আল কুরআন


সূরা আল-আলাক (আয়াত: 19)

সূরা আল-আলাক (আয়াত: 19)



হরকত ছাড়া:

كلا لا تطعه واسجد واقترب ﴿١٩﴾




হরকত সহ:

کَلَّا ؕ لَا تُطِعْهُ وَ اسْجُدْ وَ اقْتَرِبْ ﴿ٛ۱۹﴾




উচ্চারণ: কাল্লা- লা-তুতি‘হু ওয়াছজু দ ওয়াকতারিব (ছিজদাহ-১৪)।




আল বায়ান: কখনো নয়, তুমি তার আনুগত্য করবে না। আর সিজদা কর এবং নৈকট্য লাভ কর।[সাজদাহ]




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৯. কখনো নয়! আপনি তার অনুসরণ করবেন না। আর আপনি সিজদা করুন এবং নিকটবর্তী হোন।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: না, তুমি কক্ষনো তার অনুসরণ করো না, তুমি সাজদাহ কর আর (আল্লাহর) নৈকট্য লাভ কর।[সাজদাহ]




আহসানুল বায়ান: ১৯। সাবধান! তুমি তার অনুসরণ করো না। তুমি সিজদা কর ও আমার নিকটবর্তী হও। [1]



মুজিবুর রহমান: সাবধান! তুমি তার অনুসরণ করনা। সাজদাহ কর ও আমার নিকটবর্তী হও। [সাজদাহ]



ফযলুর রহমান: না না, তুমি তার (আবু জাহ্‌লের) আনুগত্য করো না (কথামতো চলো না); বরং (আল্লাহকে) সেজদা করো ও (তাঁর) নৈকট্য অর্জন কর।সেজদা



মুহিউদ্দিন খান: কখনই নয়, আপনি তার আনুগত্য করবেন না। আপনি সেজদা করুন ও আমার নৈকট্য অর্জন করুন।



জহুরুল হক: না, তুমি তার আজ্ঞা পালন করো না, বরং তুমি সিজদা করো এবং নিকটবর্তী হও।



Sahih International: No! Do not obey him. But prostrate and draw near [to Allah].



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৯. কখনো নয়! আপনি তার অনুসরণ করবেন না। আর আপনি সিজদা করুন এবং নিকটবর্তী হোন।(১)


তাফসীর:

(১) এতে নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে আদেশ করা হয়েছে যে, আবু জাহলের কথায় কর্ণপাত করবেন না এবং সেজদা ও সালাতে মশগুল থাকুন। সিজদা করা মানে সালাত আদায় করা। অর্থাৎ হে নবী! আপনি নিৰ্ভয়ে আগের মতো সালাত আদায় করতে থাকুন। এর মাধ্যমে নিজের রবের নৈকট্য লাভ করুন। কারণ, এটাই আল্লাহ তা'আলার নৈকট্য অর্জনের উপায়। [কুরতুবী] রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, “বান্দা যখন সেজদায় থাকে, তখন তার পালনকর্তার অধিক নিকটবর্তী হয়। তাই তোমরা সেজদায় বেশী পরিমাণে দোআ কর।” [মুসলিম: ৪৮২, আবু দাউদ: ৮৭৫, নাসায়ী: ২/২২৬, মুসনাদে আহমাদ: ২/৩৭০] অন্য এক হাদীসে আরও বলা হয়েছে, “সাজ্‌দার অবস্থায় কৃত দো'আ কবুল হওয়ার যোগ্য”। [মুসলিম: ৪৭৯. আবু দাউদ: ৮৭৬, নাসায়ী: ২/১৮৯, মুসনাদে আহমাদ: ১/২১৯]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: ১৯। সাবধান! তুমি তার অনুসরণ করো না। তুমি সিজদা কর ও আমার নিকটবর্তী হও। [1]


তাফসীর:

[1] (এই আয়াত পাঠ করার পর সিজদা করা মুস্তাহাব। সিজদার আহকাম জানতে সূরা আ’রাফের শেষ আয়াতের টীকা দেখুন।)


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৯-১৯ নম্বর আয়াতের তাফসীর:



এ আয়াতগুলোতে একটি ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। সালাতের আদেশ হওয়ার পর রাসূলুল্লাহ (সাঃ) যখন সালাত শুরু করতেন তখন আবূ জাহল তাঁকে সালাত আদায় করতে বারণ করে এবং হুমকি দেয় যে, ভবিষ্যতে সালাত পড়লে ও সিজদা করলে সে তাঁর ঘাড় পদতলে পিষ্ট করে দেবে। এর জবাবে আলোচ্য আয়াতসমূহ অবতীর্ণ হয়েছে।



عَبْدًا বলতে নাবী (সাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে।



(إِنْ كَانَ عَلَي الْهُدٰٓي)



অর্থাৎ সালাত আদায়কারী নাবী (সাঃ)।



(عَلَي الْهُدٰٓي) অর্থাৎ হকের ব্যাপারে জ্ঞান রাখে ও আমল করে। অন্যদেরকে তাক্বওয়ার নির্দেশ দেয়।

إِنْ كَذَّبَ অর্থাৎ যে সত্যের পথে বাধা দেয়। وَتَوَلّٰي বা হক থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়।



(كَلَّا لَئِنْ لَّمْ يَنْتَهِ)



অর্থাৎ নাবী (সাঃ)-এর বিরুদ্ধাচরণ ও দুশমনী করা হতে এবং তাঁকে সালাত আদায়ে বাধা দেয়া হতে বিরত না হয় তাহলে আমি তার কপালের উপরিভাগের কেশগুচ্ছ ধরে টান দেব। হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যে, একদা আবূ জাহল বলেছিল, যদি মুহাম্মাদ কাবার নিকট সালাত পড়া হতে বিরত না হয় তাহলে তাকে পদদলিত করব এবং দস্তুরমত লাঞ্ছিত করব। নাবী (সাঃ)-এর কানে এ কথা পৌঁছলে তিনি বললেন: সে যদি তা করত, তাহলে ফেরেশতা তাকে ধরে ফেলত। (সহীহ বুখারী হা. ৪৯৫৮)



(فَلْيَدْعُ نَادِيَه) শানে নুযূল:



ইবনু আব্বাস (রাঃ) বলেন: একদা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) মাকামে ইবরাহীমের নিকট সালাত আদায় করছিলেন। এমন সময় আবূ জাহল তাঁর পাশ দিয়ে যাচ্ছিল ও বলছিল: হে মুহাম্মাদ! আমি কি তোমাকে সালাত আদায় করতে নিষেধ করিনি? এ বলে সে নাবী (সাঃ)-কে ধমক দিল। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তার প্রতি ক্রোধান্বিত হলেন এবং কড়া জবাব দিলেন। তখন সে বলল : হে মুহাম্মাদ! তুমি আমাকে কিসের ভয় দেখাচ্ছ? আল্লাহ তা‘আলার শপথ! এ উপত্যকায় আমারই রয়েছে সবচেয়ে বেশি পরিষদ ও পৃষ্ঠপোষক । তখন এ আয়াত অবতীর্ণ হয়। (আহমাদ ১/৩২৯, সনদ সহীহ।)



ইবনু আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন : আবূ জাহল বলল : আমি যদি রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে কাবা ঘরে সালাত আদায় করতে দেখি তবে তাঁর ঘাড় ভেঙ্গে দেব। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) তখন বললেন : যদি সে এরূপ করতো তবে জনগণের চোখের সামনেই আযাবের ফেরেশতারা তাকে পাকড়াও করত। ঠিক এমনভাবেই কুরআনে ইয়াহূদীদেরকে বলা হয়েছে, যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে মৃত্যু কামনা কর। যদি তারা মৃত্যু কামনা করত তবে অবশ্যই তারা মৃত্যু বরণ করত এবং তাদের বাসস্থান জাহান্নাম দেখতে পেতো। অনুরূপ নাজরানের নাসারাদেরকে মুবাহালার জন্য ডাক দয়া হয়েছিল। তারা যদি মুবাহালার জন্য বের হতো তবে তারা ফিরে এসে তাদের জানমাল এবং সন্তান-সন্ততি কিছুই পেতো না। (আহমাদ ১/২৪৮, তিরমিযী হা. ৩৩৪৮, সনদ সহীহ।)



সবশেষে আল্লাহ তা‘আলা নাবী (সাঃ)-কে কাফিরদের অনুসরণ ত্যাগ করে একমাত্র তাঁর জন্য সিজদা ও নৈকট্য অর্জনের নির্দেশ প্রদান করেছেন। এটা সিজদার আয়াত, এ আয়াত পাঠ শেষে সিজদা করা মুস্তাহাব। সিজদার আহকাম সম্পর্কে সূরা আ‘রাফে আলোচনা করা হয়েছে।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয় :



১. আয়াতগুলো অবতীর্ণ হওয়ার প্রেক্ষাপট জানলাম।

২. রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-কে আল্লাহ তা‘আলা সরাসরি সাহায্য করেছেন।

৩. যখন মানুষ নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করে তখনই সে আল্লাহ তা‘আলার অবাধ্য হয়।

৪. আবূ জাহলের ইসলাম বিদ্বেষী মনোভাবের কথা ও তার শেষ পরিণাম জানলাম। প্রত্যেক যে ব্যক্তি ইসলাম ও মুসলিমের বিরুদ্ধাচরণ করবে তাদের পরিণতি আবূ জাহলের মত হবে।

৫. এ সূরার শেষ আয়াত তেলাওয়াত করে সিজদা করা মুস্তাহাব।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৬-১৯ নং আয়াতের তাফসীর

আল্লাহ্ তাআলা বলেনঃ সত্য সত্যই মানুষ সীমা ছাড়িয়ে যায়, কারণ সে নিজেকে অমুখাপেক্ষী মনে করে। কিছুটা আর্থিক স্বাচ্ছন্দ্যের পর সে মনে অহংকার পোষণ করে। অথচ তার ভয় করা উচিত যে, একদিন তাকে আল্লাহর কাছে ফিরে যেতে হবে। সেখানে কৃতকর্মের জন্যে জবাবদিহি করতে হবে! অর্থ সম্পদ সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হবেঃ অর্থসম্পদ কোথা থেকে উপার্জন করেছে এবং কোথায় ব্যয় করেছো?

হযরত আবদুল্লাহ (রাঃ) বলেনঃ “দু'জন এমন লোভী রয়েছে যাদের পেট কখনো ভরে না। একজন হলো জ্ঞান অনুসন্ধানকারী এবং অপরজন হলো দুনিয়াদার বা তালেবে দুনিয়া। তবে এ দু’জনের মধ্যে বিরাট পার্থক্য রয়েছে। জ্ঞান অনুসন্ধানী শুধুমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে অগ্রসর হয়, আর দুনিয়াদার লোভ,হঠকারিতা এবং নিজের স্বার্থসিদ্ধির পথে অগ্রসর হয়। তারপর (আরবি) এ আয়াত দু’টি পাঠ করেন। এর পর জ্ঞান অন্বেষণকারীর ব্যাপারে পাঠ করেন আল্লাহ পাকের নিম্নের উক্তিটিঃ (আরবি)

অর্থাৎ “নিশ্চয়ই আল্লাহকে তাঁর জ্ঞানী বা বিদ্বান বান্দারাই ভয় করে।” (এ হাদীসটি ইমাম ইবনে আবী হাতিম (রঃ) বর্ণনা করেছেন) মারফুরূপে রাসূলুল্লাহ (সঃ) পর্যন্তও এ হাদীসটি বর্ণিত আছে যে, তিনি বলেছেনঃ “দুই লোভী ব্যক্তি কখনো পরিতৃপ্ত হয়। একজন হলো জ্ঞান অনুসন্ধানকারী এবং অপরজন হলো দুনিয়া অন্বেষণকারী।” (৩৫:২৮)

এরপর আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ তুমি কি তাকে দেখেছো, যে বাধা দেয় এক বান্দাকে যখন সে নামায আদায় করে?' এই আয়াত অভিশপ্ত আবু জাহলের ব্যাপারে অবতীর্ণ হয়। সে রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে কাবাগৃহে নামায আদায় করতে বাধা প্রদান করতো। প্রথমে আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা তাকে বুঝানোর জন্যে নরম সুরে বলেন যে, যাকে বাধা দিচ্ছে তিনি যদি সৎপথে থেকে থাকেন, লোকদেরকে তাকওয়ার দিকে আহ্বান করেন অর্থাৎ পরহেযগারী শিক্ষা দেন, আর সে (আবু জাহল) তাঁকে উঁট ডাপট দেখায়, আল্লাহর ঘর থেকে ফিরিয়ে রাখে, তবে কি তার দুর্ভাগ্যের কোন শেষ আছে? এই হতভাগা কি জানে না যে, যদি সে ধর্মকে অস্বীকার করে এবং বিমুখ হয়, আল্লাহ তা দেখছেন? তার কথা শুনছেন? তার কথা এবং কাজের জন্যে তাকে যে আল্লাহ শাস্তি দিবেন তাও কি সে জানে না? এভাবে বুঝানোর পর মহাপ্রতাপান্বিত আল্লাহ তাকে ভয় প্রদর্শন করে ধমকের সুরে বলছেনঃ যদি সে এ ধরনের বাধাদান, বিরোধিতা, হঠকারিতা এবং কষ্টদান হতে বিরত না হয় তবে আমি তার মস্তকের সম্মুখ ভাগের কেশগুচ্ছ ধরে হেচড়াবো। কারণ সে হলো মিথ্যাচারী ও পাপিষ্ঠ। অতঃপর সে তার পার্শ্বচরদেরকে বা পরিষদকে আহ্বান করুক, আমিও আহ্বান করবো জাহান্নামের প্রহরীদেরকে। তারপর কে হারে ও কে জিতে তা দেখা যাবে।

সহীহ বুখারী শরীফে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আবু জাহল বললোঃ “যদি আমি মুহাম্মদকে (সঃ) কাবাঘরে নামায পড়তে দেখি তবে আমি তার ঘাড়ে আঘাত হানবো।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) এ খবর পেয়ে বললেনঃ “যদি সে এরূপ করে তবে আল্লাহর আযাবের ফেরেশতা তাকে পাকড়াও করবেন।” অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বায়তুল্লাহ শরীফে মাকামে ইবরাহীম (আঃ)-এর কাছে নামায পড়ছিলেন, এমন সময় অভিশপ্ত আবু জাহল এসে বলেলোঃ “আমি তোমাকে নিষেধ করা সত্ত্বেও তুমি বিরত হলে না? এবার যদি আমি তোমাকে কাবা ঘরে নামায পড়তে দেখি তবে তোমাকে কঠিন শাস্তি দিবো।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন কঠোর ভাষায় তার হুমকির জবাব দিলেন এবং তার হুমকিকে মোটেই গ্রাহ্য করলেন না। বরং তাকে সতর্ক করে দিলেন। তখন ঐ অভিশপ্ত বলতে লাগলোঃ “তুমি আমাকে সতর্ক করছো? আল্লাহর কসম! আমার এক আওয়াযে সমগ্র প্রান্তর লোকে লোকারণ্য হয়ে যাবে।” তখন আল্লাহ তাআলা (আরবি) এই আয়াতগুলো অবতীর্ণ করেন। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, যদি আবু জাহল তার পার্শ্বচরদেরকে ডাকতো তবে তখনই আযাবের ফেরেশতারা তাকে ঘিরে ফেলতেন। (এ হাদীসটি ইমাম আহমদ (রঃ), ইমাম তিরমিযী (রাঃ), নাসাঈ (রঃ) এবং ইমাম ইবনে জারীরও (রঃ) বর্ণনা করেছেন। ইমাম তিরমিযী (রঃ) এ হাদীসটিকে হাসান সাহীহ বলেছেন)

মুসনাদে আহমদে হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, আৰু জাহল বললোঃ “আমি যদি রাসূলুল্লাহ (সঃ) কে কাবাগৃহে নামায পড়তে দেখি তবে তার ঘাড় ভেঙ্গে দিব।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন বললেনঃ “যদি সে এরূপ করতো তবে জনগণের চোখের সামনেই আযাবের ফেরেশতারা তাকে পাকড়াও করতেন।” ঠিক এমনিভাবেই কুরআন কারীমে ইয়াহুদীদেরকে বলা হয়েছেঃ ‘যদি তোমরা সত্যবাদী হও তবে মৃত্যু কামনা কর!” যদি তারা মৃত্যু কামনা করতো তবে অবশ্যই তারা মৃত্যুবরণ করতো এবং তাদের বাসস্থান জাহান্নাম দেখতে পেতো। অনুরূপভাবে নাজরানের খ্রিষ্টানদেরকে মুবাহালার জন্যে ডাক দেয়া হয়েছিল। তারা যদি মুবাহালার জন্যে বের হতো তবে তারা ফিরে এসে তাদের জানমাল এবং সন্তান সন্ততি কিছুই পেতো না।

ইমাম ইবনে জারীরও (রঃ) হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন যে, আবূ জাহল বলেছিলঃ “যদি আমি মুহাম্মদ (সঃ) কে পুনরায় মাকামে ইবরাহীম (আঃ)-এর কাছে নামায পড়তে দেখি তবে অবশ্যই তাকে হত্যা করবো!” তখন মহামহিমান্বিত আল্লাহ এ আয়াতগুলো অবতীর্ণ করেন। নবী করীম (সঃ) মাকামে ইবরাহীম (আঃ)এর কাছে গমন করেন। সেখানে আবু জাহলও উপস্থিত ছিল। নবী করীম (সঃ) নামায আদায় করলেন, জনগণ আবু জাহলকে বললোঃ “কি হলো, বসে রইলে যে?` সে উত্তরে বললোঃ “কি আর বলবো! দেখি যে, কে যেন আমার এবং তার মধ্যে পর্দা হয়ে গেল। (অর্থাৎ কে যেন মুহাম্মদকে (সঃ) আড়াল করে দাড়ালো ।)` হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) বলেন যে, যদি আবু জাহল একটুখানিও নড়াচড়া করতো তবে জনগণের চোখের সামনেই ফেরেশতারা তাকে ধ্বংস করে দিতেন। ইমাম ইবনে জারীর (রঃ)-এর অন্য এক বর্ণনায় রয়েছে যে, আবূ জাহল (জনগণকে) জিজ্ঞেস করলোঃ “মুহাম্মদ (সঃ) কি তোমাদের সামনে সিজদাহ করে?` জনগণ উত্তরে বললোঃ “হ্যা তখনই ঐ দুবৃত্ত বললোঃ আল্লাহর কসম! সে যদি আমার সামনে ঐভাবে সিজদাহ করে তবে আমি অবশ্যই তার ঘাড় ভেঙ্গে দিবো। এবং তার মুখে মাটি ফেলে দিবো।` একদিকে আবু জাহল এই ঘৃণ্য উক্তি করলো আর অন্য দিকে রাসূলুল্লাহ (সঃ) নামায শুরু করলেন। তিনি সিজদায় যাওয়ার পর আবু জাহল সামনের দিকে অগ্রসর হলো বটে কিন্তু সাথে সাথেই ভয়ার্তচিত্তে আত্মরক্ষামূলকভাবে পিছনের দিকে সরে আসলো। জনগণ তাকে এর কারণ জিজ্ঞেস করলে সে বললোঃ “আমার এবং মুহাম্মদ (সঃ)-এর মাঝে আগুনের পরিখা এবং ভয়াবহ সব জিনিস ও ফেরেশতাদের পালক রয়েছে।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) তখন বললেনঃ “আবু জাহল যদি আরো কিছু অগ্রসর হতো তবে ফেরেশতারা তার অঙ্গ প্রত্যঙ্গ পৃথক করে দিতেন।” অতঃপর (আরবি) হতে সূরার শেষ পর্যন্ত আয়াতগুলো অবতীর্ণ হয়।

এরপর আল্লাহ তাবারাকা ওয়া তা'আলা বলেনঃ সাবধান! তুমি তার অনুসরণ করো না, বরং তুমি নামায পড়তে থাকে এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে থাকো। অর্থাৎ অধিক পরিমাণে ইবাদত কর এবং যেখানে খুশী নামায পড়তে থাকো। তাকে পরোয়া করার কোনই প্রয়োজন নেই। আল্লাহ তা'আলা তোমার রক্ষাকারী ও সাহায্যকারী রয়েছেন। তিনি তোমাকে শত্রুদের কবল থেকে রক্ষা করবেন। তুমি সিজদাহ কর এবং আল্লাহর নৈকট্য লাভ করার ব্যাপারে সদা সচেষ্ট থাকো। সিজদার মধ্যে বেশী বেশী করে দু'আ কর।

হাদীস শরীফে উল্লিখিত হয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) (আরবি) এবং (আরবি) এই। সূরায় সিজদাহ করতেন।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।