সূরা আল-আ‘রাফ (আয়াত: 42)
হরকত ছাড়া:
والذين آمنوا وعملوا الصالحات لا نكلف نفسا إلا وسعها أولئك أصحاب الجنة هم فيها خالدون ﴿٤٢﴾
হরকত সহ:
وَ الَّذِیْنَ اٰمَنُوْا وَ عَمِلُوا الصّٰلِحٰتِ لَا نُکَلِّفُ نَفْسًا اِلَّا وُسْعَهَاۤ ۫ اُولٰٓئِکَ اَصْحٰبُ الْجَنَّۃِ ۚ هُمْ فِیْهَا خٰلِدُوْنَ ﴿۴۲﴾
উচ্চারণ: ওয়াল্লাযীনা আ-মানূওয়া ‘আমিলুসসা-লিহা-তি লা-নুকালিলফুনাফছান ইল্লা-উছ‘আহা উলাইকা আসহা-বুল জান্নাতি হুম ফীহা-খা-লিদূ ন।
আল বায়ান: আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে, আমি কোন ব্যক্তিকে তার সাধ্যের বাইরে দায়িত্ব অর্পণ করি না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা সেখানে হবে স্থায়ী।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪২. আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে- আমরা কারো উপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত ভার চাপিয়ে দেই না। তারাই জান্নাতবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আর যারা ঈমান আনে আর সৎকাজ করে- আমি কারো উপর সাধ্যের অতিরিক্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেইনা- তারা হবে জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে তারা হবে স্থায়ী।
আহসানুল বায়ান: (৪২) আমি কাউকেও তার সাধ্যাতীত ভার অর্পণ করি না।[1] যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে, তারাই হবে জান্নাতবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
মুজিবুর রহমান: যারা ঈমান এনেছে ও ভাল কাজ করেছে এমন কোন ব্যক্তিকে আমি তার সাধ্যাতীত দায়িত্ব অর্পণ করিনা - তারাই হবে জান্নাতবাসী, সেখানে তারা চিরকাল অবস্থান করবে।
ফযলুর রহমান: আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে— আমি কাউকে তার সাধ্যের অতীত কাজ দেই না— তারাই জান্নাতের অধিবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
মুহিউদ্দিন খান: যারা বিশ্বাস স্থাপন করেছে এবং সৎকর্ম করেছে আমি কাউকে তার সামর্থ্যের চাইতে বেশী বোঝা দেই না। তারাই জান্নাতের অধিবাসী। তারা তাতেই চিরকাল থাকবে।
জহুরুল হক: আর যারা ঈমান এনেছে এবং সৎকর্ম করছে -- আমরা কোনো সত্ত্বাকে ভারাক্রান্ত করি না তার ক্ষমতার অতিরিক্ত, -- এরাই হচ্ছে জান্নাতের বাসিন্দা, তারা সেখানে থাকবে চিরকাল।
Sahih International: But those who believed and did righteous deeds - We charge no soul except [within] its capacity. Those are the companions of Paradise; they will abide therein eternally.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪২. আর যারা ঈমান এনেছে ও সৎকাজ করেছে- আমরা কারো উপর তার সাধ্যের অতিরিক্ত ভার চাপিয়ে দেই না। তারাই জান্নাতবাসী, সেখানে তারা স্থায়ী হবে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪২) আমি কাউকেও তার সাধ্যাতীত ভার অর্পণ করি না।[1] যারা বিশ্বাস করে ও সৎকাজ করে, তারাই হবে জান্নাতবাসী, সেখানে তারা চিরকাল থাকবে।
তাফসীর:
[1] এটা পূর্বাপরের সাথে সম্পর্কহীন বাক্য। এ বাক্যের উদ্দেশ্য হল, এ কথা জানিয়ে দেওয়া যে, ঈমান এবং নেক আমল কোন এমন জিনিস নয়, যা মানুষের শক্তির ঊর্ধ্বে এবং মানুষ তা অর্জন করার সামর্থ্য রাখে না। বরং প্রতিটি মানুষ অতি সহজে ঈমান ও আমলের পথ অবলম্বন করতে পারে এবং তার দাবীসমূহ পূরণ করতে পারে।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪০-৪৩ নং আয়াতের তাফসীর:
যারা দুনিয়াতে ঈমান আনেনি বরং ঈমান আনতে অহঙ্কার করেছে মৃত্যুর পর তাদের কী পরিণতি হবে সে সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তাদের জন্য আকাশের দরজা খোলা হবে না এবং উট যতক্ষণ না সুঁইয়ের ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করে ততক্ষণ তারা জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারবে না। অর্থাৎ কোন দিন জান্নাতে যেতে পারবে না।
غواش হল غايشة এর বহুবচন। অর্থ: যে জিনিস ঢেকে নেয়। অর্থাৎ আগুনের আযাব তাদেরকে আচ্ছাদন করে নেবে।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: ..... পক্ষান্তরে কাফির ব্যক্তির যখন দুনিয়া হতে বিদায় গ্রহণের সময় হয় তখন কৃষ্ণবর্ণের এক ফেরেশতা দুর্গন্ধযুক্ত চট নিয়ে তার কাছে হাজির হয়। যতদূর কাফিরের দৃষ্টি যায় ততদূর সেই ফেরেশতাকে দেখতে পায়। তারপর মালাকুল মাওত এসে তার মাথার পাশে বসে বলে: হে খারাপ আত্মা! আল্লাহ তা‘আলার অসন্তুষ্টি ও ক্রোধের দিকে বেরিয়ে আস। ঐ আত্মা তখন শরীরে ভিতরে ছুটাছুটি করতে থাকে, কিন্তু ফেরেশতা ওকে টেনে বের করে যেমন লোহার পেরেককে ভিজা চুলের মধ্য থেকে বের করা হয়। ঐ ফেরেশতা ওকে ধরামাত্রই ওর মধ্য থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হয়ে আসে। ফেরেশতা ওকে নিয়ে আকাশে উঠে এবং যেখান দিয়েই গমন করে সেখানকার ফেরেশতা জিজ্ঞাসা করে, এই খারাপ আত্মা কার? উত্তরে বলে: অমুকের সন্তান অমুক। দুনিয়াতে যে খারাপ নামে পরিচিত ছিল সেই নাম বলবে। যখন আকাশ পর্যন্ত পৌঁছবে তখন আকাশের দরজা খোলার জন্য বলা হবে কিন্তু খোলা হবে না। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এ আয়াত তেলাওয়াত করলেন:
(اِنَّ الَّذِیْنَ کَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَاسْتَکْبَرُوْا عَنْھَا لَا تُفَتَّحُ لَھُمْ اَبْوَابُ السَّمَا۬ئِ وَلَا یَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ حَتّٰی یَلِجَ الْجَمَلُ فِیْ سَمِّ الْخِیَاطِ)
“নিশ্চয়ই যারা আমার নিদর্শনকে অস্বীকার করে এবং সে সম্বন্ধে অহঙ্কার করে, তাদের জন্য আকাশের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করা হবে না, এবং তারা জান্নাতেও প্রবশে করতে পারবে না- যতক্ষণ না সূঁচের ছিদ্রপথে উট প্রবেশ করে।” (আবূ দাঊদ হা: ৪৭৫৩, ইবনু মাযাহ হা: ১৫৪৮, মুসনাদ আহমাদ হ্:া ১৮০৬৩, সহীহ)
আর যারা ঈমানদার ও সৎ আমলকারী হবে তারা জান্নাতে থাকবে।
(مِّنْ غِلٍّ) অর্থাৎ জান্নাতীগণ জান্নাতে প্রবেশ করার পূর্বে তাদের অন্তরের সকল হিংসা বিদ্বেষ দূর করে দেয়া হবে। তাই যারা জান্নাতে থাকবে তাদের কোন প্রকার হিংসা বিদ্বেষ থাকবে না।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: জান্নাতীদেরকে যখন জাহান্নাম থেকে মুক্ত করা হবে তখন জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে একটি সেতুর ওপর আটকে রাখা হবে এবং তাদের পরস্পরের প্রতি যে জুলুম অত্যাচার করেছিল একে অপরকে তার প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগ দেয়া হবে। পরিশেষে যখন তারা পাক-পবিত্র হয়ে যাবে তখন তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়া হবে। (সহীহ মুসলিম হা: ২৪৪০)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: প্রত্যেক জান্নাতবাসী জাহান্নামে তার আসন দেখতে পাবে, অতঃপর বলবে: যদি আল্লাহ তা‘আলা আমাকে হিদায়াত না দিতেন (তাহলে তা থেকে মুক্তি পেতাম না), সে তখন আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া আদায় করবে। অনুরূপ প্রত্যেক জাহান্নামীও জান্নাতে তার আসন দেখতে পাবে, অতঃপর বলবে: যদি আল্লাহ তা‘আলা আমাকে হিদায়াত দিতেন (তাহলে সেখানে প্রবেশ করতে পারতাম।) এভাবে সে আফসোস করবে। (মুসনাদ আহমাদ হা: ১০৬৫২, সনদ সহীহ)
(بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ)
অর্থাৎ তোমাদের আমলের বিনিময়ে আল্লাহ তা‘আলার রহমত লাভ করেছ ফলে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারলে। কেননা আল্লাহ তা‘আলার রহমত ছাড়া আমলের বিনিময়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারতে না।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: জেনে রেখ! আমাদের কেউ আমলের বিনিময়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। তারা বলল: আপনিও না হে আল্লাহ তা‘আলার রাসূল (সাঃ)? উত্তরে তিনি বলেন: আমিও না! তবে যদি আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রহমত দ্বারা আমাকে ঢেকে না নেন। (সহীহ বুখারী হা: ৫৪৬৩)
সুতরাং আল্লাহ তা‘আলার রহমত পাওয়ার জন্য বেশি বেশি সৎ আমল করতে হবে। তাহলে জান্নাতে যাওয়া সম্ভব হবে ইনশা-আল্লাহ।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কাফিররা কোন অবস্থাতেই জান্নাতে যেতে পারবে না।
২. কাফিরদের জন্য আকাশের দরজা খোলা হবে না।
৩. জান্নাতীদের মনে কোন হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না।
৪. আল্লাহ তা‘আলার রহমত ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪২-৪৩ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ পাক হতভাগা ও পাপীদের অবস্থা বর্ণনার পর এখন ভাগ্যবান ও সৎ লোকদের অবস্থা বর্ণনা করছেন। তিনি বলেনঃ যারা ঈমান এনেছে এবং ভাল কাজ করেছে তারা ঐ লোকদের থেকে পৃথক যারা আল্লাহর আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে। এখানে এই বিষয়ের প্রতি আলোকপাত করা হচ্ছে যে, ঈমান ও আমল কোন কঠিন ব্যাপার নয়; বরং খুবই সহজ ব্যাপার। তাই ইরশাদ হচ্ছে- আমি যে শরঈ বিধান জারি করেছি এবং ঈমান ও সৎ আমল ফরয করে দিয়েছি তা মানুষের সাধ্যের অতিরিক্ত নয়। আমি কখনও কাউকে সাধ্যের অতিরিক্ত কষ্ট দেই না। এই লোকগুলোই হচ্ছে জান্নাতের অধিবাসী। মুমিনদের অন্তরে পারস্পরিক যা কিছু হিংসা ও বিদ্বেষ থাকবে তা আমি বের করে দেবো। যেমন রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “মুমিনরা যখন জাহান্নাম থেকে মুক্তি পেয়ে যাবে তখন তাদেরকে জান্নাত ও জাহান্নামের মধ্যবর্তী পুলের উপর আটক করা হবে। অতঃপর তাদের ঐসব অত্যাচার সম্পর্কে আলোচনা করা হবে যা দুনিয়ায় তাদের পরস্পরের মধ্যে করা হয়েছিল। শেষ পর্যন্ত ঐ অত্যাচার ও হিংসা বিদ্বেষ থেকে যখন তাদের অন্তরকে পাক সাফ করা হবে তখন তাদেরকে জান্নাতের পথ প্রদর্শন করা হবে। আল্লাহর শপথ! তাদের কাছে তাদের জান্নাতের ঘর তাদের পার্থিব ঘর থেকে বেশী পরিচিত হবে। জান্নাতবাসীকে যখন জান্নাতের দিকে প্রেরণ করা হবে তখন তারা জান্নাতের পার্শ্বে একটা গাছ পাবে যার নিম্নদেশ দিয়ে দু'টি নিঝরিণী প্রবাহিত হতে থাকবে। একটা থেকে যখন তারা পানি পান করবে তখন তাদের অন্তরে যা কিছু হিংসা বিদ্বেষ ছিল সব কিছু ধুয়ে মুছে পরিষ্কার হয়ে যাবে। এটাই হচ্ছে শরাবে তহুর বা পবিত্র মদ। আর অন্য ঝরণায় তারা গোসল করবে। তখন জান্নাতের মতই সজীবতা ও প্রফুল্লতা তাদের চেহারায় ফুটে উঠবে। এর পর না তাদের মাথার চুল এলোমেলো হবে, না চোখে সুরমা দেয়ার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেবে। অতঃপর এই লোকগুলো দলে দলে জান্নাতের দিকে রওয়ানা হয়ে যাবে।”
হযরত আলী (রাঃ) বলেনঃ “আমি আশা করি যে, ইনশাআল্লাহ আমি, হযরত উসমান (রাঃ), হযরত তালহা (রাঃ) এবং হযরত যুবাইর (রাঃ) ঐ লোকদের অন্তর্ভুক্ত হবো যাদের অন্তরে হিংসা-বিদ্বেষ ছিল, কিন্তু সমস্ত পরিষ্কার করে দেয়া হবে।” হযরত আলী (রাঃ) বলতেনঃ “আল্লাহর কসম! আমাদের মধ্যে আহলে বদরও রয়েছেন এবং তাদের সম্পর্কেই এই আয়াত অবতীর্ণ হয়েছে।”
হযরত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “প্রত্যেক জান্নাতীকে জাহান্নামের ঠিক আল্লাহ আমাকে সুপথ প্রদর্শন না করতেন তবে আমার ঠিকানা এটাই হতো। এ জন্যে আমি আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করছি। আর প্রত্যেক জাহান্নামীকে জান্নাতের ঠিকানা বলে দেয়া হবে। সে বলবে- হায়! যদি আল্লাহ আমাকেও সুপথ প্রদর্শন করতেন তবে এটাই আমার ঠিকানা হতো। এভাবে দুঃখ ও আফসোস তাকে ছেয়ে ফেলবে। ঐ মুমিনদেরকে যখন জান্নাতের সুসংবাদ দেয়া হবে তখন তাদেরকে বলা হবে- এই জান্নাত হচ্ছে তোমাদের সৎকর্মের ফল স্বরূপ তোমাদের পুরস্কার। তোমাদেরকে যে জান্নাতে প্রবিষ্ট করা হয়েছে এটা সত্যি আল্লাহর রহমতই বটে। নিজেদের আমল অনুযায়ী আপন আপন ঠিকানা বানিয়ে নাও। আর এ সবকিছুই হচ্ছে আল্লাহর রহমতেরই কারণ।” সহীহ বুখারী ও সহীহ মুসলিমে রয়েছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেনঃ “তোমাদের প্রত্যেকেই যেন এ কথা জেনে রাখে যে, তার আমল তাকে জান্নাতে পৌছায় না।” তখন জনগণ জিজ্ঞেস করলেনঃ “হে আল্লাহর রাসূল (সঃ)! আপনার আমলও কি নয়?” উত্তরে তিনি বললেনঃ “হ্যা, আমার আমলও নয়, যদি না আল্লাহর রহমত আমার উপর বর্ষিত হয়।”
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।