সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 91)
হরকত ছাড়া:
ليس على الضعفاء ولا على المرضى ولا على الذين لا يجدون ما ينفقون حرج إذا نصحوا لله ورسوله ما على المحسنين من سبيل والله غفور رحيم ﴿٩١﴾
হরকত সহ:
لَیْسَ عَلَی الضُّعَفَآءِ وَ لَا عَلَی الْمَرْضٰی وَ لَا عَلَی الَّذِیْنَ لَا یَجِدُوْنَ مَا یُنْفِقُوْنَ حَرَجٌ اِذَا نَصَحُوْا لِلّٰهِ وَ رَسُوْلِهٖ ؕ مَا عَلَی الْمُحْسِنِیْنَ مِنْ سَبِیْلٍ ؕ وَ اللّٰهُ غَفُوْرٌ رَّحِیْمٌ ﴿ۙ۹۱﴾
উচ্চারণ: লাইছা ‘আলাদদু‘আফাই ওয়ালা-‘আলাল মারদা-ওয়ালা-‘আলাল্লাযীনা লা-ইয়াজিদূ নামা-ইউনফিকূ না হারাজুন ইযা-নাসাহূলিল্লা-হি ওয়া রাছূলিহী মা-‘আলাল মুহছিনীনা মিন ছাবীলিওঁ ওয়াল্লা-হু গাফূরুর রাহীম।
আল বায়ান: কোন দোষ নেই দুর্বলদের উপর, অসুস্থদের উপর ও যারা দান করার মত কিছু পায় না তাদের উপর, যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের হিতাকাঙ্ক্ষী হয়। সৎকর্মশীলদের উপর (অভিযোগের) কোন পথ নেই, আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯১. যারা দুর্বল, যারা পীড়িত এবং যারা অর্থ সাহায্যে অসমৰ্থ, তাদের কোন অপরাধ নেই, যদি আল্লাহ ও তার রাসূলের হিতাকাঙ্ক্ষী হয়(১)। মুহসিনদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন পথ নেই; আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
তাইসীরুল ক্বুরআন: দুর্বলের উপর, পীড়িতের উপর আর ব্যয় করার মত কোন সম্বল যাদের নেই তাদের উপর কোন অভিযোগ নেই, যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি বিশ্বস্ত হয়ে থাকে। সৎ কর্মপরায়ণদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করার কোন সুযোগ নেই, আর আল্লাহ বড়ই ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
আহসানুল বায়ান: (৯১) দুর্বল, পীড়িত এবং অর্থব্যয় করতে যারা অসমর্থ তাদের কোন অপরাধ নেই; যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষী হয়। সৎকর্মপরায়ণদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন পথ নেই। আর আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়। [1]
মুজিবুর রহমান: দুর্বল লোকদের উপর কোন পাপ নেই, আর না রুগ্নদের উপর, আর না ঐ সব লোকের উপর যাদের খরচ করার সামর্থ্য নেই। যদি এই সব লোক আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের প্রতি নিষ্ঠা রাখে (এবং আন্তরিকতার সাথে আনুগত্য স্বীকার করে) তাহলে এ সব সৎ লোকের প্রতি কোন প্রকার অভিযোগ নেই। আর আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়।
ফযলুর রহমান: (জেহাদে অংশগ্রহণ না করায়) দুর্বলদের বিরুদ্ধে কিংবা পীড়িতদের বিরুদ্ধে অথবা যাদের ব্যয় করার মত কিছু নেই তাদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই, যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি আন্তরিক থাকে। সৎকর্মশীলদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন কারণ নেই। আল্লাহ ক্ষমাশীল, দয়ালু।
মুহিউদ্দিন খান: দূর্বল, রুগ্ন, ব্যয়ভার বহনে অসমর্থ লোকদের জন্য কোন অপরাধ নেই, যখন তারা মনের দিক থেকে পবিত্র হবে আল্লাহ ও রসূলের সাথে। নেককারদের উপর অভিযোগের কোন পথ নেই। আর আল্লাহ হচ্ছেন ক্ষমাকারী দয়ালু।
জহুরুল হক: দুর্বলদের উপরে, কোনো দোষ হবে না, পীড়িতদের উপরেও না, ওদের উপরেও না যারা খুঁজে পায় না কি তারা খরচ করবে, যে পর্যন্ত তারা আল্লাহ্ ও তাঁর রসূলের প্রতি অনুরাগ দেখাবে। সৎকর্মপরায়ণদের উপরে কোনো রাস্তা নেই। আর আল্লাহ্ পরিত্রাণকারী, অফুরন্ত ফলদাতা।
Sahih International: There is not upon the weak or upon the ill or upon those who do not find anything to spend any discomfort when they are sincere to Allah and His Messenger. There is not upon the doers of good any cause [for blame]. And Allah is Forgiving and Merciful.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৯১. যারা দুর্বল, যারা পীড়িত এবং যারা অর্থ সাহায্যে অসমৰ্থ, তাদের কোন অপরাধ নেই, যদি আল্লাহ ও তার রাসূলের হিতাকাঙ্ক্ষী হয়(১)। মুহসিনদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন পথ নেই; আর আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।
তাফসীর:
(১) এখানে সে সমস্ত নিষ্ঠাবান মুসলিমদের কথা আলোচনা করা হচ্ছে, যারা প্রকৃতই অপরাগতার দরুণ জিহাদে অংশ গ্রহণে অসমর্থ ছিল। এদের মধ্যে কিছু লোক ছিল অন্ধ বা অসুস্থতার কারণে অপারগ এবং যাদের অপরাগতা ছিল একান্ত সুস্পষ্ট। আর কিছু লোক ছিল যারা জিহাদে অংশগ্রহণের জন্য প্রস্তুত ছিল, বরং জিহাদে যাবার জন্য ব্যাকুল হয়েছিল, কিন্তু তাদের কাছে সফর করার জন্য সওয়ারীর কোন জীব ছিল না। বস্তুতঃ সফর ছিল সুদীর্ঘ এবং মওসুমটি ছিল গরমের। তারা নিজেদের জিহাদী উদ্দীপনা এবং সওয়ারীর অভাবে তাতে অংশগ্রহণে অপরাগতার কথা জানিয়ে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের নিকট আবেদন করে যে, আমাদের জন্য সওয়ারীর কোন ব্যবস্থা করা হোক। তাফসীরের গ্রন্থসমূহে এ ধরনের একাধিক ঘটনার কথা লেখা হয়েছে। [দেখুন, কুরতুবী; ইবন কাসীর; আত-তাফসীরুস সহীহ]
তবে আয়াতে একটি শর্ত দেয়া হয়েছে যে তাদের আল্লাহ ও তার রাসূলের হিতাকাঙ্খী হতে হবে। এক হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এ হিতাকাঙ্খাকেই দ্বীন হিসেবে সাব্যস্ত করেছেন। তিনি বলেছেন, দ্বীন হচ্ছে, নসীহত বা হিতাকাঙ্খা, দ্বীন হচ্ছে, হিতাকাঙ্খা, দ্বীন হচ্ছে, হিতাকাঙ্খা, আমরা বললাম, কার জন্য? তিনি বললেন, আল্লাহর জন্য, তার কিতাবের জন্য, তার রাসূলের জন্য, মুসলিম ইমামদের জন্য এবং সর্বসাধারণের জন্য। [মুসলিম: ৫৫]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৯১) দুর্বল, পীড়িত এবং অর্থব্যয় করতে যারা অসমর্থ তাদের কোন অপরাধ নেই; যদি তারা আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষী হয়। সৎকর্মপরায়ণদের বিরুদ্ধে অভিযোগের কোন পথ নেই। আর আল্লাহ অতিশয় ক্ষমাশীল, পরম করুণাময়। [1]
তাফসীর:
[1] এই আয়াতে সেই সব লোকদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যাদের সত্যিকার ওজর ছিল। আর তাদের সে ওজরও স্পষ্ট ছিল। যেমন, (ক) বৃদ্ধ ও অক্ষম লোক। অন্ধ অথবা খোঁড়া প্রভৃতি লোকরাও এই শ্রেণীর আওতায় এসে পড়ে। কেউ কেউ এদেরকে অসুস্থ লোকদের মধ্যে গণ্য করেছেন। (খ) অসুস্থ ব্যক্তি। (গ) তারা যাদের নিকট জিহাদ করার সরঞ্জাম ছিল না এবং বায়তুল মাল থেকেও তাদের মদদ করা হয়নি। ‘আল্লাহ ও তাঁর রসূলের প্রতি হিতাকাঙ্ক্ষী’ হয় এইভাবে যে, তারা অন্তরে জিহাদের প্রতি ব্যাকুল আগ্রহ ও মুজাহিদদের প্রতি ভালবাসা রাখে, আল্লাহ ও তাঁর রসূলের দুশমনদের প্রতি শত্রুতা পোষণ করে এবং যথাসাধ্য আল্লাহ ও রসূলের আনুগত্য করে। এমন সৎকর্মপরায়ণ ব্যক্তিরা যদি জিহাদে শরীক হতে অপারগ হয়, তাহলে তাদের কোন গোনাহ নেই।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৯১-৯৩ নং আয়াতের তাফসীর:
এ আয়াতগুলোতে ঐ সমস্ত লোকেদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যাদের জিহাদে শরীক না হওয়ার শরীয়তসম্মত কারণ রয়েছে। যেমন:
১. বৃদ্ধ ও অক্ষম লোক। যেমন- খোঁড়া, অন্ধ প্রভৃতি লোকেরা এ শ্রেণির শামিল। ২. অসুস্থ, ৩. যারা জিহাদে যাওয়ার সরঞ্জাম ও ব্যয় বহনে অসামর্থ এবং বাইতুল মাল থেকেও সাহায্য করা হয়নি।
এরা যদি আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর কল্যাণকামী হয় অর্থাৎ জিহাদে না গিয়েও জিহাদের আকাক্সক্ষা, মুজাহিদদের প্রতি ভালবাসা, আল্লাহ তা‘আলা ও রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর দুশমনদের সাথে শত্রুতা রাখে তাহলে জিহাদে শরীক না হলেও তাদের কোন গুনাহ নেই।
(إِذَا مَآ أَتَوْكَ لِتَحْمِلَهُمْ قُلْتَ لَآ أَجِدُ مَآ أَحْمِلُكُمْ عَلَيْهِ)
‘তাদেরও কোন অপরাধ নেই যারা তোমার নিকট বাহনের জন্য আসলে তুমি বলেছিলে, ‘তোমাদের জন্য কোন বাহন আমি পাচ্ছি না’ এদের দ্বারা কারা উদ্দেশ্য- এ নিয়ে মুফাসসিরগণ কয়েকটি মত তুলে ধরেছেন। মুহাম্মাদ বিন কাব বলেন: তারা আমর বিন আওফ গোত্রের সাত জন লোক। মুজাহিদ বলেন: তারা হলেন মুযাইনা গোত্রের লোক। তবে মুহাম্মাদ বিন ইসহাক তাবুক যুদ্ধের বিবরণ তুলে ধরার পর বলেন: তারা হলেন কতক মুসলিম ব্যক্তি যারা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট আগমন করেছিল ক্রন্দনরত অবস্থায়। তাদের সাত জন আনসার ও আমর বিন আওফ গোত্রের অন্যান্যরাও ছিলেন। (ইবুন কাসীর, কুরতুবী, অত্র আয়াতের তাফসীর)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: তোমরা মদীনাতে এমন লোক রেখে এসেছ, তোমরা যা ব্যয় কর, যত উপত্যকা অতিক্রম কর এবং শত্রুদের থেকে যেভাবেই আক্রান্ত হও, সবকিছুতেই তারা পূণ্যের দিক দিয়ে অংশীদার। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এ আয়াতটি তেলাওয়াত করলেন। অন্য বর্ণনায় রয়েছে তাদেরকে ওজর আটকে রেখেছে। (সহীহ বুখারী হা: ২৮৩৯)
(إِنَّمَا السَّبِيْلُ عَلَي الَّذِيْنَ)
‘তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগের পথ আছে..’ এদের আলোচনা ৮৬-৮৭ নং আয়াতে করা হয়েছে। এরা সামর্থ থাকা সত্ত্বেও জিহাদে শরীক হয়নি। মূলত এরা মুনাফিক।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. যাদের জন্য জিহাদে শরীক না হওয়ার অনুমতি রয়েছে তাদের পরিচয় জানলাম।
২. প্রকৃত মু’মিন জিহাদে শরীক না হতে পারলে তারা আন্তরিকভাবে ব্যথিত হয়।
৩. সামর্থ থাকা সত্ত্বেও যারা যুদ্ধে শরীক হয় না তারা মুনাফিক।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৯১-৯৩ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে আল্লাহ তাআলা ঐ শরীয়ত সম্মত ওযরসমূহের বর্ণনা দিচ্ছেন যে ওরগুলো কোন মানুষের মাঝে থাকলে সে যদি জিহাদে অংশগ্রহণ না করে তবে শরীয়তের দৃষ্টিতে তার কোন অপরাধ হবে না। ঐ ওযরগুলোর মধ্যে এক প্রকারতো হচ্ছে এই যে, তা সব সময়ই থাকবে, কোন অবস্থাতেই মানুষ থেকে বিচ্ছিন্ন হবে না। যেমন জন্মগতভাবে দুর্বল হওয়া, খোড়া হওয়া, অন্ধ হওয়া, বিকলাঙ্গ হওয়া, সম্পূর্ণরূপে শক্তিহীন হওয়া ইত্যাদি। দ্বিতীয় প্রকারের ওযর হচ্ছে ঐ সব ওযর যেগুলো কখনো থাকে আবার কখনো থাকে না। ওগুলো হচ্ছে আকস্মিক কারণ। যেমন কেউ রুগ্ন হয়ে পড়লো বা অভাবগ্রস্ত হলো অথবা সফরের ও জিহাদের সরঞ্জাম জোগাড় করতে পারছে না ইত্যাদি। সুতরাং এসব ওযর বিশিষ্ট লোকেরা জিহাদে অংশগ্রহণ না করলে শরীয়তের দৃষ্টিতে তাদের কোন অপরাধ হবে না। কিন্তু তাদের আন্তরিকতা থাকতে হবে। তাদেরকে হতে হবে মুসলিমদের ও আল্লাহর দ্বীনের শুভাকাঙ্ক্ষী। তাদের কর্তব্য হবে অন্যদেরকে জিহাদের প্রতি উৎসাহিত করা। বাড়ীতে বসে বসে যতটুকু সম্ভব মুজাহিদদের খিদমত করতে হবে। এরূপ সৎ প্রকৃতির লোকদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নেই। আল্লাহ তা'আলা ক্ষমাশীল ও দয়ালু।
ঈসা (আঃ)-এর সাহায্যকারী হাওয়ারীগণ তাঁকে প্রশ্ন করেছিলঃ “আল্লাহর শুভাকাঙ্ক্ষী কারা বলুন তো?” তিনি উত্তরে বলেছিলেনঃ “যারা আল্লাহর হককে মানুষের হকের উপর প্রাধান্য দেয় এবং যখন একটি দ্বীনের কাজ এবং একটি দুনিয়ার কাজ সামনে এসে যায় তখন যারা দ্বীনের কাজের গুরুত্বের প্রতি পূর্ণ খেয়াল রাখে । তারপর দ্বীনের কাজ শেষ করে দুনিয়ার কাজ আনজাম দেয়।”
একবার দুর্ভিক্ষের সময় জনগণ ইসতিকার সালাত পড়ার জন্যে মাঠের দিকে বের হয়। তাদের সাথে বিলাল ইবনে সা'দ (রাঃ) ছিলেন। তিনি দাড়িয়ে আল্লাহ তাআলার হামদ ও সানার পর জনগণকে সম্বোধন করে বলেনঃ “হে উপস্থিত ভ্রাতৃবৃন্দ! আপনারা কি এটা স্বীকার করেন যে, আপনারা সবাই আল্লাহ তা'আলার পাপী বান্দা?” সবাই সমস্বরে বলে উঠলেনঃ “হ্যাঁ।” অতঃপর তিনি প্রার্থনার জন্যে হাত উঠিয়ে বলতে লাগলেন- হে আমাদের প্রতিপালক! আপনি আপনার কালামে পাকে বলেছেনঃ “সৎ লোকদের প্রতি কোন প্রকারের অভিযোগ নেই।” আমরা আমাদের দুষ্কর্যের স্বীকারোক্তি করছি। সুতরাং আপনি আমাদের। ক্ষমা করুন! আমাদের উপর আপনার করুণা বর্ষণ করুন! আমাদের উপর দয়াপরবশ হয়ে বৃষ্টি বর্ষণ করুন! তিনি হাত উঠালেন এবং জনগণও তাঁর সাথে হাত উঠালো। আল্লাহর করুণা উথলিয়ে উঠলো এবং মুষলধারে রহমতের বৃষ্টি বর্ষিত হতে শুরু হলো।
যায়েদ ইবনে সাবিত (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর লেখক ছিলাম। সূরায়ে বারাআত যখন অবতীর্ণ হচ্ছিল তখন আমি ঐ সূরাটিও লিখছিলাম। আমি আমার কলমটি আমার কানের উপর রাখতাম। জিহাদের আয়াতগুলো অবতীর্ণ হচ্ছিল। রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর উপর কি অবতীর্ণ হতে যাচ্ছে সে জন্যে তিনি অপেক্ষমান ছিলেন। এমন সময় একজন অন্ধ এসে বলতে লাগলোঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমি তো একজন অন্ধ লোক। সুতরাং আমি জিহাদের নির্দেশ কিরূপে পালন করতে পারি?” তখন এই আয়াতটি অবতীর্ণ হয়।
এরপর ঐ লোকদের বর্ণনা দেয়া হচ্ছে যারা জিহাদে অংশগ্রহণের জন্যে সদা উদ্বিগ্ন, কিন্তু স্বভাবগত কারণে বিরত থাকতে বাধ্য হয়। জিহাদের হুকুম অবতীর্ণ হলে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ঘোষণা অনুযায়ী মুজাহিদগণ জমা হতে শুরু করেন। একটি দল আগমন করলেন যাদের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল ইবনে মাকরান মুযানীও (রাঃ) ছিলেন। তারা বললেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমাদের সওয়ারী নেই। সুতরাং আপনি আমাদের সওয়ারীর ব্যবস্থা করে দিন, যাতে আমরাও জিহাদের সওয়াব লাভ করতে পারি।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাদেরকে বললেনঃ “আল্লাহর কসম! আমার কাছে তো একটিও সওয়ারী নেই যাতে আমি তোমাদেরকে আরোহণ করতে পারি।” সুতরাং তারা নিরাশ হয়ে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে যান। তাঁদের এর চেয়ে বড় দুঃখ আর ছিল না যে, তারা জিহাদের মর্যাদা লাভে বঞ্চিত হয়ে গেলেন এবং নারীদের মত তাদেরকে ঐ সময়টা বাড়ীতেই কাটাতে হবে। তাদের না আছে নিজেদের কোন জিনিস, না কারো কাছ থেকে কোন বাহন পাচ্ছেন। তাই মহান আল্লাহ এ আয়াত নাযিল করে তাদেরকে সান্তনা দান করেন। এ আয়াতটি মুযাইনা গোত্রের শাখা বানু। মাকরানের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। মুহাম্মাদ ইবনে কা'ব (রঃ) বর্ণনা করেছেন যে, তাঁরা সাতজন ছিলেন। তাঁরা ছিলেন বানু আমির গোত্রের লোক। তাঁরা হচ্ছেন-(১) বানু ওয়াকিফ গোত্রের সালিম ইবনে আউফ, (২) বানু মাযিল গোত্রের হারামী ইবনে আমর, (৩) বানু মুআল্লা গোত্রের আব্দুর রহমান ইবনে কা'ব, (৪) বানু সালমা গোত্রের ফাযলুল্লাহ, (৫) আমর ইবনে উকবা, (৬) আব্দুল্লাহ ইবনে আমর মুযানী, (৭) বানু হারিসা গোত্রের আলিয়্যাহ ইবনে যায়েদ। কোন কোন রিওয়ায়াতে কতকগুলো নামের হেরফেরও রয়েছে। মহৎ হৃদয়ের অধিকারী এই বুযুর্গদের ব্যাপারেই রাসূলগণের মাথার মুকুট মুহাম্মাদ (সঃ) বলেছেনঃ “হে আমার মুজাহিদ সাহাবীবর্গ! তোমরা মদীনায় যেসব লোককে পিছনে ছেড়ে এসেছে তাদের মধ্যে এমন লোকও রয়েছে যারা তোমাদের খরচ করার মধ্যে, তোমাদের মাঠে-ময়দানে চলাফেরার মধ্যে, তোমাদের জিহাদ করার মধ্যে শরীক রয়েছে। এতে তোমাদের যে সওয়াব হবে তাতে তারাও শরীক থাকবে।” অতঃপর তিনি এই আয়াতটিই পাঠ করেন। অন্য এক রিওয়ায়াতে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর এ কথা শুনে সাহাবীগণ বলেনঃ “তারা বাড়ীতে বসে থেকেও সওয়াবে আমাদের শরীক হবে?” রাসূলুল্লাহ (সঃ) উত্তরে বলেনঃ “হ্যা, কেননা তাদের ওযর রয়েছে। ওযরের কারণেই তারা জিহাদে অংশগ্রহণ করতে পারেনি।” অন্য হাদীসে আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “রোগ তাদেরকে জিহাদে অংশগ্রহণ করা থেকে বিরত রেখেছে।” অতঃপর প্রকৃতপক্ষে যাদের কোন ওযর নেই, আল্লাহ তাআলা তাদের বর্ণনা দিচ্ছেন। তিনি বলছেনঃ অভিযোগ তো শুধু ঐ লোকদের উপরই যারা ধন-সম্পদের মালিক ও হৃষ্টপুষ্ট হওয়া সত্ত্বেও যুদ্ধে গমন না করার অনুমতি চাচ্ছে। তারা অন্তঃপুরবাসিনী মহিলাদের মত বাড়ীতেই অবস্থান করতে ইচ্ছুক। তারা মাটি কামড়ে বসে থাকে। তাদের দুষ্কার্যের কারণে আল্লাহ তা'আলা তাদের অন্তরসমূহের উপর মোহর মেরে দেন। সুতরাং তারা এখন নিজেদের ভাল মন্দ কিছুই জানতে পারছে না।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।