আল কুরআন


সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 104)

সূরা আত-তাওবা (আয়াত: 104)



হরকত ছাড়া:

ألم يعلموا أن الله هو يقبل التوبة عن عباده ويأخذ الصدقات وأن الله هو التواب الرحيم ﴿١٠٤﴾




হরকত সহ:

اَلَمْ یَعْلَمُوْۤا اَنَّ اللّٰهَ هُوَ یَقْبَلُ التَّوْبَۃَ عَنْ عِبَادِهٖ وَ یَاْخُذُ الصَّدَقٰتِ وَ اَنَّ اللّٰهَ هُوَ التَّوَّابُ الرَّحِیْمُ ﴿۱۰۴﴾




উচ্চারণ: আলাম ইয়া‘লামূ আন্নাল্লা-হা হুওয়া ইয়াকবালুত তাওবাতা ‘আন ‘ইবা-দিহী ওয়া ইয়া’খুযুসসাদাকা-তি ওয়া আন্নাল্লা-হা হুওয়াত তাওওয়া-বুর রাহীম।




আল বায়ান: তারা কি জানে না যে, নিশ্চয় আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তাওবা কবূল করেন এবং সদাকা গ্রহণ করেন। আর নিশ্চয় আল্লাহ তাওবা কবূলকারী, পরম দয়ালু।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১০৪. তারা কি জানে না যে, নিশ্চয় আল্লাহ তার বান্দাদের তাওবাহ কবুল করেন এবং ‘সদকা’ গ্রহণ করেন(১), আর নিশ্চয় আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।




তাইসীরুল ক্বুরআন: তারা কি জানে না যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের (অনুশোচনাপূর্ণ) ক্ষমাপ্রার্থনা কবুল করে থাকেন আর সদাকাহ গ্রহণ করেন। আর আল্লাহই তো তাওবাহ কবূলকারী, অতি দয়ালু।




আহসানুল বায়ান: (১০৪) তারা কি এটা অবগত নয় যে, আল্লাহই নিজ বান্দাদের তওবা কবুল করে থাকেন এবং তিনিই দান-খয়রাত গ্রহণ করেন,[1] আর নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম করুণাময়?



মুজিবুর রহমান: তারা কি এটা অবগত নয় যে, আল্লাহই নিজ বান্দাদের তাওবাহ কবূল করেন, আর তিনিই দান খয়রাত কবূল করে থাকেন, আর এটাও যে, আল্লাহ হচ্ছেন তাওবাহ কবূল করতে এবং অনুগ্রহ করতে পূর্ণ সামর্থ্যবান?



ফযলুর রহমান: তারা কি জানে না যে, আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তওবা কবুল করেন ও (তাদের) দান-সদকা গ্রহণ করেন এবং কেবল আল্লাহই ক্ষমাশীল ও পরম দয়ালু?



মুহিউদ্দিন খান: তারা কি একথা জানতে পারেনি যে, আল্লাহ নিজেই স্বীয় বান্দাদের তওবা কবুল করেন এবং যাকাত গ্রহণ করেন? বস্তুতঃ আল্লাহই তওবা কবুলকারী, করুণাময়।



জহুরুল হক: তারা কি জানে না যে আল্লাহ্ -- তিনিই তাঁর বান্দাদের থেকে তওবা কবুল করেন আর দান গ্রহণ করেন, আর আল্লাহ্ নিশ্চয়ই সদা ফেরেন, অফুরন্ত ফলদাতা।



Sahih International: Do they not know that it is Allah who accepts repentance from His servants and receives charities and that it is Allah who is the Accepting of repentance, the Merciful?



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১০৪. তারা কি জানে না যে, নিশ্চয় আল্লাহ তার বান্দাদের তাওবাহ কবুল করেন এবং ‘সদকা’ গ্রহণ করেন(১), আর নিশ্চয় আল্লাহ তাওবা কবুলকারী, পরম দয়ালু।


তাফসীর:

(১) হাদীসে এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, তোমাদের কেউ যখন তার সম্পূর্ণ পবিত্র সম্পদ থেকে কোন একটি খেজুর সদকা করে তখন সেটি আল্লাহ নিজ ডান হাতে গ্রহণ করেন, তারপর সেটা আল্লাহর হাতে এমনভাবে বেড়ে উঠে যে পাহাড়ের মত প্রকাণ্ড হয়ে পড়ে। [মুসলিম: ১০১৪]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১০৪) তারা কি এটা অবগত নয় যে, আল্লাহই নিজ বান্দাদের তওবা কবুল করে থাকেন এবং তিনিই দান-খয়রাত গ্রহণ করেন,[1] আর নিশ্চয় আল্লাহ তওবা কবুলকারী, পরম করুণাময়?


তাফসীর:

[1] ‘তিনিই দান-খয়রাত বা স্বাদাক্বাহ গ্রহণ করেন’ (এই শর্তের উপর যে তা হালাল উপার্জন থেকে হতে হবে) এর অর্থ হল তা বৃদ্ধি করেন। যেমন হাদীসে বর্ণিত হয়েছে; নবী (সাঃ) বলেছেন ‘‘যে ব্যক্তি (তার) বৈধ উপায়ে উপার্জিত অর্থ থেকে একটি খেজুর পরিমাণও কিছু দান করে -- আর আল্লাহ তো বৈধ অর্থ ছাড়া অন্য কিছু গ্রহণই করেন না -- সে ব্যক্তির ঐ দানকে আল্লাহ ডান হাতে গ্রহণ করেন। অতঃপর তা ঐ ব্যক্তির জন্য লালন-পালন করেন; যেমন তোমাদের কেউ তার অশ্ব-শাবককে লালন-পালন করে থাকে। পরিশেষে তা পাহাড়ের মত হয়ে যায়।’’ (বুখারী১৪১০নং, মুসলিম ১০১৪নং)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১০৩-১০৬ নং আয়াতের তাফসীর:



আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাঃ)-কে নির্দেশ প্রদান করছেন মু’মিনদের সম্পদের যাকাত গ্রহণ কর। এখানে সদাক্বাহ দ্বারা ফরয যাকাত উদ্দেশ্য। (তাফসীর সা‘দী. পৃঃ ৩৬০)



এ ফরয যাকাত গ্রহণ করলে তা তাদেরকে অপরাধ ও অপবিত্রতা থেকে পবিত্র করবে এবং তাদের সৎ আমলও বৃদ্ধি পাবে।



অনেকে মনে করে থাকেন রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর ইন্তিকালের পর যাকাত আদায় করতে হবে না। কারণ আয়াতের সর্বনাম দ্বারা ঐ ব্যক্তিদের সম্বোধন করা হয়েছে যারা সৎ আমলের সাথে অসৎ আমল সংমিশ্রণ করেছে। আর আয়াতে নাবী (সাঃ)-কে সম্বোধন করে বলা হয়েছে, অতএব রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মারা গেছেন, ফলে আর যাকাত দিতে হবে না। আবূ বাকর (রাঃ) ও অন্যান্য সাহাবী এ ভুল ব্যাখ্যা খণ্ডন করে দিয়েছেন। তিনি বললেন: আল্লাহর শপথ! যারা রাসূলের যুগে যাকাত দিয়েছে তারা যদি যাকাতের উটের সাথে রশি দিতেও বাধা দেয় তাহলে আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করব। (সহীহ বুখারী হা: ৭২৮৫)



(وَصَلِّ عَلَيْهِمْ)



‘তাদের জন্য দু‘আ করবে’- অর্থাৎ তাদের জন্য দু‘আ করুন, ক্ষমা প্রাথর্না করুন। কেননা আপনার দু‘আ তাদের জন্য রহমতস্বরূপ।



আবদুল্লাহ বিন আবূ আউফা (রাঃ) বলেন: রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর নিকট কোন ব্যক্তির যাকাতের সম্পদ নিয়ে আসা হলে তিনি তাদের জন্য দু‘আ করতেন। একদা আমার পিতা যাকাতের সম্পদ নিয়ে আসলে নাবী (সাঃ) বলেন:



اللّٰهُمَّ صَلِّ عَلٰي آلِ أَبِيْ أَوْفَي



হে আল্লাহ! তুমি আবূ আউফার পরিবারের ওপর রহম কর। (সহীহ বুখারী হা: ১৪৯৭)



(أَنَّ اللّٰهَ هُوَ يَقْبَلُ التَّوْبَةَ عَنْ عِبَادِهِ وَيَأْخُذُ)



‘নিশ্চয়ই‎ আল্লাহ তাঁর বান্দাদের তাওবাহ কবূল করেন’- এখানে তাওবাহ ও দান-খয়রাতের প্রতি উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে। কেননা এ দু’টিই মানুষের পাপকে মোচন ও নিশ্চিহ্ন করে দেয়। যে ব্যক্তি আল্লাহ তা‘আলার কাছে তাওবাহ করে আল্লাহ তা‘আলা তার তাওবাহ কবূল করেন। আর যে হালাল রিযিক থেকে তার পথে ব্যয় করে তিনি তার দান কবূল করেন এবং তা বৃদ্ধি করতে থাকেন এমনকি তা উহুদ পাহাড় সমপরিমাণ হয়ে যায়।



রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: নিশ্চয়ই আল্লাহ সদাক্বাহ কবূল করেন এবং ওটাকে ডান হাতে গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি ওটাকে বড় করতে থাকনে। যেমন তোমাদের কেউ তার ঘোড়ার বাচ্চাকে লালন-পালন করে বড় করে থাকে। এমনকি এক লুকমা সদাক্বাহ উহুদ পাহাড় পরিমাণ হয়ে যায়। (তিরমিযী হা: ৬৬২, সহীহ)



(وَقُلِ اعْمَلُوا فَسَيَرَي اللّه عَمَلَكُمْ)



‘আর বল:‎ ‘তোমরা কর্ম করতে থাকো; আল্লাহ তোমাদের কার্যকলাপ লক্ষ করবেন’- মুজাহিদ (রাঃ) বলেন: এটা আল্লাহ তা‘আলার পক্ষ থেকে তাঁর আদেশের বিরুদ্ধাচরণকারীদের জন্য ভীতিপ্রদর্শন যে তাদের কার্যাবলী আল্লাহ তা‘আলার সামনে পেশ করা হবে। আর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও মু’মিনদের মধ্যে তাদের কাজ প্রকাশিত হয়ে পড়বে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(يَوْمَئِذٍ تُعْرَضُوْنَ لَا تَخْفٰي مِنْكُمْ خَافِيَةٌ)‏



“সেই দিন তোমাদেরকে উপস্থিত করা হবে এবং তোমাদের কিছুই গোপন থাকবে না। (সূরা হাককাহ: ৬৯/১৮)



অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(يَوْمَ تُبْلَي السَّرَآئِرُ)



“যেদিন গোপন বিষয়সমূহ প্রকাশ করা হবে” (সূরা তারেক: ৮৫/৯)



রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: তোমাদের কেউ যদি দরজা ও ছিদ্রহীন কোন শক্ত পাথরের মধ্যে গোপনে কোন কাজ করে তবুও আল্লাহ ওটাকে লোকেদের সামনে এমনভাবে প্রকাশ করবেন যেন সে ঐসব কাজ তাদের সামনেই করেছে। (আহমাদ: ৩য় খণ্ড, ২৮পৃঃ)



ইমাম বুখারী (রাঃ) বলেন; আয়িশাহ  বলেন: যদি কোন মুসলিম ব্যক্তির ভাল আমল তোমাকে মুগ্ধ করে তাহলে বল:



(اعْمَلُوْا فَسَيَرَي اللّٰهُ عَمَلَكُمْ وَرَسُوْلُهُ وَالْمُؤْمِنُوْنَ)‎



‘‘তোমরা কর্ম করতে থাকো; আল্লাহ ও তাঁর রাসূল এবং মু’মিনগণ তোমাদের কার্যকলাপ লক্ষ করবেন’। (সহীহ বুখারী ,তাওহীদ অধ্যায় ৪৬ নং অনুচ্ছেদ)



وَآخَرُوْنَ مُرْجَوْنَ لِأَمْرِ اللّٰهِ



‘আবার অনেকে রয়েছে যাদের ব্যাপারে আল্লাহর নির্দেশের প্রতীক্ষায় সিদ্ধান্ত স্থগিত রইল’ অর্থাৎ তাবুক যুদ্ধ থেকে প্রথমতঃ মুনাফিকরা পিছিয়ে ছিল। দ্বিতীয়তঃ এমন কিছু মুসলিম পিছনে ছিল যাদের কোন ওজর ছিল না। তারা নিজেদের অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছিল। কিন্তু তাদেরকে সঙ্গে সঙ্গে ক্ষমা করা হয়নি। বরং আল্লাহ তা‘আলার নির্দেশের অপেক্ষা করা হয়েছিল। এ আয়াতে সেই শ্রেণি লোকেদের কথা বলা হচ্ছে। এরা ছিল তিনজন। সামনে তাদের আলোচনা আসবে ইনশা-আল্লাহ।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. যাকাত একটি ফরয ইবাদত, যা নিসাব পরিমাণ সম্পদশালীদের ওপর কিয়ামত পর্যন্ত বহাল থাকবে।

২. ইসলামের কোন রুকনকে অস্বীকার করলে মুসলিম থাকে না।

৩. যার কাছ থেকে যাকাত নেয়া হবে তার জন্য দু‘আ করা মুস্তাহাব।

৪. দান করার ফযীলত জানতে পারলাম।

৫. আল্লাহ তা‘আলার ডান হাত রয়েছে তার প্রমাণ পেলাম।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১০৩-১০৪ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তাআলা স্বীয় রাসূল (সঃ)-কে নির্দেশ দিচ্ছেন-হে নবী! তুমি তাদের মালের যাকাত আদায় কর। এটা তাদেরকে পাক পবিত্র করবে। কতকগুলো লোক (আরবী)- এর সর্বনাম ঐ লোকদের দিকে ফিরিয়েছেন যারা নিজেদের পাপ ও অপরাধ স্বীকার করে নিয়েছিল এবং ভালো ও মন্দ উভয় আমল করেছিল। কিন্তু প্রকৃতপক্ষে এই হুকুম বিশিষ্ট নয়, বরং এটা সাধারণ হুকুম। এ কারণেই আরব গোত্রগুলোর মধ্যে কতকগুলো লোক যাকাত দিতে অস্বীকার করে বসেছিল। তাদের মনে এই বিশ্বাস বদ্ধমূল হয়েছিল যে, ইমামের যাকাত নেয়ার অধিকার নেই। এটা শুধু রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর জন্যেই নির্দিষ্ট ছিল। আর এ জন্যেই তারা আল্লাহ তা'আলার (আরবী)-এই উক্তিকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করেছিল। কিন্তু আবু বকর (রাঃ) এবং অন্যান্য সমস্ত সাহাবী তাদের ভুল ব্যাখ্যা ও বাজে অনুভূতি খণ্ডন করে দিয়েছেন এবং তাদের বিরুদ্ধে। যুদ্ধ ঘোষণা করেছেন। তখন বাধ্য হয়ে তারা সেই সময়ের খলীফাকে যাকাত প্রদান করেছে যেমন তারা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-কে প্রদান করতো। এমন কি আবু বকর (রাঃ) ঘোষণা করেছিলেনঃ “যদি তারা যাকাতের মালের একটি উষ্ট্রীর বাচ্চা বা রঞ্জুর একটা খণ্ডও আদায় করা থেকে বিরত থাকে তবুও আমি তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করবো।”

আল্লাহ পাকের উক্তি (আরবী) অর্থাৎ “হে নবী (সঃ)! তুমি তাদের জন্যে দুআ কর এবং ক্ষমা প্রার্থনা কর।” যেমন সহীহ মুসলিমে আব্দুল্লাহ ইবনে আবি আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, যখন কারো কাছে যাকাতের মাল আসতো তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) আল্লাহ তা'আলার নির্দেশ অনুযায়ী তার জন্যে দুআ করতেন। আমার পিতা যখন যাকাতের মাল পেশ করলেন তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) দুআ করলেনঃ “হে আল্লাহ! আবূ আওফার (রাঃ) বংশধরের উপর দয়া করুন।” অন্য একটি হাদীসে আছে যে, একটি স্ত্রীলোক বলেঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আমার জন্যে ও আমার স্বামীর জন্যে দুআ করুন।” তখন রাসূলুল্লাহ (সঃ) তাকে বললেনঃ “আল্লাহ তোমার উপর ও তোমার স্বামীর উপর রহম করুন।”

আল্লাহ তাআলার উক্তি- (আরবী) অর্থাৎ “নিশ্চয়ই তোমার দুআ হচ্ছে তাদের জন্যে শান্তির কারণ।” কেউ কেউ (আরবী) কে বহুবচন করে (আরবী) পড়েছেন। আবার অন্যেরা একবচন ধরে পড়েছেন। ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, (আরবী) শব্দের অর্থ হচ্ছে রহমত। আর কাতাদা (রঃ) বলেন যে, এর অর্থ হচ্ছে (আরবী) বা পদমর্যাদা।

(আরবী) অর্থাৎ হে নবী! তোমার দুআ আল্লাহ শ্রবণকারী (আরবী) অর্থাৎ (হে নবী সঃ)! কে তোমার দুআ’র দাবীদার তা আল্লাহ খুব ভালই জানেন।

মুসনাদে আহমাদে রয়েছে- ওয়াকী (রঃ) ইসনাদসহ বর্ণনা করেছেন যে, নবী (সঃ) যখন কারো জন্যে দুআ করতেন তখন তা তার পক্ষে, তার পুত্রদের পক্ষে এবং তার পৌত্রদের পক্ষে ককূল হয়ে যেতো। আবূ নাঈম (রঃ) হতে ইসনাদসহ বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ)-এর দুআ' কোন মানুষের পক্ষে, তার পুত্রদের পক্ষে এবং তার পৌত্রদের পক্ষে অবশ্যই ককূল হয়ে যেতো। আল্লাহ তা'আলার উক্তিঃ (আরবী) অর্থাৎ তারা কি এটা অবগত নয় যে, আল্লাহই নিজ বান্দাদের তাওবা কবুল করেন, আর তিনিই দান-খয়রাত কবূল করে থাকেন? এর উদ্দেশ্য হচ্ছে তাওবা ও দান খয়রাতের উপর মানুষকে উদ্বুদ্ধ করা। কেননা এ দুটোই মানুষ থেকে পাপকে সরিয়ে দেয় এবং নাফরমানী নিশ্চিহ্ন করে দেয়। আল্লাহ তাআলা খবর দিয়েছেন যে, যে তাঁর কাছে তাওবা পেশ করে তিনি তার সেই তাওবা কবুল করে থাকেন। যে ব্যক্তি হালাল উপার্জন থেকে একটি খণ্ডও সাদকা করে, আল্লাহ সেটা তার ডান হাতে গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি ওটাকে সাদকাকারীর জন্যে বিনিয়োগ করতে থাকেন এবং ছোট থেকে বড় করে দেন। শেষ পর্যন্ত সাদকার ঐ একটি মাত্র খেজুর উহুদ পাহাড়ের মত হয়ে যায়। যেমন এই হাদীসেই রাসূলুল্লাহ (সঃ) হতে বর্ণিত আছে এবং যেমন ওয়াকী (রঃ) ইসনাদসহ আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “আল্লাহ তা'আলা সাদকা কবুল করে থাকেন এবং ওটাকে নিজের দক্ষিণ হস্তে গ্রহণ করেন। অতঃপর তিনি ওটাকে বড় করতে থাকেন, যেমন তোমরা ঘোড়ার বাচ্চাকে লালন পালন করে বড় করে থাকো। শেষ পর্যন্ত সাদকার এক লুকমাও উহুদ পাহাড় হয়ে যায়। আল্লাহর কিতাবের দ্বারাও এর সত্যতা প্রমাণিত হয়। মহামহিমান্বিত আল্লাহ বলেনঃ “তারা কি জানে না যে, আল্লাহ স্বীয় বান্দাদের তাওবা কবুল করে থাকেন এবং যাকাত ও সাদকাও নিয়ে থাকেন?” মহান আল্লাহ অন্য জায়গায় বলেন: (আরবী) অর্থাৎ “আল্লাহ সুদকে বরবাদ করে দেন এবং যাকাতকে বহুগুণে বাড়িয়ে দেন।” (২:২৭৬)

সাওরী (রঃ) ইসনাদসহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, সাদকার মাল ভিক্ষুকের হাতে পড়ার পূর্বেই আল্লাহর হাতে পড়ে যায়। অতঃপর আব্দুল্লাহ ইবনে মাসউদ (রাঃ) আল্লাহ তা'আলার (আরবী) -এ উক্তিটি পাঠ করেন।

ইবনে আসাকির (রঃ) স্বীয় ইতিহাসের মধ্যে আব্দুল্লাহ ইবনুশ শাইর আসসাকীর (রঃ) ইতিহাসকে অন্তর্ভুক্ত করে (যিনি দেমাকী ছিলেন, কিন্তু তার প্রকৃত দেশ ছিল হিমস এবং তিনি ফকীহদের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন) বর্ণনা করেছেন যে, মুআবিয়া (রাঃ) -এর যুগে জনগণ জিহাদে গমন করেন, যাঁদের নেতা ছিলেন আব্দুর রহমান ইবনে খালিদ ইবনে ওয়ালীদ (রাঃ)। তখন একজন মুসলিম গনীমতের মালের মধ্য থেকে একশ দীনার (স্বর্ণমদ্রা) আত্মসাৎ করে । অতঃপর যখন সেনাবাহিনী ফিরে যায় এবং লোকেরা নিজ নিজ বাড়ীতে গমন করে তখন ঐ (আত্মসাৎকারী) মুসলিমটি খুবই লজ্জিত হয়। সে তখন ঐ দীনারগুলো সেনাপতির কাছে পৌঁছিয়ে দিতে যায়। কিন্তু সেনাপতি ওগুলো নিতে অস্বীকার করেন এবং বলেনঃ “সৈন্যরা তো নিজ নিজ বাড়ী চলে গেছে যাদের মধ্যে এগুলো বণ্টন করা যেতো। সুতরাং আমিতো এখন এগুলো নিতে পারি না। এগুলো তুমি কিয়ামতের দিন আল্লাহর সামনে পেশ করবে।” লোকটি তখন সাহাবীদের প্রত্যেককে জিজ্ঞেস করতে থাকে। কিন্তু সবাই ঐ কথাই বলে। সে তখন দামেস্ক আসে এবং মুআবিয়া (রাঃ)-কে তা কবূল করতে বলে। কিন্তু তিনিও তা কবূল করতে অস্বীকার করেন। সে সেখান থেকে কাঁদতে কাঁদতে ফিরে আসে এবং আব্দুল্লাহ ইবনুশ শাইর আসসাকীর (রঃ) পার্শ্ব দিয়ে গমন করে। তিনি তাকে জিজ্ঞেস করেনঃ “কাঁদছো কেন?” উত্তরে সে সমস্ত ঘটনা বর্ণনা করে এবং বলে যে, কোন আমীরই তার আত্মসাৎকৃত একশ’টি দীনার গ্রহণ করলেন না। তখন আব্দুল্লাহ (রঃ) তাকে বললেনঃ “তুমি আমার কথা শুনবে কি?” সে উত্তর দিলোঃ “হ্যা অবশ্যই।” তিনি বললেনঃ “তুমি মুআবিয়া (রাঃ)-এর কাছে গিয়ে বল-বায়তুল মালের হক এক পঞ্চমাংশ আপনি নিয়ে নিন। সুতরাং বিশ দীনার তাকে দিয়ে দাও। আর অবশিষ্ট আশি দীনার ঐ সৈন্যদের পক্ষ থেকে খয়রাত করে দাও যারা এর হকদার ছিল। কেননা, আল্লাহ তা'আলা তাঁর বান্দাদের তাওবা কবুল করে থাকেন। তিনি ঐ সৈন্যদের নাম, বাসস্থান ইত্যাদি সম্পর্কে পূর্ণ ওয়াকিফ হাল। তিনি তাদেরকে এর সাওয়াব পৌছিয়ে দিবেন।” ঐ লোকটি তখন এই কাজই করলো। মুআবিয়া (রাঃ) বললেনঃ “আমি যদি তাকে এই ফতওয়া দিতাম তবে এটা আমার কাছে আমার সাম্রাজ্যের চাইতেও প্রিয় ছিল। তিনি খুব সুন্দর তদবীর বাতলিয়ে দিয়েছেন।”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।