সূরা আল-আ‘রাফ (আয়াত: 181)
হরকত ছাড়া:
وممن خلقنا أمة يهدون بالحق وبه يعدلون ﴿١٨١﴾
হরকত সহ:
وَ مِمَّنْ خَلَقْنَاۤ اُمَّۃٌ یَّهْدُوْنَ بِالْحَقِّ وَ بِهٖ یَعْدِلُوْنَ ﴿۱۸۱﴾
উচ্চারণ: ওয়া মিম্মান খালাকনা-উম্মাতুইঁ ইয়াহদূনা বিলহাক্কিওয়াবিহী ইয়া‘দিলূন।
আল বায়ান: আর যাদেরকে আমি সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে এমন একদল আছে যারা যথাযথভাবে পথ দেখায় এবং তদ্বারা ইনসাফ করে।
আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৮১. আর যাদেরকে আমরা সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে একদল লোক আছে যারা ন্যায়ভাবে পথ দেখায়(১) ও সে অনুযায়ীই (বিচারে) ইনসাফ করে।
তাইসীরুল ক্বুরআন: আমি যাদেরকে সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে একদল আছে যারা সঠিকভাবে পথ নির্দেশ দেয়, আর তার মাধ্যমেই সুবিচার করে।
আহসানুল বায়ান: (১৮১) আর যাদেরকে আমি সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে একদল লোক আছে, যারা (অন্যকে) ন্যায় পথ দেখায় এবং ন্যায় বিচার করে।
মুজিবুর রহমান: আর আমি যাদেরকে সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে এমন একটি দলও রয়েছে যারা সত্য পথের দা‘ওয়াত দেয় এবং ন্যায় বিচার করে।
ফযলুর রহমান: আমি যাদেরকে সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে একদল আছে যারা সৎভাবে (মানুষকে) পথ দেখায় এবং সেভাবেই ন্যায়বিচার করে।
মুহিউদ্দিন খান: আর যাদেরকে আমি সৃষ্টি করেছি, তাদের মধ্যে এমন এক দল রয়েছে যারা সত্য পথ দেখায় এবং সে অনুযায়ী ন্যায়চিার করে।
জহুরুল হক: আর যাদের আমরা সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে আছে একটি দল যারা পথ দেখায় সত্যের দ্বারা, আর তার দ্বারা তারা ন্যায়পরায়ণতা করে।
Sahih International: And among those We created is a community which guides by truth and thereby establishes justice.
তাফসীরে যাকারিয়া
অনুবাদ: ১৮১. আর যাদেরকে আমরা সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে একদল লোক আছে যারা ন্যায়ভাবে পথ দেখায়(১) ও সে অনুযায়ীই (বিচারে) ইনসাফ করে।
তাফসীর:
(১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমার উম্মতের মধ্যে একদল আল্লাহ্র সুনির্দিষ্ট নির্দেশ আসা পর্যন্ত আল্লাহ্র আদেশকে বাস্তাবায়ন করার জন্য সদা-সর্বদা প্রস্তুত থাকবে। তাদেরকে কেউ মিথ্যারোপ করবে অথবা অপমান করবে তার পরোয়া তারা করবে না। [বুখারীঃ ৭৪৬০, মুসলিমঃ ১০৩৭]
তাফসীরে আহসানুল বায়ান
অনুবাদ: (১৮১) আর যাদেরকে আমি সৃষ্টি করেছি তাদের মধ্যে একদল লোক আছে, যারা (অন্যকে) ন্যায় পথ দেখায় এবং ন্যায় বিচার করে।
তাফসীর:
-
তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ
তাফসীর: ১৮১-১৮৬ নং আয়াতের তাফসীর:
এখানে আল্লাহ তা‘আলা এমন একটি উম্মাতের কথা বলছেন যারা নিজেরা হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত, এবং হকের দিকে আহ্বান জানায় এবং এর দ্বারা বিচার ফায়সালা করে। অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(وَمِنْ قَوْمِ مُوْسٰٓي أُمَّةٌ يَّهْدُوْنَ بِالْحَقِّ وَبِه۪ يَعْدِلُوْنَ)
“মূসার সম্প্রদায়ের মধ্যে এমন দল রয়েছে যারা অন্যকে ন্যায়ভাবে পথ দেখায় ও সে মতেই বিচার করে।” (সূরা আ‘রাফ ৭:১৫৯)
রবী‘ বিন আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: নিশ্চয়ই আমার উম্মতের মধ্যে একটি জাতি রয়েছে যারা ঈসা (আঃ) যতদিন আগমন না করবেন ততদিন পর্যন্ত হকের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে। (দুররুল মানসুর ৩/১৪৯)
আল্লামা শাওকানী (রহঃ) বলেন: এরা উম্মাতে মুহাম্মাদীর অন্তর্ভুক্ত। যেমন রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: আমার উম্মাতের মধ্যে একটি দল কিয়ামত অবধি সত্যের ওপর জয়ী থাকবে। যারা তাদের বিরুদ্ধাচরণ করবে তারা তাদের কোন ক্ষতি করতে পারবে না। (সহীহ বুখারী হা: ৭৪৬০)
অন্য বর্ণনায় এসেছে: রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে জিজ্ঞাসা করা হল, তারা কারা? রাসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন: আমি ও আমার সাহাবীগণ যে পথের (আকীদাহ ও আমল) ওপর প্রতিষ্ঠিত আছি। (তিরমিযী হা: ২৬৪১, সহীহ)
ইমাম আহমাদ বিন হাম্বল (রাঃ) বলেন: তারা যদি আহলুল হাদীস না হন, তাহলে তারা কারা তা আমি জানি না।
(سَنَسْتَدْرِجُهُمْ مِّنْ حَيْثُ لَا يَعْلَمُوْنَ)
‘আমি তাদেরকে এমনভাবে ক্রমে ক্রমে ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাই যে, তারা জানতেও পারে না।’ অর্থাৎ যারা কাফির আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে দুনিয়ার সুখ স্বাচ্ছন্দ্য ও আরাম আয়েশের মাধ্যমে অবকাশ দেন তবে আখিরাতে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।
ইবনু কাসীর (রাঃ) বলেন, এর অর্থ হল তাদের জন্য জীবিকার দরজাসমূহ খুলে দেয়া হয় এবং পার্থিব সুখ সমৃদ্ধি বৃদ্ধি করে দেয়া হয়। শেষ পর্যন্ত এর দ্বারা প্রভাবিত হয় এবং ধারণা করে যে, তাদের এ অবস্থা চিরকাল থাকবে। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:
(فَلَمَّا نَسُوْا مَا ذُكِّرُوْا بِه۪ فَتَحْنَا عَلَيْهِمْ أَبْوَابَ كُلِّ شَيْءٍ ط حَتّٰي إِذَا فَرِحُوْا بِمَآ أُوْتُوْآ أَخَذْنٰهُمْ بَغْتَةً فَإِذَا هُمْ مُّبْلِسُوْنَ فَقُطِعَ دَابِرُ الْقَوْمِ الَّذِيْنَ ظَلَمُوْا ط وَالْحَمْدُ لِلّٰهِ رَبِّ الْعٰلَمِيْنَ)
“তাদেরকে যে উপদেশ দেয়া হয়েছিল তারা যখন তা বিস্মৃত হল তখন আমি তাদের জন্য সমস্ত কিছুর (নেয়ামতের) দ্বার উন্মুক্ত করে দিলাম; অবেশেষে তাদেরকে যা দেয়া হল যখন তারা তাতে উল্লসিত হল তখন অকস্মাৎ তাদেরকে পাকড়াও করলাম; ফলে তখনি তারা নিরাশ হল। অতঃপর জালিম সম্প্রদায়ের মূলোচ্ছেদ করা হল এবং সমস্ত প্রশংসা একমাত্র আল্লাহ তা‘আলার জন্য যিনি জগতসমূহের প্রতিপালক।” (সূরা আন‘আম ৬:৪৪-৪৫)। (ইবনু কাসীর, অত্র আয়াতের তাফসীর)
(مَا بِصَاحِبِهِمْ مِنْ جِنَّةٍ)
‘তাদের সঙ্গী তো উন্মাদ নয়’ এখানে সঙ্গী বলতে মুহাম্মাদ (সাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে। মুশরিকরা নাবী (সাঃ)-কে কখনো জাদুকর, কখনো পাগল ইত্যাদি বলত। আল্লাহ তা‘আলা তাদেরকে হুশিয়ার করে অন্যত্র বলেন,
(قُلْ إِنَّمَآ أَعِظُكُمْ بِوَاحِدَةٍ ج أَنْ تَقُوْمُوْا لِلّٰهِ مَثْنٰي وَفُرَادٰي ثُمَّ تَتَفَكَّرُوْا قف مَا بِصَاحِبِكُمْ مِّنْ جِنَّةٍ ط إِنْ هُوَ إِلَّا نَذِيْرٌ لَّكُمْ بَيْنَ يَدَيْ عَذَابٍ شَدِيْدٍ)
“বল, আমি তোমাদেরকে শুধু একটি উপদেশ দিচ্ছি যে, তোমরা আল্লাহ তা‘আলারই জন্য দাঁড়াও দু’ দু’ জন করে ও এক এক জন করে; তারপর তোমরা চিন্তা কর (দেখতে পাবে), তোমাদের সঙ্গীটির মধ্যে কোন মস্তিষ্ক বিকৃতি নেই। সে তো কঠিন ‘আযাব আসার পূর্বে তোমাদের একজন সতর্ককারী মাত্র।” (সূরা সাবা ৩৪:৪৬) আল্লাহ তা‘আলা আরো বলেন:
(وَمَا صَاحِبُكُمْ بِمَجْنُوْنٍ)
“এবং তোমাদের সাথী (মুহাম্মদ) পাগল নয়।” (সূরা তাকভীর ৮১:২২)
সুতরাং কাফিরদের সুখ-স্বাচ্ছন্দ ইত্যাদি দেখে আশ্চর্যের কিছুই নেই। কারণ দুনিয়াতে এসব তাদেরকে অবকাশস্বরূপ দেয়া হয়েছে, পরকালে তাদের জন্য রয়েছে কঠিন শাস্তি।
আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:
১. ফিরকা নাজিয়া তথা মুক্তি প্রাপ্ত দল হল তারাই যারা রাসূলুল্লাহ (সাঃ) ও সাহাবীদের আকীদাহ ও আমলের ওপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে।
২. কাফিরদের দুনিয়ার সুখ সাচ্ছন্দ প্রদানের কারণ জানলাম।
৩. রাসূলুল্লাহ (সাঃ) কে কাফির মুশরিকরা বিভিন্নভাবে গালিগালাজ করে কষ্ট দিত।
তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)
তাফসীর: আল্লাহ পাক বলেন- আমার সৃষ্ট কওমের মধ্যে কোন কোন কওম কথায় ও কাজে সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত রয়েছে। তারা সত্য কথা বলে, সত্যের দিকে মানুষকে আহ্বান করে এবং সত্যের হিসেবে ফায়সালাও করে। এই উম্মত দ্বারা উম্মতে মুহাম্মাদীয়াকে বুঝানো হয়েছে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) যখন এই আয়াতটি পাঠ করতেন তখন বলতেনঃ “এই লোক তোমরাই। আর ঐ কওমও, যারা তোমাদের পূর্বে অতীত হয়েছে। তারাও লোকদেরকে সত্যের দিকে আহ্বান করতো।” রাসূলুল্লাহ (সঃ) আরো বলেছেনঃ আমার উম্মতের মধ্যে একটি কওম সত্যের উপর প্রতিষ্ঠিত থাকবে, শেষ পর্যন্ত হযরত ঈসা (আঃ) অবতরণ করবেন। ঐ দলটি সত্যের উপর বিজয়ী থাকবে। তাদের কোন বিরুদ্ধবাদী দল কোনই ক্ষতি করতে পারবে না। কিয়ামত আসা পর্যন্ত বা মৃত্যু পর্যন্ত তারা ওর উপরই প্রতিষ্ঠিত থাকবে।
সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।