আল কুরআন


সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 50)

সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 50)



হরকত ছাড়া:

إن تصبك حسنة تسؤهم وإن تصبك مصيبة يقولوا قد أخذنا أمرنا من قبل ويتولوا وهم فرحون ﴿٥٠﴾




হরকত সহ:

اِنْ تُصِبْکَ حَسَنَۃٌ تَسُؤْهُمْ ۚ وَ اِنْ تُصِبْکَ مُصِیْبَۃٌ یَّقُوْلُوْا قَدْ اَخَذْنَاۤ اَمْرَنَا مِنْ قَبْلُ وَ یَتَوَلَّوْا وَّ هُمْ فَرِحُوْنَ ﴿۵۰﴾




উচ্চারণ: ইন তুসিবকা হাছানাতুন তাছু’হুম ওয়াইন তুসিবকা মুসিবাতুইঁ ইয়াকূলূকাদ আখাযনাআমরানা-মিন কাবলুওয়া ইয়াতাওয়াল্লাও ওয়া হুম ফারিহূন।




আল বায়ান: যদি তোমার কাছে কোন কল্যাণ পৌঁছে, তবে তা তাদেরকে কষ্ট দেয়। আর যদি তোমাকে কোন বিপদ আক্রান্ত করে, তবে তারা বলে, পূর্বেই আমরা সতর্কতা অবলম্বন করেছি এবং তারা ফিরে যায় ‌উল্লসিত অবস্থায়।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৫০. আপনার মঙ্গল হলে তা তাদেরকে কষ্ট দেয়, আর আপনার বিপদ ঘটলে তারা বলে, “আমরা তো আগেই আমাদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করেছিলাম এবং তারা উৎফুল্ল চিত্তে মুখ ফিরিয়ে নেয়।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমার মঙ্গল হলে তা তাদেরকে মনোকষ্ট দেয়, আর তোমার উপর বিপদ আসলে তারা খুশির সঙ্গে এ কথা বলতে বলতে সরে পড়ে যে, ‘আমরা আগেই সাবধানতা অবলম্বন করেছিলাম।’




আহসানুল বায়ান: (৫০) যদি তোমার প্রতি কোন মঙ্গল উপস্থিত হয়, তাহলে তাতে দুঃখিত হয়। আর যদি তোমার উপর কোন বিপদ এসে পড়ে, তখন তারা বলে, ‘আমরা তো প্রথম থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করেছিলাম’, এবং তারা খুশী হয়ে ফিরে যায়। [1]



মুজিবুর রহমান: যদি তোমার প্রতি কোন মঙ্গল উপস্থিত হয় তাহলে তাদের জন্য তা চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায়, আর যদি তোমার উপর কোন বিপদ এসে পড়ে তখন তারা বলেঃ আমরাতো প্রথম থেকেই নিজেদের জন্য সাবধানতার পথ অবলম্বন করেছিলাম এবং তারা খুশী হয়ে চলে যায়।



ফযলুর রহমান: তোমার কোন কল্যাণ হলে তাদের তা খারাপ লাগে, কিন্তু তোমার কোন বিপদ হলে তারা বলে, “আমরা আগেই আমাদের কাজ সামলে নিয়েছি” এবং তারা তখন সানন্দে সরে পড়ে।



মুহিউদ্দিন খান: আপনার কোন কল্যাণ হলে তারা মন্দবোধ করে এবং কোন বিপদ উপস্থিত হলে তারা বলে, আমরা পূর্ব থেকেই নিজেদের কাজ সামলে নিয়েছি এবং ফিরে যায় উল্লসিত মনে।



জহুরুল হক: যদি তোমার উপরে ভালো কিছু ঘটে তবে তা তাদের দুঃখ দেয়, আর যদি তোমার কোনো বিপদ ঘটে তারা বলে -- "আমরা তো আমাদের ব্যাপার আগেই গুটিয়ে নিয়েছিলাম", আর তারা ফিরে যায় এবং তারা উৎফুল্লচিত্ত হয়।



Sahih International: If good befalls you, it distresses them; but if disaster strikes you, they say, "We took our matter [in hand] before," and turn away while they are rejoicing.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৫০. আপনার মঙ্গল হলে তা তাদেরকে কষ্ট দেয়, আর আপনার বিপদ ঘটলে তারা বলে, “আমরা তো আগেই আমাদের ব্যাপারে সতর্কতা অবলম্বন করেছিলাম এবং তারা উৎফুল্ল চিত্তে মুখ ফিরিয়ে নেয়।


তাফসীর:

-


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৫০) যদি তোমার প্রতি কোন মঙ্গল উপস্থিত হয়, তাহলে তাতে দুঃখিত হয়। আর যদি তোমার উপর কোন বিপদ এসে পড়ে, তখন তারা বলে, ‘আমরা তো প্রথম থেকেই সতর্কতা অবলম্বন করেছিলাম’, এবং তারা খুশী হয়ে ফিরে যায়। [1]


তাফসীর:

[1] বাগধারায় এখানে حسنةٌ (মঙ্গল) বলে সাফল্য ও গনীমতের মাল, আর سيئةٌ (বিপদ) বলে অসাফল্য, পরাজয় এবং যুদ্ধে অনুরূপ আশঙ্কনীয় ক্ষতিকে বুঝানো হয়েছে। উক্ত আচরণে সেই অভ্যন্তরীণ অপবিত্রতার বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে, যা মুনাফিক্বদের অন্তরে বিদ্যমান ছিল। যেহেতু অপরের বিপদের সময় আনন্দিত হওয়া এবং মঙ্গল লাভের সময় মনে দুঃখ ও কষ্ট অনুভব করা হল, নিতান্ত শত্রুতার নিদর্শন।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪৯-৫২ নং আয়াতের তাফসীর:



এখানে পূর্ববর্তী আয়াতে বর্ণিত মুনাফিকদের কথাই বলা হচ্ছে। তারা বলত: হে মুহাম্মাদ (সাঃ) আমাকে জিহাদে না যাওয়ার অনুমতি দেন, অনুমতি না দিয়ে আমাকে ফেতনায় ফেলবেন না।



যদি মু’মিনগণ কোন حسنة অর্থাৎ গনীমত বা বিজয় লাভ করত তাহলে তাদের খুব কষ্ট লাগত। আর মু’মিনরা পরাজিত হলে তারা বলত, আমরা পূর্বেই সতর্কতা অবলম্বন করেছিলাম।



(قُلْ لَّنْ يُّصِيْبَنَآ إِلَّا مَا كَتَبَ اللّٰهُ لَنَا)



“বল:‎ ‘আমাদের জন্য আল্লাহ যা নির্দিষ্ট করেছেন তা ব্যতীত আমাদের অন্য কিছু হবে না” অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা তাকদীরে যা রেখেছেন তা-ই হবে, এর চেয়ে বেশি কিছু হবে না। হাদীসে এসেছে ইবনু আব্বাস (রাঃ) কে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: হে বৎস! জেনে রেখ, সারা পৃথিবীর মানুষ একত্র হলেও তোমার কোন ক্ষতি করতে পারবে না, তবে সেটুকুই করতে পারবে যা আল্লাহ তা‘আলা তোমার জন্য লিখে রেখেছেন। আবার যদি সারা পৃথিবীর মানুষ একত্র হয় তোমার কোন উপকার করার জন্য তবে কোন উপকারই করতে পারবে না কেবল আল্লাহ তা‘আলা তোমার জন্য যতটুকু লিখে রেখেছেন ততটুকু ব্যতীত। (তিরমিযী হা: ২৫১৬, সহীহ)



إِحْدَي الْحُسْنَيَيْنِ



‘দু’টি মঙ্গলের একটি’ অর্থাৎ দুটি সাফল্যের একটি: হয় শাহাদাত অথবা বিজয়।



আর আমরা তোমাদের দুটি অমঙ্গলের মধ্যে একটির অপেক্ষা করছি- হয় আকাশ থেকে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের ওপর আযাব প্রেরণ করবেন, যাতে তোমরা ধ্বংস হয়ে যাও, না হয় আমাদের হাতে আল্লাহ তা‘আলা তোমাদেরকে হত্যা কিংবা বন্দী হওয়ার মাধ্যমে শাস্তি প্রদান করবেন।



সুতরাং মুনাফিকদের মত কাপুরুষতার পরিচয় না দিয়ে মু’মিনদের উচিত আল্লাহ তা‘আলার পথে জিহাদ করে মর্যাদা লাভ করা।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৫০-৫১ নং আয়াতের তাফসীর:

এখানে আল্লাহ তা'আলা ঐ মুনাফিকদের অন্তরের কুটিলতার বর্ণনা দিচ্ছেন যে, মুসলিমদের বিজয়, সাহায্য, কল্যাণ ও উন্নতি লাভে তারা অত্যন্ত চিন্তান্বিত ও উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে, আর আল্লাহ না করুন, যদি মুসলিমদের উপর কোন বিপদ এসে পড়ে তখন তারা মনে খুবই আনন্দ লাভ করে এবং নিজেদের চতুরতার প্রশংসা করে। তারা বলেঃ “এই কারণেই তো আমরা তাদের থেকে দূরে রয়েছি।” এই বলে তারা আনন্দে উৎফুল্ল হয়। আল্লাহ তাআলা মুসলিমদেরকে বলেন, তোমরা ঐ মুনাফিকদেরকে উত্তর দাও- দুঃখ ও অশান্তি আমাদের তকদীরের লিখন এবং আমরা স্বয়ং আল্লাহ তাআলার ইচ্ছার অধীন। তিনিই আমাদের অভিভাবক, তিনিই আমাদের প্রতিপালক, তিনিই আমাদের আশ্রয়স্থল। আমরা মুমিন, আর মুমিনদের ভরসা আল্লাহর উপর। তিনি আমাদের জন্যে যথেষ্ট। তিনিই উত্তম কার্যসম্পাদনকারী ।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।