সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 32)
হরকত ছাড়া:
يريدون أن يطفئوا نور الله بأفواههم ويأبى الله إلا أن يتم نوره ولو كره الكافرون ﴿٣٢﴾
হরকত সহ:
یُرِیْدُوْنَ اَنْ یُّطْفِـُٔوْا نُوْرَ اللّٰهِ بِاَفْوَاهِهِمْ وَ یَاْبَی اللّٰهُ اِلَّاۤ اَنْ یُّتِمَّ نُوْرَهٗ وَ لَوْ کَرِهَ الْکٰفِرُوْنَ ﴿۳۲﴾
উচ্চারণ: ইউরীদূনা আইঁ ইউতফিঊ নূরাল্লা-হি বিআফওয়া-হিহিম ওয়া ইয়া’বাল্লা-হুইল্লাআইঁ ইউতিম্মা নূরাহূওয়া লাও কারিহাল কা-ফিরূন।
আল বায়ান: তারা আল্লাহর নূরকে নির্বাপিত করতে চায় তাদের মুখের (ফুঁক) দ্বারা, কিন্তু আল্লাহ তো তাঁর নূর পরিপূর্ণ করা ছাড়া অন্য কিছু চান না, যদিও কাফিররা অপছন্দ করে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৩২. তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায় কিন্তু আল্লাহ্ তাঁর নূর পরিপূর্ণ করা ছাড়া আর কিছু করতে অস্বীকার করছেন। যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা তাদের মুখের ফুঁৎকারে আল্লাহর আলোকে নিভিয়ে দিতে চায়, কিন্তু আল্লাহ তা হতে দিবেন না, তিনি তাঁর আলোকে পূর্ণ না করে ছাড়বেন না, যদিও কাফিরগণ তা অপছন্দ করে।
আহসানুল বায়ান: (৩২) তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নির্বাপিত করতে চায়, অথচ আল্লাহ স্বীয় নূর (দ্বীন-ইসলাম)কে পূর্ণত্বে পৌঁছানো ব্যতীত নিরস্ত হবেন না, যদিও অবিশ্বাসীরা অপ্রীতিকর মনে করে। [1]
মুজিবুর রহমান: তারা এরূপ চাচ্ছে যে, আল্লাহর নূরকে নিজেদের মুখের ফুৎকার দ্বারা নির্বাপিত করে দেয়, অথচ আল্লাহ স্বীয় নূরকে (দীন ইসলাম) পূর্ণত্বে পৌঁছানো ব্যতীত নিরস্ত হবেননা, যদিও কাফিরেরা অপ্রীতিকরই মনে করে।
ফযলুর রহমান: তারা চায় মুখ দ্বারা (ফুঁ দিয়ে) আল্লাহর (তওহীদের) আলো নিভিয়ে দিতে; কিন্তু আল্লাহ তাঁর আলোর পূর্ণতাদান ছাড়া আর কিছু হতে দেবেন না, যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে।
মুহিউদ্দিন খান: তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নির্বাপিত করতে চায়। কিন্তু আল্লাহ অবশ্যই তাঁর নূরের পূর্ণতা বিধান করবেন, যদিও কাফেররা তা অপ্রীতিকর মনে করে।
জহুরুল হক: তারা আল্লাহ্র জ্যোতি নিভিয়ে দিতে চায় তাদের মুখ দিয়ে, আর আল্লাহ্ তাঁর জ্যোতির পূর্ণাঙ্গ সাধন না ক’রে থামছেন না যদিও অবিশ্বাসীরা অসন্তোষ বোধ করছে।
Sahih International: They want to extinguish the light of Allah with their mouths, but Allah refuses except to perfect His light, although the disbelievers dislike it.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৩২. তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায় কিন্তু আল্লাহ্ তাঁর নূর পরিপূর্ণ করা ছাড়া আর কিছু করতে অস্বীকার করছেন। যদিও কাফেররা তা অপছন্দ করে।(১)
তাফসীর:
(১) এ আয়াতে বলা হয় যে, তারা গোমরাহী করেই ক্ষান্ত হচ্ছে না বরং আল্লাহর সত্য দ্বীনকে নিশ্চিহ্ন করারও ব্যর্থ প্রয়াস চালাচ্ছে। তারা দ্বীনের এ আলো, হিদায়াতের এ জ্যোতি, তাওহীদের এ আহবানকে শুধুমাত্র তাদের কথা, ঝগড়া ও মিথ্যাচার দিয়ে মিটিয়ে দিতে চায়। আয়াতে উপমা দিয়ে বলা হচ্ছে যে, এরা মুখের ফুৎকার দিয়ে আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিতে চায়। অথচ এটি তাদের জন্যে অসম্ভব, যেভাবে সূর্যের আলো বা চাঁদের আলোকে কেউ ফুৎকারে মিটিয়ে দিতে পারে না। বরং আল্লাহর অমোঘ ফয়সালা যে, তিনি নিজের নূর তথা দ্বীন ইসলামকে পূর্ণরূপে উদ্ভাসিত করবেন, তা কাফের ও মুশরিকদের যতই মর্মপীড়ার কারণ হোক না কেন? [ইবন কাসীর]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৩২) তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূরকে নির্বাপিত করতে চায়, অথচ আল্লাহ স্বীয় নূর (দ্বীন-ইসলাম)কে পূর্ণত্বে পৌঁছানো ব্যতীত নিরস্ত হবেন না, যদিও অবিশ্বাসীরা অপ্রীতিকর মনে করে। [1]
তাফসীর:
[1] অর্থাৎ, আল্লাহ তাআলা রসূল (সাঃ)-কে যে সত্য দ্বীন এবং হিদায়াত দিয়ে প্রেরণ করেছেন, ইয়াহুদী-খ্রিষ্টান ও মুশরিকরা চায় যে, বিতর্ক ও মিথ্যারোপের মাধ্যমে তা নিশ্চিহ্ন করে দেবে। আর তার উপমা হল এমন এক ব্যক্তির যে সূর্যের কিরণ অথবা চাঁদের জ্যোৎস্নাকে নিজের ফুৎকার দ্বারা নিভিয়ে ফেলতে চায়। সুতরাং এটা যেমন অসম্ভব, ঠিক তেমনি যে সত্য দ্বীন আল্লাহ তাআলা রসূল (সাঃ)-কে দিয়ে পাঠিয়েছেন তা দুনিয়া থেকে মুছে বা মিটিয়ে ফেলা অসম্ভব। এ ধর্ম অন্যান্য সমস্ত ধর্মের উপর বিজয়ী থাকবে; যেমন পরবর্তী আয়াতে আল্লাহ তাআলা সে কথা উল্লেখ করেছেন। ‘কাফের’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হল গোপনকারী। এই জন্য রাতকেও ‘কাফের’ বলা হয়; যেহেতু রাত নিজ অন্ধকার দ্বারা সমস্ত বস্তুকে গোপন করে নেয়। অনুরূপ কাফেররাও আল্লাহর ‘নূর’ (জ্যোতি)-কে গোপন করতে চায় অথবা নিজেদের হৃদয়ে কুফরী ও মুনাফিকববী এবং মুসলিম এবং ইসলামের বিরুদ্ধে বিদ্বেষ ও শত্রুতা লুকিয়ে রাখে, এই জন্য তাদেরকেও ‘কাফের’ বলা হয়।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৩০-৩৩ নং আয়াতের তাফসীর:
ইয়াহূদীরা বলে: উযাইর আল্লাহ তা‘আলার ছেলে আর খ্রিস্টানরা বলে, ঈসা (রাঃ) আল্লাহ তা‘আলার ছেলে। উভয় দলই এ কথা বলার কারণে কাফির। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(لَقَدْ كَفَرَ الَّذِيْنَ قَالُوْآ إِنَّ اللّٰهَ هُوَ الْمَسِيْحُ ابْنُ مَرْيَمَ ط قُلْ فَمَنْ يَّمْلِكُ مِنَ اللّٰهِ شَيْئًا إِنْ أَرَادَ أَنْ يُّهْلِكَ الْمَسِيْحَ ابْنَ مَرْيَمَ وَأُمَّه۫ )
“যারা বলে, ‘মারিয়ামের ছেলে মাসীহ-ই আল্লাহ’, তারা অবশ্যই কুফরী করেছে। বল: আল্লাহ মারিয়ামের ছেলে মাসীহ, তাঁর মা এবং দুনিয়ার সকলকে যদি ধ্বংস করতে ইচ্ছা করেন তবে তাঁকে বাধা দেয়ার শক্তি কারো আছে?’ (সূরা মায়িদাহ ৫:১৭) আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(لَقَدْ كَفَرَ الَّذِيْنَ قَالُوْآ إِنَّ اللّٰهَ ثَالِثُ ثَلٰثَةٍ ﻣ وَمَا مِنْ إلٰهٍ إِلَّآ إِلٰهٌ وَّاحِدٌ)
“যারা বলে, ‘আল্লাহ তো তিনের মধ্যে একজন তারা কুফরী করেছে- এক মা‘বূদ ব্যতীত অন্য কোন সত্য মা‘বূদ নেই।” (সূরা মায়িদাহ ৫:৭৩)
(اتَّخَذُوا أَحْبَارَهُمْ وَرُهْبَانَهُمْ)
‘তারা আল্লাহ ব্যতীত তাদের পণ্ডিত ও সংসার-বিরাগিদেরকে প্রভুরূপে গ্রহণ করেছে’ এ আয়াতের তাফসীর আদী বিন হাতিম কর্তৃক বর্ণিত হাদীস দ্বারা পরিষ্কার হয়ে যায়। তিনি বলেন: একদা নাবী (সাঃ)-এর মুখে এ আয়াত তেলাওয়াত করতে শুনতে পাই। তখন আমি বললাম, আমরা তো তাদের ইবাদত করিনা। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: আল্লাহ তা‘আলা যা হালাল করেছেন সেটা কি তারা হারাম করে দেয়না? অতঃপর তোমরাও তা হারাম হিসেবে গ্রহণ করে নাও। আল্লাহ তা‘আলা যা হারাম করে দিয়েছেন- তারা কি সেটা হালাল করে দেয়না? অতঃপর তোমরা তা হালাল হিসেবে গ্রহণ করে নাও। আমি বললাম: হ্যাঁ, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: এটাই তাদের ইবাদত করা। (সহীহ তিরমিযী হা: ২৪৭১) কেননা হালাল হারামের বিধানদাতা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলা।
অর্থাৎ ধর্মীয় যাজক, পীর, আলেম বা শাসক আল্লাহ তা‘আলার বিধানের বিপরীত কোন বিধান দিলে তা সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নেয়া তাদের রব হিসেবে গ্রহণ করার শামিল।
(أَنْ يُطْفِئُوْا نُوْرَ اللّٰهِ)
‘আল্লাহর জ্যোতি নিভিয়ে দিতে চায়’ অর্থাৎ কাফিররা চায় দীন ইসলামকে তাদের বাক-বিতণ্ডা ও মিথ্যা অপবাদ দ্বারা দুনিয়া থেকে মিটিয়ে দিতে। তাদের এসব কাজের দৃষ্টান্ত এমন যে, কেউ মুখে ফুৎকার দিয়ে সূর্যের বা চন্দ্রের কিরণ নিভিয়ে দিতে চায়। আল্লাহ তা‘আলা তার দীনকে বিজয়ী করবেনই, যদিও কাফির মুশরিকরা অপছন্দ করে। আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:
(یُرِیْدُوْنَ لِیُطْفِئُوْا نُوْرَ اللہِ بِاَفْوَاھِھِمْ وَاللہُ مُتِمُّ نُوْرِھ۪ وَلَوْ کَرِھَ الْکٰفِرُوْنَ , هُوَ الَّذِیْٓ اَرْسَلَ رَسُوْلَھ۫ بِالْھُدٰی وَدِیْنِ الْحَقِّ لِیُظْھِرَھ۫ عَلَی الدِّیْنِ کُلِّھ۪ وَلَوْ کَرِھَ الْمُشْرِکُوْنَ)
“তারা তাদের মুখের ফুৎকারে আল্লাহর নূর নিভিয়ে দিতে চায়; কিন্তু আল্লাহ তাঁর নূরকে পরিপূর্ণ করবেনই, যদিও কাফিররা তা অপছন্দ করে। তিনিই তাঁর রাসূলকে প্রেরণ করেছেন হিদায়েত এবং সত্য দীনসহ সকল দীনের ওপর তাকে বিজয়ী করার জন্য, যদিও মুশরিকরা তা অপছন্দ করে।”(সূরা সাফ ৬১:৮-৯)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: ভূ-পৃষ্ঠে এমন কোন কাঁচা ও পাকা ঘর বাকি থাকবে না যেখানে আল্লাহ তা‘আলা ইসলামের কালিমাকে প্রবেশ করাবেন না।
তিনি মর্যাদাবানদের মর্যাদা দেবেন এবং লাঞ্ছিতদের লাঞ্ছিত করবেন। যাদেরকে তিনি মর্যাদা দানের ইচ্ছা করবেন তাদেরকে ইসলামে প্রবেশ করার সৌভাগ্য দেবেন আর যাদেরকে লাঞ্ছিত করার ইচ্ছা করবেন তাদেরকে মুসলিমদের অধীনস্থ করে রাখবেন। (আহমাদ হা: ২৩৮১৪)
অন্যত্র রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: আল্লাহ তা‘আলা আমাকে ভূ-পৃষ্ঠের পূর্ব-পশ্চিম সমস্ত পৃথিবীকে গুটিয়ে দেখিয়েছেন। অচিরেই আমাকে যে পর্যন্ত দেখানো হয়েছে ততদূর আমার উম্মাতের রাজত্ব পৌঁছাবে। (সহীহ মুসলিম হা: ২২১৫) কোন শাসক বা আলেম ও পীর-বুজুর্গ ইসলামের কোন বিধানকে পরিবর্তন করার ক্ষমতা রাখেনা। অতএব যারা আল্লাহ তা‘আলার বিধানের পরিবর্তন করবে এবং যারা তাদের সেসব বিধান মাথা পেতে মেনে নেবে তারা মূলত তাদেরকে বর হিসেবে গ্রহণ করে এবং তাগুতকেই প্রতিষ্ঠা করে।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. যারা বলে ঈসা (রাঃ), উযাইর বা যে কোন মানুষ আল্লাহ তা‘আলার ছেলে তারা কাফির।
২. আল্লাহ তা‘আলা যা হারাম করেছেন তা কোন আলিম বা রাষ্ট্র প্রধান হালাল করে দিলে আর কেউ তা সন্তুষ্টচিত্তে মেনে নিলে সেই আলিম বা রাষ্ট্রপ্রধানকে রব হিসেবে গ্রহণ করা হবে।
৩. আল্লাহ তা‘আলার দীনকে বিজয়ী করতে কেউ বাধা দিতে পারবে না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৩২-৩৩ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ তা'আলা বলেন, সর্ব শ্রেণীর কাফিরদের মনের ইচ্ছা এটাই যে, তারা আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দিবে এবং তাঁর হিদায়াত ও সত্য দ্বীনকে দুনিয়ার বুক থেকে মুছে ফেলবে। তাহলে তাদের চিন্তা করে দেখা উচিত যে, যদি কেউ তার মুখের ফুৎকার দ্বারা সূর্যের বা চন্দ্রের রশ্মিকে নিভিয়ে দেয়ার ইচ্ছা করে তবে তা কখনো সম্ভব হবে কি? কখনই না। অনুরূপভাবে এ লোকগুলোও আল্লাহর নূরকে নিভিয়ে দেয়ার উদ্দেশ্যে যথাসাধ্য চেষ্টা করেছে। কিন্তু শেষে অপারগ হয়ে গেছে। এটা অবশ্যম্ভাবী বিষয় এবং আল্লাহর ফায়সালা যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে যে সত্য দ্বীনসহ প্রেরণ করা হয়েছে তা সদা বিজয়ী থাকবেই। হে কাফির ও মুশরিকের দল! তোমরা আল্লাহর দ্বীনকে মিটিয়ে দিতে চাচ্ছ, কিন্তু আল্লাহ চাচ্ছেন তা উন্নত রাখতে। আর স্পষ্ট কথা যে, আল্লাহর ইচ্ছা তোমাদের ইচ্ছার উপর নিঃসন্দেহে বিজয়ী থাকবে। যদিও তোমাদের কাছে অপ্রীতিকর হয় তবুও কিন্তু হিদায়াতের সূর্য মধ্য গগণে পৌছে যাবেই।
আরবী অভিধানে কোন জিনিস গোপনকারীকে কাফির বলা হয়। এ কারণেই রাত্রি সব জিনিসকে গোপন করে দেয় বলে ওকেই কাফির বলা হয়। কৃষককেও কাফির বলা হয়ে থাকে, কেননা সে শস্য-বীজকে মাটির মধ্যে গোপন করে দেয়। যেমন কুরআন কারীমে (আরবী) (৫৭:২০) বলা হয়েছে।
ঐ আল্লাহ তাআলাই স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে হিদায়াত ও দ্বীনে হকসহ পাঠিয়েছেন। সুতরাং রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সত্য সংবাদ, সঠিক ঈমান এবং উপকারী ইমই হচ্ছে হিদায়াত। আর উত্তম কার্যাবলী, যেগুলো দুনিয়া ও আখিরাতে ফায়দা দেয় সেটাই হচ্ছে দ্বীনে-হক। এটা দুনিয়ার সমুদয় দ্বীনের উপর বিজয়ীরূপে থাকবে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “আমার জন্যে ভূ-পৃষ্ঠের পূর্ব ও পশ্চিম দিককে জড়িয়ে দেয়া হয়েছে। আমার উম্মতের রাজ্য এই সমুদয় স্থান পর্যন্ত পৌছে যাবে।” নবী (সঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের হাতে পূর্ব ও পশ্চিম বিজিত হবে। তোমাদের নেতারা জাহান্নামী হবে, তারা ব্যতীত যারা পরহেজগার হবে এবং আমানতদাতার কাছে আমানত পৌছিয়ে দেবে।” তামীমুদদারী (রাঃ)। হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলতে শুনেছি- “অবশ্যই এই দ্বীন ঐ সব জায়গায় পৌছবে যেখানে রাত ও দিন পৌছে থাকে। এমন কোন কাঁচা ঘর ও পাকা ঘর বাকী থাকবে না যেখানে মহা মহিমান্বিত আল্লাহ ইসলামকে পৌঁছাবেন না। আল্লাহ তা'আলা সম্মানিতদেরকে সম্মান দেবেন এবং লাঞ্ছিতদেরকে লাঞ্ছিত করবেন। যারা ইসলামের মর্যাদা দেয় তারা সম্মান পাবে এবং কাফিররা লাঞ্ছিত হবে।” তামীমুদদারী (রাঃ) বলেনঃ “এটা তো আমি স্বয়ং আমার বাড়ীতেই দেখতে পেয়েছি। যে মুসলিম হয়েছে সে কল্যাণ ও বরকত এবং সম্মান ও মর্যাদা লাভ করেছে, আর যে কাফির হয়েছে সে লাভ করেছে ঘৃণা ও অভিসম্পাত। তাদেরকে অপমানের সাথে জিযিয়া প্রদান করতে হয়েছে।”
মিকদাদ ইবনে আসওয়াদ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে বলতে শুনেছি- “ভূ-পৃষ্ঠে এমন কোন কাঁচা ও পাকা ঘর বাকী থাকবে না যেখানে আল্লাহ তা'আলা ইসলামের কালেমাকে প্রবিষ্ট করবেন না। তিনি মর্যাদাবানদেরকে মর্যাদা দিবেন এবং লাঞ্ছিতদেরকে লাঞ্ছিত করবেন। যাদেরকে তিনি মর্যাদা দানের ইচ্ছা করবেন তাদেরকে তিনি ইসলাম গ্রহণের সৌভাগ্য দান করবেন। আর যাদেরকে তিনি লাঞ্ছিত করতে চাইবেন তারা তা মানবে না, কিন্তু তাদেরকে ঐ মুসলিমদের অধীনস্থ হয়ে থাকতে হবে।” আদী (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (সঃ) আমার নিকট আগমন করে আমাকে বলেনঃ “তুমি ইসলাম কবুল কর, তাহলে নিরাপত্তা লাভ করবে।” আমি বললাম, আমি তো একটা দ্বীন মেনে চলছি। তিনি বললেনঃ “তোমার দ্বীন সম্পর্কে তোমার চেয়ে আমারই জ্ঞান বেশী আছে।” আমি বললাম, সত্যই কি? তিনি উত্তরে বললেনঃ “সম্পূর্ণরূপে সত্য। তুমি কি রাকূসিয়া’র অন্তর্ভুক্ত নও? তুমি কি তোমার কওমের নিকট থেকে ট্যাক্স আদায় কর না?” আমি জবাব দিলাম, হ্যাঁ, এ কথা সত্য বটে। তিনি বললেনঃ “তোমার ধর্মে এটা তোমার জন্যে হালাল নয়।” তার এ কথা শুনামাত্রই আমি তাঁর প্রতি আকৃষ্ট হয়ে গেলাম। অতঃপর তিনি আমাকে বললেনঃ “তোমাকে ইসলাম গ্রহণে কিসে বাধা দিচ্ছে তা আমি বেশ ভাল রূপেই জানি। দেখো, তুমি শুধু এ কারণেই বাধা প্রাপ্ত হচ্ছে যে, মুসলিমরা খুবই দুর্বল ও শক্তিহীন। সারা আরববাসী তাদেরকে ঘিরে রয়েছে। কিন্তু বলতো তুমি হীরা (রাজ্য) চেনো কি?” আমি উত্তরে বললাম, আমি হীরা (রাজ্য) কোন দিন দেখিনি বটে, তবে শুনেছি নিশ্চয়ই। তিনি তখন বললেনঃ “যার হাতে আমার প্রাণ রয়েছে তাঁর শপথ! আল্লাহ তা'আলা এই দ্বীনকে পূর্ণ করবেন। এমন কি একজন পর্দানশীল নারী উস্ত্রীর উপর আরোহণ করে হীরা হতে যাত্রা শুরু করবে। এবং কারো আশ্রয় ছাড়াই নিরাপদে মক্কা পৌছে যাবে ও বায়তুল্লাহ শরীফের তাওয়াফ করবে। আল্লাহর কসম! তোমরা কিসরার (পারস্য সম্রাট) কোষাগারগুলো জয় করে নিবে।” আমি জিজ্ঞেস করলাম, কিসরা ইবনে হরমূযের (কোষাগার)? তিনি উত্তরে বললেনঃ “হ্যাঁ, হ্যাঁ, কিসরা ইবনে হরমূযের (কোষাগার)। তোমাদের কাছে ধন-সম্পদের এতো প্রাচুর্য হবে যে, তা গ্রহণ করার লোক পাওয়া যাবে না।” এ হাদীসটি বর্ণনা করার সময় আদী (রাঃ) বলেনঃ “রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর ঐ ভবিষ্যদ্বাণী পূর্ণ হয়ে গেছে। দেখো, আজ হীরা সাম্রাজ্য হতে উষ্ট্রারোহীরা নির্ভয়ে ও কারো আশ্রয় ছাড়াই নিরাপদে মক্কায় পৌছে বায়তুল্লাহ শরীফের তাওয়াফ করছে। সত্যবাদী ও সত্যায়িত নবী (সঃ)-এর দ্বিতীয় ভবিষ্যদ্বাণীও সত্যে পরিণত হয়েছে। কিসরার কোষাগার বিজিত হয়েছে। আমি স্বয়ং ঐ সেনাবাহিনীতে ছিলাম যারা ইরানের ইট দ্বারা ইট বাজিয়েছে, অট্টালিকাগুলো মাটির সাথে মিশিয়ে দিয়েছে এবং কিসরার গুপ্ত কোষাগার দখল করে নিয়েছে। আল্লাহর শপথ! আমার দৃঢ় বিশ্বাস যে, সত্যবাদী ও সত্যায়িত রাসূল (সঃ)-এর তৃতীয় ভবিষ্যদ্বাণীও সত্যে পরিণত হবে।”
আয়েশা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “দিন ও রাত্রির গমনাগমন অব্যাহত থাকবে যে পর্যন্ত না পুনরায় ‘লাত’ ও ‘উযযা’র ইবাদত শুরু হবে। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ) (আরবী)-এ আয়াত অবতীর্ণ হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত আমার ধারণা তো এই রয়েছে যে, এটা পূর্ণ কথা।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “হ্যা, এটা পূর্ণ হয়ে গেছে এবং যতদিন পর্যন্ত আল্লাহ তাআলার ইচ্ছা হবে তা পূর্ণই থাকবে। অতঃপর তিনি একটা পবিত্র বায়ু প্রেরণ করবেন, যার ফলে যে ব্যক্তির অন্তরে এক সরিষার দানা পরিমাণও ঈমান থাকবে তার প্রাণবায়ু নির্গত হয়ে যাবে। তারপর শুধুমাত্র ঐ লোকগুলোই অবশিষ্ট থাকবে যাদের মধ্যে কোন পুণ্য ও কল্যাণ নিহিত থাকবে না। সুতরাং তারা তাদের বাপ দাদাদের ধর্মের দিকে ফিরে যাবে।” (এ হাদীসটি ইমাম মুসলিম (রঃ) তাঁর সহীহ গ্রন্থে বর্ণনা করেছেন)
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।