সূরা আল-ইনফিতার (আয়াত: 14)
হরকত ছাড়া:
وإن الفجار لفي جحيم ﴿١٤﴾
হরকত সহ:
وَ اِنَّ الْفُجَّارَ لَفِیْ جَحِیْمٍ ﴿ۚۖ۱۴﴾
উচ্চারণ: ওয়া ইন্নাল ফুজ্জা-রা লাফী জাহীম।
আল বায়ান: আর নিশ্চয় অন্যায়কারীরা থাকবে প্রজ্জ্বলিত আগুনে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৪. আর পাপাচারীরা তো থাকবে জাহান্নামে(১);
তাইসীরুল ক্বুরআন: আর পাপীরা থাকবে জাহান্নামে,
আহসানুল বায়ান: ১৪। এবং পাপাচারীরা থাকবে (জাহীম) জাহান্নামে; [1]
মুজিবুর রহমান: এবং দুস্কর্মকারীরা থাকবে জাহান্নামে;
ফযলুর রহমান: আর পাপীরা থাকবে জ্বলন্ত আগুনে (জাহান্নামে)।
মুহিউদ্দিন খান: এবং দুষ্কর্মীরা থাকবে জাহান্নামে;
জহুরুল হক: আর পাপাচারীরা আলবৎ থাকবে ভয়ংকর আগুনে, --
Sahih International: And indeed, the wicked will be in Hellfire.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৪. আর পাপাচারীরা তো থাকবে জাহান্নামে(১);
তাফসীর:
(১) পাপাচারীরা কি কঠিন শাস্তিতে থাকবে সেটা জানতেও আমাদেরকে পবিত্র কুরআনের অন্যত্র দেখতে হবে, সেখানে বলা হয়েছে, “কখনো না, পাপাচারীদের আমলনামা তো সিজ্জীনে আছে। সিজীন সম্পর্কে আপনি কী জানেন? ওটা চিহ্নিত ‘আমলনামা। সেদিন দুর্ভোগ হবে অস্বীকারকারীদের, যারা কর্মফল দিনকে অস্বীকার করে, শুধু প্ৰত্যেক পাপিষ্ঠ সীমালংঘনকারী এটাকে অস্বীকার করে; তার কাছে আমাদের আয়াতসমূহ আবৃত্তি করা হলে সে বলে, “এটা পূর্ববর্তীদের উপকথা। কখনো নয়; বরং তাদের কৃতকর্মই তাদের হৃদয়ে জঙ ধরিয়েছে। না, অবশ্যই সেদিন তারা তাদের প্রতিপালক হতে অন্তরিত থাকবে; তারপর তারা তো জাহান্নামে প্রবেশ করবে; তারপর বলা হবে, “এটাই তা যাকে তোমরা অস্বীকার করতে।” [সূরা আল-মুতাফফিফীন: ৭–১৭]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: ১৪। এবং পাপাচারীরা থাকবে (জাহীম) জাহান্নামে; [1]
তাফসীর:
[1] যেমন, অন্যত্র আল্লাহ তাআলা বলেছেন, ‘‘একদল জান্নাতে এবং একদল জাহান্নামে প্রবেশ করবে।’’ (সূরা শূরা ৭ নং আয়াত)
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৩-১৯ নম্বর আয়াতের তাফসীর:
আলোচ্য আয়াতগুলোতে মানুষকে দু’শ্রেণিতে বিভক্ত করা হয়েছে। যারা সৎ লোক তারা আখিরাতে পরম নেয়ামত তথা জান্নাতে থাকবে আর যারা পাপাচারী তারা জাহান্নামে যাবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন :
(فَرِيْقٌ فِي الْجَنَّةِ وَفَرِيْقٌ فِي السَّعِيْر)
“(সেদিন) এক দল জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং একদল জাহান্নামে প্রবেশ করবে।” (সূরা শূরা ৪২: ৭) এ দু’দলের বিভক্তি তাদের আকীদাহ ও আমলের কারণে হবে। যদিও আল্লাহ তা‘আলা এসব পূর্বেই জানতেন। আল্লাহ তা‘আলা ইচ্ছা করলে সবাইকে একই দলভুক্ত করতে পারতেন কিন্তু তিনি তা করেননি বান্দাকে পরীক্ষা করার জন্য। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَلَوْ شَا۬ءَ اللّٰهُ لَجَعَلَكُمْ أُمَّةً وَّاحِدَةً وَّلٰكِنْ لِّيَبْلُوَكُمْ فِيْ مَآ اٰتَاكُمْ)
“আর যদি আল্লাহ চাইতেন, তবে অবশ্যই তিনি তোমাদের সবাইকে এক সম্প্রদায় করে দিতেন। কিন্তু তিনি তোমাদের যাচাই করতে চান যা তিনি তোমাদের দিয়েছেন তার মাধ্যমে।” (সূরা মায়িদাহ ৫: ৪৮)
সুতরাং আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সৃষ্টি করার পর সুস্থ বিবেক দিয়ে ভাল-মন্দ দু’টি পথই দেখিয়ে দিয়েছেন। অতঃপর ইচ্ছার স্বাধীনতা দিয়েছেন। সে ইচ্ছা করলে ভাল কাজ করতে পারবে আবার ইচ্ছা করলে মন্দ কাজও করতে পারবে, তবে সাথে সাথে উভয় কাজের পরিণামও জানিয়ে দিয়েছেন। সুতরাং মানুষ তার কাজের জন্য নিজেই দায়ী। যারা বলে আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে বাধ্য করেছেন তথা জাবারিয়া সম্প্রদায়ের দাবীÑযা মিথ্যা ও অবান্তর।
(يَوْمَ الدِّيْنِ) অর্থাৎ কিয়ামত দিবসে। بِغَآئِبِيْنَ অর্থাৎ তারা আযাব থেকে একটু সময়ের জন্যও অন্তর্হিত হতে পারবে না এবং তাদের জন্য আযাব হালকাও করা হবে না। এখানে কর্মফল দিবসকে বারবার উল্লেখ করেছেন কিয়ামতের বিষয়টিকে বড় করে দেখানোর জন্য। অতএব সকলকে পুনরুত্থিত হতে হবে এবং কর্মের হিসাব দিতে হবে।
(يَوْمَ لَا تَمْلِكُ نَفْسٌ)
অর্থাৎ সে কিয়ামতের দিন কোন ব্যক্তি কাউকে বিন্দু পরিমাণ উপকার করতে পারবে না। তবে আল্লাহ তা‘আলা যাকে যার জন্য অনুমতি প্রদান করবেন সে ব্যতীত। কিয়ামতের দিন কে কার জন্য সুপারিশ করতে পারবে সে সম্পর্কে সূরা বাক্বারায় আলোচনা করা হয়েছে। তাই নাবী (সাঃ) বানী হাশেমকে লক্ষ্য করে বলেছেন: তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা কর। আমি আল্লাহ তা‘আলার আযাব থেকে তোমাদের রক্ষা করতে সক্ষম হব না। এমনিভাবে তিনি আরো বলেন: হে বনু কা‘ব বিন লুআই! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও, হে বনু আবদে মানাফ! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও, হে বনু আব্দিল মুত্তালিব! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও, হে আব্বাস বিন আব্দুল মুত্তালিব! আমি আল্লাহ তা‘আলার আযাব থেকে তোমার কোনই কাজে আসব না। হে মুহাম্মাদের কন্যা ফাতিমা! তুমি নিজেকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাও, কেননা আমি তোমাদের কাউকে আল্লাহ তা‘আলার পাকড়াও হতে রক্ষা করতে পারব না। (সহীহ বুখারী হা. ২৭৫৩)
(وَالْأَمْرُ يَوْمَئِذٍ لِّـلّٰهِ)
যেমন আল্লাহ তা‘আলা অন্যত্র বলেন:
(یَوْمَ ھُمْ بٰرِزُوْنَﹰ لَا یَخْفٰی عَلَی اللہِ مِنْھُمْ شَیْءٌﺚ لِمَنِ الْمُلْکُ الْیَوْمَﺚ لِلہِ الْوَاحِدِ الْقَھَّارِ)
“যেদিন তারা (কবর হতে) বের হয়ে পড়বে, সেদিন আল্লাহর নিকট তাদের কিছুই গোপন থাকবে না। (আল্লাহ জিজ্ঞাসা করবেন) আজ কর্তৃত্ব কার? এক পরাক্রমশালী আল্লাহরই।” (সূরা মু’মিন ৪০: ১৬)
সুতরাং যেদিনে পিতা সন্তানের কোন কাজে আসবে না, ভাই ভায়ের কোন কাজে আসবে না, স্বামী স্ত্রীর কোন কাজে আসবে না সেদিনের জন্য আমাদের অবশ্যই পাথেয় সংগ্রহ করা উচিত।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. সৎ বান্দারা নেয়ামতপূর্র্র্ণ জান্নাতে থাকবে আর অসৎ বান্দারা জাহান্নামে থাকবে।
২. কিয়ামতের দিন কোন ব্যক্তি অন্য কোন ব্যক্তিকে বিন্দুমাত্র উপকার করতে পারবে না। যেখানে নাবী-রাসূলগণ পারবেন না সেখানে পীর-ওলী-আওলিয়াদের অবস্থান কোথায়?
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৩-১৯ নং আয়াতের তাফসীর
এখানে আল্লাহ তা'আলা তাঁর ঐ বান্দাদেরকে জান্নাতের সুসংবাদ দিচ্ছেন যারা তাঁর অনুগত, বাধ্যগত এবং যারা পাপকর্ম হতে দূরে থাকে। (এ হাদীসটি ইবনে আসাকির (রঃ) বর্ণনা করেছেন)
হযরত ইবনে উমার (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, নবী (সঃ) বলেছেনঃ “তাদেরকে আবরার’ বলা হয়েছে এই কারণে যে, তারা পিতামাতার অনুগত ছিল এবং সন্তানদের সাথে ভাল ব্যবহার করতো।”
পাপাচারীরা থাকবে জাহান্নামে। হিসাব-নিকাশ এবং প্রতিদান লাভ করার দিনে তথা কিয়ামতের দিনে তারা জাহান্নামে প্রবেশ করবে। এক ঘন্টা বা মুহুর্তের জন্যেও তাদেরকে জাহান্নামের শাস্তি হতে নিষ্কৃতি দেয়া হবে না। তারা মৃত্যু বরণও করবে না এবং শান্তিও পাবে না। ক্ষণিকের জন্যেও তারা শাস্তি হতে দূরে থাকবে না।
এরপর কিয়ামতের বিভীষিকা প্রকাশের জন্যে দুই দুইবার আল্লাহ পাক বলেনঃ ঐদিন কেমন তা তোমাদেরকে কোন জিনিস জানিয়েছে? তারপর তিনি নিজেই বলেনঃ কেউ কারো কোন উপকার করতে পারবে না এবং শাস্তি হতে নিষ্কৃতি দেয়ার ক্ষমতা রাখবে না। তবে হ্যা, কারো জন্যে সুপারিশের অনুমতি যদি স্বয়ং আল্লাহ কাউকেও প্রদান করেন তবে সেটা আলাদা কথা।
এখানে একটি হাদীস উল্লেখ করা সমীচীন মনে করছি। তাহলো এই যে, নবী (সঃ) বলেনঃ “হে বানু হাশিম! তোমরা নিজেদেরকে জাহান্নামের আগুন হতে রক্ষা কর। (জেনে রেখো যে,) আমি (কিয়ামতের দিন) তোমাদেরকে আল্লাহর আযাব হতে রক্ষা করার কোনই অধিকার রাখবো না।
সূরা শুআ'রার তাফসীরের শেষাংশে এ হাদীসটি গত হয়েছে। এখানে এ কথাও বলেছেন যে, সেই দিন কর্তৃত্ব হবে আল্লাহর। যেমন অন্য জায়গায় রয়েছেঃ (আরবি)
অর্থাৎ “আজ কতৃত্ব কার? এক, পরাক্রমশালী আল্লাহরই।” (৪০:১৬) আর বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “যিনি কর্মফল দিবসের মালিক।” আর এক জায়গায় বলেনঃ (আরবি) অর্থাৎ “সেই দিন প্রকৃত কর্তৃত্ব হবে দয়াময়ের (অর্থাৎ আল্লাহর)” (২৫:২৬)
এসব আয়াতের আসল বক্তব্য হলো এই যে, সেই দিন মালিকানা ও সময় কর্তৃত্ব একমাত্র কাহহার ও রহমানুর রাহীম আল্লাহর হাতে ন্যস্ত থাকবে। অবশ্য এখনো তিনিই সর্বময় ক্ষমতা ও একচ্ছত্র কর্তৃত্বের অধিকারী বটে, কিন্তু সেই দিন বাহ্যিকভাবেও অন্য কেউই কোন হুকুমত ও কর্তৃত্বের অধিকারী থাকবে না। বরং সমস্ত কর্তৃত্ব হবে একমাত্র আল্লাহর।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।