সূরা আল-আ‘রাফ (আয়াত: 81)
হরকত ছাড়া:
إنكم لتأتون الرجال شهوة من دون النساء بل أنتم قوم مسرفون ﴿٨١﴾
হরকত সহ:
اِنَّکُمْ لَتَاْتُوْنَ الرِّجَالَ شَهْوَۃً مِّنْ دُوْنِ النِّسَآءِ ؕ بَلْ اَنْتُمْ قَوْمٌ مُّسْرِفُوْنَ ﴿۸۱﴾
উচ্চারণ: ইন্নাকুম লাতা’তূনার রিজা-লা শাহওয়াতাম মিন দূ নিন নিছাই বাল আনতুম কাওমুম মুছরিফূন।
আল বায়ান: ‘তোমরা তো নারীদের ছাড়া পুরুষদের সাথে কামনা পূর্ণ করছ, বরং তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী কওম’।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৮১. তোমরা তো কাম-তৃপ্তির জন্য নারীদের ছেড়ে পুরুষের কাছে যাও, বরং তোমরা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।
তাইসীরুল ক্বুরআন: তোমরা যৌন তাড়নায় স্ত্রীদের বাদ দিয়ে পুরুষদের নিকট গমন করছ, তোমরা হচ্ছ এক সীমালঙ্ঘনকারী সম্প্রদায়।
আহসানুল বায়ান: (৮১) তোমরা তো কাম-তৃপ্তির জন্য নারী ছেড়ে[1] পুরুষের নিকট গমন কর,[2] তোমরা তো সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।’ [3]
মুজিবুর রহমান: তোমরা স্ত্রীলোকদের বাদ দিয়ে পুরুষদের দ্বারা নিজেদের যৌন ইচ্ছা নিবারণ করে নিচ্ছ। প্রকৃত পক্ষে, তোমরা হচ্ছ সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।
ফযলুর রহমান: “তোমরা কাম-লালসা পূরণে নারীদের পরিবর্তে পুরুষদেরকে ব্যবহার করছ। তোমরা তো এক সীমালংঘনকারী সমপ্রদায়।”
মুহিউদ্দিন খান: তোমরা তো কামবশতঃ পুরুষদের কাছে গমন কর নারীদেরকে ছেড়ে। বরং তোমরা সীমা অতিক্রম করেছ।
জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ তোমরা তো কামাতুর হয়ে কামিনীদের ছেড়ে দিয়ে পুরুষদের কাছে আস। না, তোমরা সীমালঙ্ঘনকারী লোক।
Sahih International: Indeed, you approach men with desire, instead of women. Rather, you are a transgressing people."
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৮১. তোমরা তো কাম-তৃপ্তির জন্য নারীদের ছেড়ে পুরুষের কাছে যাও, বরং তোমরা সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৮১) তোমরা তো কাম-তৃপ্তির জন্য নারী ছেড়ে[1] পুরুষের নিকট গমন কর,[2] তোমরা তো সীমালংঘনকারী সম্প্রদায়।’ [3]
তাফসীর:
[1] যারা হল কাম-চরিতার্থ করার প্রকৃত স্থান এবং যৌনতৃপ্তি লাভের আসল জায়গা। এতে এই ইঙ্গিত পাওয়া যায় যে, তাদের প্রকৃতির বিকৃতি ঘটেছিল। অর্থাৎ, মহান আল্লাহ পুরুষদের যৌনক্ষুধা নিবৃত্ত করার জন্য নারীদের লজ্জাস্থানকে তার প্রকৃত স্থান হিসাবে নির্ধারণ করেছেন। কিন্তু এই যালিমরা সীমা অতিক্রম করে পুরুষদের পায়খানার দ্বারকে এই কাজের জন্য ব্যবহার করতে আরম্ভ করে দেয়।
[2] অর্থাৎ, পুরুষদের কাছে তোমরা কাম-চরিতার্থ করার উদ্দেশ্যে এই অশ্লীল কাজের জন্যই যাও। এ ছাড়া তোমাদের আর এমন কোন উদ্দেশ্য থাকে না, যা বিবেক-বুদ্ধির অনুকূল হয়। এ দিক দিয়ে তারা একেবারে পশুদের মত ছিল, যারা কেবল কাম-চরিতার্থ করার জন্য একে অপরের উপর চড়ে।
[3] কিন্তু বর্তমানে এই শুদ্ধ প্রকৃতি থেকে বিচ্যুতিকে এবং আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত সীমা লঙ্ঘনকেই পাশ্চাত্যের তথাকথিত ‘সভ্য’ জাতিরা ‘স্বাধীনতা’ বলে গ্রহণ করেছে। আর এটাই এখন মানুষের ‘মৌলিক অধিকার’ রূপে বিবেচিত হয়েছে। অতএব এ থেকে বাধা দেওয়ার অধিকার কারো নেই। তাই সেখানে এখন সমলিঙ্গী ব্যভিচারকে আইন-সংগত বলে সবীকৃতি দেওয়া হয়েছে! এটা এখন কোন অপরাধই নয়। فَإِنَّا للهِ وَإِنَّا إِلَيْهِ رَاجِعُوْنَ।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৮০-৮৪ নং আয়াতের তাফসীরঃ
সালেহ (আঃ) ও তাঁর জাতির কথা আলোচনা করার পর আল্লাহ তা‘আলা লূত (আঃ) ও তাঁর জাতির আলোচনা নিয়ে এসেছেন। লূত (আঃ) ছিলেন ইবরাহীম (আঃ)-এর ভাতিজা। চাচার সাথে তিনিও বাবেল শহর থেকে হিজরত করে বায়তুল মুকাদ্দাসের অদূরে কেন‘আনে চলে আসেন। আল্লাহ তা‘আলা লূত (আঃ)-কে নবুওয়াত দান করেন এবং কেন‘আন থেকে অল্প দূরে জর্ডান ও বায়তুল মুকদ্দাসের মধ্যবর্তী ‘সাদুম’ এলাকার অধিবাসীদের পথ প্রদশর্নের জন্য প্রেরণ করেন। এ এলাকায় স্বা’বাহ, সা’ওয়াহ, আমুরাহ, দূমা ও সাদুম নামে বড় বড় পাঁচটি শহর ছিল। কুরআন মাজীদে বিভিন্ন স্থানে এদের সমষ্টিকে ‘মু‘তাফেকাহ’ (সূরা নাজম৫৩:৫৩) বা ‘মু‘তাফেকাত’ (সূরা তাওবাহ ৯:৭০) শব্দে বর্ণনা করেছে। যার অর্থ জনপদ উল্টানো শহরগুলো। এ পাঁচটি শহরের মধ্যে সাদুম ছিল বড় এবং রাজধানী।
লূত (আঃ)-এর দাওয়াত:
লূত (আঃ)-এর জাতি আল্লাহ তা‘আলার ইবাদত ছেড়ে বহুত্ববাদের ইবাদত ও কুফরীতে লিপ্ত ছিল। পূর্বেকার ধ্বংসপ্রাপ্ত জাতিগুলোর ন্যায় তারাও চূড়ান্ত বিলাস-ব্যসনে গা ভাসিয়ে নানাবিধ দুষ্কর্ম চর্চা করত। রাহাজানি, নিজেদের মজলিসেই প্রকাশ্যে গর্হিত কাজ এমনকি পুংমৈথুন বা সমকামিতার মত নোংরামিতে তারা লিপ্ত ছিল, যা ইতোপূর্বে কোন জাতির মধ্যে দেখা যায়নি। জন্তু-জানোয়ারের চেয়ে নিকৃষ্ট ও হঠকারী এ জাতির হিদায়াতের জন্য আল্লাহ তা‘আলা লূত (আঃ)-কে প্রেরণ করেন। তিনি পূর্ববর্তী নাবীদের ন্যায় তাওহীদের দাওয়াত দিয়ে বললেন:
(اِنِّیْ لَکُمْ رَسُوْلٌ اَمِیْنٌﯱ فَاتَّقُوا اللہَ وَاَطِیْعُوْنِﯲﺆوَمَآ اَسْئَلُکُمْ عَلَیْھِ مِنْ اَجْرٍﺆ اِنْ اَجْرِیَ اِلَّا عَلٰی رَبِّ الْعٰلَمِیْنَ)
“আমি তোমাদের জন্য এক বিশ্বস্ত রাসূল। সুতরাং তোমরা আল্লাহ তা‘আলাকে ভয় কর এবং আমার আনুগত্য কর। আমি তার জন্য তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাই না, আমার পুরস্কার তো জগতসমূহের প্রতিপালকের নিকটই আছে।” (সূরা শু‘আরা ২৬:১৬২-১৬৪) অতঃপর তাদের বদ-অভ্যাসের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন:
(اَتَاْتُوْنَ الذُّکْرَانَ مِنَ الْعٰلَمِیْنَ)
“বিশ্বজগতের মধ্যে তো তোমরাই পুরুষের সাথে কুকর্ম কর।” (সূরা শু‘আরা ২৬:১৬৫)
এ কথাগুলোই অত্র সূরার ৮০-৮১ নং আয়াতে উল্লেখ করা হয়েছে।
(مَا سَبَقَكُمْ بِهَا مِنْ أَحَدٍ)
‘তোমদের পূর্বে বিশ্বে আর কেউই করেনি’ অর্থাৎ লূত (আঃ)-এর সম্প্রদায় সর্বপ্রথম لواطة বা সমকামিতায় লিপ্ত হয়। এদের পূর্বে কোন জাতিই পৃথিবীর বুকে এ কাজ করেনি। শুধু তাই নয়, তাদের মাঝে সুদর্শন কোন মেহমান আগমন করলেও তারা তাদের সাথে এ কুকর্ম করতে দ্বিধাবোধ করত না। যেমন লূত (আঃ)-এর বাড়িতে ফেরেশতারা সুদর্শন যুবকের রূপ ধারণ করে আগমন করলে মেহমান মনে করে তাদের সাথে কুকর্ম করার জন্য পিড়াপিড়ি শুরু করে। লূত (আঃ) তাদেরকে বললেন, আমার মেয়েরা আছে তাদেরকে বিবাহ করে তোমরা তোমাদের জৈবিক চাহিদা মেটাও। তারা বলল, ‘তুমি তো জান, তোমার কন্যাদেরকে আমাদের কোন প্রয়োজন নেই; আমরা কী চাই তাও তো তুমি জান।’ (সূরা হূদ ১১:৭৮-৭৯) লূত (আঃ) তাদেরকে এহেন মন্দ কর্ম থেকে বারণ করলে জবাবে তারা বলল: ‘এদেরকে তোমাদের জনপদ থেকে বের করে দাও, এরা এমন মানুষ যারা পবিত্র থাকতে চায়।” অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(لَئِنْ لَّمْ تَنْتَھِ یٰلُوْطُ لَتَکُوْنَنَّ مِنَ الْمُخْرَجِیْنَ)
‘হে লূত! তুমি যদি বিরত না হও, তবে অবশ্যই তুমি নির্বাসিত হবে।’ (সূরা শুআরা ২৬:১৬৭) এভাবেই তারা লূত (আঃ)-এর দাওয়াতকে প্রত্যাখ্যান করে শির্ক, কুফরী, আল্লাহ তা‘আলাদ্রোহী ও বেহায়াপনাপূর্ণ কাজে লিপ্ত থাকে।
গযবের বিবরণ:
লূত (আঃ)-এর দাওয়াত প্রত্যাখ্যান করলে তাদের ওপর আল্লাহ তা‘আলার শাস্তি অবধারিত হয়ে যায়। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে এবং লুত (আঃ)-এর স্ত্রীকে-সহ পাথর বৃষ্টি দ্বারা ধ্বংস করে দেন। কেননা লূত (আঃ)-এর স্ত্রী ঈমান আনেনি। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(فَلَمَّا جَا۬ئَ اَمْرُنَا جَعَلْنَا عَالِیَھَا سَافِلَھَا وَاَمْطَرْنَا عَلَیْھَا حِجَارَةً مِّنْ سِجِّیْلٍﺃ مَّنْضُوْدٍ৫ لا مُّسَوَّمَةً عِنْدَ رَبِّکَﺚ وَمَا ھِیَ مِنَ الظّٰلِمِیْنَ بِبَعِیْدٍ)
“অতঃপর যখন আমার আদেশ আসল তখন আমি জনপদকে ওপর নিচ করে দিলাম এবং তাদের ওপর ক্রমাগত বর্ষণ করলাম প্রস্তর কঙ্কর, যা তোমার প্রতিপালকের নিকট চিহি“ত ছিল। এটা জালিমদের হতে দূরে নয়।” (সূরা হূদ ১১:৮২-৮৩)
লূত (আঃ)-এর অবাধ্য জাতির ওপর গযবের বিবরণ সূরা হূদের ৬৯-৮৩নং আয়াতের তাফসীরে বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: আমার উম্মাতের ব্যাপারে বেশি আশংকা করি যে, তারা লূত (আঃ)-এর জাতির অপরাধে নিপতিত হবে। (তিরমিযী হা: ১৪৫৭, ইবনু মাযাহ হা: ২৫৬৩, হাসান)
যারা এরূপ কাজ করবে তাদের হত্যা করা হবে। এমনকি যদি পশুর সাথে এরূপ কাজ করে তাহলে তাকে ও পশুকে হত্যা করা হবে। রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: যে ব্যক্তি পশুর সাথে খারাপ কাজ করবে তাকে ও পশুকে হত্যা কর। (আবূ দাঊদ হা: ৪৪৬৫, তিরমিযী হা: ১৪৫৫, সহীহ)
সুতরাং এমন খারাপ কাজ থেকে অবশ্যই বেঁচে থাকতে হবে। এসব অপকর্ম করলে ধ্বংস অনিবার্য।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. লূত (আঃ)-এর জাতির অন্যান্য অপরাধের মধ্যে অন্যতম প্রধান অপরাধ ছিল সমকামিতা, যার কারণে পাথরের বৃষ্টির মত শাস্তির মুখোমুখি হয়েছে।
২. কোন জাতি এমন কাজে লিপ্ত হলে তাদের ধ্বংস অনিবার্য।
৩. ঈমান না থাকলে বংশ বা আত্মীয়তা সম্পর্ক আল্লাহ তা‘আলা গযব থেকে রক্ষা করতে পারে না। যেমন লূত (আঃ)-এর স্ত্রী গযব থেকে রক্ষা পায়নি।
৪. কোন জাতির কাছে নাবী-রাসূল অথবা সংস্কারক পাঠিয়ে উপদেশ না দেয়া পর্যন্ত আল্লাহ তা‘আলা শাস্তি দেন না।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৮০-৮১ নং আয়াতের তাফসীর:
‘ঐ সময়টিও স্মরণযোগ্য যখন আমি (আল্লাহ) লুত (আঃ)-কে নবীরূপে প্রেরণ করেছিলাম । সে তার কওমকে আল্লাহর পথে আহ্বান করেছিল। লুত (আঃ) ছিলেন নূত ইবনে হারূন ইবনে আযর। তিনি হযরত ইবরাহীম খলীলুল্লাহ (আঃ)-এর ভ্রাতুস্পুত্র ছিলেন। হযরত ইবরাহীম (আঃ)-এর সাথে তিনিও ঈমান আনয়ন করেছিলেন এবং তাঁর সাথে সিরিয়ার দিকে হিজরত করেছিলেন। আল্লাহ তা'আলা তাঁকে আহলে সুদূমের নিকট পাঠিয়েছিলেন। তিনি সুদূমবাসীকে আল্লাহর দিকে ডাকতেন এবং সৎকাজের আদেশ ও মন্দ কাজ হতে নিষেধ করতেন। তারা এমন নির্লজ্জতাপূর্ণ কাজের আবিষ্কার করেছিল যা হযরত আদম (আঃ) থেকে নিয়ে আজ পর্যন্ত তাদের ছাড়া অন্য কোন জাতি সেই কাজে লিপ্ত হয়নি। তারা নারীদেরকে ছেড়ে পুরুষদের কাছে কু-কাজের জন্যে আসতো। এ কাজের কল্পনা আজ পর্যন্ত কারো মনেও জাগ্রত হয় নি এবং আজ পর্যন্ত বানী আদম এ কাজে কখনও জড়িত হয়নি। জামে’ দামেশকের প্রতিষ্ঠাতা উমাইয়া খলীফা ওয়ালীদ ইবনে আব্দুল মালিক বলেছিলেনঃ “যদি আল্লাহ তা'আলা কুরআন কারীমে লূত সম্প্রদায়ের ঘটনা বর্ণনা না করতেন তবে আমার এ বিশ্বাসই হতো না যে, কোন পুরুষ তাক অন্য কোন পুরুষ লোকের সাথে এরূপ কাজ করতে পারে!” সুতরাং হযরত লুত (আঃ) স্বীয় সম্প্রদায়কে সম্বোধন করে বললেনঃ “তোমরা এমন অশ্লীল ও কুকর্মে লিপ্ত হয়ে পড়েছে যে কাজ তোমাদের পূর্বে বিশ্বে আর কেউই করে নি। তোমরা নারীদেরকে ছেড়ে পুরুষ লোকদের কাছে আসছে এবং তাদের দ্বারা নিজেদের যৌন ক্রিয়া নিবারণ করে নিচ্ছো? বাস্তবিকই এটা তোমাদের সীমালংঘন ও বড় রকমের অজ্ঞতাই বটে! যে জিনিসের যেটা স্থান নয় তোমরা ওকে ওরই স্থান বানিয়ে নিচ্ছো।” এরপর অন্য আয়াতে আল্লাহ পাক (হযরত লুতের আঃ কথা নকল করে) বলেনঃ “এরা আমার কন্যা যার সাথে চাও সম্পর্ক স্থাপন কর।” তারা বললোঃ “(হে নূত আঃ)! তুমি তো জান যে, তোমার এই পার্থিব কন্যাদের কোনই প্রয়োজন আমাদের নেই। যাদের প্রয়োজন আমাদের রয়েছে তা তোমার জানা আছে।” মুফসিরগণ বর্ণনা করেছেন যে, পুরুষ নিজের প্রয়োজন পুরুষ দ্বারা পূর্ণ করে নিতো এবং নারীরাও তাদের প্রয়োজন নারীদের দ্বারাই পূর্ণ করে নিতো। আর ওটা ছাড়া তাদের কোন উপায়ও ছিল না।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।