আল কুরআন


সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 70)

সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 70)



হরকত ছাড়া:

ألم يأتهم نبأ الذين من قبلهم قوم نوح وعاد وثمود وقوم إبراهيم وأصحاب مدين والمؤتفكات أتتهم رسلهم بالبينات فما كان الله ليظلمهم ولكن كانوا أنفسهم يظلمون ﴿٧٠﴾




হরকত সহ:

اَلَمْ یَاْتِهِمْ نَبَاُ الَّذِیْنَ مِنْ قَبْلِهِمْ قَوْمِ نُوْحٍ وَّ عَادٍ وَّ ثَمُوْدَ ۬ۙ وَ قَوْمِ اِبْرٰهِیْمَ وَ اَصْحٰبِ مَدْیَنَ وَ الْمُؤْتَفِکٰتِ ؕ اَتَتْهُمْ رُسُلُهُمْ بِالْبَیِّنٰتِ ۚ فَمَا کَانَ اللّٰهُ لِیَظْلِمَهُمْ وَ لٰکِنْ کَانُوْۤا اَنْفُسَهُمْ یَظْلِمُوْنَ ﴿۷۰﴾




উচ্চারণ: আলাম ইয়া’তিহিম নাবাউল্লাযীনা মিন কাবলিহিম কাওমি নূহিওঁ ওয়া ‘আ-দিওঁ ওয়া ছামূদা ওয়া কাওমি ইবরা-হীমা ওয়া আসহা-বি মাদইয়ানা ওয়াল মু’তাফিকা-তি আতাতহুম রুছুলুহুম বিলবাইয়িনা-তি ফামা-কা-নাল্লা-হু লিইয়াজলিমাহুম ওয়ালা-কিন কা-নূআনফুছাহুম ইয়াজলিমূন।




আল বায়ান: তাদের কাছে কি তাদের পূর্বের লোকদের সংবাদ পৌঁছেনি, নূহের কওম, আদ, সামূদ, ইবরাহীমের কওম, মাদায়েনবাসী ও বিধ্বস্ত নগরীর? তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ প্রমাণসমূহ নিয়ে উপস্থিত হয়েছে। অতএব আল্লাহ তাদের উপর যুলম করার নন, বরং তারাই তাদের নিজদের উপর যুলম করছিল।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭০. তাদের পূর্ববতী নূহ, আদ ও সামূদের সম্প্রদায়, ইবরাহীমের সম্প্রদায় এবং মাদইয়ান ও বিধ্বস্ত নগরের অধিবাসীদের সংবাদ কি তাদের কাছে আসেনি? তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তাদের রাসূলগণ এসেছিলেন। অতএব, আল্লাহ এমন নন যে, তাদের উপর যুলুম করেন, কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করছিল।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তাদের কাছে কি তাদের আগের লোকদের সংবাদ আসেনি, নূহের জাতি, ‘আদ, সামূদ, ইব্রাহীমের সম্প্রদায় এবং মাদ্য়্যানের অধিবাসীবৃন্দ আর উল্টে দেয়া নগরসমূহের? তাদের কাছে তাদের রসূলগণ স্পষ্ট নিদর্শন নিয়ে এসেছিল, আল্লাহ তাদের উপর যুলম করেননি, আসলে (তারাই তাদের অন্যায় কার্যকলাপের মাধ্যমে) নিজেদের আত্মার উপর যুলম করেছিল।




আহসানুল বায়ান: (৭০) তাদের কাছে কি তাদের পূর্ববর্তী নূহ সম্প্রদায় এবং আদ ও সামূদ সম্প্রদায়, ইব্রাহীমের সম্প্রদায় এবং মাদয়্যানের অধিবাসিগণ এবং বিধ্বস্ত জনপদের অধিবাসিগণের সংবাদ কি আসেনি?[1] তাদের কাছে তাদের রসূলগণ স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে এসেছিল।[2] বস্তুতঃ আল্লাহ তো তাদের প্রতি অত্যাচার করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অত্যাচার করত। [3]



মুজিবুর রহমান: তাদের কাছে কি ঐ সব লোকের সংবাদ পৌঁছেনি যারা তাদের পূর্বে গত হয়েছে, নূহ সম্প্রদায় এবং আদ ও ছামূদ সম্প্রদায়, আর ইবরাহীমের সম্প্রদায় এবং মাদইয়ানের অধিবাসীরা এবং বিধ্বস্ত জনপদগুলির? তাদের কাছে তাদের রাসূলগণ স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে এসেছিল। বস্তুতঃ আল্লাহ তাদের প্রতি অত্যাচার করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অত্যাচার করেছিল।



ফযলুর রহমান: তাদের কাছে কি তাদের পূর্ববর্তী নূহের সমপ্রদায়, আদ ও ছামূদ জাতি, ইবরাহীমের সমপ্রদায় এবং মাদ্‌ইয়ান ও উল্টে-দেওয়া জনপদসমূহের অধিবাসীদের সংবাদ পৌঁছেনি? তাদের কাছে তাদের রসূলগণ স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে এসেছিলেন। অতএব, আল্লাহ তো তাদের প্রতি জুলুম করেননি, বরং তারাই নিজেদের প্রতি জুলুম করত।



মুহিউদ্দিন খান: তাদের সংবাদ কি এদের কানে এসে পৌঁছায়নি, যারা ছিল তাদের পূর্বে; নূহের আ’দের ও সামুদের সম্প্রদায় এবং ইব্রাহীমের সম্প্রদায়ের এবং মাদইয়ানবাসীদের? এবং সেসব জনপদের যেগুলোকে উল্টে দেয়া হয়েছিল? তাদের কাছে এসেছিলেন তাদের নবী পরিষ্কার নির্দেশ নিয়ে। বস্তুতঃ আল্লাহ তো এমন ছিলেন না যে, তাদের উপর জুলুম করতেন, কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের উপর জুলুম করতো।



জহুরুল হক: তাদের কাছে কি তাদের পূর্বে যারা ছিল তাদের সংবাদ আসে নি -- নূহ্‌-এর লোকদের ও 'আদ-এর ও ছামূদের, আর ইব্রাহীমের সম্প্রদায়ের ও মাদয়ানের বাসিন্দাদের ও বিধবস্ত শহরগুলোর? ওদের কাছে ওদের রসূলগণ এসেছিলেন স্পষ্ট প্রমাণ নিয়ে। কাজেই আল্লাহ্ তো ওদের উপরে অবিচার করার জন্য নন, কিন্তু ওরা ওদের নিজেদেরই প্রতি জুলুম করেছিল।



Sahih International: Has there not reached them the news of those before them - the people of Noah and [the tribes of] 'Aad and Thamud and the people of Abraham and the companions of Madyan and the towns overturned? Their messengers came to them with clear proofs. And Allah would never have wronged them, but they were wronging themselves.



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৭০. তাদের পূর্ববতী নূহ, আদ ও সামূদের সম্প্রদায়, ইবরাহীমের সম্প্রদায় এবং মাদইয়ান ও বিধ্বস্ত নগরের অধিবাসীদের সংবাদ কি তাদের কাছে আসেনি? তাদের কাছে স্পষ্ট প্রমাণাদিসহ তাদের রাসূলগণ এসেছিলেন। অতএব, আল্লাহ এমন নন যে, তাদের উপর যুলুম করেন, কিন্তু তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি যুলুম করছিল।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৭০) তাদের কাছে কি তাদের পূর্ববর্তী নূহ সম্প্রদায় এবং আদ ও সামূদ সম্প্রদায়, ইব্রাহীমের সম্প্রদায় এবং মাদয়্যানের অধিবাসিগণ এবং বিধ্বস্ত জনপদের অধিবাসিগণের সংবাদ কি আসেনি?[1] তাদের কাছে তাদের রসূলগণ স্পষ্ট নিদর্শনসমূহ নিয়ে এসেছিল।[2] বস্তুতঃ আল্লাহ তো তাদের প্রতি অত্যাচার করেননি, বরং তারা নিজেরাই নিজেদের প্রতি অত্যাচার করত। [3]


তাফসীর:

[1] এখানে সেই ছয় সম্প্রদায়ের দৃষ্টান্ত পেশ করা হচ্ছে যাদের বাসস্থান ছিল শাম দেশে। এ দেশ আরব দেশের সন্নিকটেই অবস্থিত। আর তাদের কিছু কথা হতে পারে তারা তাদের বাপ-দাদাদের কাছ থেকে শুনেও ছিল। নূহ নবী (আঃ)-এর সম্প্রদায়; যাদেরকে তুফানে ডুবিয়ে মারা হয়েছিল। আ’দ সম্প্রদায়; যাদেরকে বল ও শক্তিতে প্রবল থাকা সত্ত্বেও প্রচন্ড ঝড় দ্বারা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। সামূদ সম্প্রদায়; যাদেরকে এক আসমানী গর্জন দ্বারা ধ্বংস করা হয়েছিল। ইবরাহীম (আঃ)-এর সম্প্রদায়; যাদের বাদশাহ নমরূদ বিন কিনআন বিন কূশকে মশা দ্বারা মারা হয়েছিল। মাদয়্যানবাসী (শুআইব (আঃ)-এর সম্প্রদায়); যাদেরকে বিকট শব্দ ও ভূমিকম্প দ্বারা ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল। মু’তাফিকাতবাসী (বিধ্বস্ত জনপদের অধিবাসী) লূত (আঃ)-এর সম্প্রদায়’ যাদের জনপদের নাম ছিল ‘সাদুম’। ‘মু’তাফিকাত’এর অর্থ হল, উল্টো-পাল্টাকৃত। এদের উপরে প্রথমতঃ আসমান থেকে পাথর বর্ষণ করা হয়েছিল, আর দ্বিতীয়তঃ তাদের জনপদকে উল্টো-পাল্টা করে দেওয়া হয়েছিল। যার কারণে বস্তিটার উপরিভাগ নিম্নে এবং নিম্নভাগ উপরে হয়ে গিয়েছিল। এই কারণেই তাদেরকে ‘আসহাবে মু’তাফিকাত’ বলা হয়।

[2] এ সকল সম্প্রদায়ের কাছে তাদেরই মধ্য হতে একজন করে পয়গম্বর এসেছিলেন, কিন্তু তারা তাঁদের কথার গুরুত্ব দেয়নি। বরং মিথ্যাজ্ঞান ও শত্রুতার পথ অবলম্বন করেছিল। যার পরিণামে আল্লাহর আযাব এসেছিল।

[3] অর্থাৎ, এই আযাব ছিল তাদের যুলুম, অত্যাচার ও সীমালংঘনে অবিচল থাকার পরিণাম। এমনি অকারণে কেউ আল্লাহর আযাবের শিকার হয়নি।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৬৭-৭০ নং আয়াতের তাফসীর:



এ আয়াতগুলোতে মুনাফিক নর-নারীদের পারস্পারিক সম্পর্ক, পরকালে তাদের অবস্থান এবং তাদের দৃষ্টান্ত উল্লেখ করা হয়েছে।



মুনাফিক নর-নারী পরস্পর পরস্পরের বন্ধু, একে অপরকে খারাপ কাজের নির্দেশ দেয়। তারা আল্লাহ তা‘আলার পথে ব্যয় করা থেকে নিজেদের হাতকে সঙ্কুচিত করে রাখে।



(نَسُوا اللّٰهَ فَنَسِيَهُمْ)



‘তারা আল্লাহকে ভুলে গেছে, ফলে তিনিও তাদেরকে ভুলে গেছেন’ অর্থাৎ তারা আল্লাহ তা‘আলাকে ভুলে গেছে ফলে আল্লাহ তা‘আলা তাদের সাথে এমন আচরণ করবেন যেন তিনি তাদেরকে ভুলে গেছেন।



আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:



(وَقِيْلَ الْيَوْمَ نَنْسٰكُمْ كَمَا نَسِيْتُمْ لِقَا۬ءَ يَوْمِكُمْ هٰذَا وَمَأْوَاكُمُ النَّارُ وَمَا لَكُمْ مِّنْ نّٰصِرِيْنَ)



“আর বলা হবেঃ আজ আমি তোমাদেরকে ভুলে যাব যেমন তোমরা এই দিবসের সাক্ষাতকে ভুলে গিয়েছিলে। তোমাদের আশ্রয়স্থল জাহান্নাম এবং তোমাদের কোন সাহায্যকারী থাকবে না।”(সূরা জাসিয়া ৪৫:৩৪)



এসব কাফির মুনাফিকদের জন্য আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নাম প্রস্তুত করে রেখেছেন। এদের অবস্থা ও কর্ম এবং পরিণামের দিক দিয়ে পূর্ববর্তী কাফিরদের মতই।



রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: যার হাতে আমার প্রাণ তার শপথ! তোমরা অবশ্যই তাদের অনুসরণ করবে- বিঘতে বিঘতে, হাতে হাতে ও গজে গজে। এমনকি যদি তারা গুই সাপের গর্তে প্রবেশ করে তাহলে তোমরাও তাতে প্রবেশ করবে (অর্থাৎ হুবহু অনুসরণ করবে)। সাহাবীগণ বললেন: তারা কারা? তারা কি আহলে কিতাব (ইয়াহূদ ও খ্রিস্টান)? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন, তাহলে আর কারা? আবূ হুরাইরাহ (রাঃ) বলেন: তোমরা ইচ্ছা করলে এ আয়াত



(كَالَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ كَانُوْآ أَشَدَّ مِنْكُمْ قُوَّةً .....كَمَا اسْتَمْتَعَ الَّذِيْنَ مِنْ قَبْلِكُمْ بِخَلَاقِهِمْ)



“তোমরাও তোমাদের পূর্ববর্তীদের মত যারা শক্তিতে তোমাদের অপেক্ষা প্রবল ছিল এবং যাদের ধন-সম্পদ ও সন্তান-সন্ততি ছিল তোমাদের অপেক্ষা অধিক, এবং তারা তাদের ভাগ্যে যা ছিল তা ভোগ করেছে; তোমাদের ভাগ্যে যা ছিল তোমরাও তা ভোগ করলে।” (সূরা তাওবাহ ৯:৬৯) তেলাওয়াত করতে পার। (সহীহ বুখারী হা: ৭৩২০, সহীহ মুসলিম হা: ২৬৬৯)



অতঃপর আল্লাহ তা‘আলা এসব কাফির-মুনাফিকদেরকে পূর্ববর্তী অবাধ্য জাতিসমূহের কথা স্মরণ করিয়ে দিচ্ছেন যে, তাদের কাছে নাবী-রাসূলগণ আমার নিদর্শনাবলী নিয়ে আগমন করেছিল কিন্তু তারা তাদের কথায় কর্ণপাত করেনি। ফলে তাদের জুলুমের কারণে তাদের ওপর মর্মান্তিক শাস্তি আপতিত হয়েছিল। তাদের অন্যতম নূহ (আঃ)-এর জাতি ও কওমে আদ তথা হূদ (আঃ)-এর জাতি। আল্লাহ তা‘আলার গযবে ধ্বংসপ্রাপ্ত বিশ্বের প্রধান ছয়টি জাতির মধ্যে নূহ (আঃ)-এর পরে আ‘দ ছিল দ্বিতীয় জাতি। এরা খুব দুর্ধর্ষ, শক্তিশালী, সুঠামদেহী ও বিরাট বপুস¤পন্ন ছিল। হূদ (আঃ) তাদেরকে শির্ক বর্জন করে সার্বিক জীবনে তাওহীদ প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানান। আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় করে মূর্তিপূজা ত্যাগ করার এবং জুলুম ও অত্যাচার পরিহার করে ন্যায় সুবিচারের পথে চলার উদাত্ত আহ্বান জানান। হূদ (আঃ) একজন তাদের মতই মানুষ, কিন্তু তারা বাপ-দাদা ইত্যাদির দোহাই দিয়ে দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করে। ফলে প্রবল ঝড়ঝঞ্ঝার শাস্তি দিয়ে তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়া হয়েছিল। যা সাত রাত ও সাত দিন একাধারে প্রবাহমান ছিল। এতে তাদের লাশগুলো খেজুর গাছের কাণ্ডের মত মাটিতে পড়েছিল। এদের কথা বিস্তারিতভাবে সূরা আ‘রাফের ৬৫-৭২নং আয়াাতের আলোচনা করা হয়েছে।



وَّثَمُوْدَ কওমে সামূদ সালেহ (আঃ)-এর জাতি। আদ জাতির ধ্বংসের প্রায় ৫০০ বছর পরে সালেহ (আঃ) সামূদ জাতির প্রতি নাবী হিসেবে প্রেরিত হন। (তারীখুল আম্বিয়া ১/৪৯) আদ জাতির ধ্বংসের পর সামূদ জাতি তাদের স্থলাভিষিক্ত হয়। তারাও আদ জাতির মত শক্তিশালী ও বীরের জাতি ছিল। তারা প্রস্তর খোদাই ও স্থাপত্য বিদ্যায় খুবই পারশর্দী ছিল। ভীষণ ভূমিকম্প এবং ওপর থেকে বিকট ও ভয়াবহ এক গর্জন দিয়ে তাদেরকে ধ্বংস করা হয়। ফলে সবাই যার যার স্থানে একযোগে অধোমুখী হয়ে ভূতলশায়ী হল (সূরা আ‘রাফ ৭৮, হূদ ৬৭-৬৮) এবং ধ্বংসপ্রাপ্ত হল এমনভাবে যেন তারা কোনদিন সেখানে বসবাস করেনি। এ সম্পর্কে সূরা আ‘রাফের ৭৩-৭৯ নং আয়াতের ব্যাখ্যায় আলোচনা করা হয়েছে।



(اَصْحٰبِ مَدْیَنَ)



‘মাদইয়ান অধিবাসী’ উদ্দেশ্য হল শুআইব (আঃ)-এর জাতি। পবিত্র কুরআনের ১০টি সূরায় ৫৩টি আয়াতে তাঁর সম্পর্কে আলোচনা উল্লেখ রয়েছে। লূত (আঃ)-এর অবাধ্য জাতি ধ্বংসের অনতিকাল পরেই তাঁকে নবুওয়াত দিয়ে মাদইয়ানবাসীর হিদায়াতের জন্য প্রেরণ করা হয়েছিল। মাদইয়ান হল লূত সাগরের নিকটবর্তী সিরিয়া ও হিজাযের সীমান্তবর্তী একটি জনপদের নাম। যা অদ্যাবধি পূর্ব জর্ডানের সামুদ্রিক বন্দর ‘মো‘আন’ (معان ) এর অদূরে বিদ্যমান রয়েছে। আল্লাহ তা‘আলার গযবে ধ্বংসপ্রাপ্ত প্রধান ছয়টি প্রাচীন জাতির মধ্যে ৫ম জাতি হল ‘আহলে মাদইয়ান’। তাদের অপরাধ ছিল তারা আল্লাহ তা‘আলার সাথে শির্ক করত, রাহাজানি করত, লোকদেরকে ওজনে কম দিত এবং নিজেরা মানুষের নিকট থেকে নেয়ার সময় বেশি নিত। তাদের এই সীমালংঘনের কারণে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে শাস্তি দিয়েছেন। এমনকি তাদেরকে সমূলে ধ্বংস করে দিয়েছেন। এদের সম্পর্কে সূরা আ‘রাফের ৮৫-৯৩ ও হূদের ৮৪-৯৫ নং আয়াতে বিস্তারিত আলোচনা করা হয়েছে।



الْمُؤْتَفِکٰتِ অর্থাৎ উল্টো-পাল্টাকৃত। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল লূত (আঃ)-এর সম্প্রদায় যাদের জনপদের নাম ছিল সামূদ। এদেরকে প্রথমত আকাশ থেকে পাথর বর্ষণ করা হয়েছিল। দ্বিতীয়ত: তাদের জনপদকে উল্টো-পাল্টা করে দেয়া হয়েছিল। এ কারণে তাদেরকে আসহাবে মুতাফিকাত বলা হয়। সুতরাং এসব ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতি থেকে শিক্ষা গ্রহণ করা উচিত, আল্লাহ তা‘আলা কেন তাদের বিবরণ আমাদের কাছে তুলে ধরেছেন? তা এজন্যই যে, যাতে আমরা সতর্ক হই এবং তাদের মত আচরণ না করি।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মুনাফিকরা পরস্পর পরস্পরের সহযোগী এবং তাদের কাজ-কর্ম ও চাল-চলন সাদৃশ্যপূর্ণ।

২. সৎ কাজে বাধা দেয়া অসৎ কাজের নির্দেশ দেয়া মুনাফিকদের আলামত।

৩. অনেকে সম্পদ ও সন্তান-সন্ততির কারণে সত্য গ্রহণে বাধাগ্রস্ত হয়।

৪. পূর্ববর্তী জাতিদের পরিণতি থেকে আমাদের শিক্ষা নেয়া উচিত।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: আল্লাহ তা'আলা বদকার মুনাফিকদেরকে উপদেশ দিচ্ছেন- হে মুনাফিকের দল! তোমরা তোমাদের মতো লোকদের অবস্থার উপর গভীরভাবে দৃষ্টি নিক্ষেপ কর এবং দেখো, নবীদেরকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করার ফল কি হয়েছিল! নূহ (আঃ)-এর কওমের ডুবে মরা এবং মুসলিম ছাড়া অন্য কেউ রক্ষা না পাওয়ার ব্যাপারটা স্মরণ কর! আ’দ সম্প্রদায়ের হূদ (আঃ)-কে না মানার কারণে প্রবল ঝটিকায় ধ্বংস হয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা একটু চিন্তা করে দেখো! সামূদ সম্প্রদায়ের সালেহ্ (আঃ)-কে মিথ্যা প্রতিপন্ন করা এবং আল্লাহর নিদর্শনের উষ্ট্ৰীটিকে হত্যা করার কারণে এক গগণ বিদারী শব্দ দ্বারা তাদেরকে ধ্বংস করে দেয়ার ঘটনাটি মনে কর । আরো স্মরণ কর-কিভাবে ইবরাহীম (আঃ) শত্রুদের হাত থেকে রক্ষা পান, আর তার শত্রুরা ধ্বংস হয়ে যায়। নমরূদ ইবনে কিনআন ইবনে কুশ এর মত পরাক্রান্ত সম্রাট তার সৈন্য সামন্তসহ সমূলে বিনাশ হয়ে যায় । তোমরা ভুলে যেয়ো না যে, তারা আল্লাহর অভিশাপে পড়ে দুনিয়ার বুক থেকে সম্পূর্ণ নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়। এই দুষ্কার্য ও কুফরীর প্রতিফল হিসেবেই শুআইব (আঃ)-এর কওমকে ভূমিকম্প দ্বারা এবং ছায়ার দিনের শাস্তি দ্বারা ধ্বংস করে দেয়া হয়। তারা ছিল মাদায়েনের অধিবাসী। লূত (আঃ)-এর কওমের বসতি হচ্ছে বিধ্বস্ত জনপদ। তারা মাদায়েনে বসবাস করতো। আবার বলা হয়েছে যে, সেটা হচ্ছে সুদুম। মোটকথা, তাদেরকে আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবী লূত (আঃ)-কে না মানা এবং দুষ্কার্য পরিত্যাগ না করার কারণে ধ্বংস ও বরবাদ করে দিয়েছেন। আল্লাহ পাক বলেনঃ তাদের কাছে আমার রাসূলগণ আমার কিবাতসমূহ, মু'জিযা এবং স্পষ্ট দলীল প্রমাণাদিসহ গমন করেছিল। কিন্তু তারা তাদেরকে মোটেই মানেনি। অবশেষে তারা নিজেরা নিজেদের উপর যুলুম করার কারণে ধ্বংস হয়ে যায়। আল্লাহ তা'আলা তো সত্য প্রকাশ করে দিয়েছেন, কিতাব অবতীর্ণ করেছেন, রাসূলদেরকে পাঠিয়েছেন এবং হুজ্জত খতম করে দিয়েছেন। কিন্তু তারা রাসূলদের বিরুদ্ধাচরণ করে, আল্লাহর কিতাবের প্রতি আমল ছেড়ে দেয় এবং সত্যের মুকাবিলা করে। ফলে তাদের উপর আল্লাহর অভিসম্পাত অবতীর্ণ হয় এবং তারা সমূলে ধ্বংস হয়ে যায়।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।