আল কুরআন


সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 7)

সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 7)



হরকত ছাড়া:

كيف يكون للمشركين عهد عند الله وعند رسوله إلا الذين عاهدتم عند المسجد الحرام فما استقاموا لكم فاستقيموا لهم إن الله يحب المتقين ﴿٧﴾




হরকত সহ:

کَیْفَ یَکُوْنُ لِلْمُشْرِکِیْنَ عَهْدٌ عِنْدَ اللّٰهِ وَ عِنْدَ رَسُوْلِهٖۤ اِلَّا الَّذِیْنَ عٰهَدْتُّمْ عِنْدَ الْمَسْجِدِ الْحَرَامِ ۚ فَمَا اسْتَقَامُوْا لَکُمْ فَاسْتَقِیْمُوْا لَهُمْ ؕ اِنَّ اللّٰهَ یُحِبُّ الْمُتَّقِیْنَ ﴿۷﴾




উচ্চারণ: কাইফা ইয়াকূনুলিলমুশরিকীনা ‘আহদুন ‘ইনদাল্লা-হি ওয়া ‘ইনদা রাছূলিহীইল্লাল্লাযীনা ‘আহাত্তুম ‘ইনদাল মাছজিদিল হারা-মি ফামাছতাকা-মূলাকুম ফাছতাকীমূলাহুম ইন্নাল্লা-হা ইউহিব্বুল মুত্তাকীন।




আল বায়ান: কীভাবে মুশরিকদের জন্য অঙ্গীকার থাকবে আল্লাহর কাছে ও তাঁর রাসূলের কাছে? অবশ্য যাদের সাথে মসজিদে হারামে তোমরা অঙ্গীকারাবদ্ধ হয়েছ তাদের কথা আলাদা। অতএব যতক্ষণ তারা তোমাদের জন্য ঠিক থাকে, ততক্ষণ তোমরাও তাদের জন্য ঠিক থাক। নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদের ভালবাসেন।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৭. আল্লাহ ও তার রাসূলের কাছে মুশরিকদের চুক্তি কি করে বলবৎ থাকবে? তবে যাদের সাথে মসজিদুল হারামের সন্নিকটে(১) তোমরা পারস্পারিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলে, যতক্ষণ তারা তোমাদের চুক্তিতে স্থির থাকবে তোমরাও তাদের চুক্তিতে স্থির থাকবে(২); নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে পছন্দ করেন।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সঙ্গে মুশরিকদের চুক্তি কী করে কার্যকর থাকতে পারে? অবশ্য ঐসব লোক ছাড়া যাদের সঙ্গে তোমরা মাসজিদুল হারামের নিকট চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলে; তারা যদ্দিন তোমাদের সঙ্গে চুক্তি ঠিক রাখে, তোমরাও তাদের সঙ্গে কৃত চুক্তিতে দৃঢ় থাক। নিশ্চয়ই আল্লাহ মুত্তাকীদের ভালবাসেন।




আহসানুল বায়ান: (৭) আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নিকট অংশীবাদীদের চুক্তি কিরূপে বলবৎ থাকবে?[1] তবে যাদের সাথে তোমরা মাসজিদুল হারামের সন্নিকটে পারস্পরিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছ, তারা যতদিন তোমাদের চুক্তিতে স্থির থাকবে, তোমরা তাদের চুক্তিতে স্থির থাক। নিশ্চয় আল্লাহ সাবধানীদেরকে পছন্দ করেন। [2]



মুজিবুর রহমান: এই (কুরাইশ) মুশরিকদের অঙ্গীকার আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের নিকট কি রূপে (বলবৎ) থাকবে যদি না তাদের সাথে তোমরা মাসজিদুল হারামের সন্নিকটে অঙ্গীকার নিয়ে থাক? অতএব যে পর্যন্ত তারা তোমাদের সাথে সরলভাবে থাকে, তোমরাও তাদের সাথে সরলভাবে থাকবে, নিঃসন্দেহে আল্লাহ সংযমশীলদের পছন্দ করেন।



ফযলুর রহমান: আল্লাহ ও তাঁর রসূলের সাথে মুশরিকদের কীভাবে চুক্তি হতে পারে? তবে যাদের সাথে মসজিদুল হারামের কাছে তোমরা চুক্তি করেছিলে তাদের কথা আলাদা। অতএব, তারা যতক্ষণ তোমাদের সাথে ঠিক থাকবে ততক্ষণ তোমরাও তাদের সাথে ঠিক থাকবে। নিশ্চয়ই আল্লাহ মোত্তাকীদের পছন্দ করেন।



মুহিউদ্দিন খান: মুশরিকদের চুক্তি আল্লাহর নিকট ও তাঁর রসূলের নিকট কিরূপে বলবৎ থাকবে। তবে যাদের সাথে তোমরা চুক্তি সম্পাদন করেছ মসজিদুল-হারামের নিকট। অতএব, যে পর্যন্ত তারা তোমাদের জন্যে সরল থাকে, তোমরাও তাদের জন্য সরল থাক। নিঃসন্দেহের আল্লাহ সাবধানীদের পছন্দ করেন।



জহুরুল হক: কেমন ক’রে মুশরিকদের জন্য আল্লাহ্‌র সঙ্গে ও তাঁর রসূলের সঙ্গে চুক্তি হতে পারে, তাদের সম্পর্কে ছাড়া যাদের সঙ্গে তোমরা চুক্তি করেছিলে পবিত্র মসজিদের নিকটে? সুতরাং যতক্ষণ তারা তোমাদের প্রতি কায়েম থাকবে ততক্ষণ তোমরাও তাদের প্রতি কায়েম রইবে। নিঃসন্দেহ আল্লাহ্ ধর্মপরায়ণদের ভালোবাসেন।



Sahih International: How can there be for the polytheists a treaty in the sight of Allah and with His Messenger, except for those with whom you made a treaty at al-Masjid al-Haram? So as long as they are upright toward you, be upright toward them. Indeed, Allah loves the righteous [who fear Him].



তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৭. আল্লাহ ও তার রাসূলের কাছে মুশরিকদের চুক্তি কি করে বলবৎ থাকবে? তবে যাদের সাথে মসজিদুল হারামের সন্নিকটে(১) তোমরা পারস্পারিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছিলে, যতক্ষণ তারা তোমাদের চুক্তিতে স্থির থাকবে তোমরাও তাদের চুক্তিতে স্থির থাকবে(২); নিশ্চয় আল্লাহ মুত্তাকীদেরকে পছন্দ করেন।


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ হুদায়বিয়ার দিন যে চুক্তি সাক্ষরিত হয়েছিল এখানে তাই উদ্দেশ্য নেয়া হয়েছে। [ইবন কাসীর] এখানে মাসজিদুল হারাম বলে পুরো হারাম এলাকা বুঝানো হয়েছে। কুরআনের সুরা আল-ফাত্হ এর ২৫ নং আয়াতেও মাসজিদুল হারাম বলে মক্কার পুরো হারাম এলাকা বুঝানো হয়েছে। আর হুদায়বিয়ার একাংশ হারাম এলাকার ভিতরে, যা সবচেয়ে নিকটতম হারাম এলাকা।


(২) কুরআন মজীদ মুসলিমদের তাকিদ করে যে, শক্রদের বেলায়ও ইনসাফ থেকে কোন অবস্থায় যেন বিচ্যুত না হয়। আলোচ্য আয়াতে আল্লাহ তার দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। যেমন, নগণ্যসংখ্যক মুশরিক ছাড়া বাকী সবাই চুক্তিভংগ করেছে। সাধারণতঃ এমতাবস্থায় বাছ-বিচার তেমন থাকে না। নির্দোষ ক্ষুদ্র দলকেও সংখ্যা গুরু অপরাধী দলের ভাগ্যই বরণ করতে হয়। কিন্তু আল্লাহ্ তা'আলা “তবে যাদের সাথে তোমরা মসজিদুল হারামের পাশে চুক্তি সম্পাদন করেছ” বলে ওদের পৃথক করে দেয়, যারা চুক্তিভংগ করেনি এবং আদেশ দেয়া হয় যে, সংখ্যাগুরু চুক্তিভংগকারী মুশরিকদের প্রতি রাগ করে এদের সাথে তোমরা চুক্তিভংগ করোনা; বরং এরা যতদিন তোমাদের প্রতি সরল ও চুক্তির উপর অবিচল থাকে, তোমরাও তাদের প্রতি সরল থাক। ওদের প্রতি আক্রোশ বশতঃ এদের কষ্ট দেবে না। আল্লাহ্ তা'আলা এ বিষয়টি অন্যত্র পরিষ্কার ব্যক্ত করেছেন, “কোন জাতির শক্রতা যেন বে-ইনসাফ হতে তোমাদের উদ্বুদ্ধ না করে। [সূরা আল-মায়েদাহঃ ৮]

অনুরূপভাবে আলোচ্য সূরা আত-তাওবাহ এর ৮ নং আয়াতের শেষে বলা হয়েছেঃ “এদের অধিকাংশই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গকারী।” অর্থাৎ এদের মধ্যে কিছুসংখ্যক ভদ্র চিত্ত লোক চুক্তির উপর অবিচল থাকতে চায়। কিন্তু সংখ্যাগুরুর ভয়ে তারাও জড়সড়। যারা চুক্তি ভঙ্গ করেনি তারা কারা এটা নির্ধারণে কয়েকটি মত রয়েছে। ইমাম তাবারী বলেন, তারা হচ্ছে, কিনানা এর বনী বকরের কোন কোন গোষ্ঠী। যারা তাদের অঙ্গীকারে অটল ছিল। কুরাইশ ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সাথে যা সংঘটিত হয়েছিল তাতে তাদের কোন ভূমিকা ছিল না। কারণ নবম হিজরীতে যে সময় এ ঘোষণা আলী রাদিয়াল্লাহু আনহু প্রদান করেছিলেন, তখন মক্কাতে কুরাইশ বা খুযাআতে কোন কাফের অবশিষ্ট ছিল না, আর কুরাইশ ও রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মাঝেও আর কোন চুক্তি অবশিষ্ট ছিল না। সুতরাং বুঝা গেল যে, তারা ছিল কিনানার বনী বকরের কিছু লোক। [তাবারী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৭) আল্লাহ ও তাঁর রসূলের নিকট অংশীবাদীদের চুক্তি কিরূপে বলবৎ থাকবে?[1] তবে যাদের সাথে তোমরা মাসজিদুল হারামের সন্নিকটে পারস্পরিক চুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছ, তারা যতদিন তোমাদের চুক্তিতে স্থির থাকবে, তোমরা তাদের চুক্তিতে স্থির থাক। নিশ্চয় আল্লাহ সাবধানীদেরকে পছন্দ করেন। [2]


তাফসীর:

[1] এই প্রশ্নবাচক শব্দটি নেতিবাচক। অর্থাৎ, যে সকল মুশরিকদের সাথে তোমাদের চুক্তি আছে তাদের ছাড়া আর কারো চুক্তি বলবৎ থাকবে না।

[2] অর্থাৎ, চুক্তি বজায় রাখা আল্লাহর নিকট বড় পছন্দনীয় কাজ। অতএব তার প্রতি যত্ন রাখা জরুরী।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৭-১৫ নং আয়াতের তাফসীর:



অত্র আয়াতগুলোতে আল্লাহ তা‘আলা মুশরিকদের সাথে সম্পর্ক ছিন্নের ও চার মাস অবকাশ দেয়ার হিকমত বর্ণনা করেছেন। অতঃপর চার মাস অতিবাহিত হলে যেখানেই মুশরিকদের পাবে সেখানেই হত্যা করবে। কারণ তারা শির্ক ও কুফরী ত্যাগ করবে না, ফলে সন্ধিচুক্তিও বহাল থাকবে না। তবে হ্যাঁ, যাদের সাথে মাসজিদে হারামের নিকট সন্ধিচুক্তিতে আবদ্ধ হয়েছ অর্থাৎ হুদায়বিয়ার সন্ধি হয়েছে তারা যতদিন চুক্তিতে অটল থাকবে তোমরাও ততদিন চুক্তিতে অটল থাকবে।



৬ষ্ঠ হিজরীতে দশ বছর মেয়াদী হুদায়বিয়ার সন্ধি হয়। কিন্তু দশ বছর পূর্ণ হওয়ার পূর্বেই মুশরিকরা সন্ধি ভঙ্গ করে, ফলে নাবী (সাঃ) ৮ম হিজরীতে মক্কা বিজয়ের উদ্দেশ্যে রওনা হন।



(كَيْفَ وَإِنْ يَظْهَرُوْا عَلَيْكُمْ لَا يَرْقُبُوْا فِيْكُمْ)



‘কেমন করে থাকবে? তারা যদি তোমাদের ওপর জয়ী হয়’অর্থাৎ মুশরিকদের সাথে চুক্তি কিভাবে বলবৎ থাকবে, অথবা তাদের অবস্থা এমন যে, যতক্ষণ তাদের ওপর অন্যরা বিজয়ী থাকে ততক্ষণ তারা যথাযথ অঙ্গীকার পূর্ণ করে। কিন্তু যদি তারা এটা অনুভব করতে পারে যে, আমরা এখন মু’মিনদের ওপর ক্ষমতাবান হয়েছি। তাদের চেয়ে বেশি শক্তিশালী হয়েছি, তখন তারা তোমাদের আত্মীয়তা ও অঙ্গীকারের কোন পরওয়া করবে না। অতএব তারা দুর্বল অবস্থায় তোমাদের সাথে যে ভাল ব্যবহার করে তাতে তোমরা ধোঁকায় পড়ে যেও না। কেননা তারা মুখে খুব ভাল ভাল কথা বলে যাতে তোমরা খুশি থাক। কিন্তু অন্তর সম্পূর্ণ বিপরীত। এদের অধিকাংশই অঙ্গীকার ভঙ্গকারী ফাসিক। (তাফসীর মুয়াসসার, পৃঃ ১৮৮)



(لَا يَرْقُبُوْنَ فِيْ مُؤْمِنٍ إِلًّا وَلَا ذِمَّةً)



‘তবে তারা তোমাদের আত্মীয়তার ও অঙ্গীকারের কোন মর্যাদা দেবে না অর্থাৎ বার বার আল্লাহ তা‘আলা মুশরিকদের অঙ্গীকার ভঙ্গ ও আত্মীয়তার মর্যাদা ক্ষুণœ করার কথা বলেছেন এ কারণে যে, তারা কতটুকু মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ ও হিংসা রাখে তা প্রকাশ করে দেয়া। তবে যদি তারা শির্ক থেকে তাওবাহ করে ঈমান আনে, সালাত কায়েম করে ও যাকাত আদায় করে তাহলে তারা মুসলিম ভাই বলে গণ্য হবে।



(وَإِنْ نَّكَثُوْا أَيْمَانَهُمْ)



‘তারা যদি তাদের প্রতিশ্র“তি ভঙ্গ করে’ অর্থাৎ যেসকল মুশরিকদের সাথে নির্দিষ্ট মেয়াদে চুক্তিবদ্ধ হয়েছ তারা যদি চুক্তি ভঙ্গ করে এবং তোমাদের নাবী ও দীন নিয়ে ঠাট্টা করে তাহলে কাফিরদের নেতাদের হত্যা কর। আর তাদের জন্য তোমাদের পক্ষ থেকে কোন নিরাপত্তা নেই। সুতরাং বুঝা যাচ্ছে কোন ব্যক্তি দীন নিয়ে ঠাট্টা করলে মুসলিম থাকে না, সে কাফির হয়ে যায়; অতএব তাকে হত্যা করা আবশ্যক। আর এ হত্যার বাস্তবায়ন করবে ইসলামী প্রশাসন, কোন একক ব্যক্তি নয়।



ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন: এ আয়াতটি আবূ সূফিয়ান বিন হারব, হারেস বিন হিশাম, সুহাইল বিন আমর, ইকরিমা বিন আবূ জাহল এবং কুরাইশদের বড় বড় নেতাদের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়েছে যারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছিল এবং রাসূলকে মক্কা থেকে বের করে দেয়ার মনস্থ করেছিল। (ইবনু জারীর: ১০/৮৭-৮৮)



(أَلَا تُقَاتِلُوْنَ قَوْمًا نَكَثُوْا أَيْمَانَهُمْ)



‘তোমরা কি সে সম্প্রদায়ের সাথে যুদ্ধ করবে না, যারা নিজেদের প্রতিশ্র“তি ভঙ্গ করেছে?’ অর্থাৎ যারা অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে এবং রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে মক্কা থেকে বের করে দেয়ার ষড়যন্ত্র করেছে। যেমন দারুন নদওয়ায় বসে তারা শলা-পরামর্শ করেছিল।



আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَإِذْ يَمْكُرُ بِكَ الَّذِيْنَ كَفَرُوْا لِيُثْبِتُوْكَ أَوْ يَقْتُلُوْكَ أَوْ يُخْرِجُوْكَ ط وَيَمْكُرُوْنَ وَيَمْكُرُ اللّٰهُ ط وَاللّٰهُ خَيْرُ الْمٰكِرِيْنَ)



“স্মরণ কর! যখন কাফিরগণ তোমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করে তোমাকে বন্দী বা হত্যা অথবা নির্বাসিত করার জন্য। আর তারা ষড়যন্ত্র করে এবং আল্লাহও কৌশল করেন; আর আল্লাহই সর্বশ্রেষ্ঠ কৌশলী।”(সূরা আনফাল ৮:৩০)



অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَإِنْ كَادُوْا لَيَسْتَفِزُّوْنَكَ مِنَ الْأَرْضِ لِيُخْرِجُوْكَ مِنْهَا وَإِذًا لَّا يَلْبَثُوْنَ خِلَافَكَ إِلَّا قَلِيْلًا)‏



“তারা তোমাকে দেশ হতে উৎখাত করার চূড়ান্ত‎ চেষ্টা করেছিল তোমাকে সেখান হতে বহিষ্কার করার জন্য; যদি তা-ই করত তাহলে তোমার পর তারাও সেথায় অল্প সময়ই অবস্থান করত।”(সূরা ইসরা ১৭:৭৬)



(وَهُمْ بَدَءُوكُمْ أَوَّلَ مَرَّةٍ)



‘তারাই প্রথম তোমাদের বিরুদ্ধাচরণ করেছে’এর দ্বারা উদ্দেশ্য হল বদর যুদ্ধ যখন তারা বাণিজ্যিক কাফিলা রক্ষা করার জন্য বের হয়েছিল। কিন্তু কাফিলা সুরক্ষিত দেখেও তারা বদর প্রান্তরে মুসলিমদের সাথে লড়াই করার প্রস্তুতি নিতে লাগল এবং মুসলিমদেরকে উত্তেজিত করে যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটালো। কিংবা কুরাইশরা বানী বকরকে বানী খুযাআহ গোত্রের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে সাহায্য করেছিল অথচ তারা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাথে অঙ্গীকারাবদ্ধ মিত্র গোত্র ছিল।



সুতরাং মুসলিমরা সর্বদা ন্যায়-নীতির ওপর অবিচল এবং বাড়াবাড়ি হতে বিরত থাকবে, কারো সাথে গায়ে পড়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হবে না। তবে কেউ যদি প্রতিশ্র“তির বরখেলাফ করে এবং ইসলামের ওপর আঘাত হানে তাহলে তাকে উপয্ক্তু জবাব দিতে হবে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. যেসকল মুশরিকরা চুক্তি যথাযথ রক্ষা করে কেবল তাদেরই নিরাপত্তা রয়েছে।

২. আত্মীয়তার সম্পর্ক ও অঙ্গীকার রক্ষা করা ওয়াজিব।

৩. কাফির-মুশরিকরা মুসলিমদের ক্ষতি করাতে সর্বদা সচেষ্ট থাকে।

৪. যারা ঈমান রাখে, সালাত কায়িম করে, যাকাত দেয় তারাই দীনী ভাই।

৫. দীনকে নিয়ে ঠাট্টা-বিদ্রƒপ করলে তাদেরকে হত্যা করা আবশ্যক। কারণ তারা মুরতাদ।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: এখানে আল্লাহ তাআলা উপরোক্ত হুকুমের হিকমত বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, মুশরিকদেরকে চার মাস অবকাশ দেয়ার পর তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার অনুমতি দানের কারণ এই যে, তারা শিরক ও কুফরী পরিত্যাগ করবে না এবং সন্ধি ও চুক্তির উপর প্রতিষ্ঠিতও থাকবে না। হ্যা, তবে হুদায়বিয়ার সন্ধি তাদের পক্ষ থেকে যে পর্যন্ত ভেঙ্গে না দেয়া হয় সেই পর্যন্ত তোমরাও তা ভেঙ্গে দেবে। হুদায়বিয়ায় দশ বছরের জন্যে চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। ষষ্ঠ হিজরীর যুলকাদা মাস হতে রাসূলুল্লাহ (সঃ) চুক্তির মেয়াদ অতিক্রম করে চলছিলেন। শেষ পর্যন্ত কুরায়েশদের পক্ষ থেকে এ চুক্তি ভেঙ্গে দেয়া হয়। তাদের মিত্র বানু বকর রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর মিত্র খুযাআ’র উপর আক্রমণ চালিয়ে দেয়। এমন কি হারাম শরীফের মধ্যেও তাদেরকে হত্যা করে। এটার উপর ভিত্তি করেই। রাসূলুল্লাহ (সঃ) অষ্টম হিজরীর রমযান মাসে কুরায়েশদের উপর আক্রমণ চালান। আল্লাহ রাব্বল আলামীন তাঁকে মক্কা মুকাররামার উপর বিজয় দান করেন এবং তাদের উপর তাকে ক্ষমতার অধিকারী করেন। কিন্তু তিনি বিজয় ও ক্ষমতা লাভ করা সত্ত্বেও তাদের মধ্যে যারা ইসলাম কবূল করে তাদেরকে আযাদ করে দেন। (আরবী) তাদেরকেই বা মুক্ত বলা হয়। তারা সংখ্যায় প্রায় দুই হাজার ছিল। আর যারা কুফরীর উপরই ছিল এবং এদিক ওদিক পালিয়ে গিয়েছিল, বিশ্ব শান্তির দূত মুহাম্মাদ (সঃ) তাদেরকে সাধারণভাবে আশ্রয় প্রদান করেছিলেন এবং মক্কায় আগমনের ও সেখানে নিজ নিজ বাড়ীতে অবস্থানের অনুমতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন যে, চার মাস পর্যন্ত তারা যেখানে ইচ্ছা সেখানেই আসা-যাওয়া করতে পারে। তাদের মধ্যেই ছিলেন সাফওয়ান ইবনে উমাইয়া (রাঃ) ও ইকরামা ইবনে আবি জেহেল (রাঃ) প্রমুখ। অতঃপর আল্লাহ তা'আলা তাদেরকে ইসলাম গ্রহণের তাওফীক দান করেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁর প্রতিটি কাজে ও পরিমাপ করণে প্রশংসিত।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।