সূরা আল-আ‘রাফ (আয়াত: 40)
হরকত ছাড়া:
إن الذين كذبوا بآياتنا واستكبروا عنها لا تفتح لهم أبواب السماء ولا يدخلون الجنة حتى يلج الجمل في سم الخياط وكذلك نجزي المجرمين ﴿٤٠﴾
হরকত সহ:
اِنَّ الَّذِیْنَ کَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَ اسْتَکْبَرُوْا عَنْهَا لَا تُفَتَّحُ لَهُمْ اَبْوَابُ السَّمَآءِ وَ لَا یَدْخُلُوْنَ الْجَنَّۃَ حَتّٰی یَلِجَ الْجَمَلُ فِیْ سَمِّ الْخِیَاطِ ؕ وَ کَذٰلِکَ نَجْزِی الْمُجْرِمِیْنَ ﴿۴۰﴾
উচ্চারণ: ইন্নাল্লাযীনা কাযযাবূবিআ-য়া-তিনা-ওয়াছতাকবারূ‘আনহা-লা-তুফাত্তাহুলাহুম আবওয়াবুছছামাই ওয়ালা-ইয়াদখুলূনাল জান্নাতা হাত্তা-ইয়ালিজাল জামালুফী ছাম্মিল খিয়া-তি ওয়া কাযা-লিকা নাজযিল মুজরিমীন।
আল বায়ান: নিশ্চয় যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে এবং তার ব্যাপারে অহঙ্কার করেছে, তাদের জন্য আসমানের দরজাসমূহ খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না, যতক্ষণ না উট সূঁচের ছিদ্রতে প্রবেশ করে।* আর এভাবেই আমি অপরাধীদেরকে প্রতিদান দেই।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ৪০. নিশ্চয় যারা আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করে এবং তা সম্বন্ধে অহংকার করে তাদের জন্য আকাশের দরজা খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারবে না(১) যতক্ষন না সূঁচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে।(২) আর এভাবেই আমরা অপরাধীদেরকে প্রতিফল দেব।
তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা আমার আয়াতগুলোকে অস্বীকার করে আর এ ব্যাপারে ঔদ্ধত্য প্রকাশ করে তাদের জন্য আকাশের দরজাগুলো উন্মুক্ত হবে না আর তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না-যতক্ষণ না সূঁচের ছিদ্রে উট প্রবেশ করে। এভাবেই আমি অপরাধীদেরকে প্রতিফল দিয়ে থাকি।
আহসানুল বায়ান: (৪০) অবশ্যই যারা আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে এবং অহংকারে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের জন্য আকাশের দ্বার উন্মুক্ত করা হবে না[1] এবং তারা বেহেশ্তেও প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না সূচের ছিদ্রপথে উট প্রবেশ করে।[2] এরূপে আমি অপরাধীদেরকে প্রতিফল দিয়ে থাকি।
মুজিবুর রহমান: নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং অহংকার বশতঃ তা থেকে ফিরে থাকে, তাদের জন্য আকাশের দ্বার উন্মুক্ত করা হবেনা এবং তারা জান্নাতেও প্রবেশ করবেনা, যতক্ষণ না সুচের ছিদ্র পথে উট প্রবেশ করে, এমনিভাবেই আমি অপরাধীদেরকে প্রতিফল দিয়ে থাকি।
ফযলুর রহমান: যারা আমার নিদর্শনসমূহ অবিশ্বাস করে এবং সেগুলো সম্বন্ধে ঔদ্ধত্য দেখায় তাদের জন্য আসমানের দরজা খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না; যতক্ষণ না সুইয়ের ছিদ্রে উট প্রবেশ করে। (অর্থাৎ সুইয়ের ছিদ্রে উট প্রবেশ করা যেমন অসম্ভব তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাও তেমন অসম্ভব।) এভাবেই আমি অপরাধীদের শাস্তি দিয়ে থাকি।
মুহিউদ্দিন খান: নিশ্চয়ই যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা বলেছে এবং এগুলো থেকে অহংকার করেছে, তাদের জন্যে আকাশের দ্বার উম্মুক্ত করা হবে না এবং তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না। যে পর্যন্ত না সূচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে। আমি এমনিভাবে পাপীদেরকে শাস্তি প্রদান করি।
জহুরুল হক: নিঃসন্দেহ যারা আমাদের নির্দেশসমূহে মিথ্যারোপ করে আর সে-সব থেকে হামবড়াই করে, তাদের জন্য মহাকাশের দ্বার উন্নুক্ত করা হবে না আর তারা বেহেশতেও প্রবেশ করতে পারবে না, যে পর্যন্ত না উট প্রবেশ করে সূচের ছিদ্র দিয়ে। আর এইভাবে আমরা অপরাধীদের প্রতিফল দিই।
Sahih International: Indeed, those who deny Our verses and are arrogant toward them - the gates of Heaven will not be opened for them, nor will they enter Paradise until a camel enters into the eye of a needle. And thus do We recompense the criminals.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ৪০. নিশ্চয় যারা আমাদের আয়াতসমূহে মিথ্যারোপ করে এবং তা সম্বন্ধে অহংকার করে তাদের জন্য আকাশের দরজা খোলা হবে না এবং তারা জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারবে না(১) যতক্ষন না সূঁচের ছিদ্র দিয়ে উট প্রবেশ করে।(২) আর এভাবেই আমরা অপরাধীদেরকে প্রতিফল দেব।
তাফসীর:
(১) আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস রাদিয়াল্লাহু আনহুমা থেকে এ আয়াতের বর্ণিত এক তাফসীরে উল্লেখ রয়েছে যে, তাদের আমল ও তাদের দোআর জন্য আকাশের দরজা খোলা হবে না। অর্থাৎ তাদের দো'আ কবুল করা হবেনা এবং তাদের আমলকে ঐ স্থানে যেতে দেয়া হবেনা, যেখানে আল্লাহর নেকবান্দাদের আমলসমূহ সংরক্ষিত রাখা হয় কুরআনের সূরা আল-মুতাফফিফীনে এ স্থানটির নাম ইল্লি’য়্যীন বলা হয়েছে। কুরআনুল কারীমের অন্য এক আয়াতেও উল্লেখিত বিষয়বস্তুর প্রতি ইঙ্গিত রয়েছে। বলা হয়েছে (إِلَيْهِ يَصْعَدُ الْكَلِمُ الطَّيِّبُ وَالْعَمَلُ الصَّالِحُ يَرْفَعُهُ) অর্থাৎ মানুষের পবিত্র বাক্যাবলী আল্লাহ্ তা'আলার দিকে ঊর্ধ্বগামী হয় এবং সৎকর্ম সেগুলোকে উত্থিত করে। [সূরা ফাতেরঃ ১০]
এ আয়াতের তাফসীর প্রসঙ্গে অপর এক বর্ণনা আব্দুল্লাহ ইবন আব্বাস ও অন্যান্য সাহাবী থেকে এমনও বর্ণিত আছে যে, কাফেরদের আত্মার জন্য আকাশের দরজা খোলা হবে না। এসব আত্মাকে নীচে নিক্ষেপ করা হবে। এ বিষয়বস্তুর সমর্থন বারা ইবন আযেব রাদিয়াল্লাহু আনহু বর্ণিত হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম জনৈক আনসার সাহাবীর জানাযায় গমন করেন। কবর প্রস্তুতে কিছু বিলম্ব দেখে তিনি এক জায়গায় বসে যান সাহাবায়ে কেরামও তার চারদিকে চুপচাপ বসে যান। তিনি মাথা উঁচু করে বললেনঃ মুমিন বান্দার মৃত্যুর সময় হলে আকাশ থেকে সাদা ধবধবে চেহারাবিশিষ্ট ফিরিশতারা আগমন করে। তাদের সাথে জান্নাতের কাফন ও সুগন্ধি থাকে। তারা মৃত্যুপথযাত্রী ব্যক্তির সামনে বসে যায়।
অতঃপর মালাকুল মাউত আসেন এবং তার আত্মাকে সম্বোধন করে বলেনঃ হে নিশ্চিন্ত আত্মা, পালনকর্তার মাগফেরাত ও সন্তুষ্টির জন্য বের হয়ে আস। তখন তার আত্মা, এমন অনায়াসে বের হয়ে আসে, যেমন মশকের মুখ খুলে দিলে তার পানি বের হয়ে আসে। মৃত্যুদূত তার আত্মাকে হাতে নিয়ে উপস্থিত ফিরিশতাদের কাছে সমর্পণ করে। ফিরিশতারা তা নিয়ে রওয়ানা হলে পথিমধ্যে একদল ফিরিশতার সাথে সাক্ষাৎ হয়। তারা জিজ্ঞেস করেঃ এ পাক আত্মা কার? ফিরিশতারা তার ঐ নাম ও উপাধি উল্লেখ করে, যা দুনিয়াতে তার সম্মানার্থে ব্যবহার হত এবং বলেঃ ইনি হচ্ছেন অমুকের পুত্র অমুক। ফিরিশতারা তার আত্মাকে নিয়ে প্রথম আকাশে পৌছে দরজা খুলতে বলে। দরজা খোলা হয়। এখান থেকে আরো ফিরিশতা তাদের সঙ্গী হয়। এভাবে তারা সপ্তম আকাশে পৌছে। তখন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ আমার এ বান্দার আমলনামা ইল্লিয়্যীনে লিখ এবং তাকে ফেরৎ পাঠিয়ে দাও।
এ আত্মা আবার কবরে ফিরে আসে। কবরে হিসাব গ্রহণকারী ফিরিশতা এসে তাকে উপবেশন করায় এবং প্রশ্ন করেঃ তোমার পালনকর্তা কে? তোমার দ্বীন কি? সে বলেঃ আমার পালনকর্তা আল্লাহ তা'আলা এবং দ্বীন ইসলাম। এরপর প্রশ্ন হয়ঃ এই যে ব্যক্তি, যিনি তোমাদের জন্য প্রেরিত হয়েছিলেন, তিনি কে? সে বলে আল্লাহর রাসূল। তখন একটি আওয়াজ হয় যে, আমার বান্দা সত্যবাদী। তার জন্য জান্নাতের শয্যা পেতে দাও, জান্নাতের পোষাক পরিয়ে দাও এবং জান্নাতের দিকে তার কবরের দরজা খুলে দাও। এ দরজা দিয়ে জান্নাতের সুগন্ধি ও বাতাস আসতে থাকে। তার সৎকর্ম একটি সুশ্রী আকৃতি ধারণ করে তাকে সঙ্গ দেয়ার জন্য তার কাছে এসে যায়। এর বিপরীতে কাফেরের মৃত্যুর সময় উপস্থিত হলে আকাশ থেকে কাল রঙের ভয়ঙ্কর মূর্তি ফিরিশতা নিকৃষ্ট চট নিয়ে আগমন করে এবং তার বিপরীত দিকে বসে যায়।
অতঃপর মৃত্যুদূত তার আত্মা এমনভাবে বের করে, যেমন কোন কাটাবিশিষ্ট শাখা ভিজা পশমে জড়িয়ে থাকলে তাকে সেখান থেকে টেনে বের করা হয়। আত্মা বের হলে তার দুর্গন্ধ মৃত জন্তুর দুর্গন্ধের চাইতেও প্রকট হয়। ফিরিশতারা তাকে নিয়ে রওয়ানা হলে পথিমধ্যে একদল ফিরিশতার সাথে সাক্ষাৎ হয়। তারা জিজ্ঞেস করেঃ এ দুরাত্মাটি কার? ফিরিশতারা তখন তার ঐ হীনতম নাম ও উপাধি উল্লেখ করে, যা দ্বারা সে দুনিয়াতে পরিচিত ছিল। অথাৎ সে অমুকের পুত্র অমুক। অতঃপর প্রথম আকাশে পৌছে দরজা খুলতে বললে তার জন্য দরজা খোলা হয় না বরং নির্দেশ আসে যে, এ বান্দার আমলনামা সিজ্জীনে রেখে দাও। সেখানে অবাধ্য বান্দাদের আমলনামা রাখা হয়। এ আত্মাকে নীচে নিক্ষেপ করা হয় এবং তা পুনরায় দেহে প্রবেশ করে। সে প্রত্যেক প্রশ্নের উত্তরে কেবল “আ-আ– আমি জানি না” বলে। তাকে জাহান্নামের শয্যা ও জাহান্নামের পোষাক দেয়া হয় এবং জাহান্নামের দিকে তার কবরের দরজা খুলে দেয়া হয়। ফলে তার কবরে জাহান্নামের উত্তাপ পৌছাতে থাকে এবং কবরকে তার জন্য সংকীর্ণ করে দেয়া হয়। [আহমাদঃ ৪/২৮৭, ২/৩৬৪-৩৬৫, ৬/১৪০; ইবন মাজাহঃ ৪২৬২; নাসায়ী: ৪৬২]
(২) আয়াতের শেষে তাদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা ততক্ষণ পর্যন্ত জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না, যতক্ষণ না উটের মত বিরাট পেট বিশিষ্ট জন্তু সূচের ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করবে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য, সূচের ছিদ্রে উট প্রবেশ করা যেমন স্বভাবতঃ অসম্ভব, তেমনি তাদের জান্নাতে প্রবেশ করাও অসম্ভব। এতে তাদের চিরস্থায়ী জাহান্নামের শাস্তি বর্ণনা করা উদ্দেশ্য।
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (৪০) অবশ্যই যারা আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে এবং অহংকারে তা থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের জন্য আকাশের দ্বার উন্মুক্ত করা হবে না[1] এবং তারা বেহেশ্তেও প্রবেশ করতে পারবে না যতক্ষণ না সূচের ছিদ্রপথে উট প্রবেশ করে।[2] এরূপে আমি অপরাধীদেরকে প্রতিফল দিয়ে থাকি।
তাফসীর:
[1] এ থেকে কেউ কেউ আমল, কেউ কেউ আত্মা এবং কেউ কেউ দু’আ বুঝিয়েছেন। অর্থাৎ, তাদের আমল অথবা আত্মা অথবা দু’আর জন্য আসমানের দরজা খোলা হয় না। অর্থাৎ, আমল ও দু’আ কবুল হয় না এবং আত্মাকে যমীনে ফিরিয়ে দেওয়া হয়। (যেমন, মুসনাদ আহমাদে বর্ণিত একটি হাদীস থেকেও জানা যায়।) ইমাম শাওকানী বলেন, তিনটি জিনিসই উদ্দেশ্য হতে পারে।
[2] অসম্ভাব্য জিনিসের সাথে এখানে শর্ত লাগানো হয়েছে। যেমন সূচের ছিদ্রে উট প্রবেশ করা অসম্ভব, তেমনি কাফেরদের জান্নাতে প্রবেশ করাও অসম্ভব। উটের দৃষ্টান্ত পেশ করা হয়েছে এই জন্য যে, তা আরবদের নিকট সর্বাধিক পরিচিত এবং দৈহিক গঠনে একটি বড় পশু। আর সূচের ছিদ্র এত সূক্ষ্ণ ও সংকীর্ণ যে তার তুলনা নেই। এই দু’টি জিনিসের উল্লেখ অসম্ভব জিনিসের সাথে শর্ত লাগানোর অর্থকে আরো বেশী পরিষ্কার করে দিল। আর অসম্ভব জিনিসের সাথে শর্ত বলতে, এমন জিনিসের সাথে শর্ত লাগানো যা সম্ভবই নয়। যেমন, উট সূচের ছিদ্রে প্রবেশ করতেই পারে না। এখন কোন জিনিসের সংঘটিত হওয়াকে উটের সূচের ছিদ্রে প্রবেশ করার সাথে শর্ত লাগানো হলে, সেটাই হয় অসম্ভব জিনিসের সাথে শর্ত লাগানো।
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ৪০-৪৩ নং আয়াতের তাফসীর:
যারা দুনিয়াতে ঈমান আনেনি বরং ঈমান আনতে অহঙ্কার করেছে মৃত্যুর পর তাদের কী পরিণতি হবে সে সম্পর্কে আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তাদের জন্য আকাশের দরজা খোলা হবে না এবং উট যতক্ষণ না সুঁইয়ের ছিদ্র দিয়ে প্রবেশ করে ততক্ষণ তারা জান্নাতেও প্রবেশ করতে পারবে না। অর্থাৎ কোন দিন জান্নাতে যেতে পারবে না।
غواش হল غايشة এর বহুবচন। অর্থ: যে জিনিস ঢেকে নেয়। অর্থাৎ আগুনের আযাব তাদেরকে আচ্ছাদন করে নেবে।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: ..... পক্ষান্তরে কাফির ব্যক্তির যখন দুনিয়া হতে বিদায় গ্রহণের সময় হয় তখন কৃষ্ণবর্ণের এক ফেরেশতা দুর্গন্ধযুক্ত চট নিয়ে তার কাছে হাজির হয়। যতদূর কাফিরের দৃষ্টি যায় ততদূর সেই ফেরেশতাকে দেখতে পায়। তারপর মালাকুল মাওত এসে তার মাথার পাশে বসে বলে: হে খারাপ আত্মা! আল্লাহ তা‘আলার অসন্তুষ্টি ও ক্রোধের দিকে বেরিয়ে আস। ঐ আত্মা তখন শরীরে ভিতরে ছুটাছুটি করতে থাকে, কিন্তু ফেরেশতা ওকে টেনে বের করে যেমন লোহার পেরেককে ভিজা চুলের মধ্য থেকে বের করা হয়। ঐ ফেরেশতা ওকে ধরামাত্রই ওর মধ্য থেকে পচা দুর্গন্ধ বের হয়ে আসে। ফেরেশতা ওকে নিয়ে আকাশে উঠে এবং যেখান দিয়েই গমন করে সেখানকার ফেরেশতা জিজ্ঞাসা করে, এই খারাপ আত্মা কার? উত্তরে বলে: অমুকের সন্তান অমুক। দুনিয়াতে যে খারাপ নামে পরিচিত ছিল সেই নাম বলবে। যখন আকাশ পর্যন্ত পৌঁছবে তখন আকাশের দরজা খোলার জন্য বলা হবে কিন্তু খোলা হবে না। তখন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) এ আয়াত তেলাওয়াত করলেন:
(اِنَّ الَّذِیْنَ کَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا وَاسْتَکْبَرُوْا عَنْھَا لَا تُفَتَّحُ لَھُمْ اَبْوَابُ السَّمَا۬ئِ وَلَا یَدْخُلُوْنَ الْجَنَّةَ حَتّٰی یَلِجَ الْجَمَلُ فِیْ سَمِّ الْخِیَاطِ)
“নিশ্চয়ই যারা আমার নিদর্শনকে অস্বীকার করে এবং সে সম্বন্ধে অহঙ্কার করে, তাদের জন্য আকাশের দ্বারসমূহ উন্মুক্ত করা হবে না, এবং তারা জান্নাতেও প্রবশে করতে পারবে না- যতক্ষণ না সূঁচের ছিদ্রপথে উট প্রবেশ করে।” (আবূ দাঊদ হা: ৪৭৫৩, ইবনু মাযাহ হা: ১৫৪৮, মুসনাদ আহমাদ হ্:া ১৮০৬৩, সহীহ)
আর যারা ঈমানদার ও সৎ আমলকারী হবে তারা জান্নাতে থাকবে।
(مِّنْ غِلٍّ) অর্থাৎ জান্নাতীগণ জান্নাতে প্রবেশ করার পূর্বে তাদের অন্তরের সকল হিংসা বিদ্বেষ দূর করে দেয়া হবে। তাই যারা জান্নাতে থাকবে তাদের কোন প্রকার হিংসা বিদ্বেষ থাকবে না।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: জান্নাতীদেরকে যখন জাহান্নাম থেকে মুক্ত করা হবে তখন জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝে একটি সেতুর ওপর আটকে রাখা হবে এবং তাদের পরস্পরের প্রতি যে জুলুম অত্যাচার করেছিল একে অপরকে তার প্রতিশোধ গ্রহণের সুযোগ দেয়া হবে। পরিশেষে যখন তারা পাক-পবিত্র হয়ে যাবে তখন তাদেরকে জান্নাতে প্রবেশ করার অনুমতি দেয়া হবে। (সহীহ মুসলিম হা: ২৪৪০)
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: প্রত্যেক জান্নাতবাসী জাহান্নামে তার আসন দেখতে পাবে, অতঃপর বলবে: যদি আল্লাহ তা‘আলা আমাকে হিদায়াত না দিতেন (তাহলে তা থেকে মুক্তি পেতাম না), সে তখন আল্লাহ তা‘আলার শুকরিয়া আদায় করবে। অনুরূপ প্রত্যেক জাহান্নামীও জান্নাতে তার আসন দেখতে পাবে, অতঃপর বলবে: যদি আল্লাহ তা‘আলা আমাকে হিদায়াত দিতেন (তাহলে সেখানে প্রবেশ করতে পারতাম।) এভাবে সে আফসোস করবে। (মুসনাদ আহমাদ হা: ১০৬৫২, সনদ সহীহ)
(بِمَا كُنْتُمْ تَعْمَلُوْنَ)
অর্থাৎ তোমাদের আমলের বিনিময়ে আল্লাহ তা‘আলার রহমত লাভ করেছ ফলে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারলে। কেননা আল্লাহ তা‘আলার রহমত ছাড়া আমলের বিনিময়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারতে না।
রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেন: জেনে রেখ! আমাদের কেউ আমলের বিনিময়ে জান্নাতে প্রবেশ করতে পারবে না। তারা বলল: আপনিও না হে আল্লাহ তা‘আলার রাসূল (সাঃ)? উত্তরে তিনি বলেন: আমিও না! তবে যদি আল্লাহ তা‘আলা তাঁর রহমত দ্বারা আমাকে ঢেকে না নেন। (সহীহ বুখারী হা: ৫৪৬৩)
সুতরাং আল্লাহ তা‘আলার রহমত পাওয়ার জন্য বেশি বেশি সৎ আমল করতে হবে। তাহলে জান্নাতে যাওয়া সম্ভব হবে ইনশা-আল্লাহ।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. কাফিররা কোন অবস্থাতেই জান্নাতে যেতে পারবে না।
২. কাফিরদের জন্য আকাশের দরজা খোলা হবে না।
৩. জান্নাতীদের মনে কোন হিংসা-বিদ্বেষ থাকবে না।
৪. আল্লাহ তা‘আলার রহমত ছাড়া জান্নাতে প্রবেশ করা কারো পক্ষে সম্ভব নয়।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ৪০-৪১ নং আয়াতের তাফসীর:
আল্লাহ পাক বলেনঃ যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে এবং অহংকার ভরে সেগুলো থেকে মুখ ফিরিয়ে নেয়, তাদের জন্যে আকাশের দরজা খোলা হবে না, অর্থাৎ তাদের সৎ আমল এবং প্রার্থনা উপরে উঠানো হবে না । পাপী ব্যক্তির রূহ কব সম্পর্কে রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “ফেরেশতা ঐ রূহকে নিয়ে আকাশে উঠবেন এবং মালায়ে আ’লার যে ফেরেশতাদের পার্শ্ব দিয়ে গমন করবেন তাঁরা জিজ্ঞেস করবেন এই অপবিত্র রূহ্ কার? তখন তার জঘন্যতম নাম নিয়ে বলা হবে, অমুকের। শেষ পর্যন্ত আকাশে পৌছে বলবেন, দরজা খুলে দাও। কিন্তু দরজা খোলা হবে না। যেমন ইরশাদ হচ্ছে- (আরবী) অর্থাৎ তাদের জন্যে আকাশের দরজাসমূহ খোলা হবে না।”
হযরত বারা ইবনে আযিব (রাঃ) বলেন, আমরা একটি জানাযার অনুসরণ করে রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে চলছিলাম। আমরা কবরের কাছে পৌঁছলে রাসূলুল্লাহ (সঃ) সেখানে বসে পড়েন। আমরাও তার চারদিকে বসে পড়ি। আমরা এমনভাবে নীরবতা অবলম্বন করি যে, আমাদের মাথার উপর যেন পাখী বসে রয়েছে। (আমাদেরকে নীরব দেখে) তাঁর হাতে একটি লাঠি ছিল তা দিয়ে মাটিতে রেখা টানছিলেন। অতঃপর তিনি মাথা উঠিয়ে আমাদেরকে সম্বোধন করে বললেনঃ ‘কবরের শাস্তি হতে আল্লাহর নিকট আশ্রয় প্রার্থনা কর!' এ কথাটি দু'বার বা তিনবার বললেন। এরপর তিনি বললেনঃ “মুমিন যখন দুনিয়া হতে বিদায় গ্রহণ করে আখিরাতের দিকে যাত্রা শুরু করে তখন আকাশ থেকে জ্যোতির্ময় ফেরেশতাগণ অবতীর্ণ হন। তাঁদের হাতে থাকে জান্নাতের কাফন।
জান্নাতের খোশবুও তাঁদের কাছে থাকে। তাদের সংখ্যা এতো অধিক থাকে যতদূর দৃষ্টি যায়, শুধু ফেরেশতাতেই ভরপুর থাকে। অতঃপর একজন ফেরেশতা এসে তার শিয়রে বসে পড়েন এবং বলেন- হে শান্ত ও নিরাপদ আত্মা! আল্লাহর ক্ষমার দিকে চলো এ কথা শোনা মাত্রই আত্মা বেরিয়ে পড়ে যেমনভাবে মশকের মুখ দিয়ে পানি বের হয়ে থাকে। যেমনই আত্মা বের হয় তেমনই চোখের পলকে ফেরেশতা তাকে জান্নাতী কাফন পরিয়ে দেন এবং জান্নাতী সুগন্ধিতে তাকে সুরভিত করেন। মিশকের ঐ সুগন্ধি এতই উত্তম যে, দুনিয়ায় এর চেয়ে উত্তম সুগন্ধি আর হতে পারে না। তাকে নিয়ে ফেরেশতা আকাশে উঠে যান। যেখান দিয়েই তিনি গমন করেন সেখানেই ফেরেশতাগণ জিজ্ঞেস করেন, এটা কার পবিত্র আত্মা? উত্তরে বলা হয়, অমুকের পুত্র অমুকের। আকাশে পৌছে গিয়ে দরজা খুলতে বলা হলে তা খুলে দেয়া হয়। তার সাথে অন্যান্য সমস্ত ফেরেশতাও দ্বিতীয় আসমান পর্যন্ত গমন করেন। এভাবেই এক এক করে সপ্তম আকাশে পৌঁছে যান। তখন আল্লাহ তা'আলা বলেন- আমার এই বান্দার নামটি ইল্লীনের তালিকায় লিপিবদ্ধ কর। অতঃপর তাকে যমীনে ফিরিয়ে নিয়ে যাও। কেননা আমি তাকে মাটি দ্বারাই সৃষ্টি করেছি। ওর মধ্যেই তাকে ফিরিয়ে দেবো এবং ওর মধ্য থেকেই তাকে পুনরায় উথিত করবো। তখন যমীনে (কবরে) তার আত্মাকে ফিরিয়ে দেয়া হয়। ওখানে দু’জন ফেরেশতা আগমন করেন এবং তাকে জিজ্ঞেস করেন, তোমার প্রতিপালক কে? সে উত্তরে বলে, আমার প্রতিপালক হচ্ছেন আল্লাহ। আবার জিজ্ঞেস করেন, তোমার দ্বীন বা ধর্ম কি? সে উত্তর দেয়, আমার দ্বীন হচ্ছে ইসলাম। পুনরায় তাকে প্রশ্ন করেন, তোমার কাছে যে লোকটিকে পাঠানো হয়েছিল তিনি কে? জবাবে সে বলে, আমি আল্লাহর কিতাব পড়ে তার উপর ঈমান এনেছিলাম। তখন আকাশ থেকে একটি শব্দ আসে আমার বান্দা সত্য কথাই বলেছে। তার জন্যে জান্নাতের বিছানা বিছিয়ে দাও এবং তাকে জান্নাতের পোশাক পরিয়ে দাও। আর তার জন্যে জান্নাতের একটা দরজা খুলে দাও, যেন জান্নাতের হাওয়া ও সুগন্ধি সে পেতে পারে। তার কবরটি দৃষ্টির সীমা পর্যন্ত প্রশস্ত হয়ে যায়। একটি সুন্দর লোক উত্তম পোশাক পরিহিত হয়ে এবং সুগন্ধিতে সুরভিত অবস্থায় তার কাছে আগমন করে এবং বলে- তুমি সন্তুষ্ট হয়ে যাও যে, আজ তোমার সাথে যে ওয়াদা করা হয়েছিল তা পূর্ণ করা হচ্ছে। সে লোকটিকে জিজ্ঞেস করবে, তুমি কে? সে বলবে, আমি তোমার সৎ আমল। তখন মৃতব্যক্তি বলবে, হে আল্লাহ! আপনি এখনই কিয়ামত সংঘটিত করে দিন, আমি আমার পরিবারবর্গ ও ধনমালের সাথে মিলিত হবো। পক্ষান্তরে কাফির ব্যক্তির যখন দুনিয়া হতে বিদায় গ্রহণের সময় হয় তখন কৃষ্ণবর্ণের এক ফেরেশতা চট নিয়ে তার কাছে হাজির হন। যতদূর দৃষ্টি যায় সেই ফেরেশতা ততো বড় হন। তারপর মৃত্যুর ফেরেশতা এসে তাকে বলেন, ওরে অপবিত্র আত্মা! বেরিয়ে আয় এবং আল্লাহর অসন্তুষ্টি ও ক্রোধের দিকে গমন কর। ঐ আত্মা তখন দেহের মধ্যে প্রবেশ করতে থাকে, কিন্তু ফেরেশতা ওকে টেনে বের করেন, যেমন লোহার পেরেককে ভিজা চুলের মধ্য থেকে বের করা হয়। ঐ ফেরেশতা ওকে ধরা মাত্রই চোখের পলকে ঐ চটের মধ্যে জড়িয়ে নেন। ওর মধ্য থেকে সড়া-পচা মৃতদেহের মত দুর্গন্ধ ছুটতে থাকে। ফেরেশতা ওকে নিয়ে আকাশে উঠে যান এবং যেখান দিয়েই গমন করেন সেখানেই ফেরেশতাগণ জিজ্ঞেস করেন, এই অপবিত্র আত্মা কার? উত্তরে বলা হয়, অমুকের পুত্র অমুকের। আসমানে পৌছে যখন বলেন, দরজা খুলে দাও। তখন দরজা খোলা হয় না। অতঃপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) (আরবী)-এই আয়াতটি পাঠ করেন। তারপর আল্লাহ তা'আলা বলেন, একে যমীনের নিম্নস্তরের সিজ্জিনে নিয়ে যাও। তখন তার আত্মাকে সেখানে নিক্ষেপ করা হয়। এরপর রাসূলুল্লাহ (সঃ) নিম্নের আয়াতটি পাঠ করেন, যে আল্লাহর সাথে শরীক স্থাপন করে সে যেন আসমান থেকে পড়ে গেল এবং পাখী তার মাংস ছিড়তে রয়েছে। অথবা বায় তাকে দূর দূরান্তে উড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছে। তার আত্মা তার দেহে ফিরিয়ে দেয়া হয়। দু’জন ফেরেশতা এসে জিজ্ঞেস করেন, তোমার প্রভু কে? সে উত্তর দেয়, আফসোস! আমি জানি না। আবার জিজ্ঞেস করেন, তোমার দ্বীন কি? জবাবে সে বলে, হায়! আমি তো এটা অবগত নই। তারপর জিজ্ঞেস করেন, তোমার কাছে। কাকে পাঠানো হয়েছিল? সে উত্তরে বলে, হায়! হায়! আমি তা জানি না। তখন আকাশ থেকে শব্দ আসে, আমার বান্দা মিথ্যা বলছে। তার জন্যে জাহান্নামের বিছানা নিয়ে এসো এবং জাহান্নামের দরজা তার জন্যে খুলে দাও যাতে তার কাছে জাহান্নামের তাপ ও গরম বায়ু পৌছে যায়। তার কবর অত্যন্ত সংকীর্ণ হয়ে যায় এবং তাকে এমনভাবে চেপে ধরে যে, তার পার্শ্বদেশের অস্থি মড় মড় করে তাঙ্গতে থাকে। একটি অত্যন্ত কদাকার ও বিশ্রি লোক ময়লাযুক্ত কাপড় পরিহিত হয়ে ও দুর্গন্ধ ছড়িয়ে তার কাছে হাযির হয় এবং বলে- আমি তোমাকে তোমার দুর্ভাগ্যের সংবাদ দিচ্ছি। এটা ঐ দিন যেদিনের ওয়াদা তোমাকে দেয়া হয়েছিল। সে জিজ্ঞেস করে, তুমি কে? সে বলে, আমি তোমার দুষ্কর্ম। সেই কাফির লোকটি তখন বলে ওঠে- আল্লাহ করুন যেন কিয়ামত সংঘটিত না হয় (তাহলে আমাকে জাহান্নামে যেতে হবে না)।”
হযরত বারা ইবনে আযিব (রাঃ) বলেনঃ “আমরা রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর সাথে বাইরে বের হই। আমরা জানাযার অনুসরণ করছিলাম (অবশিষ্ট বর্ণনা উপরোক্ত বর্ণনার মতই)।” যখন মুমিনের রূহ বের হয় তখন আকাশ ও পৃথিবীর ফেরেশতাগণ তার উপর দরূদ পাঠ করেন। তার জন্যে আসমানের দরজা খুলে যায়। সমস্ত ফেরেশতা এই প্রার্থনা করতে থাকেন যে, তার রূহ যেন তাঁদের সম্মুখ দিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। কাফিরের আত্মার উপর এমন একজন ফেরেশতাকে নিযুক্ত করা হয় যিনি অন্ধ, বধির ও বোবা। তার হাতে এমন একটি হাতুড় থাকে যে, যদি ওটা দ্বারা তিনি পাহাড়ের উপর মারেন তবে সেটা চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাবে। তা দ্বারা তিনি কাফিরকে এমন জোরে প্রহার করেন যে, সে উচ্চস্বরে চীৎকার করে ওঠে। দানব ও মানব ছাড়া সমস্ত মাখলূক সেই শব্দ শুনতে পায়। অতঃপর জাহান্নামের দরজা খুলে দেয়া হয়।
আল্লাহ পাকের উক্তিঃ (আরবী) অর্থাৎ যদি সূঁচের ছিদ্র দিয়ে উট বের হতে পারে তবেই কাফির জান্নাতে প্রবেশ করতে পারে (কিন্তু এটা সম্ভব নয়!)। হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) জামাল শব্দটিকে জুম্মাল অর্থাৎ কে দিয়ে ওকে দিয়ে পড়তেন। জুম্মাল মোটা রঞ্জুকে বলা হয় যার দ্বারা নৌকা বাধা হয়।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।