আল কুরআন


সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 39)

সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 39)



হরকত ছাড়া:

إلا تنفروا يعذبكم عذابا أليما ويستبدل قوما غيركم ولا تضروه شيئا والله على كل شيء قدير ﴿٣٩﴾




হরকত সহ:

اِلَّا تَنْفِرُوْا یُعَذِّبْکُمْ عَذَابًا اَلِیْمًا ۬ۙ وَّ یَسْتَبْدِلْ قَوْمًا غَیْرَکُمْ وَ لَا تَضُرُّوْهُ شَیْئًا ؕ وَ اللّٰهُ عَلٰی کُلِّ شَیْءٍ قَدِیْرٌ ﴿۳۹﴾




উচ্চারণ: ইল্লা-তানফিরু ইউ‘আযযিবকুম ‘আযা-বান আলীমাওঁ ওয়া ইয়াছতাবদিল কাওমান গাইরাকুম ওয়ালা-তাদুররূহু শাইআওঁ ওয়াল্লা-হু ‘আলা-কুল্লি শাইয়িন কাদির।




আল বায়ান: যদি তোমরা (যুদ্ধে) বের না হও, তিনি তোমাদের বেদনাদায়ক আযাব দেবেন এবং তোমাদের পরিবর্তে অন্য এক কওমকে আনয়ন করবেন, আর তোমরা তাঁর কিছুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না। আর আল্লাহ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩৯. যদি তোমরা অভিযানে বের না হও, তবে তিনি তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন এবং অন্য জাতিকে তোমাদের পরিবর্তে আনয়ন করবেন এবং তোমরা তার কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। আর আল্লাহ্ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমরা যদি যুদ্ধাভিযানে বের না হও, তাহলে তোমাদেরকে ভয়াবহ শাস্তি দেয়া হবে, আর তোমাদের স্থলে অন্য সম্প্রদায়কে আনা হবে (অথচ) তোমরা তাঁর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ সকল বিষয়ে সর্বশক্তিমান।




আহসানুল বায়ান: (৩৯) যদি তোমরা (জিহাদে) বের না হও, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রদান করবেন এবং তোমাদের পরিবর্তে অন্য এক জাতি সৃষ্টি করবেন, আর তোমরা তাঁর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না।[1] আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।



মুজিবুর রহমান: যদি তোমরা বের না হও তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে কঠোর শাস্তি প্রদান করবেন এবং তোমাদের পরিবর্তে অন্য এক জাতিকে স্থলাভিষিক্ত করবেন, আর তোমরা আল্লাহর (দীনের) কোনই ক্ষতি করতে পারবেনা। আল্লাহ সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী।



ফযলুর রহমান: যদি তোমরা (আল্লাহর পথে) বের না হও তাহলে তিনি তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন এবং অন্য লোকদেরকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন; তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না। আল্লাহ সবকিছু করতে সক্ষম।



মুহিউদ্দিন খান: যদি বের না হও, তবে আল্লাহ তোমাদের মর্মন্তুদ আযাব দেবেন এবং অপর জাতিকে তোমাদের স্থলাভিষিক্ত করবেন। তোমরা তাঁর কোন ক্ষতি করতে পারবে না, আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।



জহুরুল হক: যদি তোমরা বের না হও তবে তিনি তোমাদের শাস্তি দেবেন মর্মন্তুদ শাস্তিতে, আর তোমাদের পরিবর্তে বদলে নেবেন ভিন্ন এক জাতিকে, আর তোমরা তাঁর কোনোই ক্ষতি করতে পারবে না। বস্তুতঃ আল্লাহ্ সব-কিছুর উপরে সর্বশক্তিমান।



Sahih International: If you do not go forth, He will punish you with a painful punishment and will replace you with another people, and you will not harm Him at all. And Allah is over all things competent.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৩৯. যদি তোমরা অভিযানে বের না হও, তবে তিনি তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেবেন এবং অন্য জাতিকে তোমাদের পরিবর্তে আনয়ন করবেন এবং তোমরা তার কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। আর আল্লাহ্ সব কিছুর উপর ক্ষমতাবান।(১)


তাফসীর:

(১) এ আয়াতে অলস ও নিস্ক্রিয় লোকদের ব্যাধি ও তার প্রতিকার উল্লেখ করে সর্বশেষ ফয়সালা জানিয়ে দেয়া হয় যে, তোমরা জিহাদে বের না হলে আল্লাহ তোমাদের মৰ্মম্ভদ শাস্তি দিবেন এবং তোমাদের স্থলে অন্য জাতির উত্থান ঘটাবেন। আর দ্বীনের আমল থেকে বিরত হয়ে তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের বিন্দুমাত্র ক্ষতি করতে পারবে না। কেননা আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান। কাতাদা বলেন, এ আয়াতে আল্লাহ তা'আলা মুমিনদেরকে শামের দিকে তাবুকের যুদ্ধে অংশগ্রহণের জন্য বের হতে নির্দেশ দিয়েছিলেন। তিনি জানেন এ যুদ্ধে কত কষ্ট রয়েছে। তারপরও তিনি এ যুদ্ধে বের না হওয়ার ব্যাপারে সাবধান করেছেন। [তাবারী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৩৯) যদি তোমরা (জিহাদে) বের না হও, তাহলে আল্লাহ তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রদান করবেন এবং তোমাদের পরিবর্তে অন্য এক জাতি সৃষ্টি করবেন, আর তোমরা তাঁর কোনই ক্ষতি করতে পারবে না।[1] আর আল্লাহ সর্ববিষয়ে শক্তিমান।


তাফসীর:

[1] রোমের খ্রিষ্টান বাদশাহ হিরাক্লের ব্যাপারে খবর পাওয়া গেল যে, তিনি মুসলিমদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ-প্রস্ত্ততি নিচ্ছেন। সুতরাং নবী (সাঃ) তাঁর বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্ত্ততি নিতে আদেশ করলেন। এটা ছিল শওয়াল মাসের ৯ হিজরীর ঘটনা। সময়টা ছিল প্রখর গ্রীষ্মের সময় আর সফরও ছিল খুব লম্বা। কোন কোন মুসলিম ও মুনাফিকবদের উপর এটা বড় কষ্টকর মনে হল; যার প্রকাশ এই আয়াতের মধ্যে করা হয়েছে এবং তাদেরকে ভৎর্সনা করা ও ধমক দেওয়া হয়েছে। এটাকে তাবূক যুদ্ধ বলা হয়; যা আসলে ঘটেনি। ২০ দিন মুসলিমরা শাম দেশের নিকটবর্তী তাবূকে থেকে পুনরায় ফিরে এলেন। এ যুদ্ধের সৈন্যদেরকে ‘জাইশুল উসরাহ’ (সংকট-সৈন্য) বলা হয়। কেননা, এই দীর্ঘ সফরে সৈন্যদেরকে দীর্ঘ সময় বড় সংকটের সম্মুখীন হতে হয়েছিল। اثَّاقَلتُم অর্থাৎ, অলস ভারাক্রান্ত হয়ে পিছনে থাকতে চাও। এর বহিঃপ্রকাশ কোন কোন লোকের মধ্যে হয়েছিল। কিন্তু এর সম্বন্ধ সকলের প্রতি জুড়ে দেওয়া হয়েছে। (ফাতহুল ক্বাদীর)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৩৮-৪০ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলার পথে জিহাদ বর্জন করে দুনিয়া ও তার সাচ্ছন্দ্য এবং আরাম-আয়েশে মগ্ন থাকাকে আল্লাহ তা‘আলা নিন্দা করে মু’মিনদেরকে বলছেন যে, তোমরা আখিরাতের চেয়ে পার্থিব সুখ সাচ্ছন্দকে প্রাধান্য দিচ্ছ? জেনে রেখ! পাথির্ব সুখ সাচ্ছন্দ অতি সামান্য। যদি জিহাদে বের না হও তাহলে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি দেব এবং এমন এক জাতিকে তোমাদের পরিবর্তে নিয়ে আসব যাদের তোমরা কোন ক্ষতিসাধন করতে সক্ষম হবে না, তাদের দ্বারা আল্লাহ তা‘আলা তোমাদের শাস্তি দেবেন, যতক্ষণ তোমরা জিহাদ না করবে ততক্ষণ এ জাতি দ্বারা লাঞ্ছিত হবে।



(ثَانِيَ اثْنَيْنِ إِذْ هُمَا فِي الْغَارِ)



‘দু’জনের একজন, যখন তারা উভয়ে গুহার মধ্যে ছিল’ এখানে রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও আবূ বকর (রাঃ) এর মক্কা থেকে মদীনার উদ্দেশ্যে হিজরতকালীন ‘গারে সূর’ পর্বতে অবস্থান ও তখনকার পরিস্থিতির কথা তুলে ধরা হচ্ছে। শত্রুরা খুঁজতে খুঁজতে যে গর্তে নাবী (সাঃ) ও আবূ বাকর (রাঃ) লুকিয়ে ছিলেন সেখানে চলে এসেছে, এমন কঠিন মুহূর্তেও আল্লাহ তা‘আলা রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে সাহায্য করেছিলেন। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) আবূ বাকর (রাঃ)-কে বললেন: তুমি চিন্তা করো না, আল্লাহ তা‘আলা আমাদের সাথে আছেন। আবূ বাকর (রাঃ) বলেন: আমি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর সাথে গারে সূর থেকে মুশরিকদের (পায়ের) চি‎‎‎হ্ন দেখাচ্ছিলাম। আমি বললাম: হে আল্লাহর রাসূল (সাঃ)! যদি তাদের কেউ পা তুলে তাহলেই আমাদেরকে দেখতে পাবে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: যাদের তিনজনের একজন আল্লাহ তা‘আলা তাদের দুজন সম্পর্কে তোমার ধারণা কী? (সহীহ বুখারী হা: ৪৬৬৩)



এ ঘটনা বর্ণনা করতে গিয়ে অনেকে বলে থাকে: গুহার মুখে কবুতর এসে ডিম পেড়ে দিয়েছিল ইত্যাদি এসব মিথ্যা বানোয়াট কথা।



(كَلِمَةَ الَّذِيْنَ كَفَرُوا السُّفْلٰي)



‘এবং তিনি কাফিরদের কথা হেয় করলেন’ কাফিরদের বাক্য বলতে শির্ক আর আল্লাহ তা‘আলার বাণী বলতে তাওহীদ।



যেমন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে জিজ্ঞেস করা হল: একজন বীরত্ব প্রকাশ করার জন্য যুদ্ধ করে, একজন স্বগোত্রের অন্ধ পক্ষপাতিত্ব করার জন্য যুদ্ধ করে আর অন্যজন লোক দেখানোর জন্য যুদ্ধ করে- এদের মধ্যে আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় যুদ্ধ কার হয়? তিনি বললেন: যে আল্লাহ তা‘আলার কালিমাকে সুউচ্চ করার জন্য যুদ্ধ করে তার যুদ্ধ আল্লাহ তা‘আলার রাস্তায় হয়। (সহীহ বুখারী হা: ১২৩)



সুতরাং মুসলিম নেতা যদি সাধারণভাবে জিহাদের জন্য আহ্বান করে তাহলে সব কিছু বর্জন করে জিহাদে বের হওয়া আবশ্যক। কেউ জিহাদ না করলে আল্লাহ তা‘আলার কোন ক্ষতি হবে না বরং নিজেদের বিপদ নিজেরাই ডেকে আনবে ।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. ইমাম যখন যুদ্ধ করার জন্য আহ্বান জানাবে তখন যুদ্ধ করা আবশ্যক।

২. পার্থিব জীবনকে প্রাধান্য দিয়ে জিহাদ ত্যাগ করলে আল্লাহ তা‘আলা কঠিন শাস্তি দেবেন।

৩. দীনের জন্য রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে সাহায্য করা ওয়াজিব।

৪. আবূ বকর (রাঃ)-এর মর্যাদা জানতে পারলাম।

৫. ইসলাম সর্বদা বিজয়ী থাকে তার ওপর কোন কিছু বিজয় লাভ করতে পারে না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৩৮-৩৯ নং আয়াতের তাফসীর:

ঘটনা এই যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বহু দূরের সফর তাবুকের উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করার জন্যে সাহাবীদেরকে এমন সময়ে নির্দেশ দেন যখন প্রচন্ড গরম পড়েছিল, গাছের ফল পেকে উঠেছিল এবং গাছের ছায়া বেড়ে গিয়েছিল। কিছু লোক রয়ে গিয়েছিল, তাদেরকেই তিরস্কার করে বলা হচ্ছে-যখন তোমাদেরকে আল্লাহর পথে যুদ্ধ করার জন্যে ডাক দেয়া হচ্ছে তখন তোমরা মাটি আঁকড়ে বসে থাকছে। কেন? তোমরা কি দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী ভোগ্য বস্তুর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে আখিরাতের চিরস্থায়ী নিয়ামতকে ভুলে বসেছো? জেনে রেখো যে, পরকালের তুলনায় দুনিয়ার কোন মূল্যই নেই।

রাসূলুল্লাহ (সঃ) স্বীয় তর্জনীর দিকে ইশারা করে বলেনঃ “এ অঙ্গুলিটি কেউ সমুদ্রে ডুবিয়ে উঠালে তাতে যতটুকু পানি উঠবে, ঐ পানিটুকু সমুদ্রের তুলনায় যেমন, আখিরাতের তুলনায় দুনিয়াও তেমন। (এ হাদীসটি ইমাম মুসলিম (রঃ) তাঁর সহীহ গ্রন্থে এবং ইমাম আহমাদ (রঃ) তার মুসনাদ গ্রন্থে তাখরীজ করেছেন)

আবু হুরাইরা (রাঃ)-কে কেউ জিজ্ঞেস করেন- আমি শুনেছি যে, আপনি নাকি হাদীস বর্ণনা করে থাকেনঃ “আল্লাহ তা'আলা একটি পুণ্যের বিনিময়ে এক লাখ সওয়াব দিয়ে থাকেন।` এটা কি সত্য? তিনি উত্তরে বলেনঃ “হ্যা, এটা তো সত্যই, তাছাড়া আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে এ কথাও বলতে শুনেছি যে, আল্লাহ তা'আলা একটা পুণ্যের বিনিময়ে দু'লাখ সওয়াব দান করবেন।” অতঃপর তিনি (আরবী)-এ বাক্যটি পাঠ করে বলেনঃ “দুনিয়ার যা অতীত হয়েছে এবং যা বাকী আছে সমস্তই আখিরাতের তুলনায় অতি অল্প। আবদুল আযীয ইবনে আবি হাসিম (রঃ) তার পিতা হতে বর্ণনা করেন যে, আবদুল আযীয ইবনে মারওয়ান (রঃ)-এর যখন মৃত্যুর সময় ঘনিয়ে আসলো তখন তিনি বললেনঃ “যে কাপড়ে আমাকে কাফন পরানো হবে ওটা আমার কাছে নিয়ে এসো তো, আমি একটু দেখে নিই।” কাপড়টি তার সামনে রাখা হলে তিনি ওটার দিকে তাকিয়ে বলেনঃ “দুনিয়ায় তো আমার অংশ এটাই ছিল। এটুকু দুনিয়া নিয়ে আমি যাচ্ছি!” অতঃপর তিনি পিঠ ফিরিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেনঃ “হায় দুনিয়া! তোমার অধিকও অল্প এবং তোমার অল্পতো খুবই ছোট! আফসোস! আমরা ধোকার মধ্যেই পড়ে রয়েছি!”

আল্লাহ তা'আলা জিহাদ পরিত্যাগ করার উপর ভীতি প্রদর্শন করে বলছেন-যদি তোমরা (যুদ্ধের জন্যে) বের না হও তবে আল্লাহ তোমাদেরকে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি প্রদান করবেন। একটি গোত্রকে রাসূলুল্লাহ (সঃ) জিহাদের জন্যে আহ্বান করেন। কিন্তু তারা তাঁর আহ্বানে সাড়া দেয়নি। তখন আল্লাহ তাদের থেকে বৃষ্টি বন্ধ করে দেন।

আল্লাহ পাক বলেন-“তিনি তোমাদের পরিবর্তে অন্য এক জাতি সৃষ্টি করে দিবেন। অর্থাৎ তোমরা গর্বে ফুলে ওঠো না যে, তোমরাই তো রাসূল (সঃ)-এর সাহায্যকারী। জেনে রেখো যে, তোমরা যদি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাহায্যকারীরূপে না থাকো তবে আল্লাহ তাআলা তোমাদেরকে ধ্বংস করে দিয়ে অন্যদেরকে তাঁর সাথী ও সাহায্যকারী বানিয়ে দেবেন যারা তোমাদের মত হবে না। তোমরা আল্লাহর দ্বীনের কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। এটা মনে করো না যে, তোমরা জিহাদ না করলে মুজাহিদরা জিহাদ করতেই পারবে না। আল্লাহ সব কিছুর উপরই পূর্ণ ক্ষমতাবান। তোমাদের ছাড়াই তিনি তাঁর মুজাহিদ বান্দাদেরকে শত্রুদের উপর বিজয় দান করতে পারেন।

বলা হয়েছে যে, এই আয়াতটি ও (আরবী) (৯:৪১) এই আয়াতটি এবং (৯:১২০) এই আয়াতটি (আরবী) (৯:১২২) এ আয়াত দ্বারা মানসূখ বা রহিত হয়ে গেছে। কিন্তু ইমাম ইবনে জারীর (রঃ) এর প্রতিবাদ করে বলেন যে, এই আয়াতগুলো মানসূখ হয়নি, বরং এগুলোর ভাবার্থ এই যে, যাদেরকে রাসূলুল্লাহ (সঃ) জিহাদে বের হওয়ার জন্যে ডাক দেবেন তাদেরকে তৎক্ষণাৎ বেরিয়ে যেতে হবে। যদি তারা তা পরিত্যাগ করে তবে তাদেরকে ঐ কারণে শাস্তি প্রদান করা হবে। এটাই খুব উত্তম ব্যাখ্যা বটে। আল্লাহ তা'আলাই সঠিক জ্ঞানের অধিকারী।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।