সূরা আল-আ‘রাফ (আয়াত: 182)
হরকত ছাড়া:
والذين كذبوا بآياتنا سنستدرجهم من حيث لا يعلمون ﴿١٨٢﴾
হরকত সহ:
وَ الَّذِیْنَ کَذَّبُوْا بِاٰیٰتِنَا سَنَسْتَدْرِجُهُمْ مِّنْ حَیْثُ لَا یَعْلَمُوْنَ ﴿۱۸۲﴾ۚۖ
উচ্চারণ: ওয়াল্লাযীনা কাযযাবূবিআ-য়া-তিনা-ছানাছতাদরিজুহুম মিন হাইছুলা-ইয়া‘লামূন।
আল বায়ান: আর যারা আমার আয়াতসমূহকে অস্বীকার করেছে, অচিরেই আমি তাদেরকে ধীরে ধীরে এমনভাবে পাকড়াও করব যে, তারা জানতেও পারবে না।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৮২. আর যারা আমাদের নিদর্শনসমূহে মিথ্যারোপ করেছে, অচিরেই আমরা তাদেরকে এমনভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাব যে, তারা জানতেও পারবে না।(১)
তাইসীরুল ক্বুরআন: যারা আমার আয়াতগুলোকে প্রত্যাখ্যান করে আমি তাদেরকে ধাপে ধাপে এমনভাবে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাই যে, তারা টেরও করতে পারে না।
আহসানুল বায়ান: (১৮২) যারা আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে আমি তাদেরকে ক্রমে ক্রমে এমনভাবে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাব যে, তারা জানতেও পারবে না!
মুজিবুর রহমান: যারা আমার আয়াতসমূহকে মিথ্যা প্রতিপন্ন করে, আমি তাদের অজ্ঞাতে তাদেরকে ধীরে ধীরে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাব।
ফযলুর রহমান: আর যারা আমার নিদর্শনসমূহ অবিশ্বাস করে তাদেরকে আমি ধীরে ধীরে এমনভাবে পাকড়াও করব যে, তারা জানতেই পারবে না।
মুহিউদ্দিন খান: বস্তুতঃ যারা মিথ্যা প্রতিপন্ন করেছে আমার আয়াতসমূহকে, আমি তাদেরকে ক্রমান্বয়ে পাকড়াও করব এমন জায়গা থেকে, যার সম্পর্কে তাদের ধারণাও হবে না।
জহুরুল হক: আর যারা আমাদের বাণীসমূহে মিথ্যারোপ করে তাদের আমরা ক্রমাগত টেনে নিয়ে যাই, -- কোথা থেকে তা তারা জানে না।
Sahih International: But those who deny Our signs - We will progressively lead them [to destruction] from where they do not know.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৮২. আর যারা আমাদের নিদর্শনসমূহে মিথ্যারোপ করেছে, অচিরেই আমরা তাদেরকে এমনভাবে ধীরে ধীরে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাব যে, তারা জানতেও পারবে না।(১)
তাফসীর:
(১) অর্থাৎ দুনিয়াতে রিযিক ও জীবনোপকরণের ভাণ্ডার তাদের জন্য উন্মুক্ত করে দিবেন। ফলে তারা মনে করবে যে, তারা যা করে চলছে তা গ্রহণযোগ্য। এভাবেই তারা প্রতারিত হতে থাকবে। অবশেষে আল্লাহ তাদেরকে পাকড়াও করবেন। [ইবন কাসীর] অন্য আয়াতেও এসেছে, “অতঃপর তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল তারা যখন তা ভুলে গেল তখন আমরা তাদের জন্য সবকিছুর দরজা খুলে দিলাম; অবশেষে তাদেরকে যা দেয়া হল যখন তারা তাতে উল্লসিত হল তখন হঠাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম; ফলে তখনি তারা নিরাশ হল। ফলে যালিম সম্প্রদায়ের মূলোচ্ছেদ করা হল এবং সমস্ত প্রশংসা সৃষ্টিকুলের রব আল্লাহর জন্যই [সূরা আল-আনআমঃ ৪৪–৪৫]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৮২) যারা আমার নিদর্শনাবলীকে মিথ্যা বলে আমি তাদেরকে ক্রমে ক্রমে এমনভাবে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাব যে, তারা জানতেও পারবে না!
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৮১-১৮৬ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে আল্লাহ তা‘আলা এমন একটি উম্মাতের কথা বলছেন যারা নিজেরা হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত, এবং হকের দিকে আহ্বান জানায় এবং এর দ্বারা বিচার ফায়সালা করে। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَمِنْ قَوْمِ مُوْسٰٓي أُمَّةٌ يَّهْدُوْنَ بِالْحَقِّ وَبِه۪ يَعْدِلُوْنَ)
“মূসার সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন দল রয়েছে যারা অন্যকে ন্যায়ভাবে পথ দেখায় ও সে মতেই বিচার করে।” (সূরা আ‘রাফ ৭:১৫৯)
রবী‘ বিন আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে একটি জাতি রয়েছে যারা ঈসা (আঃ) যতদিন আগমন না করবেন ততদিন পর্যন্ত হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। (দুররুল মানসুর ৩/১৪৯)
আল্লামা শাওকানী (রহঃ) বলেন: এরা উম্মাতে মুহাম্মাদীর অন্তর্ভুক্ত। যেমন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: আমার উম্মাতের মধ্যে একটি দল কিয়ামত অবধি সত্যের ওপর জয়ী থাকবে। যারা তাদের বিরুদ্ধাচরণ করবে তারা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। (সহীহ বুখারী হা: ৭৪৬০)
অন্য বর্ণনায় এসেছে: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হল, তারা কারা? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: আমি ও আমার সাহাবীগণ যে পথের (আকীদাহ ও আমল) ওপর প্রতিষ্ঠিত আছি। (তিরমিযী হা: ২৬৪১, সহীহ)
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রাঃ) বলেন: তারা যদি আহলুল হাদীস না হন, তাহলে তারা কারা তা আমি জানি না।
(سَنَسْتَدْرِجُهُمْ مِّنْ حَيْثُ لَا يَعْلَمُوْنَ)
‘আমি তাদেরকে এমনভাবে ক্রমে ক্রমে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাই যে, তারা জানতেও পারে না।’ অর্থাৎ যারা কাফির আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে দুনিয়ার সুখ স্বাচ্ছন্দ্য ও আরাম আয়েশের মাধ্যমে অবকাশ দেন তবে আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।
ইবনু কাসীর (রাঃ) বলেন, এর অর্থ হল তাদের জন্য জীবিকার দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং পার্থিব সুখ সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করে দেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত এর দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং ধারণা করে যে, তাদের এ অবস্থা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(فَلَمَّا نَسُوْا مَا ذُكِّرُوْا بِه۪ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ ط حَتّٰي إِذَا فَرِحُوْا بِمَآ أُوْتُوْآ أَخَذْنٰهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هُمْ مُّبْلِسُوْنَ فَقُطِعَ دَابِرُ الْقَوْمِ الَّذِيْنَ ظَلَمُوْا ط وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ)
“তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল তারা যখন তা বিস্মৃত হল তখন আমি তাদের জন্য সমস্ত কিছুর (নেয়ামতের) দ্বার উন্মুক্ত করে দিলাম; অবেশেষে তাদেরকে যা দেয়া হল যখন তারা তাতে উল্লসিত হল তখন অকস্মাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম; ফলে তখনি তারা নিরাশ হল। অতঃপর জালিম সম্প্রদায়ের মূলোচ্ছেদ করা হল এবং সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।” (সূরা আন‘আম ৬:৪৪-৪৫)। (ইবনু কাসীর, অত্র আয়াতের তাফসীর)
(مَا بِصَاحِبِهِمْ مِنْ جِنَّةٍ)
‘তাদের সঙ্গী তো উন্মাদ নয়’ এখানে সঙ্গী বলতে মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। মুশরিকরা নাবী (সাঃ)-কে কখনো জাদুকর, কখনো পাগল ইত্যাদি বলত। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে হুশিয়ার করে অন্যত্র বলেন,
(قُلْ إِنَّمَآ أَعِظُكُمْ بِوَاحِدَةٍ ج أَنْ تَقُوْمُوْا لِلّٰهِ مَثْنٰي وَفُرَادٰي ثُمَّ تَتَفَكَّرُوْا قف مَا بِصَاحِبِكُمْ مِّنْ جِنَّةٍ ط إِنْ هُوَ إِلَّا نَذِيْرٌ لَّكُمْ بَيْنَ يَدَيْ عَذَابٍ شَدِيْدٍ)
“বল, আমি তোমাদেরকে শুধু একটি উপদেশ দিচ্ছি যে, তোমরা আল্লাহ তা‘আলারই জন্য দাঁড়াও দু’ দু’ জন করে ও এক এক জন করে; তারপর তোমরা চিন্তা কর (দেখতে পাবে), তোমাদের সঙ্গীটির মধ্যে কোন মস্তিষ্ক বিকৃতি নেই। সে তো কঠিন ‘আযাব আসার পূর্বে তোমাদের একজন সতর্ককারী মাত্র।” (সূরা সাবা ৩৪:৪৬) আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
(وَمَا صَاحِبُكُمْ بِمَجْنُوْنٍ)
“এবং তোমাদের সাথী (মুহাম্মদ) পাগল নয়।” (সূরা তাকভীর ৮১:২২)
সুতরাং কাফিরদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ ইত্যাদি দেখে আশ্চর্যের কিছুই নেই। কারণ দুনিয়াতে এসব তাদেরকে অবকাশস্বরূপ দেয়া হয়েছে, পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. ফিরকা নাজিয়া তথা মুক্তি প্রাপ্ত দল হল তারাই যারা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও সাহাবীদের আকীদাহ ও আমলের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।
২. কাফিরদের দুনিয়ার সুখ সাচ্ছন্দ প্রদানের কারণ জানলাম।
৩. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে কাফির মুশরিকরা বিভিন্নভাবে গালিগালাজ করে কষ্ট দিত।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: ১৮২-১৮৩ নং আয়াতের তাফসীর:
এর ভাবার্থ এই যে, তাদের জীবিকার দরগুলো খুলে যাবে এবং পার্থিব সুখ-সমৃদ্ধি বৃদ্ধি পাবে। শেষ পর্যন্ত তারা এর দ্বারা প্রতারিত হবে এবং ধারণা করবে যে, তাদের ঐ অবস্থা চিরকালই থাকবে। যেমন আল্লাহ পাক বলেনঃ “তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল তা যখন তারা ভুলে গেল, আমি তখন তাদের জন্যে সবকিছুর দরযা খুলে দিলাম। শেষ পর্যন্ত যখন তারা আনন্দে মেতে উঠলো তখন আমি তাদেরকে আকস্মিকভাবে পাকড়াও করলাম। সেই সময় তারা সম্পূর্ণরূপে নিরাশ হয়ে গেল।” প্রশংসার যোগ্য তো একমাত্র আল্লাহ! এ জন্যেই তিনি বলেনঃ আমি তাদেরকে অবকাশ দিয়ে রেখেছি। আমার কৌশলপূর্ণ ব্যবস্থাপনা খুবই বলিষ্ঠ ও অটুট।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।