আল কুরআন


সূরা আল-আ‘রাফ (আয়াত: 94)

সূরা আল-আ‘রাফ (আয়াত: 94)



হরকত ছাড়া:

وما أرسلنا في قرية من نبي إلا أخذنا أهلها بالبأساء والضراء لعلهم يضرعون ﴿٩٤﴾




হরকত সহ:

وَ مَاۤ اَرْسَلْنَا فِیْ قَرْیَۃٍ مِّنْ نَّبِیٍّ اِلَّاۤ اَخَذْنَاۤ اَهْلَهَا بِالْبَاْسَآءِ وَ الضَّرَّآءِ لَعَلَّهُمْ یَضَّرَّعُوْنَ ﴿۹۴﴾




উচ্চারণ: ওয়া মাআরছালনা-ফী কারইয়াতিম মিন নাবিইয়িন ইল্লা-আখাযনাআহলাহা-বিলবা’ছাই ওয়াদ্দাররাই লা‘আল্লাহুম ইয়াদ্দাররা‘ঊন।




আল বায়ান: যে জনপদেই আমি নবী প্রেরণ করেছি, তার অধিবাসীকে আমি অর্থ-সংকট ও দুঃখ-কষ্ট দ্বারা পাকড়াও করেছি, যেন তারা অনুনয় বিনয় করে।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৯৪. আর আমরা কোন জনপদে নবী পাঠালেই সেখানকার অধিবাসীদেরকে অর্থ-সংকট ও দুঃখ-কষ্ট দ্বারা আক্রান্ত করি, যাতে তারা কাকুতি-মিনতি করে।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি কোন জনপদে এমন কোন নাবীই পাঠাইনি যেখানকার অধিবাসীদেরকে অভাব-অনটন আর দুঃখ-কষ্ট কশাঘাত করেনি যাতে তারা নম্রতা ও কাতরতা প্রকাশ করে।




আহসানুল বায়ান: (৯৪) আমি কোন জনপদে নবী পাঠালে ওর অধিবাসীবৃন্দকে দুঃখ ও ক্লেশ দ্বারা পীড়িত করি, যাতে তারা কাকুতি-মিনতি করে।[1]



মুজিবুর রহমান: আমি কোন জনপদে নাবী রাসূল পাঠালে, ওর অধিবাসীদেরকে দুঃখ-দারিদ্র ও রোগ ব্যাধিতে আক্রান্ত করে থাকি, উদ্দেশ্য হল, তারা যেন নম্র ও বিনয়ী হয়।



ফযলুর রহমান: আমি যখনই কোন জনপদে কোন নবী পাঠিয়েছি তখনই তার অধিবাসীদেরকে (তাদের অবিশ্বাসের কারণে) দুরবস্থা আর দুঃখ-কষ্ট দ্বারা পাকড়াও করেছি, যাতে তারা নতি স্বীকার করে।



মুহিউদ্দিন খান: আর আমি কোন জনপদে কোন নবী পাঠাইনি, তবে (এমতাবস্থায়) যে পাকড়াও করেছি সে জনপদের অধিবাসীদিগকে কষ্ট ও কঠোরতার মধ্যে, যাতে তারা শিথিল হয়ে পড়ে।



জহুরুল হক: আর আমরা কোনো জনপদে কোনো নবী পাঠাইনি তাদের বাসিন্দাদের দুঃখ ও দুর্দশা দিয়ে পাকড়াও না-ক’বে, যেন তারা নিজেরা বিনয়াবনত হয়।



Sahih International: And We sent to no city a prophet [who was denied] except that We seized its people with poverty and hardship that they might humble themselves [to Allah].



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৯৪. আর আমরা কোন জনপদে নবী পাঠালেই সেখানকার অধিবাসীদেরকে অর্থ-সংকট ও দুঃখ-কষ্ট দ্বারা আক্রান্ত করি, যাতে তারা কাকুতি-মিনতি করে।(১)


তাফসীর:

(১) এ আয়াতে বলা হয়েছে যে, নূহ আলাইহিস সালামের সম্প্রদায় এবং আদ’ ও সামূদ জাতিকে যেসব ঘটনার সম্মুখীন হতে হয়েছিল, তা শুধুমাত্র তাদের সাথেই এককভাবে সম্পৃক্ত নয়; বরং সকল জাতির জন্য সমভাবে প্রযোজ্য। কুরাইশ কাফেরদের জন্যও প্রযোজ্য। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন স্বীয় রীতি অনুযায়ী দুনিয়ার বিভ্রান্ত জাতি-সম্প্রদায়ের সংশোধন ও কল্যাণ সাধনকল্পে যেসব নবী-রাসূল প্রেরণ করেন তাদের আদেশ-উপদেশের প্রতি যারা মনোনিবেশ করে না প্রথমে তাদেরকে পার্থিব বিপদাপদের সম্মুখীন করা হয়, যাতে এই বিপদাপদের চাপে আল্লাহর দিকে মনোযোগী হতে পারে। তাঁরই দিকে ফিরে আসতে পারে, নবী-রাসূলদের উপর মিথ্যারোপ করা থেকে বিরত হয়। [তাবারী; সাদী]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৯৪) আমি কোন জনপদে নবী পাঠালে ওর অধিবাসীবৃন্দকে দুঃখ ও ক্লেশ দ্বারা পীড়িত করি, যাতে তারা কাকুতি-মিনতি করে।[1]


তাফসীর:

[1] بأسَاء শারীরিক কষ্টকে বুঝায়; যেমন অসুখ ও অসুস্থতা। আর ضَرَّاء বলা হয় অভাব ও দারিদ্র্যকে। উদ্দেশ্য এই যে, যে জনপদেই আমি রসূল প্রেরণ করি এবং সেখানকার মানুষ তাকে মিথ্যাজ্ঞান করে, যার ফলে আমি তাদেরকে অসুখ ও দারিদ্র্য দিয়ে পরীক্ষা করে থাকি, যার উদ্দেশ্য হয় যে, তারা যেন আল্লাহর পথে ফিরে আসে এবং তাঁর নিকট কাকুতি-মিনতি করে।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৯৪-৯৫ নং আয়াতের তাফসীরঃ



পূর্ববর্তী উম্মাতের ব্যাপারে আল্লাহ তা‘আলা আমাদেরকে অবগত করেছেন। তিনি যে জাতির কাছেই নাবী রাসূল প্রেরণ করেছেন সবাইকে বালা-মসিবত দ্বারা পরীক্ষা করেছেন।



(ثُمَّ بَدَّلْنَا مَكَانَ السَّيِّئَةِ الْحَسَنَةَ)



‘অতঃপর আমি অকল্যাণকে কল্যাণে পরিবর্তিত করি।’ অর্থাৎ আমি তাদের অসচ্ছল অবস্থা থেকে সচ্ছলতা দান করেছি। অসুস্থতা থেকে সুস্থতা দান করেছি। যাতে তারা এসব নেয়ামতের শুকরিয়া আদায় করে।



(حَتّٰي عَفَوْا)



‘তারা প্রাচুর্যের অধিকারী হয়ে গেল’ অর্থাৎ এমনি তারাও বৃদ্ধি পেল এবং তাদের সম্পদও বৃদ্ধি পেল। যখন তারা এরূপ ধনে-মালে ও সন্তান-সন্ততিতে প্রাচুর্যের অধিকারী হয়ে গেল তখন বলতে লাগল: এ সুখ শান্তি ও বিপদ-আপদ তো আমাদের পূর্বপুরুষদের যুগ থেকেই চলে আসছে এবং সর্বদা এরূপ চক্র চলবে। যুগ কখনো এরূপ হয় আবার কখনো ঐরূপ হয়। এটা নতুন কথা নয়।



এরূপ অবাধ্যতার কারণে আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে আবার আযাব দ্বারা পাকড়াও করলেন।



কিন্তু মু’মিনদের অবস্থা বিপরীত। তারা সুখে দুঃখে সব সময় আল্লাহ তা‘আলার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায়। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: মু’মিনদের প্রতিটি কাজই কল্যাণকর। যদি সুখ শান্তি আসে তাহলে শুকরিয়া আদায় করে এটা তার জন্য কল্যাণকর। পক্ষান্তরে যদি বিপদ-আপদ আসে তাহলে ধৈর্য ধারণ করে, এটাও তার জন্য কল্যাণকর। (সহীহ মুসলিম হা: ২৯৯৯)



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. যে জাতির কাছে আল্লাহ তা‘আলা নাবী প্রেরণ করেছেন তাদেরকে বিভিন্ন বিপদ-আপদ দ্বারা পরীক্ষা করেছেন।

২. আল্লাহ তা‘আলা সুখ-শান্তি দ্বারা মানুষকে পরীক্ষা করেন।

৩. মু’মিনদের জন্য সর্বাবস্থায় কল্যাণ রয়েছে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৯৪-৯৫ নং আয়াতের তাফসীর:

এখানে আল্লাহ তা'আলা সংবাদ দিচ্ছেন যে, পূর্ববর্তী যেসব উম্মতের কাছে নবীদেরকে প্রেরণ করা হয়েছিল তাদেরকে বিপদ-আপদ দিয়ে এবং সুখ-শান্তির মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়েছিল। (আরবী) শব্দের অর্থ হচ্ছে শারীরিক কষ্ট এবং দৈহিক রোগ অসুস্থতা। আর (আরবী) হচ্ছে ঐ কষ্ট যা দারিদ্রের কারণে হয়ে থাকে। মহান আল্লাহর উদ্দেশ্য এই যে, তারা হয়তো তার দিকে প্রত্যাবর্তন করবে, তাঁকে ভয় করবে এবং সেই বিপদ ও কষ্ট দূর হওয়ার জন্যে তার কাছে আবেদন ও প্রার্থনা করবে। মূল বক্তব্য হচ্ছে এই যে, আল্লাহ তাদেরকে কষ্ট ও বিপদ-আপদের মধ্যে নিপতিত করেছিলেন, যেন তারা তাঁর সামনে বিনয় প্রকাশ করে। কিন্তু তারা তা করেনি। আল্লাহ পাক বলেনঃ এর পরেও আমি তাদের আর্থিক অবস্থা স্বচ্ছল করে দিলাম। এর দ্বারাও তাদেরকে পরীক্ষা করাই ছিল আমার উদ্দেশ্য। এজন্যেই তিনি বলেনঃ “অতঃপর আমি তাদের দুরবস্থাকে সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য দ্বারা পরিবর্তন করে দিলাম। রোগের স্থলে সুস্থতা দান করলাম। দারিদ্রের স্থলে ধন-সম্পদ প্রদান করলাম। এর দ্বারা আমার উদ্দেশ্য ছিল এই যে, হয়তো তারা আমার কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করবে। কিন্তু তারা তা করলো না।” (আরবী) অর্থাৎ তারা ধনে-মালে ও সন্তান-সন্ততিতে প্রাচুর্যের অধিকারী হয়ে গেল। ইরশাদ হচ্ছে-আমি তাদেরকে আনন্দ ও নিরানন্দ উভয় দ্বারাই পরীক্ষা করেছি, যেন তারা আমার দিকে ঝুঁকে পড়ে। কিন্তু না তারা আমার প্রতি কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করলো এবং না ধৈর্য ও নম্রতা অবলম্বন করলো। বরং বলতে শুরু করলো আমরা কষ্ট ও বিপদে-আপদে পতিত হয়ে গেলাম। এর পরে আমি তাদেরকে শান্তি ও আনন্দ দান করলাম। এখন তারা বলে উঠলো- “এই সুখ-শান্তি ও বিপদ-আপদ তো আমাদের পূর্বপুরুষদের যুগ থেকে চলে আসছে এবং সদা-সর্বদা এরূপ চক্রই হতে থাকবে। যুগ কখনও এরূপ হয় এবং কখনও ঐরূপ হয়। অনুরূপভাবে আমরাও কখনো শান্তি লাভ করবে এবং কখনো বিপদ-আপদে পতিত হবো। এটা কোন নতুন কথা নয়। তাদের উচিত ছিল এই ইংগিতেই আল্লাহর শাস্তি সম্পর্কে চিন্তা করা এবং তাঁর পরীক্ষার দিকে নিজেদের চিন্তার মোড় ফিরিয়ে নেয়া। কিন্তু মুমিনদের অবস্থা ছিল তাদের বিপরীত। তারা সুখ-শান্তির সময় আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানায় এবং বিপদ-আপদে ধৈর্যধারণ করে। যেমন সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “মুমিনের জন্যে বিস্মিত হতে হয় যে, আল্লাহ তার জন্যে যা কিছুরই ফায়সালা করেন তা তার জন্যে কল্যাণকরই হয়ে থাকে। যদি তার প্রতি বিপদ আপতিত হয় এবং সে ধৈর্যধারণ করে তবে সেটা তার জন্যে। মঙ্গলজনক হয়। আর যদি তার উপর সুখ-শান্তি নেমে আসে এবং তখন সে কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করে তবে সেটাও তার জন্যে কল্যাণকর।” সুতরাং মুমিন তো ঐ ব্যক্তি যে সুখ ও দুঃখ উভয় অবস্থাতেই মনে করে যে, তাকে আল্লাহর পক্ষ থেকে পরীক্ষা করা হচ্ছে। এ জন্যেই হাদীসে এসেছে-“বিপদ-আপদ মুমিনকে সদা পাপ থেকে পবিত্র করতে থাকে। (ইমাম তিরমীযীর (রঃ) বর্ণনায় রয়েছে (আরবী) অর্থাৎ “শেষ পর্যন্ত সে আল্লাহর সাথে এমন অবস্থায় সাক্ষাৎ করে যে, তার কোনই পাপ থাকে না।`) আর মুনাফিকের দৃষ্টান্ত হচ্ছে গাধার ন্যায়। তার উপর কি চাপানো হয়েছে তা সে জানে না এবং এটাও জানে না যে, কি উদ্দেশ্যে তাকে কাজে লাগানো হয়েছে, আর কেনই বা তাকে বাধা হয়েছে। এবং কেনই বা খুলে দেয়া হয়েছে।” এজন্যেই এর পরে আল্লাহ পাক বলেনঃ আকস্মিকভাবে আমি তাকে শাস্তিতে নিপতিত করেছি, যে শাস্তি সম্পর্কে তার কোন ধারণাও ছিল না। যেমন হাদীসে রয়েছে-“আকস্মিক মৃত্যু মুমিনের জন্যে রহমত এবং কাফিরের জন্যে দুঃখ ও আফসোসের কারণ।”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।