আল কুরআন


সূরা আল-আ‘রাফ (আয়াত: 84)

সূরা আল-আ‘রাফ (আয়াত: 84)



হরকত ছাড়া:

وأمطرنا عليهم مطرا فانظر كيف كان عاقبة المجرمين ﴿٨٤﴾




হরকত সহ:

وَ اَمْطَرْنَا عَلَیْهِمْ مَّطَرًا ؕ فَانْظُرْ کَیْفَ کَانَ عَاقِبَۃُ الْمُجْرِمِیْنَ ﴿۸۴﴾




উচ্চারণ: ওয়া আমতারনা-‘আলাইহিম মাতারান ফানজু র কাইফা কা-না ‘আ-কিবাতুল মুজ রিমীন।




আল বায়ান: আর আমি তাদের উপর বর্ষণ করেছিলাম বৃষ্টি। সুতরাং দেখ, অপরাধীদের পরিণতি কিরূপ ছিল।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮৪. আর আমরা তাদের উপর ভীষণভাবে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। কাজেই দেখুন, অপরাধীদের পরিণাম কিরূপ হয়েছিল।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: তাদের উপর এক পাথরের বৃষ্টি বর্ষিয়ে দিলাম। তারপর দেখ, অপরাধীদের পরিণতি কী হয়েছিল!




আহসানুল বায়ান: (৮৪) তাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম,[1] সুতরাং অপরাধীদের পরিণাম কী হয়েছিল, তা লক্ষ্য কর। [2]



মুজিবুর রহমান: অতঃপর আমি তাদের উপর মুষলধারে বারিপাত ঘটালাম, অতঃপর লক্ষ্য কর, অপরাধী লোকদের পরিণাম কি হয়েছিল।



ফযলুর রহমান: আমি তাদের ওপর (পাথরের) প্রবল বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। অতএব দেখ, অপরাধীদের কেমন পরিণতি হয়েছে।



মুহিউদ্দিন খান: অতএব, দেখ গোনাহগারদের পরিণতি কেমন হয়েছে।



জহুরুল হক: আর তাদের উপরে আমরা বর্ষণ করেছিলাম এক বর্ষণ। অতএব দেখো, অপরাধীদের পরিণাম কেমন হয়েছিল?



Sahih International: And We rained upon them a rain [of stones]. Then see how was the end of the criminals.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ৮৪. আর আমরা তাদের উপর ভীষণভাবে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। কাজেই দেখুন, অপরাধীদের পরিণাম কিরূপ হয়েছিল।(১)


তাফসীর:

(১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ আমার উম্মতের জন্য সবচেয়ে বেশী ভয় পাচ্ছি যে, তারা লুতের জাতির কাজ করে বসবে’। [তিরমিযীঃ ১৪৫৭] অন্য বর্ণনায় এসেছে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি আল্লাহ ব্যতীত অন্য কারো জন্য যবেহ করে আল্লাহ তাকে লা'নত করেছেন, যে ব্যক্তি যমীনের সীমানা পরিবর্তন করে তাকে আল্লাহ লা'নত করেছেন, যে ব্যক্তি কোন অন্ধ ব্যক্তিকে পথ ভুলিয়ে দেয় তাকে আল্লাহ লা'নত করেছেন, যে ব্যক্তি পিতা-মাতাকে গালি দেয় আল্লাহ তাকে লা'নত করেছেন, যে ব্যক্তি তার আপন মনিব ব্যতীত অন্য কাউকে মনিব বানায় আল্লাহ তাকে লা'নত করেছেন, আর যে ব্যক্তি লুতের জাতির কাজ করে তাকেও আল্লাহ লা'নত করেছেন, আর যে ব্যক্তি লুতের জাতির কাজ করে তাকেও আল্লাহ লা'নত করেছেন, আর যে ব্যক্তি লুতের জাতির কাজ করে তাকেও আল্লাহ লা'নত করেছেন। [মুসনাদে আহমাদঃ ১/৩০৯]

অন্য হাদীসে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যদি কাউকে তোমরা লুত জাতির কাজ করতে দেখ তবে যে এ কাজ করছে এবং যার সাথে করা হচ্ছে উভয়কে হত্যা কর। [আবু দাউদঃ ৪৪৬২]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (৮৪) তাদের উপর মুষলধারে বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম,[1] সুতরাং অপরাধীদের পরিণাম কী হয়েছিল, তা লক্ষ্য কর। [2]


তাফসীর:

[1] অথবা তাদের উপর এক প্রকার বৃষ্টি বর্ষণ করেছিলাম। এই বিশেষ ধরনের মুষলধারে বৃষ্টি কি ছিল? পাথরের বৃষ্টি। যেমন, অন্যত্র বলেন, {وَأَمْطَرْنَا عَلَيْهَا حِجَارَةً مِنْ سِجِّيلٍ مَنْضُودٍ} অর্থাৎ, তার উপর ক্রমাগত ঝামা পাথর বর্ষণ করলাম। (সূরা হূদ ৮২) এর আগে বলেছেন, {جَعَلْنَا عَالِيَهَا سَافِلَهَا} অর্থাৎ, আমি উক্ত জনপদের উপরি ভাগকে নীচে করে দিলাম।

[2] অর্থাৎ, হে মুহাম্মাদ! দেখ, যারা প্রকাশ্যে আল্লাহর অবাধ্যতা করে এবং নবীদেরকে মিথ্যাজ্ঞান করে তাদের পরিণাম কি হয়?


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ৮০-৮৪ নং আয়াতের তাফসীরঃ



সালেহ (আঃ) ও তাঁর জাতির কথা আলোচনা করার পর আল্লাহ তা‘আলা লূত (আঃ) ও তাঁর জাতির আলোচনা নিয়ে এসেছেন। লূত (আঃ) ছিলেন ইবরাহীম (আঃ)-এর ভাতিজা। চাচার সাথে তিনিও বাবেল শহর থেকে হিজরত করে বায়তুল মুকাদ্দাসের অদূরে কেন‘আনে চলে আসেন। আল্লাহ তা‘আলা লূত (আঃ)-কে নবুওয়াত দান করেন এবং কেন‘আন থেকে অল্প দূরে জর্ডান ও বায়তুল মুকদ্দাসের মধ্যবর্তী ‘সাদুম’ এলাকার অধিবাসীদের পথ প্রদশর্নের জন্য প্রেরণ করেন। এ এলাকায় স্বা’বাহ, সা’ওয়াহ, আমুরাহ, দূমা ও সাদুম নামে বড় বড় পাঁচটি শহর ছিল। কুরআন মাজীদে বিভিন্ন স্থানে এদের সমষ্টিকে ‘মু‘তাফেকাহ’ (সূরা নাজম৫৩:৫৩) বা ‘মু‘তাফেকাত’ (সূরা তাওবাহ ৯:৭০) শব্দে বর্ণনা করেছে। যার অর্থ জনপদ উল্টানো শহরগুলো। এ পাঁচটি শহরের মধ্যে সাদুম ছিল বড় এবং রাজধানী।



লূত (আঃ)-এর দাওয়াত:



লূত (আঃ)-এর জাতি আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত ছেড়ে বহুত্ববাদের ইবাদত ও কুফরীতে লিপ্ত ছিল। পূর্বেকার ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলোর ন্যায় তারাও চূড়ান্ত বিলাস-ব্যসনে গা ভাসিয়ে নানাবিধ দুষ্কর্ম চর্চা করত। রাহাজানি, নিজেদের মজলিসেই প্রকাশ্যে গর্হিত কাজ এমনকি পুংমৈথুন বা সমকামিতার মত নোংরামিতে তারা লিপ্ত ছিল, যা ইতোপূর্বে কোন জাতির মধ্যে দেখা যায়নি। জন্তু-জানোয়ারের চেয়ে নিকৃষ্ট ও হঠকারী এ জাতির হিদায়াতের জন্য আল্লাহ তা‘আলা লূত (আঃ)-কে প্রেরণ করেন। তিনি পূর্ববর্তী নাবীদের ন্যায় তাওহীদের দাওয়াত দিয়ে বললেন:



(اِنِّیْ لَکُمْ رَسُوْلٌ اَمِیْنٌﯱ فَاتَّقُوا اللہَ وَاَطِیْعُوْنِﯲﺆوَمَآ اَسْئَلُکُمْ عَلَیْھِ مِنْ اَجْرٍﺆ اِنْ اَجْرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ)



“আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল। সুতরাং তোমরা আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় কর‎ এবং আমার আনুগত্য কর‎। আমি তার জন্য তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাই না, আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকটই আছে।” (সূরা শু‘আরা ২৬:১৬২-১৬৪) অতঃপর তাদের বদ-অভ্যাসের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন:



(اَتَاْتُوْنَ الذُّکْرَانَ مِنَ الْعٰلَمِیْنَ)



“বিশ্বজগতের মধ্যে তো তোমরাই পুরুষের সাথে কুকর্ম কর।” (সূরা শু‘আরা ২৬:১৬৫)



এ কথাগুলোই অত্র সূরার ৮০-৮১ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।



(مَا سَبَقَكُمْ بِهَا مِنْ أَحَدٍ)



‘তোমদের পূর্বে বিশ্বে আর কেউই করেনি’ অর্থাৎ লূত (আঃ)-এর সম্প্রদায় সর্বপ্রথম لواطة বা সমকামিতায় লিপ্ত হয়। এদের পূর্বে কোন জাতিই পৃথিবীর বুকে এ কাজ করেনি। শুধু তাই নয়, তাদের মাঝে সুদর্শন কোন মেহমান আগমন করলেও তারা তাদের সাথে এ কুকর্ম করতে দ্বিধাবোধ করত না। যেমন লূত (আঃ)-এর বাড়িতে ফেরেশতারা সুদর্শন যুবকের রূপ ধারণ করে আগমন করলে মেহমান মনে করে তাদের সাথে কুকর্ম করার জন্য পিড়াপিড়ি শুরু করে। লূত (আঃ) তাদেরকে বললেন, আমার মেয়েরা আছে তাদেরকে বিবাহ করে তোমরা তোমাদের জৈবিক চাহিদা মেটাও। তারা বলল, ‘তুমি তো জান, তোমার কন্যাদেরকে আমাদের কোন প্রয়োজন নেই; আমরা কী চাই তাও তো তুমি জান।’ (সূরা হূদ ১১:৭৮-৭৯) লূত (আঃ) তাদেরকে এহেন মন্দ কর্ম থেকে বারণ করলে জবাবে তারা বলল: ‘এদেরকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও, এরা এমন মানুষ যারা পবিত্র থাকতে চায়।” অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(لَئِنْ لَّمْ تَنْتَھِ یٰلُوْطُ لَتَکُوْنَنَّ مِنَ الْمُخْرَجِیْنَ)



‘হে লূত! তুমি যদি বিরত না হও, তবে অবশ্যই তুমি নির্বাসিত হবে।’ (সূরা শুআরা ২৬:১৬৭) এভাবেই তারা লূত (আঃ)-এর দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করে শির্ক, কুফরী, আল্লাহ তা‘আলাদ্রোহী ও বেহায়াপনাপূর্ণ কাজে লিপ্ত থাকে।



গযবের বিবরণ:



লূত (আঃ)-এর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করলে তাদের ওপর আল্লাহ তা‘আলার শাস্তি অবধারিত হয়ে যায়। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে এবং লুত (আঃ)-এর স্ত্রীকে-সহ পাথর বৃষ্টি দ্বারা ধ্বংস করে দেন। কেননা লূত (আঃ)-এর স্ত্রী ঈমান আনেনি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(فَلَمَّا جَا۬ئَ اَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِیَھَا سَافِلَھَا وَاَمْطَرْنَا عَلَیْھَا حِجَارَةً مِّنْ سِجِّیْلٍﺃ مَّنْضُوْدٍ৫ لا مُّسَوَّمَةً عِنْدَ رَبِّکَﺚ وَمَا ھِیَ مِنَ الظّٰلِمِیْنَ بِبَعِیْدٍ)



“অতঃপর যখন আমার আদেশ আসল তখন আমি জনপদকে ওপর নিচ করে দিলাম এবং তাদের ওপর ক্রমাগত বর্ষণ করলাম প্রস্তর কঙ্কর, যা তোমার প্রতিপালকের নিকট চিহি“ত ছিল। এটা জালিমদের হতে দূরে নয়।” (সূরা হূদ ১১:৮২-৮৩)



লূত (আঃ)-এর অবাধ্য জাতির ওপর গযবের বিবরণ সূরা হূদের ৬৯-৮৩নং আয়াতের তাফসীরে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।



রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: আমার উম্মাতের ব্যাপারে বেশি আশংকা করি যে, তারা লূত (আঃ)-এর জাতির অপরাধে নিপতিত হবে। (তিরমিযী হা: ১৪৫৭, ইবনু মাযাহ হা: ২৫৬৩, হাসান)



যারা এরূপ কাজ করবে তাদের হত্যা করা হবে। এমনকি যদি পশুর সাথে এরূপ কাজ করে তাহলে তাকে ও পশুকে হত্যা করা হবে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: যে ব্যক্তি পশুর সাথে খারাপ কাজ করবে তাকে ও পশুকে হত্যা কর। (আবূ দাঊদ হা: ৪৪৬৫, তিরমিযী হা: ১৪৫৫, সহীহ)



সুতরাং এমন খারাপ কাজ থেকে অবশ্যই বেঁচে থাকতে হবে। এসব অপকর্ম করলে ধ্বংস অনিবার্য।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. লূত (আঃ)-এর জাতির অন্যান্য অপরাধের মধ্যে অন্যতম প্রধান অপরাধ ছিল সমকামিতা, যার কারণে পাথরের বৃষ্টির মত শাস্তির মুখোমুখি হয়েছে।

২. কোন জাতি এমন কাজে লিপ্ত হলে তাদের ধ্বংস অনিবার্য।

৩. ঈমান না থাকলে বংশ বা আত্মীয়তা সম্পর্ক আল্লাহ তা‘আলা গযব থেকে রক্ষা করতে পারে না। যেমন লূত (আঃ)-এর স্ত্রী গযব থেকে রক্ষা পায়নি।

৪. কোন জাতির কাছে নাবী-রাসূল অথবা সংস্কারক পাঠিয়ে উপদেশ না দেয়া পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা শাস্তি দেন না।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ৮৩-৮৪ নং আয়াতের তাফসীর:

আল্লাহ তা'আলা বলেন- আমি লূত (আঃ)-কে এবং তার পরিবারবর্গকে বাঁচিয়ে নিয়েছিলাম। তার পরিবারের লোক ছাড়া আর কেউই ঈমান আনেনি। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ “যারা মুমিন ছিল তাদেরকে (শাস্তির স্থান হতে) বের করে এনেছিলাম। একটি বাড়ী ছাড়া তো আর কোন মুসলমান বাড়ীই ছিল না। কিন্তু তার স্ত্রীকে বাঁচানো হয়নি। কেননা, সে ঈমান আনেনি, বরং তার কওমের ধর্মের উপরই রয়ে গিয়েছিল। সে লূত (আঃ) -এর বিরুদ্ধবাদীদের সাথে যোগাযোগ করতো। হযরত লূত (আঃ)-এর কাছে ফেরেশতাগণ যুবকদের রূপ ধরে যে আগমন করতেন এবং তাঁর কওমের লোকেরাও যে তা অবহিত হয়ে যেতো, এ সবকিছুই ঐ মহিলার গুপ্তচরগিরির কারণেই সম্ভব হতো। আল্লাহ তা'আলা হযরত লূত (আঃ)-কে নির্দেশ দিয়েছিলেন যে, তিনি যেন রাত্রে স্বীয় পরিবারের লোকদেরকে নিয়ে গ্রাম ছেড়ে চলে যান। কিন্তু তাঁর স্ত্রী যেন সেট জানতে না পারে। তাকে নিয়ে যেতে হবে না। আবার কেউ কেউ বলেন যে, তাঁর সেই স্ত্রীও তাঁদের সাথে গিয়েছিল। গ্রাম থেকে বের হওয়া মাত্রই যখন তার কওমের উপর শাস্তি অবতীর্ণ হলো তখন ঐ মহিলাটি সহানুভূতির দৃষ্টিতে তাদের। দিকে ঘুরে ঘুরে দেখছিল। শেষ পর্যন্ত সেও শাস্তিতে জড়িয়ে পড়েছিল। কিন্তু সঠিক কথা এই যে, সে গ্রাম থেকে বের হয়নি এবং হযরত লূত (আঃ) তাকে গ্রাম হতে বের হওয়ার সংবাদই দেননি। বরং সে কওমের সাথেই রয়ে গিয়েছিল। এ জন্যেই আল্লাহ পাক বলেনঃ (আরবী) অর্থাৎ আবার (আরবী) ও বলা হয়েছে এবং তাফসীর বিল লাযিম হচ্ছে এটাই।

(আরবী) -এই আয়াতটি (১১৪ ৮২) এই উক্তিরই তাফসীর করছে। এই জন্যেই আল্লাহ তা'আলা বলেন, পাপকার্য সম্পাদন ও মিথ্যা প্রতিপন্ন করণের ফলে অপরাধীদের উপর কিরূপে শাস্তি অবতীর্ণ হয়েছিল তা লক্ষ্য কর। ইমাম আবু হানিফা (রঃ) বলেন যে, সমমৈথুনকারীকে উপর থেকে নীচে নিক্ষেপ করতে হবে এবং তার উপর পাথর বর্ষণ করতে হবে। কেননা, লুত (আঃ)-এর কওমের সাথেও শাস্তির এ পন্থাই অবলম্বন করা হয়েছিল। কোন কোন আলেমের মতে তাকে প্রস্তরাঘাতে হত্যা করে দিতে হবে, সে বিবাহিত হাক বা অবিবাহিতই হাক। ইমাম শাফিঈ (রঃ)-এর একটি বর্ণনা এই রূপই রয়েছে। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমরা যাকেই কওমে লূত (আঃ)-এর আমলের ন্যায় আমল করতে দেখতে পাবে, তাকেই তোমরা হত্যা করে ফেলবে, যে ঐ রূপ আমল করবে তাকেও এবং যার সাথে করবে তাকেও।” (এ হাদীসটি ইমাম আবু দাউদ (রঃ), ইমাম তিরমীযী (রঃ) এবং ইমাম ইবনে মাজাহ (রঃ) বর্ণনা করেছেন) কেউ কেউ বলেন যে, সমমৈথুনকারী ব্যভিচারীর মতই। সুতরাং সে বিবাহিত হলে তাকে প্রস্তর নিক্ষেপে হত্যা করা হবে এবং অবিবাহিত হলে একশ’ কোড়া মারতে হবে। স্ত্রী লোকদের সাথে এ কাজ করলেও সেটা সমমৈথুনরূপে পরিগণিত হবে। ইজমায়ে উম্মত দ্বারা এটাকেও অবৈধ করা হয়েছে। এর বিপরীত একটি মাত্র অতি বিরল উক্তি রয়েছে। এরও নিষিদ্ধতায় রাসূলুল্লাহ (সঃ) হতে কয়েকটি হাদীস বর্ণিত আছে। সূরায়ে বাকারায় এর বিস্তারিত বিবরণ দেয়া হয়েছে।





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।