আল কুরআন


সূরা আল-আ‘রাফ (আয়াত: 16)

সূরা আল-আ‘রাফ (আয়াত: 16)



হরকত ছাড়া:

قال فبما أغويتني لأقعدن لهم صراطك المستقيم ﴿١٦﴾




হরকত সহ:

قَالَ فَبِمَاۤ اَغْوَیْتَنِیْ لَاَقْعُدَنَّ لَهُمْ صِرَاطَکَ الْمُسْتَقِیْمَ ﴿ۙ۱۶﴾




উচ্চারণ: কা-লা ফাবিমাআগওয়াইতানী লাআক‘উদান্না লাহুম সিরা-তাকাল মুছতাকীম।




আল বায়ান: সে বলল, ‘আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করেছেন, সে কারণে অবশ্যই আমি তাদের জন্য আপনার সোজা পথে বসে থাকব।




আবু বকর মুহাম্মাদ যাকারিয়া: ১৬. সে বলল, আপনি যে আমাকে পথভ্রষ্ট করলেন, সে কারণে অবশ্যই অবশ্যই আমি আপনার সরল পথে মানুষের জন্য বসে থাকব।(১)




তাইসীরুল ক্বুরআন: সে বলল, যেহেতু তার কারণেই (পথ থেকে) আমাকে ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছ, কাজেই আমি অবশ্যই তোমার সরল পথে মানুষদের জন্য ওঁৎ পেতে থাকব।




আহসানুল বায়ান: (১৬) সে বলল, ‘যাদের কারণে তুমি আমাকে ভ্রষ্ট করলে[1] আমিও তাদের জন্য তোমার সরল পথে নিশ্চয় ওঁৎ পেতে থাকব;



মুজিবুর রহমান: (ইবলীস) বললঃ আপনি যে আমাকে পথভ্রষ্ট করলেন এ কারণে আমিও শপথ করে বলছি - আমি আপনার সরল পথে অবশ্যই ওৎ পেতে বসে থাকব।



ফযলুর রহমান: সে বলল, “যেহেতু (মানুষের কারণে) তুমি আমাকে বিপথে ঠেলে দিলে তাই আমিও তোমার সরল পথে তাদের বিরুদ্ধে অপেক্ষমান থাকব।”



মুহিউদ্দিন খান: সে বললঃ আপনি আমাকে যেমন উদভ্রান্ত করেছেন, আমিও অবশ্য তাদের জন্যে আপনার সরল পথে বসে থাকবো।



জহুরুল হক: সে বললে -- "তবে তুমি যেমন আমাকে বিপথে যেতে দিয়েছ, আমিও তেমনি ওত পেতে থাকবো তাদের জন্য তোমার সহজ- সঠিক পথে।



Sahih International: [Satan] said, "Because You have put me in error, I will surely sit in wait for them on Your straight path.



তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ: কোনো তথ্য নেই।


তাফসীরে যাকারিয়া

অনুবাদ: ১৬. সে বলল, আপনি যে আমাকে পথভ্রষ্ট করলেন, সে কারণে অবশ্যই অবশ্যই আমি আপনার সরল পথে মানুষের জন্য বসে থাকব।(১)


তাফসীর:

(১) রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ শয়তান আদম সন্তানের যাবতীয় পথে বসে পড়ে। তার ইসলামের পথে বসে পড়ে তাকে বলেঃ তুমি কি ইসলাম গ্রহণ করবে এবং আপন দ্বীন ও বাপ-দাদার দ্বীন ত্যাগ করবে? তারপর সে নাফরমানী করে ইসলাম গ্রহণ করে। তারপর শয়তান তার হিজরতের পথে বসে পড়ে তাকে বলতে থাকেঃ তুমি হিজরত করে তোমার ভূমি ও আকাশ ত্যাগ করবে? লম্বা পথে মুহাজিরের উদাহরণ তো হলো ঘোড়ার মত। কিন্তু সে তার নাফরমানী করে হিজরত করে। তারপর শয়তান তার জেহাদের পথে বসে বলতে থাকেঃ তুমি কি জিহাদ করবে এতে নিজের জান ও মালের ক্ষতির আশংকা, যুদ্ধ করবে এতে তুমি মারা পড়বে, তারপর তোমার স্ত্রীর বিয়ে হয়ে যাবে, সম্পদ ভাগ-বাটোয়ারা হয়ে যাবে।

তাতেও সে শয়তানের নাফরমানী করে জিহাদ করে। তারপর রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বললেনঃ যে ব্যক্তি এতটুকু করতে পারবে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো মহান আল্লাহর জন্য যথাযথ হয়ে পড়ে, যদি কাউকে হত্যা করা হয় তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো আল্লাহর উপর যথাযথ হয়ে পড়ে। আর যদি ডুবেও যায় তবুও আল্লাহর জন্য যথাযথ হয়ে পড়ে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো অথবা যদি তার সফর করার জন্তু থেকে পড়ে সে মারা যায় তবুও আল্লাহর উপর যথাযথ হয়ে পড়ে তাকে জান্নাতে প্রবেশ করানো [মুসনাদে আহমাদঃ ৩/৪৮৩]


তাফসীরে আহসানুল বায়ান

অনুবাদ: (১৬) সে বলল, ‘যাদের কারণে তুমি আমাকে ভ্রষ্ট করলে[1] আমিও তাদের জন্য তোমার সরল পথে নিশ্চয় ওঁৎ পেতে থাকব;


তাফসীর:

[1] ভ্রষ্ট তো সে আল্লাহর সৃষ্টিগত ইচ্ছার ভিত্তিতে হয়েছিল। কিন্তু মুশরিকদের মত সেও তাঁর প্রতি এই দোষ আরোপ করল। যেমন, মুশরিকরা বলত যে, যদি আল্লাহ চাইতেন, তাহলে আমরা শিরক করতাম না।


তাফসীরে ফাতহুল মাজীদ


তাফসীর: ১১-২৫ নং আয়াতের তাফসীরঃ



(فَبِمَآ أَغْوَيْتَنِيْ)



অর্থাৎ আমাকে পথভ্রষ্ট করার কারণে।



(مَذْءُوْمًا مَّدْحُوْرًا)



অর্থাৎ নিন্দনীয়, বিতাড়িত ও ক্রোধভাজন।





(فَدَلّٰهُمَا بِغُرُوْرٍ)



অর্থাৎ ধোঁকা দিয়ে ধীরে ধীরে তাদের দু’জনকে গাছের নিকটবর্তী করল, অবশেষে তারা গাছের ফল খেল।



এ আয়াতগুলো আদম (আঃ)-কে সৃষ্টি, ফেরেশতা কর্তৃক তাকে সিজদাহ করানো, জান্নাতে বসবাস, শয়তানের কুমন্ত্রণায় নিষেধকৃত বিষয়ে লিপ্ত হওয়া, জান্নাত থেকে বহিস্কার, আল্লাহ তা‘আলার কাছে তাওবাহ করা এবং আল্লাহ তা‘আলার সাথে শয়তানের প্রতিশ্র“তি সম্পর্কে আলোচনা করা হয়েছে। এ সবের অধিকাংশ বিষয় সূরা বাক্বারার শুরুতে (৩৪-৩৯ নং আয়াতে) আলোচনা করা হয়েছে।



(وَلَقَدْ خَلَقْنٰكُمْ ثُمَّ صَوَّرْنٰكُمْ)



অন্য আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(وَإِذْ قَالَ رَبُّكَ لِلْمَلَا۬ئِكَةِ إِنِّيْ خَالِقٌۭ بَشَرًا مِّنْ صَلْصَالٍ مِّنْ حَمَإٍ مَّسْنُوْنٍ - فَإِذَا سَوَّيْتُه۫ وَنَفَخْتُ فِيْهِ مِنْ رُّوْحِيْ فَقَعُوْا لَه۫ سٰجِدِيْنَ)‏



“স্মরণ কর‎, যখন তোমার প্রতিপালক ফেরেশতাদেরকে বললেন: ‘আমি গন্ধযুক্ত কর্দমের শুষ্ক ঠন্ঠনা মৃত্তিকা হতে মানুষ সৃষ্টি করেছি; ‘যখন আমি তাকে পূর্ণমাত্রায় বানিয়ে দেব এবং তাতে আমার পক্ষ হতে রূহ সঞ্চার করব তখন তোমরা তার প্রতি সিজ্দাবনত হও’।” (সূরা হিজর ১৫:২৮-২৯)



(مَا مَنَعَكَ أَلَّا تَسْجُدَ إِذْ أَمَرْتُكَ)



‘আমি যখন তোমাকে আদেশ দিলাম তখন কিসে তোমাকে সিজদাহ দিতে বারণ করল?’ অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বললেন, আদমকে নিজের উভয় হাতে সৃষ্টি করেছেন, তারপর ফেরেশতাদেরকে সিজদাহ করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা‘আলা বলেন:



(قَالَ يٰٓإِبْلِيْسُ مَا مَنَعَكَ أَنْ تَسْجُدَ لِمَا خَلَقْتُ بِيَدَيَّ ط أَسْتَكْبَرْتَ أَمْ كُنْتَ مِنَ الْعَالِيْنَ)‏



“তিনি (আল্লাহ) বললেন: হে ইবলীস! আমি যাকে নিজের দু’হাতে সৃষ্টি করেছি, তাকে সিজদাহ করতে তোমাকে কিসে বাধা দিল? তুমি কি অহঙ্কার করলে, না তুমি শ্রেষ্ঠ মর্যাদাশীলদের একজন?” (সূরা সোয়াদ ৩৮:৭৫)



(أَنَا خَيْرٌ مِّنْهُ)



‘আমি তার অপেক্ষা উত্তম’ অর্থাৎ শয়তান আদম (আঃ)-কে সিজদাহ না করার কারণ পেশ করল: আমি তার থেকে শ্রেষ্ঠ। আমি আগুন দ্বারা সৃষ্ট আর সে মাটি দ্বারা সৃষ্ট। আগুন মাটি থেকে উপরে থাকে। এটা ছিল শয়তানের হিংসা ও অহঙ্কারের বহিঃপ্রকাশ।



অন্যত্র আল্লাহ তা‘আলা বলেন: সে ছিল অহঙ্কারী। অহঙ্কার হল সকল ধ্বংসের মূল। ইবলীস প্রথমে আল্লাহ তা‘আলার নৈকট্যশীল বান্দা হওয়া সত্ত্বেও পরে লাঞ্ছিত ও অপমানিত হয়ে বিতাড়িত হল।



(أَنْظِرْنِيْ إِلٰي يَوْمِ يُبْعَثُوْنَ)



‘পুনরুত্থান দিবস পর্যন্ত আমাকে অবকাশ দাও।’ শয়তান বিতাড়িত হবার পর আল্লাহ তা‘আলার কাছে কিয়ামত অবধি আয়ু চাইলে আল্লাহ তা‘আলা তা মেনে নিলেন।



(ثُمَّ لَاٰتِيَنَّهُمْ مِّنْۭ بَيْنِ)



‘অতঃপর আমি তাদের নিকট আসব তাদের সম্মুখ...’ অর্থাৎ শয়তান মানুষকে ধোঁকা দেয়ার জন্য সামনে, পেছনে, ডান ও বাম দিক দিয়ে আসবে। কিন্তু ওপর দিক থেকে আসতে পারবে না। আর মানুষের কাছে খারাপ অশ্লীল বেহায়াপনাপূর্ণ কাজগুলো চাকচিক্য করে তুলে ধরবে।



আল্লাহ তা‘আলা মানুষকে সৃষ্টি করেছেন, জীবিকা নির্বাহের সব উপকরণ দিয়েছেন। এসত্ত্বেও মানুষ আল্লাহ তা‘আলার বিধানমত চলে কিনা তা পরীক্ষার জন্য ইবলীসকে সুযোগ দিয়েছেন। যারা আল্লাহ তা‘আলার কৃতজ্ঞ বান্দা তারা আল্লাহ তা‘আলার পথে অটল থাকবে, তারা মুক্তি পাবে। আর যারা ইবলীসের অনুসরণ করবে আল্লাহ তা‘আলা ইবলীসসহ তাদেরকে জাহান্নামে দিবেন।



(وَقَاسَمَهُمَا)



‘সে তাদের উভয়ের নিকট শপথ করে বলল’ অর্থাৎ শয়তান আদম (আঃ)-এর কাছে আল্লাহ তা‘আলার নামে শপথ করে বলল: নিশ্চয়ই আমি তোমাদের কল্যাণকামী। ঐ গাছের কাছে যেতে আল্লাহ তা‘আলা নিষেধ করেছেন এ কারণে, যাতে তোমরা ফেরেশতা না হয়ে যাও অথবা চিরস্থায়ী না হতে পার। কত বড় মিথ্যুক শয়তান। শয়তানের ধোঁকায় পড়ে নিষিদ্ধ কাজে জড়িত হবার পর নিজেদের ভুল বুঝতে পেরে আদম ও হাওয়া (আলাইহিমাস সালাম) উভয়ে আল্লাহ তা‘আলার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করল।



(فِيْهَا تَحْيَوْنَ وَفِيْهَا... )



‘সেখানেই তোমরা জীবন যাপন করবে’ যেমন অন্য আয়াতে আল্লাহ তা‘আলা বললেন:



(مِنْهَا خَلَقْنٰكُمْ وَفِيْهَا نُعِيْدُكُمْ وَمِنْهَا نُخْرِجُكُمْ تَارَةً أُخْرٰي‏)



“আমি মৃত্তিকা হতে তোমাদেরকে সৃষ্টি করেছি, তাতেই তোমাদেরকে ফিরিয়ে দিব এবং তা হতে পুনরায় তোমাদেরকে বের করব।” (সূরা ত্বহা ২০:৫৫) যে শয়তান আদম (আঃ)-এর সুখ সহ্য করতে পারেনি, বিভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে তাঁকে জান্নাত থেকে বের করেছে সে শয়তান আমাদেরকে পথভ্রষ্ট করতে প্রতিশ্র“তিবদ্ধ। আমরা যেন কিছুতেই তার কথা শুনে সঠিক পথ না হারাই। এ সম্পর্কে আরো আলোচনা সূরা হিজর-এ আসবে ইনশা-আল্লাহ ।



আয়াত হতে শিক্ষণীয় বিষয়:



১. শয়তানের অহঙ্কারের কথা অবগত হলাম, অহংকারই ধ্বংসের মূল, এ অহংকারের কারণে মানুষ হক হতে বিচ্যুত ও বঞ্চিত হয়।

২. শয়তান মানুষের প্রকাশ্য শত্রু, তার প্রতিশ্র“তি মিথ্যা, সে ধোঁকা দিয়ে মানুষকে পথভ্রষ্ট করতে চায়, তাই তার সম্পর্কে সতর্ক থাকতে হবে।

৩. শয়তানের চক্রান্তে পড়ে অন্যায় করলে সঙ্গে সঙ্গে তাওবাহ করা উচিত, এটাই আদম (আঃ)-এর বৈশিষ্ট্য। আর তাওবাহ না করে অপরাধে অটল থাকা শয়তানের কাজ।

৪. মৃত্যুর পর আবার পুনরুত্থান হবে, সেখানে মানুষের ভাল-মন্দ কর্মের প্রতিদান ও প্রতিফল দেয়া হবে তার প্রমাণ পেলাম।

৫. নগ্নতা শয়তানের প্রথম কাজ, সে নগ্নতার মাধ্যমে সমাজে বেহায়াপনা ছড়িয়ে দিতে চায়।

৬. সমাজে অশ্লীল-বেহায়াপনা ও ঝগড়া-বিবাদ ছড়িয়ে দেয়ার জন্য শয়তান নারীদেরকে বড় ধরণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করে।


তাফসীরে ইবনে কাসীর (তাহক্বীক ছাড়া)


তাফসীর: ১৬-১৭ নং আয়াতের তাফসীর:

যখন ইবলীস কিয়ামতের দিন পর্যন্ত অবকাশ পেয়ে গেল এবং স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললো তখন সে বিদ্রোহ ও একগুয়েমী শুরু করে দিলো। সে বললো-“হে আল্লাহ! যেমনভাবে আপনি আমাকে পথভ্রষ্ট করে দিলেন, তেমনভাবেই আমিও আপনার বান্দাদেরকে সরল সোজা পথ থেকে বিভ্রান্ত করে দেবো।” হযরত ইবনে আব্বাস (রাঃ) (আরবী)-এর অনুবাদ (আরবী) করেছেন। আর অন্যেরা (আরবী) করেছেন। সে বললো- “আমি আদম (আঃ)-এর প্রতিশোধ তার বংশধর হতে গ্রহণ করবো। কেননা, তারই কারণে আমি আপনার দরবার হতে বহিষ্কৃত হয়েছি।” সিরাতে মুসতাকীম দ্বারা সত্যপথ ও মুক্তির পথ বুঝানো হয়েছে। (ইবলীস বললোঃ) “আমি আপনার বান্দাদেরকে এইভাবে পথভ্রষ্ট ও বিভ্রান্ত করবো যে, তারা আপনার ইবাদত করবে না এবং আপনার একত্ববাদ থেকে দূরে থাকবে। কোন কোন আরবী ব্যাকরণবিদ বলেন যে, এখানে (আরবী) শব্দের আক্ষরটি কসমের জন্যে আনা হয়েছে। যেন বলা হয়েছে-আপনার কুপথে পরিচালনার শপথ, যা আমার প্রতি করা হয়েছে।

মুজাহিদ (রঃ) “সিরাত’ (আরবী) বুঝিয়েছেন। আর মুহাম্মাদ ইবনে সাওকার মতে এর দ্বারা মক্কার পথ’ বুঝানো হয়েছে। আর ইবনে জারীর (রঃ) বলেন-সঠিক কথা তো এই যে, এই শব্দটি এই সমুদয় অর্থের জন্যে আম’ বা সাধারণ।

সীরা ইবনে আবিল ফাকা’ হতে বর্ণিত আছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলতেন, শয়তান বিভিন্ন পন্থায় বানী আদমকে পথভ্রষ্ট করে থাকে। সে ইসলামের পথের উপর এসে বসে পড়ে এবং বলে- “তুমি কি ইসলাম গ্রহণ করবে এবং স্বীয় বাপ-দাদার ধর্ম ত্যাগ করবে?” কিন্তু ঐ লোকটি শয়তানের অবাধ্য হয় এবং ইসলাম গ্রহণ করে। তারপর সে লোকটির হিজরতের পথে এসে বসে যায় এবং বলে- “তুমি স্বীয় দেশ ছেড়ে কেন হিজরত করছো? মুহাজিরের মর্যাদা একটা জানোয়ার ও ঘোড়ার চেয়ে বেশী হয় না। কিন্তু সে তার কথা অমান্য করে ও হিজরতের পথ অবলম্বন করে। এরপর শয়তান তার জিহাদে গমন বন্ধ করার জন্যে পথে বসে পড়ে। জিহাদ জীবন দিয়েও হতে পারে এবং মালধন দিয়েও হতে পারে। সে তাকে বলে- “তুমি কি যুদ্ধ করার জন্যে বের হচ্ছো? সাবধান! তুমি নিহত হয়ে যাবে এবং তোমার স্ত্রী অন্যের সাথে বিবাহিতা হয়ে যাবে। আর তোমার মালধন লোকেরা পরস্পরের মধ্যে ভাগ বণ্টন করে নেবে।” কিন্তু তবুও সে জিহাদের জন্যে বেরিয়ে পড়ে। রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেনঃ “ যে ব্যক্তি এই কাজ করে এবং মারা যায়, তাকে জান্নাতে স্থান দেয়া আল্লাহ পাকের জন্যে অবশ্যকর্তব্য হয়ে পড়ে, হয় সে নিহতই হাক বা পথে ডুবেই মরুক অথবা পথিমধ্যে কোন জীন-জন্তু দ্বারা পদদলিতই হাক।”

শয়তান বললো-আমি বানী আদমের সামনের দিক থেকেও আসবো এবং পিছনের দিক থেকেও আসবো। অর্থাৎ পরকাল সম্পর্কে তাদের মনে সন্দেহ সৃষ্টি করে দেবো এবং দুনিয়ার আসক্তির প্রতি তাদেরকে উদ্বুদ্ধ করবো। আর ডান দিক থেকেও আসবো। অর্থাৎ আমরে দ্বীন তাদের উপর সন্দেহপূর্ণ করে তুলবো। তাদের বাম দিক থেকেও আসবো। অর্থাৎ পাপ ও অবাধ্যতামূলক কার্যকলাপ তাদের জন্যে যোগ্য ও গ্রহণীয় বানিয়ে দেবো।

আবার বিভিন্ন লোক এর বিভিন্ন ভাবার্থ নিয়ে থাকেন, যেগুলো প্রয়ি কাছাকাছি। শয়তান ‘আমি উপরের দিক থেকেও আসবো’ এ কথা বলেনি। কেননা, উপর থেকে তো শুধুমাত্র আল্লাহর রহমতই আসতে পারে।

সে বললোঃ “হে আল্লাহ! আপনি আপনার বান্দাদের অধিকাংশকেই কৃতজ্ঞতা প্রকাশকারী অর্থাৎ একত্ববাদীরূপে পাবেন না” এ কথাটা শয়তান স্বীয় খেয়াল ও ধারণার ভিত্তিতেই বলেছিল বটে, কিন্তু সেটা সত্যে পরিণত হয়েছে। যেমন আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ ইবলীসের এ ধারণা ঠিকই ছিল। কেননা, মুমিনরা ছাড়া সবাই তার অনুসরণ করছে। কিন্তু মুমিনদের উপর সে তার জাল বিস্তার করতে সক্ষম হয়নি। আর আমি যে শয়তানকে এই চেষ্টা-তদবীরের ক্ষমতা দিয়েছি তার উদ্দেশ্য এই যে, কে পরকালের উপর বিশ্বাস স্থাপনকারী এবং কে সন্দেহ পোষণকারী তা যেন প্রকাশ পেয়ে যায়। আর আল্লাহ তো প্রত্যেক জিনিসেরই রক্ষক।

এ জন্যেই তো হাদীসে এসেছে যে, রাসূলুল্লাহ (সঃ) বলেছেন, আল্লাহর কাছে শয়তান থেকে এইভাবে আশ্রয় প্রার্থনা কর- “হে আল্লাহ! কোন দিক থেকেই সে যেন আমার উপর আধিপত্য বিস্তার করতে না পারে। যেমন রাসূলুল্লাহ (সঃ) স্বয়ং প্রার্থনায় বলতেন- “হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে ক্ষমা ও নিরাপত্তা প্রার্থনা করছি, দ্বীনের জন্যেও দুনিয়ার জন্যেও এবং পরিবার ও ধন-সম্পদের জন্যেও। হে আল্লাহ! আমার গুনাহগুলো মাফ করে দিন, ভয় থেকে আমাকে নিরাপদে রাখুন। আর সামনের দিক থেকেও আমাকে রক্ষা করুন, পিছনের দিক থেকেও রক্ষা করুন এবং ডান দিক থেকেও আমাকে হিফাযত করুন, বাম দিক থেকেও আমাকে হিফাযত করুন এবং উপর দিক থেকেও রক্ষা করুন! আর শয়তান নীচের দিক থেকে আমার উপর প্রতারণার জাল বিস্তার করে, এ থেকে আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি।”





সতর্কবার্তা
কুরআনের কো্নো অনুবাদ ১০০% নির্ভুল হতে পারে না এবং এটি কুরআন পাঠের বিকল্প হিসাবে ব্যবহার করা যায় না। আমরা এখানে বাংলা ভাষায় অনূদিত প্রায় ৮ জন অনুবাদকের অনুবাদ দেওয়ার চেষ্টা করেছি, কিন্তু আমরা তাদের নির্ভুলতার গ্যারান্টি দিতে পারি না।