আল কুরআন


সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 48)

সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 48)



হরকত ছাড়া:

لقد ابتغوا الفتنة من قبل وقلبوا لك الأمور حتى جاء الحق وظهر أمر الله وهم كارهون ﴿٤٨﴾




হরকত সহ:

لَقَدِ ابْتَغَوُا الْفِتْنَۃَ مِنْ قَبْلُ وَ قَلَّبُوْا لَکَ الْاُمُوْرَ حَتّٰی جَآءَ الْحَقُّ وَ ظَهَرَ اَمْرُ اللّٰهِ وَ هُمْ کٰرِهُوْنَ ﴿۴۸﴾




উচ্চারণ: লাকাদিব তাগাউল ফিতনাতা মিন কাবলুওয়া কাল্লাবূলাকাল উমূরা হাত্তা-জাআল হাক্কু ওয়া জাহারা আমরুল্লা-হি ওয়া হুম কা-রিহূন।




আল বায়ান: অবশ্য তারা ইতঃপূর্বে ফিতনা অনুসন্ধান করেছিল এবং তোমার কাজগুলো পালটে দিয়েছিল, অবশেষে হকের আগমন ঘটল এবং আল্লাহর দীন বিজয়ী হল, অথচ তারা ছিল অপছন্দকারী।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪৮. অবশ্য তারা আগেও(১) ফিতনা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল এবং তারা আপনার বহু কাজে ওলট-পালট করেছিল, অবশেষে সত্যের আগমন ঘটল এবং আল্লাহর হুকুম বিজয়ী হল(২), অথচ তারা ছিল অপছন্দকারী।




তাইসীরুল ক্বুরআন: আগেও তারা ফিতনা সৃষ্টি করতে চেয়েছে আর তোমার অনেক কাজ নষ্ট করেছে যতক্ষণ না প্রকৃত সত্য এসে হাজির হল আর আল্লাহর বিধান প্রকাশিত হয়ে গেল যদিও এতে তারা ছিল নাখোশ।




আহসানুল বায়ান: (৪৮) তারা তো পূর্বেও ফিতনা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল, আর তোমার (ক্ষতি সাধনের) জন্য কর্মসমূহ উলট-পালট করেছিল। পরিশেষে সত্য সমাগত হল এবং আল্লাহর দ্বীন বিজয় লাভ করল[1] অথচ তাদের কাছে এটা অপ্রীতিকরই ছিল। [2]



মুজিবুর রহমান: পূর্বেও তারা ফিতনা ফাসাদ সৃষ্টি করেছিল এবং তোমার কার্যক্রম ব্যর্থ করার চেষ্টায় রত ছিল। শেষ পর্যন্ত হক ও আল্লাহর নির্দেশ প্রকাশমান হল, যদিও তা তাদের মনঃপুত ছিলনা।



ফযলুর রহমান: এর আগেও তারা ফেতনা সৃষ্টি করতে চেয়েছে এবং তোমার কাজকর্ম উল্টে দিয়েছে। অবশেষে সত্য এসেছে এবং আল্লাহর আদেশ বিজয়ী হয়েছে; যদিও তারা (তা) অপছন্দ করছে।



মুহিউদ্দিন খান: তারা পূর্বে থেকেই বিভেদ সৃষ্টির সুযোগ সন্ধানে ছিল এবং আপনার কার্যসমূহ উল্টা-পাল্টা করে দিচ্ছিল। শেষ পর্যন্ত সত্য প্রতিশ্রুতি এসে গেল এবং জয়ী হল আল্লাহর হুকুম, যে অবস্থায় তারা মন্দবোধ করল।



জহুরুল হক: তারা বাস্তবিকই ইতিপূর্বে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল, আর তারা তোমার জন্য কাজকর্ম পন্ড করতে যাচ্ছিল, যতক্ষণ না সত্য এসেছিল ও আল্লাহ্‌র আদেশ প্রকাশ পেলো, যদিও তারা অনিচ্ছুক ছিল।



Sahih International: They had already desired dissension before and had upset matters for you until the truth came and the ordinance of Allah appeared, while they were averse.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৪৮. অবশ্য তারা আগেও(১) ফিতনা সৃষ্টি করতে চেয়েছিল এবং তারা আপনার বহু কাজে ওলট-পালট করেছিল, অবশেষে সত্যের আগমন ঘটল এবং আল্লাহর হুকুম বিজয়ী হল(২), অথচ তারা ছিল অপছন্দকারী।


তাফসীর:

(১) অর্থাৎ তারা চিন্তাশক্তি ও মতামতকে আপনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে খাটিয়েছিল। তারা প্রচেষ্টা চালিয়েছে আপনার দ্বীনকে অপমানিত করতে। যেমন প্রথম যখন আপনি মদীনায় আগমন করেছিলেন তখন আপনার বিরুদ্ধে ইয়াহুদী ও মুনাফিকরা যৌথ প্রচেষ্টা চালিয়েছে। তারপর যখন বদরের যুদ্ধে মুসলিমরা জয়লাভ করল তখন আব্দুল্লাহ ইবন উবাই ও তার সাথীরা বলল, এ কাজ তো দেখি পথে উঠে এসেছে। তারপর তারা প্রকাশ্যে ইসলাম গ্রহণ করে। তারপর যখনই কোথাও মুসলিমদের বিজয় দেখে তখনই তা তাদেরকে পীড়া দেয়। [ইবন কাসীর]


(২) অর্থাৎ “আল্লাহর আদেশ বিজয় হল”, যাতে মুনাফিকরা মর্মপীড়া বোধ করছিল। এর দ্বারা ইঙ্গিত দেয়া হয় যে, জয় বিজয় সবই আল্লাহর আয়ত্তে। যেমন ইতিপূর্বের যুদ্ধসমূহে আপনাকে জয়ী করা হয়েছে, তেমনি এ যুদ্ধেও জয়ী হবেন এবং মুনাফিকদের সমস্ত ষড়যন্ত্র ব্যর্থ হয়ে পড়বে।


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৪৮) তারা তো পূর্বেও ফিতনা সৃষ্টির চেষ্টা করেছিল, আর তোমার (ক্ষতি সাধনের) জন্য কর্মসমূহ উলট-পালট করেছিল। পরিশেষে সত্য সমাগত হল এবং আল্লাহর দ্বীন বিজয় লাভ করল[1] অথচ তাদের কাছে এটা অপ্রীতিকরই ছিল। [2]


তাফসীর:

[1] এই জন্য অতীত ও ভবিষ্যৎ বিষয়ে তোমাকে অবহিত করা হয়েছে। আর এ কথাও বলা হয়েছে যে, এই মুনাফিক্বদল যে তোমাদের সাথে যায়নি তাতে তোমাদের জন্য মঙ্গলই হয়েছে। নচেৎ যদি তারা যেত, তাহলে তাদের কারণে এই সকল বিপর্যয় সৃষ্টি হত।

[2] অর্থাৎ, এই মুনাফিক্বরা যখন থেকে তুমি মদীনায় আমগন করেছ তখন থেকেই তোমার বিরুদ্ধে ফিতনা সৃষ্টি করতে এবং তোমার (ক্ষতি সাধনের) জন্য কর্মসমূহ উলট-পালট করতে সক্রিয় ভূমিকা পালন করে আসছে। পরিশেষে বদর যুদ্ধে আল্লাহ তাআলা তোমাকে বিজয় ও আধিপত্য দান করলেন; যা তাদের জন্য অসহনীয় ও অপছন্দনীয় ছিল। অনুরূপ উহুদ যুদ্ধেও ঐ মুনাফিক্বদল রাস্তা থেকেই ফিরে এসে সমস্যা সৃষ্টি করার এবং তারপরও প্রত্যেক জায়গাতে বিপর্যয় সৃষ্টি করার চেষ্টা করেই আসছিল। পরিশেষে মক্কা জয় হল এবং অধিকাংশ আরববাসীরা মুসলমান হয়ে গেল। যার কারণে তারা আক্ষেপ ও আফসোসে হাত মলতে থেকে গেল।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৪৬-৪৮ নং আয়াতের তাফসীর:



এখানে সেই সকল মুনাফিকদের কথা উল্লেখ করা হয়েছে যারা মিথ্যা ওজর দেখিয়ে যুদ্ধে শরীক না হওয়ার অনুমতি চাচ্ছিল। সত্যিকারেই যদি জিহাদে যাওয়ার নিয়ত থাকত তাহলে কিছু না কিছু সরঞ্জামাদি তারা প্রস্তুত রাখত। তারপরেও যদি তারা জিহাদে বের হত- তাহলে মুসলিমদের মাঝে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করত।



اَوْضَعُوْا এর মূল اِيْضَاعٌ শব্দের অর্থ হল: নিজ সওয়ারীকে দ্রুতবেগে দৌড়ানো। অর্থাৎ চোগলখোরী প্রভৃতি দ্বারা তোমাদের মাঝে ফাসাদ সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে ছুটাছুটি করত এবং তাতে তারা কোন প্রকার প্রচেষ্টার কমতি করত না। আর এখানে ‘ফেতনা’ থেকে উদ্দেশ্য আপোষের মাঝে বিচ্ছিন্নতা, শত্রুতা ও বিদ্বেষ সৃষ্টি করা।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. মুসলিম সমাজের জন্য সবচেয়ে বেশি ভয়ানক হচ্ছে মুনাফিকরা।

২. মুনাফিকদের কাজ হল সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে নিজেদেরকে ভাল দাবি করা।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: আল্লাহ তাআলা স্বীয় নবী (সঃ)-এর অন্তরে মুনাফিকদের প্রতি ঘৃণার উদ্রেক করার জন্যে বলেন, হে নবী! তুমি কি ভুলে গেছ যে, এই মুনাফিকরা বহুদিন ধরে ফিত্না ও ফাসাদের অগ্নি প্রজ্বলিত করতে রয়েছে এবং তোমার কাজে ব্যাঘাত সৃষ্টি করার সব রকমের তদবীর চালিয়েছে। মদীনায় তোমার প্রতিষ্ঠা লাভের পরই সমস্ত আরব এক হয়ে বিপদের বৃষ্টি তোমার উপর বর্ষণ করেছে। মদীনার ইয়াহূদী ও মুনাফিকরা মদীনায় বিদ্রোহ ঘোষণা করে দেয়। কিন্তু আল্লাহ তাআলা এক দিনেই তাদের সকলের কামান ভেঙ্গে চুরমান করে দেন। তিনি তাদের জোড় ঢিলা করে দেন এবং তাদের উত্তেজনা ঠাণ্ডা করে দেন। বদরের যুদ্ধ তাদেরকে হতবাক করে দেয় এবং তাদের মনের কামনা ও বাসনা মুছে ফেলেন অর্থাৎ তারা তাদের সফল হওয়ার ব্যাপারে সম্পূর্ণ নিরাশ হয়ে যায়। মুনাফিকদের নেতা আবদুল্লাহ ইবনে উবাই তো পরিষ্কারভাবে বলে দেয়- “এ লোকগুলো এখন আমাদের ক্ষমতার বাইরে চলে গেছে। এখন আমাদের এ ছাড়া কোন উপায় নেই যে, আমরা বাহ্যতঃ ইসলামের অনুকূলে থাকবো, কিন্তু অন্তরে যা আছে তা তো আছেই। সময় সুযোগ আসলে দেখা যাবে এবং দেখানো যাবে।” তারপর যতোই সত্যের উন্নতি হতে থাকে এবং তাওহীদ বিকাশ লাভ করতে থাকে, ততোই তারা হিংসার আগুনে দগ্ধীভূত হতে থাকে। অবশেষে সত্য প্রতিষ্ঠিত হয় এবং আল্লাহর কালেমার বিজয় ডংকা বেজে ওঠে। আর এদিকে এই মুনাফিকদের পেট ফুলতে থাকে এবং এটা তাদের কাছে খুবই অপ্রীতিকর বোধ হয়।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।