্রুতা রাখে তাহলে জিহাদে শরীক না হলেও তাদের কোন গুনাহ নেই।



(إِذَا مَآ أَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لَآ أَجِدُ مَآ أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ)



‘তাদেরও কোন অপরাধ নেই যারা তোমার নিকট বাহনের জন্য আসলে তুমি বলেছিলে, ‘তোমাদের জন্য কোন বাহন আমি পাচ্ছি না’ এদের দ্বারা কারা উদ্দেশ্য- এ নিয়ে মুফাসসিরগণ কয়েকটি মত তুলে ধরেছেন। মুহাম্মাদ বিন কাব বলেন: তারা আমর বিন আওফ গোত্রের সাত জন লোক। মুজাহিদ বলেন: তারা হলেন মুযাইনা গোত্রের লোক। তবে মুহাম্মাদ বিন ইসহাক তাবুক যুদ্ধের বিবরণ তুলে ধরার পর বলেন: তারা হলেন কতক মুসলিম ব্যক্তি যারা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট আগমন করেছিল ক্রন্দনরত অবস্থায়। তাদের সাত জন আনসার ও আমর বিন আওফ গোত্রের অন্যান্যরাও ছিলেন। (ইবুন কাসীর, কুরতুবী, অত্র আয়াতের তাফসীর)



রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: তোমরা মদীনাতে এমন লোক রেখে এসেছ, তোমরা যা ব্যয় কর, যত উপত্যকা অতিক্রম কর এবং শত্রুদের থেকে যেভাবেই আক্রান্ত হও, সবকিছুতেই তারা পূণ্যের দিক দিয়ে অংশীদার। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এ আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে তাদেরকে ওজর আটকে রেখেছে। (সহীহ বুখারী হা: ২৮৩৯)



(إِنَّمَا السَّبِيْلُ عَلَي الَّذِيْنَ)



‘তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পথ আছে..’ এদের আলোচনা ৮৬-৮৭ নং আয়াতে করা হয়েছে। এরা সামর্থ থাকা সত্ত্বেও জিহাদে শরীক হয়নি। মূলত এরা মুনাফিক।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. যাদের জন্য জিহাদে শরীক না হওয়ার অনুমতি রয়েছে তাদের পরিচয় জানলাম।

২. প্রকৃত মু’মিন জিহাদে শরীক না হতে পারলে তারা আন্তরিকভাবে ব্যথিত হয়।

৩. সামর্থ থাকা সত্ত্বেও যারা যুদ্ধে শরীক হয় না তারা মুনাফিক।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৯১-৯৩ নং আয়াতের তাফসীর:

এখানে আল্লাহ তাআলা ঐ শরীয়ত সম্মত ওযরসমূহের বর্ণনা দিচ্ছেন যে ওরগুলো কোন মানুষের মাঝে থাকলে সে যদি জিহাদে অংশগ্রহণ না করে তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে তার কোন অপরাধ হবে না। ঐ ওযরগুলোর মধ্যে এক প্রকারতো হচ্ছে এই যে, তা সব সময়ই থাকবে, কোন অবস্থাতেই মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না। যেমন জন্মগতভাবে দুর্বল হওয়া, খোড়া হওয়া, অন্ধ হওয়া, বিকলাঙ্গ হওয়া, সম্পূর্ণরূপে শক্তিহীন হওয়া ইত্যাদি। দ্বিতীয় প্রকারের ওযর হচ্ছে ঐ সব ওযর যেগুলো কখনো থাকে আবার কখনো থাকে না। ওগুলো হচ্ছে আকস্মিক কারণ। যেমন কেউ রুগ্ন হয়ে পড়লো বা অভাবগ্রস্ত হলো অথবা সফরের ও জিহাদের সরঞ্জাম জোগাড় করতে পারছে না ইত্যাদি। সুতরাং এসব ওযর বিশিষ্ট লোকেরা জিহাদে অংশগ্রহণ না করলে শরীয়তের দৃষ্টিতে তাদের কোন অপরাধ হবে না। কিন্তু তাদের আন্তরিকতা থাকতে হবে। তাদেরকে হতে হবে মুসলিমদের ও আল্লাহর দ্বীনের শুভাকাঙ্ক্ষী। তাদের কর্তব্য হবে অন্যদেরকে জিহাদের প্রতি উৎসাহিত করা। বাড়ীতে বসে বসে যতটুকু সম্ভব মুজাহিদদের খিদমত করতে হবে। এরূপ সৎ প্রকৃতির লোকদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। আল্লাহ তা'আলা ক্ষমাশীল ও দয়ালু।

ঈসা (আঃ)-এর সাহায্যকারী হাওয়ারীগণ তাঁকে প্রশ্ন করেছিলঃ “আল্লাহর শুভাকাঙ্ক্ষী কারা বলুন তো?” তিনি উত্তরে বলেছিলেনঃ “যারা আল্লাহর হককে মানুষের হকের উপর প্রাধান্য দেয় এবং যখন একটি দ্বীনের কাজ এবং একটি দুনিয়ার কাজ সামনে এসে যায় তখন যারা দ্বীনের কাজের গুরুত্বের প্রতি পূর্ণ খেয়াল রাখে । তারপর দ্বীনের কাজ শেষ করে দুনিয়ার কাজ আনজাম দেয়।”

একবার দুর্ভিক্ষের সময় জনগণ ইসতিকার সালাত পড়ার জন্যে মাঠের দিকে বের হয়। তাদের সাথে বিলাল ইবনে সা'দ (রাঃ) ছিলেন। তিনি দাড়িয়ে আল্লাহ তাআলার হামদ ও সানার পর জনগণকে সম্বোধন করে বলেনঃ “হে উপস্থিত ভ্রাতৃবৃন্দ! আপনারা কি এটা স্বীকার করেন যে, আপনারা সবাই আল্লাহ তা'আলার পাপী বান্দা?” সবাই সমস্বরে বলে উঠলেনঃ “হ্যাঁ।” অতঃপর তিনি প্রার্থনার জন্যে হাত উঠিয়ে বলতে লাগলেন- হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আপনার কালামে পাকে বলেছেনঃ “সৎ লোকদের প্রতি কোন প্রকারের অভিযোগ নেই।” আমরা আমাদের দুষ্কর্যের স্বীকারোক্তি করছি। সুতরাং আপনি আমাদের। ক্ষমা করুন! আমাদের উপর আপনার করুণা বর্ষণ করুন! আমাদের উপর দয়াপরবশ হয়ে বৃষ্টি বর্ষণ করুন! তিনি হাত উঠালেন এবং জনগণও তাঁর সাথে হাত উঠালো। আল্লাহর করুণা উথলিয়ে উঠলো এবং মুষলধারে রহমতের বৃষ্টি বর্ষিত হতে শুরু হলো।

যায়েদ ইবনে সাবিত (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর লেখক ছিলাম। সূরায়ে বারাআত যখন অবতীর্ণ হচ্ছিল তখন আমি ঐ সূরাটিও লিখছিলাম। আমি আমার কলমটি আমার কানের উপর রাখতাম। জিহাদের আয়াতগুলো অবতীর্ণ হচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উপর কি অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে সে জন্যে তিনি অপেক্ষমান ছিলেন। এমন সময় একজন অন্ধ এসে বলতে লাগলোঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমি তো একজন অন্ধ লোক। সুতরাং আমি জিহাদের নির্দেশ কিরূপে পালন করতে পারি?” তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।

এরপর ঐ লোকদের বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যারা জিহাদে অংশগ্রহণের জন্যে সদা উদ্বিগ্ন, কিন্তু স্বভাবগত কারণে বিরত থাকতে বাধ্য হয়। জিহাদের হুকুম অবতীর্ণ হলে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ঘোষণা অনুযায়ী মুজাহিদগণ জমা হতে শুরু করেন। একটি দল আগমন করলেন যাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল ইবনে মাকরান মুযানীও (রাঃ) ছিলেন। তারা বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমাদের সওয়ারী নেই। সুতরাং আপনি আমাদের সওয়ারীর ব্যবস্থা করে দিন, যাতে আমরাও জিহাদের সওয়াব লাভ করতে পারি।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদেরকে বললেনঃ “আল্লাহর কসম! আমার কাছে তো একটিও সওয়ারী নেই যাতে আমি তোমাদেরকে আরোহণ করতে পারি।” সুতরাং তারা নিরাশ হয়ে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে যান। তাঁদের এর চেয়ে বড় দুঃখ আর ছিল না যে, তারা জিহাদের মর্যাদা লাভে বঞ্চিত হয়ে গেলেন এবং নারীদের মত তাদেরকে ঐ সময়টা বাড়ীতেই কাটাতে হবে। তাদের না আছে নিজেদের কোন জিনিস, না কারো কাছ থেকে কোন বাহন পাচ্ছেন। তাই মহান আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করে তাদেরকে সান্তনা দান করেন। এ আয়াতটি মুযাইনা গোত্রের শাখা বানু। মাকরানের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। মুহাম্মাদ ইবনে কা'ব (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা সাতজন ছিলেন। তাঁরা ছিলেন বানু আমির গোত্রের লোক। তাঁরা হচ্ছেন-(১) বানু ওয়াকিফ গোত্রের সালিম ইবনে আউফ, (২) বানু মাযিল গোত্রের হারামী ইবনে আমর, (৩) বানু মুআল্লা গোত্রের আব্দুর রহমান ইবনে কা'ব, (৪) বানু সালমা গোত্রের ফাযলুল্লাহ, (৫) আমর ইবনে উকবা, (৬) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর মুযানী, (৭) বানু হারিসা গোত্রের আলিয়্যাহ ইবনে যায়েদ। কোন কোন রিওয়ায়াতে কতকগুলো নামের হেরফেরও রয়েছে। মহৎ হৃদয়ের অধিকারী এই বুযুর্গদের ব্যাপারেই রাসূলগণের মাথার মুকুট মুহাম্মাদ (সঃ) বলেছেনঃ “হে আমার মুজাহিদ সাহাবীবর্গ! তোমরা মদীনায় যেসব লোককে পিছনে ছেড়ে এসেছে তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা তোমাদের খরচ করার মধ্যে, তোমাদের মাঠে-ময়দানে চলাফেরার মধ্যে, তোমাদের জিহাদ করার মধ্যে শরীক রয়েছে। এতে তোমাদের যে সওয়াব হবে তাতে তারাও শরীক থাকবে।” অতঃপর তিনি এই আয়াতটিই পাঠ করেন। অন্য এক রিওয়ায়াতে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর এ কথা শুনে সাহাবীগণ বলেনঃ “তারা বাড়ীতে বসে থেকেও সওয়াবে আমাদের শরীক হবে?” রাসূলুল্লাহ (সঃ) উত্তরে বলেনঃ “হ্যা, কেননা তাদের ওযর রয়েছে। ওযরের কারণেই তারা জিহাদে অংশগ্রহণ করতে পারেনি।” অন্য হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “রোগ তাদেরকে জিহাদে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রেখেছে।” অতঃপর প্রকৃতপক্ষে যাদের কোন ওযর নেই, আল্লাহ তাআলা তাদের বর্ণনা দিচ্ছেন। তিনি বলছেনঃ অভিযোগ তো শুধু ঐ লোকদের উপরই যারা ধন-সম্পদের মালিক ও হৃষ্টপুষ্ট হওয়া সত্ত্বেও যুদ্ধে গমন না করার অনুমতি চাচ্ছে। তারা অন্তঃপুরবাসিনী মহিলাদের মত বাড়ীতেই অবস্থান করতে ইচ্ছুক। তারা মাটি কামড়ে বসে থাকে। তাদের দুষ্কার্যের কারণে আল্লাহ তা'আলা তাদের অন্তরসমূহের উপর মোহর মেরে দেন। সুতরাং তারা এখন নিজেদের ভাল মন্দ কিছুই জানতে পারছে না।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।