সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 89)
হরকত ছাড়া:
عد الله لهم جنات تجري من تحتها الأنهار خالدين فيها ذلك الفوز العظيم ﴿٨٩﴾
হরকত সহ:
اَعَدَّ اللّٰهُ لَهُمْ جَنّٰتٍ تَجْرِیْ مِنْ تَحْتِهَا الْاَنْهٰرُ خٰلِدِیْنَ فِیْهَا ؕ ذٰلِکَ الْفَوْزُ الْعَظِیْمُ ﴿۸۹﴾
উচ্চারণ: আ‘আদ্দাল্লা-হু লাহুম জান্না-তিন তাজরী মিন তাহতিহাল আনহা-রু খা-লিদীনা ফীহা-যালিকাল ফাওযুল ‘আজীম।
আল বায়ান: আল্লাহ তাদের জন্য তৈরি করেছেন জান্নাতসমূহ, যার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হবে নহরসমূহ, তাতে তারা চিরদিন থাকবে, এটিই মহাসফলতা।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮৯. আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন জান্নাত, যার নিচে নদী প্রবাহিত, যেখানে তারা স্থায়ী হবে; এটাই মহাসাফল্য।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন যার নিম্নদেশে ঝর্ণাধারা প্রবাহিত যাতে তারা চিরকাল থাকবে। এটাই হল বিরাট সফলতা।
আহসানুল বায়ান: (৮৯) আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন, যার নিম্নদেশে নদীমালা প্রবাহিত; তারা সেখানে অনন্তকাল অবস্থান করবে। এটা হচ্ছে (তাদের) বিরাট সফলতা। [1]
মুজিবুর রহমান: আল্লাহ তাদের জন্য এমন উদ্যানসমূহ প্রস্তুত করে রেখেছেন যেগুলির নিম্নদেশ দিয়ে নহরসমূহ বয়ে চলবে, আর তারা ওর মধ্যে অনন্তকাল অবস্থান করবে; এটাই হচ্ছে (তাদের) বিরাট সফলতা।
ফযলুর রহমান: আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাত তৈরী করে রেখেছেন, যার তলদেশ দিয়ে নদী প্রবাহিত। তারা সেখানে অনন্তকাল বাস করবে। এটাই তো মহা সফলতা।
মুহিউদ্দিন খান: আল্লাহ তাদের জন্য তৈরী করে রেখেছেন কানন-কুঞ্জ, যার তলদেশে প্রবাহিত রয়েছে প্রস্রবণ। তারা তাতে বাস করবে অনন্তকাল। এটাই হল বিরাট কৃতকার্যতা।
জহুরুল হক: আল্লাহ্ এদের জন্য প্রস্তুত করেছেন স্বর্গোদ্যানসমূহ, যাদের নিচে দিয়ে বয়ে চলে ঝরনারাজি, তারা সেখানে থাকবে স্থায়ীভাবে। এটি হচ্ছে বিরাট সাফল্য।
Sahih International: Allah has prepared for them gardens beneath which rivers flow, wherein they will abide eternally. That is the great attainment.
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৮৯. আল্লাহ তাদের জন্য প্রস্তুত করে রেখেছেন জান্নাত, যার নিচে নদী প্রবাহিত, যেখানে তারা স্থায়ী হবে; এটাই মহাসাফল্য।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৮৯) আল্লাহ তাদের জন্য জান্নাত প্রস্তুত করে রেখেছেন, যার নিম্নদেশে নদীমালা প্রবাহিত; তারা সেখানে অনন্তকাল অবস্থান করবে। এটা হচ্ছে (তাদের) বিরাট সফলতা। [1]
তাফসীর:
[1] মুনাফিক্বদের বিপরীত ঈমানদারদের অভ্যাস হল, তারা নিজ জান-মাল দিয়ে আল্লাহর রাস্তায় জিহাদ করে। আল্লাহর পথে জান-মাল কুরবান করার ব্যাপারে কোন পরোয়া ও দ্বিধাবোধ করে না। তাদের নিকটে আল্লাহর আদেশ পালনই হল সর্ব উচ্চে। তাদেরই জন্য আখেরাতের মঙ্গল ও জান্নাতের নিয়ামত প্রস্তুত রয়েছে; মতান্তরে দ্বীন-দুনিয়ার কল্যাণ রয়েছে। আর এরাই লাভ করবে পরিত্রাণ ও মহাসাফল্য।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৮৬-৯০ নং আয়াতের তাফসীর:
যারা শক্তি সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও বিনা কারণে নানা অজুহাত দেখিয়ে জিহাদে শরীক হয় না তাদেরকে এ আয়াতগুলোতে তিরস্কার ও ভর্ৎসনা করা হচ্ছে। এরাও পূর্বে আলোচিত মুনাফিকদের দলে।
(أُولُوا الطَّوْلِ)
‘শক্তিসামর্থ্য’দ্বারা উদ্দেশ্য সামর্থবান, ধনী শ্রেণির লোক।
خوالف শব্দটি خالفة এর বহুবচন। অর্থ পিছনে থাকা নারীগণ। অর্থাৎ নারীরা যেমন ঘরে বসে থাকে মুনাফিকরাও জিহাদে না গিয়ে ঘরে বসে থাকে। এসব অমার্জনীয় অপরাধের কারণে আল্লাহ তা‘আলা তাদের অন্তরে মোহর মেরে দিয়েছেন। পক্ষান্তরে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও মু’মিনগণ তাদের জান ও মাল দ্বারা আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় জিহাদ করে থাকে, কখনো অজুহাত পেশ করে না। তাদের জন্য আল্লাহ তা‘আলা তৈরি করে রেখেছেন নেয়ামতপূর্ণ জান্নাত।
(وَجَاءَ الْمُعَذِّرُوْنَ مِنَ الْأَعْرَابِ)
‘মরুবাসীদের মধ্যে কিছু লোক অজুহাত পেশ করতে আসল’আয়াতে উল্লিখিত অজুহাত পেশকারী কারা? এ ব্যাপারে মুফাসসিরগণের মাঝে মতভেদ রয়েছে। কেউ কেউ বলেছেন: এরা শহর থেকে দূরে বসবাসকারী ঐ সমস্ত লোক যারা মিথ্যা ওজর পেশ করে যুদ্ধে না যাওয়ার অনুমতি নিয়েছিল। এদের দ্বিতীয় প্রকার ছিল তারা, যারা এসে ওজর পেশ করার কোন প্রয়োজন মনে না করেই বসে রইল। আলোচ্য আয়াতে মুনাফিকদের উক্ত দুই শ্রেণির লোকের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। আবার এটাও সম্ভাবনা রয়েছে যারা সত্য ও সঠিক ওজর পেশ করে অনুমতি নিয়েছিল।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. ইসলামী শরীয়তের উৎস দু’টি: কুরআন ও সুন্নাহ।
২. শরীয়তসম্মত প্রয়োজনে যুদ্ধ থেকে অব্যাহতি চাওয়া জায়েয।
৩. সামর্থ থাকা সত্ত্বেও জিহাদে অংশ গ্রহণ না করা হরাম।
৪. জানমাল দ্বারা জিহাদ করার ফযীলত জানলাম।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৮৮-৮৯ নং আয়াতের তাফসীর:
মুনাফিকদের প্রতি নিন্দা জ্ঞাপন করার পর আল্লাহ তাআলা মুসলিমদের প্রশংসা ও তাদের পারলৌকিক কল্যাণ ও সুখের বর্ণনা দিচ্ছেন। মুমিনরা জিহাদের জন্যে কোমর বেঁধে উঠে পড়ে লেগে যায়। তারা নিজেদের জান ও মাল আল্লাহর পথে উৎসর্গ করে দেয়। তাদের ভাগ্যেই মঙ্গল ও কল্যাণ। তারাই হচ্ছে সফলকাম। তাদেরই জন্যে রয়েছে জান্নাতুল ফিরদাউস। আর তাদেরই জন্যে রয়েছে উচ্চতম মর্যাদা। তারা তাদের গন্তব্যস্থানেও সফলতায় পৌছে যাবে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।